02/09/2026
বিচ্ছেদের জাদু; কোরআনে বর্ণিত ভয়ংকর বাস্তবতা
·
বিচ্ছেদের জন্য জাদু কাজ করে? চাইলেই কি কেউ সংসার নষ্ট করতে পারে? এসব প্রশ্ন জনমনে। কেউ তো আগ বাড়িয়ে নিজেকে মডার্ন সাজানোর জন্য বলেন, এসব জাদুটোনা বিশ্বাস করি না। সাইন্সে বিশ্বাসী মুসলিমদের জানা উচিত, জাদু কোরআন স্বীকৃত বাস্তবতা। যার অস্বীকার অর্থ কোরআনকে অস্বীকার করা এবং ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যাওয়া। কোরআনে স্বীকৃত সে জাদুর ঘটনা বর্ণনায় উঠে আসে, "বিচ্ছেদ জাদুর" কথা। যা ইরাকের বাবিল শহরে নাজিল হওয়া দু'জন ফিরিশতা হারুত-মারুতের ঘটনা বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়।
·
আল্লাহ তায়ালা কোরআন মাজিদে বলেন: তারা (ইহুদিরা) মানুষকে যাদু শেখাত এবং (তারা অনুসরণ করেছে) যা নাযিল করা হয়েছিল বাবেলের দুই ফেরেশতা হারূত ও মারূতের উপর। আর তারা কাউকে শেখাত না যে পর্যন্ত না বলত যে, ‘আমরা তো পরীক্ষা, সুতরাং তোমরা কুফরী করো না। এরপরও তারা এদের কাছ থেকে শিখত, যার মাধ্যমে তারা "পুরুষ ও তার স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাত।" অথচ তারা তার মাধ্যমে কারো কোন ক্ষতি করতে পারত না আল্লাহর অনুমতি ছাড়া। {সূরা বাকারা-১০২)}
·
আয়াতের ঘটনাটা এরকম, ইহুদিরা নবি সুলায়মান আলাইহিস সালামকে জাদুকর বলে আখ্যায়িত করে; তিনি জাদুর সাহায্যে রাজত্ব পরিচালনা করতেন বলে তাদের অভিযোগ। আল্লাহ তায়ালা তাদের এই মিথ্যা অভিযোগের কাউন্টারে পুরো সত্য ঘটনা বর্ণনায় এই আয়াত নাজিল করেন। তা উল্লেখ করতে গিয়েই আসে বাবিল শহরে অবতীর্ণ হারূত ও মারূত নামক দু'জন ফেরেশতার কথা। যাদের পাঠানো হয়েছিল মানুষের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ। তারা বুঝাত, শয়তানের জাদু ও নবিদের মুজিযার মধ্যকার পার্থক্য এবং তা বুঝাতে গিয়েই জাদুর বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কেও জানায় মানুষদের, যা শয়তান জাদুকরদের শিখিয়েছিল। এগুলোর অপব্যবহার করা শুরু করে তারা, অর্থাৎ ভ্রান্ত মতবাদ সম্পর্কে জানতে গিয়ে নিজেরাই বিভ্রান্ত হয়ে যায়। ফিরিশতাদ্বয় বলেন, আমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা। তোমরা এসবের অপব্যবহার করে কুফরি করো না। কিন্তু মানুষের স্বভাবসিদ্ধ কাজ অবাধ্যতা, তা করে সংসার ভাঙা শুরু করল। যার অর্থ দাঁড়ায় বর্তমান সময়ের মতোই তৎকালীন বাবিল শহরে ও ইহুদিদের মাঝে বিচ্ছেদ জাদু অনেক বৃদ্ধি পায়। শয়তানকে ডাকার মাধ্যমে মন্দ কাজ করতে পেরে সফলতায় তারা খুশি হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা তাই সতর্ক করে বলেন, জাদুর কোন নিজস্ব ক্ষমতা নাই। আমি দিয়েছি তাই যতটা ক্ষতি করতে পারছে, যেমন ক্ষমতা দেয়া হয়েছে হিংস্র প্রাণীকে। আবার আমি চাইলে কোন জাদু সফল হবে না৷ দুনিয়াটা-ই পরীক্ষা। এখানে ভুল করো না।
(তাফসিরে ইবনে কাসির, তাফসির মুয়াসসার, আহসানুল বায়ান, আল-মুখতাসার ফি তাফসির)
·
এই পুরো ঘটনায় আমাদের শিক্ষা- জাদু আমাদের সমাজের একটি তিক্ত বাস্তবতা। যা কোরআন কর্তৃক স্বীকৃত। তন্মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ও জঘন্য একটি জাদু, যা করা হয় বিচ্ছেদের জন্য৷ আমাদের উচিত এমন কাজ থেকে বিরত থাকা। এবং কখনো এজাতীয় জাদু দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখা। কারণ তিনিই জাদুতে শক্তি দিয়েছেন, সাপের দাঁতে বিষ দিয়েছেন, বাঘকে হিংস্র কিরেছেন; আবার তিনি চাইলেই পারেন আপনাকে এসব থেকে মুক্ত করতে। তাই না ঘাবড়ে আমল করুন। সুস্থ সংসার গড়ে তুলুন। হক আসলে বাতিল নিঃসন্দেহে পলায়ন করবে৷ ইনশাআল্লাহ।