Dr. Iqbal Mahmud

Dr. Iqbal Mahmud MBBS , BCS
MD (Cardiology), FESC, FAPSIC.

Fellowship on Interventional Cardiology, Fortis New Delhi, India
Assistant Professor (Interventional Cardiology)
Chittagong Medical College

যে নিউজ পত্রিকায় লেখা হয় না,কিংবা যে কাজে কেউ কোন ফ্ল্যাট গিফট করে না.....এক রোগী প্রচন্ড বুকে ব্যথা নিয়ে পার্কভিউ সিসিই...
04/09/2026

যে নিউজ পত্রিকায় লেখা হয় না,কিংবা যে কাজে কেউ কোন ফ্ল্যাট গিফট করে না.....

এক রোগী প্রচন্ড বুকে ব্যথা নিয়ে পার্কভিউ সিসিইউ তে ভর্তি হোন। সাপের মতো ঠান্ডা শরীর, একটু একটু শ্বাস কষ্ট। ইসিজি তে আজব একটা ব্যাপার। হার্ট এটাক কিন্তু এরকম ইসিজি খুব একটা দেখা যায় না। সাধারণত এটাক হলে এক পাশের ইসিজির লীডে সমস্যা থাকে এই রোগীর সব লীডে সমস্যা। সাধারনত আগে একবার একপাশে এটাক হলে পরে অন্যপাশে এটাক নিয়ে আসলে এরকম হয়। কিন্তু এই রোগীর আগের কোন হার্ট এটাকের হিস্ট্রি নাই।
যা হোক রোগীর চিকিৎসা করার আগেই হার্ট বন্ধ ( কার্ডিয়াক এরেস্ট) সাথে সাথে বুকের উপর চাপাচাপি, বেশ কয়েক সাইকেল CPR দেয়ার পর হার্ট আবার বিট করা শুরু হলো।

রোগীর পরিবার গ্রামের মানুষ,কি করতে হবে করা দরকার কিছুই বুঝে না। শুধু কান্দে। অনেক খুঁজে এক ভাগিনাকে পাওয়া গেল, খুবই হাই রিস্ক কিছু না করলে বেঁচে থাকার আলো খুবই ক্ষীণ। যে কোন সময় নিভে যাবে।

তারা রিস্ক নিতে রাজি হলো।
আজকাল আমি এই সব কেস করতে চাই না। এগুলো করতে যাওয়া মানে নিজের ক্যারিয়ার শেষ। রোগী না বাঁচলে নগদে গালি, মাইর বা হাসপাতাল ভাঙ্গা, ভবিষ্যতে সোশাল মিডিয়া ও পত্রিকায় আপনি একজন খুনি হিসেবে পরিচিত পাওয়া।

কিন্তু রোগীর ওয়াইফ আমার হাত ধরে রাখলেন, স্যার যেটা ভালো হয় করেন।

উনি ছাড়া আমাদের আর কেউ নাই। বাস্তবে যদিও পরে এসব রোগীর অনেক লোক জুটে যায়। আরো বড় সমস্যা যার কেউ থাকে না তার এসবে রিস্কটা আরো বড়।

যতই করবো না বলি দিনশেষে এসবে আমিও বসে থাকতে পারি না। কোন লাভ লস না ভেবে নেমে গেলাম।

এনজিওগ্রাম করে নিজের চোখকে বিশ্বাস করা গেল না।

একটা মানুষের হার্টে তিনটা বড় রক্তনালী থাকে।এ রোগীর বাম পাশের দুইটা রক্তনালী আগে থেকেই ১০০% বন্ধ, এবার ডান পাশের রক্তনালী ১০০% বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র বাম পাশের একটা শাখা রক্তনালী দিয়ে কোন রকম ব্লাড যাচ্ছে। যে কারনে তার কার্ডিয়াক এরেস্ট হয়।

এতক্ষণে আমি বুঝলাম কেন তার ecg তে সবগুলো লিডই সমস্যা। আসলে তার বাম পাশের রক্তনালি দুইটা আগে থেকেই 100 পার্সেন্ট বন্ধ ছিল, ডান পাশেের রক্তনালী থেকে বাম পাশে ন্যাচারালি বাইপাস হচ্ছিল।

এখন তার ডানপাশের রক্ত হলে ১০০% বন্ধ হওয়াতে তিনটা রক্তনালীই বন্ধ হয়ে গেছে।

এইসব রোগীর বেঁচে থাকা সম্ভাবনা খুবই খুবই খুবই কম। অন্যভাবে বলা যায় সম্ভাবনা নাই বললেই চলে।

আমরা ১৬ মিনিটের মধ্যে এর রোগীর ডান পাশের রক্তনালীতে রিং করে দি এবং তাতে করে তার ডানপাশের রক্তনালী চালু হয় একই সাথে বাম পাশের দিকে যে ন্যাচারাল বাইপাস ছিল সেগুলোও চালু হয়।

রোগী তিনদিন পরে সুস্থভাবে এবারের মত হাসপাতাল থেকে ডিসচার্জ হয়।

আমার করা প্রাইমারিগুলোর মধ্যে এটা খুবই রিস্কি এবং অন্যতম সেরা একটা প্রাইমারি আমি বলবো।

যদি আমরা কাজটা করতে না পারতাম বা এই রোগীর মৃত্যু হলে রোগীর পার্টি আমাকে লাঞ্ছিত করতে পারতো, হসপিটাল ভাঙতো হয়তো।

প্রশ্ন হলো এত ভাল একটা কাজ করার পর পত্রিকায় লেখা কেন কেউ লিখে না কিংবা হসপিটাল ভাঙার বদলে কেউ একটা ফ্লাট কেন গিফট করে না?

দীর্ঘ ১ মাস সুইজারল্যান্ডে Complex PCI and CTO ( রক্তনালির জটিল ব্লক খোলার উপর ট্রেনিং) training শেষে দেশে ফিরেছি।এই ট্র...
14/06/2026

দীর্ঘ ১ মাস সুইজারল্যান্ডে Complex PCI and CTO ( রক্তনালির জটিল ব্লক খোলার উপর ট্রেনিং) training শেষে দেশে ফিরেছি।

এই ট্রেনিং আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন। উন্নত দেশে তারা কিভাবে কাজ করে, জটিল রোগী কিভাবে ডিল করতে হয় তা হাতে কলমে শেখার হয়েছে এই ট্রেনিংয়ে।

আগামী কাল থেকে স্বল্প পরিসরে চেম্বার শুরু করবো ইনশাআল্লাহ।

আপনারা যে সকল পেশেন্ট আমার অনুপস্থিতিতে কষ্ট করেছেন, আমাকে মিস করেছেন, দোয়া করেছেন আমি আপনাদোর কাছে দুঃখ প্রকাশ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুমআল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের নেক আমল কবুল করুন, আমীন।✨ সবাইকে জানাই আন্তরিক ঈদ মোবারক ✨
20/03/2026

তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকুম
আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের নেক আমল কবুল করুন, আমীন।
✨ সবাইকে জানাই আন্তরিক ঈদ মোবারক ✨

রমজান আসন্ন। রমজানে হৃদরোগীদের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত....
17/02/2026

রমজান আসন্ন। রমজানে হৃদরোগীদের করণীয় নিয়ে বিস্তারিত....

06/02/2026

হার্টের ব্যথাকে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা মনে সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিতে দেরি হলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে।

অনেকের কাছে “হার্ট ফেইলিউর” নামটি শুনে মনে হয় হার্ট যেন পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আসলে তা নয়। এখানে বোঝানো হচ্ছে...
02/01/2026

অনেকের কাছে “হার্ট ফেইলিউর” নামটি শুনে মনে হয় হার্ট যেন পুরোপুরি কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে। আসলে তা নয়। এখানে বোঝানো হচ্ছে—হার্ট যতটা দক্ষতার সঙ্গে রক্ত সঞ্চালন করা উচিত, তা আর করতে পারছে না।

🫀 কেন এটি হয়?

শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছানোর জন্য হার্টের পাম্পিং অপরিহার্য। কিন্তু হার্ট দুর্বল হয়ে গেলে পর্যাপ্ত রক্ত পাঠাতে পারে না। এতে দেখা দেয়—

- অল্প পরিশ্রমেই অধিক ক্লান্তি
- হাঁপানির মতো শ্বাসকষ্ট
- কাশি, বিশেষ করে শোয়া অবস্থায় কাশি ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া
- সামান্য কাজেই হাঁপিয়ে যাওয়া
- এমন কি সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠা, হাঁটা বা বাজারের ব্যাগ বহন করা সবই কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

হার্ট ফেইলিউর যদিও দীর্ঘমেয়াদি একটি সমস্যা, তবুও ওষুধ, সঠিক ফলোআপ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মেনে চলে বেশিরভাগ মানুষই স্বাভাবিক ও উপভোগ্য জীবন কাটাতে পারেন।

🫀 সুস্থ হার্ট কীভাবে কাজ করে?

হার্ট একধরনের শক্তিশালী পাম্প—যা ছন্দোময়ভাবে সংকোচন-প্রসারণ করে শরীরজুড়ে রক্ত সঞ্চালন করে।

হার্টে মোট চারটি প্রকোষ্ঠ থাকে:

- উপরের দুই প্রকোষ্ঠ: অ্যাট্রিয়া (Atria)
- নিচের দুই প্রকোষ্ঠ: ভেন্ট্রিকলস (Ventricles)

রক্ত প্রবাহের সাধারণ প্রক্রিয়া হলো:
- ডান দিক কম অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত গ্রহণ করে এবং ফুসফুসে পাঠায়।
- ফুসফুস রক্তকে অক্সিজেনসমৃদ্ধ করে বাম দিকে ফেরত পাঠায়।

বাম ভেন্ট্রিকল সেই অক্সিজেনসমৃদ্ধ রক্ত শরীরের সব অংশে পাম্প করে।

শরীরের সুস্থতা নির্ভর করে—এই চারটি প্রকোষ্ঠ সঠিক ছন্দে কাজ করছে কি না, আর পাম্পিং ক্ষমতা যথেষ্ট কি না।

💓 হার্ট ফেইলিউর হলে কী ঘটে?

হার্ট ফেইলিউর হলো এমন অবস্থা যখন হার্ট শরীরের চাহিদামতো রক্ত পাম্প করতে পারে না। এটি সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি বা আজীবন একটি সমস্যা, তবে চিকিৎসা ও জীবনধারায় পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

প্রথমে শরীর ও হার্ট নিজেরাই ক্ষতিপূরণ করার চেষ্টা করে:

🔹 হার্টের ভেতরের পরিবর্তন

- আকার বড় হওয়া: বেশি রক্ত পাম্প করতে গিয়ে হার্ট প্রসারিত হয়।
- হার্টের পেশি মোটা হওয়া: কোষ বড় হয়ে পাম্পিং শক্তি কিছুটা বাড়ায়।
- দ্রুত স্পন্দন: হার্ট আরও দ্রুত পাম্প করে ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করে।

🔹 শরীরের ক্ষতিপূরণ

- রক্তনালী সংকুচিত হয়ে রক্তচাপ ধরে রাখে।
- কিডনি শরীর থেকে পানি-লবণ বের না করে ধরে রাখে, যাতে রক্তের পরিমাণ বাড়ে।
- এসবই কিছু সময়ের জন্য উপকারী মনে হলেও ধীরে ধীরে হার্টের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে এবং অবস্থা আরও খারাপ করে দেয়।

অবশেষে ক্ষতিপূরণের ক্ষমতা কমতে শুরু করলে রোগীর ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট, পা ফুলে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ স্পষ্ট হয়ে ওঠে—যা সাধারণত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কারণ হয়।

🫀 হার্টের কোন অংশে সমস্যা হয়?

হার্ট ফেইলিউর হার্টের—
- শুধু বাম দিক
* শুধু ডান দিক
- অথবা উভয় দিকেই
প্রভাব ফেলতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সমস্যা শুরু হয় বাম দিক থেকে।

🩺 হার্ট ফেইলিউর নিয়ন্ত্রণে কী করবেন

হার্ট ফেইলিউর হলো দীর্ঘমেয়াদি একটি অবস্থা, তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে উপসর্গ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং জীবনমান উন্নত করা সম্ভব।

🔹 ১) নিয়মিত ফলোআপ ও ওষুধ চালিয়ে যাওয়া

আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেই—ওষুধ কখনোই বাদ না দেওয়া এবং ফলোআপ নিয়মিত করা।
হার্ট ফেইলিউরের ক্ষেত্রে সাধারণত কয়েক ধরণের ওষুধ একসাথে দেওয়া হয়, যেমন—হার্টের চাপ কমায়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে, পানি জমা কমায় এমন ওষুধ। এগুলো সময়মতো না নিলে উপসর্গ দ্রুত খারাপ হতে পারে।

🔹 ২) লবণ কমানো ও পানি নিয়ন্ত্রণ

হার্ট ফেইলিউরে লবণ কমানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসগুলোর একটি।
- বেশি লবণ শরীরে পানি জমায়
- এতে পা ফুলে যায়
- শ্বাসকষ্ট বাড়ে
- হার্টের ওপর চাপ বাড়ে
প্রয়োজনে চিকিৎসক প্রতিদিন কতটুকু পানি নিতে হবে তা নির্দিষ্ট করে দেন।

🔹 ৩) ওজন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ

- প্রতিদিন সকালে নিজের ওজন মাপুন।
- এক–দুই দিনের মধ্যে ওজন হঠাৎ বেড়ে গেলে বুঝতে হবে শরীরে পানি জমছে, যা হার্ট ফেইলিউরের অবনতি নির্দেশ করতে পারে।

🔹 ৪) পর্যাপ্ত বিশ্রাম, হালকা ব্যায়াম

অনেক রোগী ভাবে ব্যায়াম করলে সমস্যা বাড়বে, কিন্তু আমরা বলি—

- খুব কষ্ট হয় এমন ব্যায়াম নয়
- হাঁটা বা হালকা ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি
- হার্টকে সক্রিয় রাখে এবং শ্বাসকষ্ট কমাতে সাহায্য করে।
তবে ব্যায়ামের ধরন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।

🔹 ৫) ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার

হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের ক্ষেত্রে ধূমপান ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণ নিষেধ।

- ধূমপান হার্টের রক্তনালীগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে
- অ্যালকোহল হার্টের পাম্পিং ক্ষমতা আরও দুর্বল করে

🔹 ৬) শ্বাসকষ্ট বা ফোলা বাড়লে দেরি না করা

নিচের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে যেতে হবে—

- শ্বাসকষ্ট হঠাৎ বেড়ে যাওয়া
- শোয়ার পর নিশ্বাসে কষ্ট
- পা, গোড়ালি বা পেট ফুলে যাওয়া
- ওজন ২৪–৪৮ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়া

🔹 ৭) মানসিক চাপ কমানো

মানসিক চাপ হার্টের স্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়ায়। তাই পরামর্শ—

- পর্যাপ্ত ঘুম
- মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখা
- পরিবার-বন্ধুর সাপোর্ট নেয়া
- প্রয়োজনে কাউন্সেলিং

সবশেষে —
“হার্ট ফেইলিউর মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। নিয়ম, ওষুধ ও সচেতনতা—এই তিনটি ঠিক থাকলে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল জীবন সম্ভব।”

May you always have a strong and healthy heart, full of energy, peace, and balance. Wishing you a life with good circula...
01/01/2026

May you always have a strong and healthy heart, full of energy, peace, and balance. Wishing you a life with good circulation, calm stress levels, and long-lasting wellness. Happy new Year!

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়া হল এমন একটি ক্লিনিক্যাল অবস্থা যেখানে হার্ট ফেইলিউরের কারণে শরীরের পুষ্টি-শোষণে সমস্যা, হজমের সমস...
30/11/2025

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়া হল এমন একটি ক্লিনিক্যাল অবস্থা যেখানে হার্ট ফেইলিউরের কারণে শরীরের পুষ্টি-শোষণে সমস্যা, হজমের সমস্যা ও ক্ষুধামন্দার কারণে পেশী ও ওজন দ্রুত হ্রাস পাওয়া।

সাধারণত এক বছরের মধ্যে অনিচ্ছাকৃতভাবে কমপক্ষে ১০% ওজন কমে গেলে এটি কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়া হিসেবে বিবেচিত হয়।

✍কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়া কতটা সাধারণ?

দীর্ঘস্থায়ী হার্ট ফেইলিউরে আক্রান্ত প্রায় ৫% থেকে ২০% রোগীর মধ্যে এই জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশ্বব্যাপী ২ কোটিরও বেশি মানুষ হার্ট ফেইলিউরে ভুগছে, যাদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্যাশেক্সিয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

✪ লক্ষণ ও কারণ ✪

লক্ষণগুলো কী কী?

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়ার প্রধান লক্ষণগুলো হলো—

-ওজন কমানোর চেষ্টা না করে এক বছরের মধ্যে ৫% বা তার বেশি ওজন কমে যাওয়া
- পেশী ভর ও শক্তি কমে যাওয়া
- অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা
- দৈনন্দিন কাজ করতে সমস্যা
- খাবারের আগ্রহ কমে যাওয়া

✍কারণগুলো কী?

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়া সাধারণত একাধিক কারণের সম্মিলিত প্রভাবে সৃষ্টি হয়। যেমন—

- বিপাকীয় পরিবর্তন
- পর্যাপ্ত প্রোটিন বা ক্যালরি গ্রহণ না করা
- পুষ্টি শোষণে সমস্যা
- শারীরিক সক্রিয়তার অভাব

☢ সম্ভাব্য জটিলতা

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়ার কারণে দেখা দিতে পারে—

- সারকোপেনিয়া (পেশী হ্রাস)
- পেশীতে দাগ বা ক্ষতি
- চরম দুর্বলতা, পড়ে যাওয়া বা আঘাত পাওয়া
- ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা
- অস্টিওপোরোসিস ও হাড় ভাঙ্গার ঝুঁকি
- রোগের অগ্রগতি ও জীবন-ঝুঁকি বৃদ্ধি

🔍 রোগ নির্ণয়

রোগ নির্ণয়ে চিকিৎসকেরা ওজন হ্রাসের পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে, ইকোকার্ডিওগ্রাম, এলবুমিনের পরিমাণ নির্ণয় ও পুষ্টি এসেসমেন্টের বিভিন্ন স্কেল ব্যবহার করেন। কারণ হার্ট ফেইলিউরে শরীরে তরল জমে থাকার কারণে প্রকৃত ওজনের হিসাব ঠিকভাবে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে যায়।

🩺 চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা

কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়ার চিকিৎসা বহুমুখী। শুধু বেশি খাবার খাওয়ানোই যথেষ্ট নয়।

১. ব্যায়াম

অ্যারোবিক ব্যায়াম পেশী ক্ষয় রোধে কার্যকর। কার্ডিয়াক রিহ্যাব প্রোগ্রাম—

✅ জীবনমান উন্নত করে
✅ হাসপাতালে ভর্তি কমায়
✅ আয়ু বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে

২. হাসপাতাল পরিচর্যা

যদি রোগী দুর্বলতা বা কম রক্তচাপে ভুগে, তাহলে কয়েকদিন হাসপাতালে পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত হলে রোগী বাড়ি ফিরতে পারেন।

৩. বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

- কার্ডিওলজিস্ট ও পুষ্টিবিদ সমন্বয়ে
কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়ার বহুস্তরীয় চিকিৎসা করা হয়। কেবল বেশি খাবার খাওয়ালে সমস্যার সমাধান হয় না।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত অ্যারোবিক ব্যায়াম এবং সঠিক কার্ডিয়াক পুনর্বাসন রোগীর শক্তি, সক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রোটিন সম্পূরক, অল্প অল্প বার বার হাইএনার্জী জাতীয় খাবার খাওয়া রোগীর অবস্থার উন্নতি করতে পারে।

হার্ট ফেইলরের গাইড লাইন ডিরেক্টেড থেরাপী এই চিকিৎসার মূল ভিত্তি।

যদিও কার্ডিয়াক ক্যাশেক্সিয়ার পরিণতি সাধারণত ভালো নয়,তবে সময়মতো সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে রোগীর অবস্থা অনেকটাই উন্নত হতে পারে। গবেষণা বলছে, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসা রোগীর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়ায়। তবে চিকিৎসা না পেলে অনেক রোগী অল্প সময়ের মধ্যেই মৃত্যুবরণ করেন।

ডায়াবেটিসের প্রথম আঘাত আসে হার্টে। তবুও প্রতিরোধ সম্ভব, নিয়মিত ফলোআপ আর সচেতন জীবনযাপনেই সমাধান। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে ত...
14/11/2025

ডায়াবেটিসের প্রথম আঘাত আসে হার্টে। তবুও প্রতিরোধ সম্ভব, নিয়মিত ফলোআপ আর সচেতন জীবনযাপনেই সমাধান। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে তাই কর্মস্থল ও পরিবার—সবখানেই গড়ে তুলুন ডায়াবেটিস নিয়ে সচেতনতার পরিবেশ। সুস্থ হার্টের জন্য আজই শুরু হোক ছোট ছোট যত্নের অভ্যাস।










বিশ্ব যেথা এগিয়ে চলে,আমরা যাই পিছে.... #বাঁচতে_হলে_জানতে_হবেচট্টগ্রামসহ সারাদেশে কিছু  সেন্টার চালু হয়েছে, যারা দাবী করছ...
13/11/2025

বিশ্ব যেথা এগিয়ে চলে,
আমরা যাই পিছে....

#বাঁচতে_হলে_জানতে_হবে

চট্টগ্রামসহ সারাদেশে কিছু সেন্টার চালু হয়েছে, যারা দাবী করছে যে তারা EECP নামের এক বিশেষ পদ্ধতিতে রিং বা বাইপাস ছাড়া শরীরের সকল রক্তনালীর ব্লক খুলে দেন। যেটা ১০০% ভুয়া এবং অবৈজ্ঞানিক।
তাদের ব্যানারে দেখা যায়, তারা EECP কে বলেছে রিং,বাইপাস ছাড়া হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি।

প্রকৃত ব্যাপার হচ্ছে,হার্টের কিছু রোগী থাকে যাদের হার্টের রক্তনালী ব্লকের পর পর্যাপ্ত ঔষুধ,রিং বা বাইপাস করার পরও তাদের ব্যথা যায় না।ঔষধ,রিং,বাইপাসের পরও এই ব্যথা যদি তিনমাসের বেশি থাকে তবে তাদের জন্য কিছু থেরাপীর ট্রায়াল বিশ্বজুড়ে চলছে।

যেগুলোর কোনটাই এখনও পুরোপুরি সর্বজন কার্যকর না। তার মধ্যে একটা হচ্ছে এই EECP।

★তাহলে EECP কি দরকার নাই? থাকলে কাদের কে দিব?

দরকার আছে,যাদের আর কিছুই করার নাই।"নানীকে মা ডেকে দিন কাটানোর" মত তাদেরকে EECP দেয়া যেতে পারে।

✴️কাদের কে দিব?
-যাদের হার্টে ব্লক আছে
-তিনমাস কোন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মত সঠিকভাবে ঔষধ খেয়েছে,
-হার্টে রিং বা বাইপাস করা হয়েছে,
-অথবা হার্টে ব্লক থাকার পরও তার অন্যান্য জটিলতা যেমন কিডনী ফেইল,হার্টে ব্লক এতই বেশি যে রিং বা বাইপাস করা যাচ্ছে না।
-এতকিছুর পরও হার্টের ব্যথা যাচ্ছে না।

তাদের জন্য যখন কিছুই করার নাই তখন এই EECP।

কিন্তু এসব সেন্টারের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত হয়ে মানুষ হার্টের ঔষুধ,রিং,বাইপাস বাদ দিয়ে EECP এর দিকে ঝুঁকছে।

যে রোগীর রিং দরকার,যার বাইপাস দরকার সে এগুলো না করে EECP নেয়া হবে খুনের শামিল।

যে সব রোগীকে তারা এই থেরাপী দিচ্ছে,আসলে কি তাদের এই থেরাপীর প্রয়োজন আছে কিনা সেটা কে নির্ধারণ করবে?

এটা অবশ্যই একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে হতে হবে।
এসব সেন্টারের কি কোন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আছে?

ইন্ডিয়াতে EECP এর অনেক সেন্টার আছে কিন্তু কোনটাই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শের বাইরে চলে না।

ওখানে এসব চিন্তায় করা যায় না।কারো মন চাইলো আর রাস্তার মোড়ে নামকাওয়াস্তে একটা হার্ট সেন্টার বানিয়ে ফেলল।

EECP এর খরচ,১ লাখ ২০ হাজার টাকা অথচ এর চেয়ে কম টাকা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে উন্নত মানের রিং বা বাইপাস অপারেশন করা যায়।সুতরাং সবাইকে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ করছি।

কোন সেন্টার কে যদি EECP চালাতে হয়, তবে
১/ তাদের বিভ্রান্তিকর প্রচারনা বন্ধ করতে হবে
২/ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ব্যতীত কাউকে EECP দেয়া যাবে না।
৩/ EECP দিতে গিয়ে কোন ইমার্জেন্সী হলে তা ম্যানেজের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, মানুষের অজ্ঞনতাকে কাজে লাগিয়ে এই জাতীয় প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন নাই এমন রোগীকেও তারা EECP দিচ্ছে।

বিষয়টি বিবেচনায় যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আমি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়, সিভিল সার্জন অফিস,বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির হস্তক্ষেপ আশা করছি।

EECP কখনোই হার্টের ঔষধ, রিং বাইপাসের বিকল্প নয়। এটা সিলেকটিভ কিছু রোগীর জন্য হার্টের চিকিৎসার একটা পদ্ধতি যেটা শুধুমাত্র হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে নেয়া উচিত। কারা এই থেরাপী থকে উপকৃত হবেন তা আমি লিখেছি।

না জেনে বিভ্রান্ত হবেন না, টাকাও যাবে জীবন ও হারাবেন।
---
ডাঃইকবাল মাহমুদ
এমবিবিএস,বিসিএস
এমডি (কার্ডিওলজি)
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

Address

94/103, Katalganj Road, Panchlaish
Chittagong
4000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Iqbal Mahmud posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share