27/08/2026
বদনজর ও হিংসা থেকে বেঁচে থাকার কার্যকরী উপায়
আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে বদনজর এবং হিংসা (হাসাদ) একটি বাস্তব সত্য। এ থেকে নিরাপদ থাকতে এবং সুরক্ষিত জীবনযাপন করতে ইসলাম আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট পথনির্দেশনা দিয়েছে। নিচে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
👇 বদনজর ও হিংসা থেকে বাঁচার ৬টি উপায়:
১) গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা: আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন—
"নিশ্চয়ই নেক কাজের কারণে চেহারায় নূর (উজ্জ্বলতা), অন্তরে আলো, রিজিকে প্রশস্ততা, শরীরে শক্তি এবং মানুষের অন্তরে ভালোবাসা তৈরি হয়। আর গুনাহের কারণে চেহারায় কালিমার ছাপ, অন্তরে অন্ধকার, শরীরে দুর্বলতা, রিজিকে সংকীর্ণতা এবং মানুষের অন্তরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।"
২) হারাম থেকে দূরে থাকা: হারাম উপার্জন বা খাবার খেয়ে জীবন গঠন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন:
"ঐ শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যা হারাম মাল দ্বারা গঠিত (লালিত-পালিত) হয়েছে। জাহান্নামের আগুনই তার জন্য উত্তম।" (তিরমিযী)
৩) জিহ্বা ও নজরের হেফাজত করা:
🔸 দৃষ্টির হেফাজত: আল্লাহ তাআলা বলেন— "মুমিনদের বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে..." (সূরা আন-নূর: ৩০)।
🔹হাদিসে কুদসীতে এসেছে— "দৃষ্টি হলো ইবলিসের তীরসমূহের মধ্য থেকে একটি বিষাক্ত তীর..." (তাবারানী)।
🔸 জিহ্বার হেফাজত: গীবত ও চোগলখোরি থেকে দূরে থাকা জরুরি। মিরাজের রাতে রাসূল (সা.) গীবতকারীদের ভয়াবহ শাস্তি নিজ চোখে দেখেছেন (আবু দাউদ)।
৪) সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমের আগের আমলগুলো নিয়মিত করা: সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর জিকির এবং সুরক্ষামূলক দোয়াগুলো (যেমন: আয়াতুল কুরসি, সূরা ইখলাস, ফালাক ও নাস) নিয়মিত পাঠ করতে হবে। রাসূল (সা.) বলেছেন, সকালে ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করলে কোনো আকস্মিক বিপদ বা ক্ষতি তাকে স্পর্শ করতে পারে না (আবু দাউদ)।
৫) গোপনীয়তা বজায় রাখা: নিজের এবং পরিবারের ভালো কিছু সবসময় সবার সামনে প্রকাশ না করে কিছুটা গোপনীয়তা বজায় রাখা উচিত। হযরত মুআয ইবন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:
"তোমরা নিজেদের প্রয়োজন পূরণের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার আশ্রয় নিয়ে সাহায্য নাও। কেননা, প্রতিটি নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তির সঙ্গেই হিংসুক রয়েছে।" (সহিহ আল-জামে)।
আর উদ্দেশ্য সাধনের ক্ষেত্রে গোপনীয়তা বজায় রাখার ব্যাপারে হযরত আলী (রা.)-এর একটি বিখ্যাত বাণী রয়েছে:
"তোমার পরিকল্পনা ও উদ্দেশ্য সফল না হওয়া পর্যন্ত তা কারও কাছে প্রকাশ করো না।”
৬) নিজ ও পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষা: সোশ্যাল মিডিয়ায় কিংবা মানুষের সামনে নিজের, পরিবার ও সন্তানের বিষয়ে অতিরিক্ত আলোচনা করা থেকে বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে নিজের ব্যবসা, চাকরি, অর্থনৈতিক অবস্থা কিংবা ভালো থাকার বিষয়গুলো জনসমক্ষে প্রকাশ করা যথাসম্ভব এড়িয়ে চলা বুদ্ধিমানের কাজ।
তবে একান্ত বাধ্যবাধকতার পরিস্থিতি তৈরি হলে কেবল ততটুকুই প্রকাশ করা উচিত, যতটুকু জানানো জরুরি। অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত প্রকাশ সবসময় বর্জন করা উচিত।
⚠️ বদনজর বা হাসাদে আক্রান্ত হলে যা করবেন:
📌 ১) ওযুর পানি ব্যবহার: যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় কার বদনজর লেগেছে, তবে তার ওযুর পানি নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির গায়ে ঢেলে দেওয়া (সাহল ইবনে হুনাঈফ (রা.)-এর হাদিস অনুযায়ী)।
📌 ২) খাঁটি তাওবা করা: দ্রুত আল্লাহর কাছে নিজের গুনাহের জন্য ক্ষমা চাওয়া। আল্লাহ বলেন— "নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।" (সূরা আজ-যুমার: ৫৩)
📌 ৩) রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁক করা: আক্রান্ত ব্যক্তির ওপর সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি, এবং ইখলাস, ফালাক ও নাস পড়ে ফুঁ দেওয়া।
রাসূল (সা.)-এর শেখানো এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া:
أُعِيذُكَ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ وَهَامَّةٍ، وَمِنْ كُلِّ عَيْنٍ لَامَّةٍ
অর্থ: "আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের উসিলায় আমি আশ্রয় চাচ্ছি প্রতিটি শয়তান, বিষাক্ত কিট-পতঙ্গ এবং কুদৃষ্টিসম্পন্ন চোখ থেকে।"
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সব ধরনের বদনজর, হিংসা এবং ক্ষতিকর বিষয় থেকে হেফাজত করুন। আমীন। 🤲
#বদনজর
#হাসাদ
#হিংসা
#রুকইয়াহ_সার্ভিস_বিডি