Dr. Foysal Bhuiyan

Dr. Foysal Bhuiyan MBBS | CCD (Birdem) | ACMU (ultra)

দুই সপ্তাহ আগে চেম্বারে এসেছিলো, হাঁটাহাঁটি করলে নাকি বুকে চিনচিন ব্যথা হয়, হাঁসফাঁস লাগে। আমার ব্যাচমেট, ভালো ব্যবসা কর...
30/07/2026

দুই সপ্তাহ আগে চেম্বারে এসেছিলো, হাঁটাহাঁটি করলে নাকি বুকে চিনচিন ব্যথা হয়, হাঁসফাঁস লাগে। আমার ব্যাচমেট, ভালো ব্যবসা করে, বুঝিয়ে বললামঃ বন্ধু আমার তো এই বিষয়ে জ্ঞান সীমিত, একজন কার্ডিওলজিস্ট দেখাও।হেসে বললো, এজন্যই তো আসছি, তুমি বলে দাও কার কাছে দেখাবো, জানি তোমার বিষয় না।

কার্ডিওলজির পরিচিত স্পেশালিস্টের কাছে পাঠালাম। উনি দেখলেন, রুটিন চেকাপ সহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করলেন, এই সময়ে ডায়াবেটিস, ব্লাড প্রেশার ধরা পড়লো, ইসিজি চেঞ্জ পাওয়ায় ইটিটি (এক্সার্সাইজ টলারেন্স টেস্ট) করতে বললেন, তখন রোগী ট্রেডমিলে দৌঁড়াতে পারছিলো, কিন্তু কষ্ট হয়। এমন অবস্থায় সবাই যা করতে বলতো, কার্ডিওলজিস্ট বললেন, এঞ্জিওগ্রাম করা লাগবে।

এই এঞ্জিওগ্রাম করাতে রোগী রাজি না, আমার সাথে আবার চেম্বারে দেখা করলো, বললো এঞ্জিওগ্রাম করাবো না, ইন্ডিয়ার ভিসা পাইছি, দেবী শেঠী কে দেখাবো। বললাম, দেখাও, এঞ্জিওগ্রাম করায়ে রিপোর্ট নিয়ে যাও. কিন্তু আমার মনে হয় দেরী করা ঠিক হবে না। তার স্ত্রীও সাথে ছিলো, বলে উঠলো, ভাই আমাদের ভিসা আছে, আমরা দেশে চিকিৎসা করাতে চাচ্ছি না, ইন্ডিয়া নিয়ে যাই, ওখানে যা করার করুক।

এরপর আর আমার কোন কথা থাকেনা, বললাম তাহলে আর আসলে কেন কষ্ট করে, চলে যাও, প্রেসক্রিপশনে দেখলাম ডাক্তার প্রয়োজনীয় ঔষধ লিখে দিয়েছেন।জিজ্ঞেস করলো এই ওষুধ কি খাবো নাকি খাবো না? আমি বললামঃ খাওয়া উচিত।

এস্পিরিন-ক্লোপিডোগ্রেল, ডায়াবেটিসের ঔষধ, প্রেশারের ঔষধ এগুলো দেয়া আর লাল অক্ষরে লিখে দিয়েছেন, এডমিট ফর এঞ্জিওগ্রাম। যাই হোক, বললো ঔষধ খাবে না, একেবারে ইন্ডিয়াতে ডাক্তার দেখায়ে ঔষধ খাবে. পরিবারে কারো হার্টের অসুখ নাই, ডায়াবেটিস নাই। এইসব টেস্ট, ঔষধ তারা "বিশ্বাস করে না". ডাক্তাররা পরীক্ষা করে কমিশন খায়, এঞ্জিওগ্রাম করলে বলবে "রিং লাগাইতে", বয়স মাত্র বেয়াল্লিশ, এখন আবার কিসের হার্টের অসুখ? গ্যাস ট্যাস হইছে আরকি...

আজকে সকালে ফোন দিয়েছে, তীব্র বুকে ব্যথা, ধানমন্ডি থাকে। বললাম দ্রুত এনআইসিভিডি অথবা ল্যাব এইডে যাও। দ্রুত... সাড়ে দশটার সময়ে তার বৌ জানালো সে মারা গেছে। হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তাররা মেরে ফেলেছে...

কাজটা ভালো করে নাই। অত্যন্ত অন্যায় করেছে... ইমার্জেন্সি কার্ডিয়াক কেয়ার সবাই ডিজার্ভও করেনা।কার্ডিয়াক কেন, কিছু মানুষ কোন কেয়ার ই ডিজার্ভ করেনা...

লেখক : ডা. মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির, নিউরোসার্জন

26/07/2026

একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, তৎকালীন ছোট জেলা শহর কিংবা মফস্বল শহরে বিদ্যুৎহীনতাকে ঘিরে একটা জমজমাট ব্যবসা গড়ে উঠেছিল।

এলাকার বাসা বাড়িতে আজকের কেবল ইন্টারনেট সিস্টেমের মত জেনারেটর হতে তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ভাড়া নিয়ে ফ্যান লাইট চালানো যেত। মাসিক বিল সিস্টেম ছিল। এলাকা অনুযায়ী এবং চাহিদা অনুযায়ী এই জেনারেটরের বিদ্যুৎ ভাড়া কমবেশি হত।

Just remembering that childhood moment!

খুব সম্ভবত হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বাংলাদেশের সর্বশেষ প্রমিনেন্ট ও খেতাবপ্রাপ্ত  'মুক্তিযোদ্ধা' রাষ্ট্রপতি।শেষ হতে ...
24/07/2026

খুব সম্ভবত হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বাংলাদেশের সর্বশেষ প্রমিনেন্ট ও খেতাবপ্রাপ্ত 'মুক্তিযোদ্ধা' রাষ্ট্রপতি।

শেষ হতে চলল মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম।

হয়তো এটাই ছিল শেষ বিশ্বকাপ... 💔🇧🇷একটা প্রজন্মের শৈশব, কৈশোর আর ফুটবলপ্রেমের বড় একটা অংশের নাম ছিল নেইমার।যে ছেলেটা অসংখ্...
05/07/2026

হয়তো এটাই ছিল শেষ বিশ্বকাপ... 💔🇧🇷
একটা প্রজন্মের শৈশব, কৈশোর আর ফুটবলপ্রেমের বড় একটা অংশের নাম ছিল নেইমার।

যে ছেলেটা অসংখ্যবার পড়ে গিয়েও আবার উঠে দাঁড়িয়েছে। সমালোচনা, ইনজুরি, ব্যর্থতা, ট্রল... সবকিছুর পরও ব্রাজিলের ১০ নম্বর জার্সিটা গায়ে তুলে মাঠে নেমেছে।

বিশ্বকাপটা কখনো তাকে আপন করে নেয়নি।
২০১৪-তে ইনজুরি, ২০১৮-তে হতাশা, ২০২২-এ পেনাল্টিতে কান্না, আর এবার... রাউন্ড অব ১৬-তেই বিদায়।

হয়তো ট্রফিটা তার হাতে উঠবে না। কিন্তু কোটি মানুষের হৃদয়ে সে চিরকালই ব্রাজিলের স্বপ্নের প্রতীক হয়ে থাকবে।

সব কিংবদন্তির গল্প ট্রফি দিয়ে শেষ হয় না। কিছু গল্প শেষ হয় চোখের জল, অসমাপ্ত স্বপ্ন আর অগণিত ভালোবাসা দিয়ে।

Obrigado, Neymar. তুমি কাপ না জিতলেও, সবার হৃদয় জিতে নিয়েছ অনেক আগেই 🇧🇷

05/07/2026

GI Product of Narsingdi!

27/06/2026

Sorry but Not Sorry

🌸
26/06/2026

🌸

রংপুর মেডিকেলে মায়ের লাশ আটকে রেখে ছেলেকে কান ধরে উঠবস করিয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারপর আবার তারাই স্ট্রাইকে চলে গেছে। ...
18/06/2026

রংপুর মেডিকেলে মায়ের লাশ আটকে রেখে ছেলেকে কান ধরে উঠবস করিয়েছে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। তারপর আবার তারাই স্ট্রাইকে চলে গেছে। এমন নিউজ প্রতিনিয়ত নিউজফিডে দেখতেছেন? কিন্তু আপনি বুঝতেছেন না কেন কিভাবে কি হল?
তাহলে চলুন আপনাদের ঘুরিয়ে আনি সেই মুহূর্তগুলো থেকে। আজকের পোস্টে সবার না জানা সেই ঘটনাপ্রবাহ ইন ডিটেইলসে তুলে ধরব যেন আপনাদের আর ডাউট না থাকে।

রাত ৩:৩৫ মিনিটে রংপুর মেডিকেলের ইমার্জেন্সিতে মরণাপন্ন অবস্থায় একজন মহিলা রোগী আসেন। ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার তাকে দেখে হৃদরোগ বিভাগে পাঠান।

হৃদরোগ বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি রোগীর বর্তমান সঠিক অবস্থা অনুধাবনের জন্য ইসিজি করে ভর্তি করা হয়। সেই ইসিজি করা হয় রাত ৩:৪৬ মিনিটে। তারপর ডিউটি ডক্টর তাকে পরিক্ষা করে ৩:৫০ মিনিটে তার ট্রিটমেন্ট শিট লিখে দেয়। রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৫৬% তাই দ্রুত অক্সিজেন দেয়া প্রয়োজন। রোগীর আত্মীয়দের অক্সিজেন মাস্ক সহ অন্যান্য জরুরি ওষুধ আনতে পাঠানো হয়। (মেডিকেলে অক্সিজেন লাইন থাকলেও মাস্ক সাপ্লাই নাই। তাই রোগীর লোকদেরই মাস্ক কিনে আনতে হয়) রোগীর হিস্ট্রি নিয়ে জানা যায় ২ দিন আগে থেকে বুকে ব্যাথা, হার্ট এট্যাক সে ২ দিন আগেই করছে এখন পরিস্থিতি খুব খারাপ তাই হাসপাতালে আনা হইছে। এই পরিস্থিতিতে হার্ট এট্যাকের যে ইমার্জেন্সি মেডিসিনগুলো দেয়া হয় তার কিছুই প্রয়োগ করা সম্ভব না কারণ যতটুকু সময়ের মধ্যে দিলে তা কাজ করে সেই সময় ইতিমধ্যে পার হয়ে গেছে। তার পরেও হাই ফ্লো অক্সিজেন এবং সিপিআর দেয়ার জন্য রোগীকে ৪:০৫ মিনিটে সিসিইউ তে পাঠানো হয়। ততক্ষণে সে কার্ডিয়াক এরেস্টে। সেখানে ২ জন চিকিৎসক লাগাতার তাকে লাগাতার সিপিআর দিয়ে শেষ রক্ষার চেষ্টা করেন। কিন্তু সম্ভব হয়না। রাত ৪:২০ নাগাদ রোগীর ইসিজি ফ্লাট লাইন হয়ে যায়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর কিছুক্ষণ পর রোগীর ছোট ছেলে ফিরে আসেন। মা মারা গেছে শুনে কোনো রকম কথা ছাড়াই তিনি হঠাৎ সিসিইউ তে অবস্থান করা ২ জন চিকিৎসকের ওপর পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করেন এবং নার্সদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন।
(সিসিটিভি ফুটেজ আছে। আপনারা চেক করে দেখতে পারেন। অনেক নিউজ চ্যানেল বলছে কথা কাটাকাটি এক পর্যায়ে হাতাহাতির রূপ নেয়। কিন্তু সিসিটিভি ফুটেজ ক্লিয়ারলি শো করে সেখানে কোনো কথাই হয়নি। রোগীর ছোট ছেলে অতর্কিতে পেছন থেকে আঘাত করলে ২ জন ডাক্তার ভয়ে দৌড়ে বেরিয়ে আসেন। হাতাহাতি বলতে ২ পক্ষই হাতের ব্যবহার করবে এমন কিছু সেখানে হয়নি)
আচ্ছা এবার আসেন তারপর কি হল। একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ঘাড়ের পেছনের অংশে আঘাত পান(ঘুশি)
তারপর তিনি বমি করা শুরু করেন। আপনারা যারা ক্রিকেট খেলা দেখেন তারা অবশ্যই মাথা বা ঘাড়ে আঘাত, কনকাশন ইনজুরি ব্যাপারগুলো বোঝেন। সুতরাং আমরা সময় নষ্ট না করে সেই ইন্টার্ন চিকিৎসককে নিউরোসার্জারি বিভাগে হেড ইঞ্জুরির জন্য ভর্তি করাই।
এই সময়ের মধ্যে যে ব্যক্তি ডাক্তারের গায়ে হাত তোরে সে সেখান থেকে মায়ের লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। সকাল ৬ টা থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দাবি করতে থাকে একজন মানুষ সিসিইউ তে ঢুকে ডাক্তারের গায়ে হাত তুলে এভাবে পালিয়ে যেতে পারে না। তাকে আসতে হবে ক্ষমা চেয়ে লাশ নিয়ে যেতে হবে।
প্রতিটা রোগী ভর্তির সময় রোগীর সাথে আসা একজন এটেন্ডেন্টের নাম্বার রাখা হয়। সেখানে ঐ লোকের নাম্বার ছিল। তাকে ফোন দিয়ে জানানো হয় হাসপাতালে আসেন। মায়ের লাশ ফেলে চলে গেছেন কেন। লাশ নিয়ে যান। এটুকু শুনেই সে ফোন কেটে দেয়।
ঘটনার এই অংশে আগমন ঘটে রোগীর বড় ছেলের। সে এসে দাবি করে তার ছোট ভাই ভুল করছে। সে পালায়ে গেছে। এখন মায়ের লাশের কি হবে... লাশ যেন আমরা তাকে দেই। ছোট ভাই এসে ক্ষমা চাইবে।
ইন্টার্নরা বলে নাহ যে লোক তার মা কে নিয়ে রাত সাড়ে ৩ টায় হাসপাতালে আসতে পারছে মায়ের মৃত্যুর পর ডাক্তারের গায়ে হাত তুলতে পারছে সে এসে ক্ষমা চেয়ে লাশও নিয়ে যেতে পারবে। তার ফোন তো এখনো খোলা। আমরাই কথা বললাম তার সাথে। সে এসে ডাক্তারের গায়ে হাত তোলার জন্য ক্ষমা চাইবে তবেই লাশ দিব।
এবার রোগীর বড় ছেলেরা স্থানীয় নেতা, সিটি করপোরেশনের মেয়র সহ অনেকের মাধ্যমে ডিরেক্টর ও প্রিন্সিপালকে ফোন দেয়াতে থাকে লাশ ছাড়ানোর জন্য।
ডিরেক্টর রুমে আমরা যাই। ডিরেক্টর স্যার আমাদের অনড় অবস্থান দেখে অপরাধীর নাম্বারে কল দেন। তখন ১০ টা থেকে ১১ টা বাজে। তার ফোন তখনও খোলা। ছেলেটি ফোন ধরে, ডিরেক্টর স্যার তাকে পরিস্থিতি বোঝানোর পর সে বলে স্যার আমি আসব মায়ের লাশ নিতে কিন্তু আমার ভাইয়েরা আমাকে হারাগাছে আমার খালার বাসায় তালা মেরে রেখে হাসপাতালে গেছে। বলছে তুই ওখানে গেলে তোরে মারতে পারে তাই তোরে নেয়া যাবেনা। ওদেরকে লাশ দিয়ে দেন আমি পরে এসে মাফ চেয়ে যাব।
ইন্টার্নরা এই প্রস্তাবে রাজি হয়না, মায়ের লাশ নিতেই।যেই ছেলে আসতেছে না সে সব শেষ হওয়ার পর মেডিকেলে আসবে, এসে বলবে সরি স্যার ওইদিন ভুল করে মেরে দিছিলাম আজকে সরি বলতে আসছি এসব ছেলেভুলানো গল্প দিয়ে ইন্টার্নদের ভুলাতে পারবেন না।
ডিরেক্টর স্যারের সাথে কথা বলে ইন্টার্নরা সিদ্ধান্ত নেয় যেহেতু মৃত ব্যক্তির কোনো দোষ নাই তার লাশের যেন কোনো ক্ষতি না হয় তাই লাশটা মর্গে স্থানান্তর করা হোক। সেই অনুযায়ী লাশ মর্গে আনা হয়।
এদিকে রোগীর ভাইয়েরা তখন বাইরে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দিচ্ছে যে "আমার ছোট ভাইয়ের সাথে নাকি কোনো ঝামেলা হইছে, ও নাকি বেয়াদবি করছে,আমরা শুনছি। এখন তো সে পালাইছে। লাশ টা আমাদের দিচ্ছে না ডাক্তাররা এটা কি ধরণের ব্যবহার? আমার ভাই অপরাধী হলে তার বিচার কইরেন আমরা সহযোগীতা করব"
তখন ইন্টার্নরা ক্ষেপে যায়... মানে কি? কি বলতে চান? বেয়াদবি করছে মানে? সে ডাক্তারের গায়ে হাত তুলছে তার সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন নাই? সে যে ডিরেক্টরকে বলল আমাকে যদি মারে সেই জন্য আমাকে হারাগাছে খালার বাসায় তালা মেরে রেখে গেছে সেটা শোনেন নাই? নিজেরা ওকে আটকে রেখে আবার ক্যামেরার সামনে বলেন ও পালাইছে, ওর বিচার করেন আমরা সাহায্য করব, ফাইজলামি পাইছেন...
ততক্ষণে আমাদের সাথে যোগ দেয় কলেজের সকল ব্যাচের ছাত্ররা।
আমরা ডিরেক্টরের কাছে দাবি করি তাকে পুলিশি প্রোটেকশনে খালার বাসা থেকে নিয়ে আসা হোক এবং যাদের গায়ে হাত তুলছে তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হোক। তার গায়ে একটা আঘাতও লাগবেনা সেই দায়িত্বও ইন্টার্নরা নেয়। কিন্তু ডিরেক্টর স্যার তা না করে স্থানীয় নেতাদের চাপে ছাত্রদের বিরুদ্ধে গিয়ে এম্বুলেন্স ডেকে লাশ তুলে দেয়ার চেষ্টা করে।
এই পর্যায়ে এসে উপস্থিত ছাত্র ও ইন্টার্নরা উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং ডিরেক্টরের সাথে পর্যন্ত হাতাহাতির পর্যায়ে চলে যায় পরিস্থিতি। ডিরেক্টর সামলাতে না পেরে তার রুমে চলে যায়। ছাত্ররা "অথর্ব প্রশাসন, মানিনা মানব না" স্লোগান দিতে থাকে। ছাত্রদের এক অংশ ইমার্জেন্সি
রোগীর লোকজন এবার যায় মহাসড়ক অবরোধ করতে। সেখানে তারা অভিযোগ করে হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় রোগী মরে গেছে। তাও ডাক্তাররা লাশ আটকে রেখে রাজনীতির করতেছে। কিন্তু আমরা বারবারই বলি, আমাদের দাবি একটাই। যে ডাক্তারের গায়ে হাত তুলছে তাকে বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন, ক্ষমা চাইতে বলেন, লাশ নিয়ে যান।
এরপর আন্দোলনের মুখে ডিরেক্টর রুম থেকে জানানো হয় অপরাধীকে নিয়ে আসা হচ্ছে তোমরা সবাই আসো। আমরা ইমার্জেন্সি খুলে দেই এবং সবাই ডিরেক্টর রুমের সামনে জড়ো হই।
আমাদের বলা হয় সে আমাদের সামনে আসবে, ক্ষমা চাইবে ও ৫০ বার কান ধরে উঠবস করবে কিন্তু তার গায়ে হাত দেয়া যাবেনা। এতুক্ষণের গড়িমসি, সেই সাথে নিউজ চ্যানেলের হলুদ সাংবাদিকতায় সবার মেজাজ ততক্ষণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। অভিযুক্ত সামনে আসতেই সবাই তার দিকে তেড়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তাই প্রশাশন তাকে দ্রুত সরিয়ে নেয়।
ডিরেক্টর রুমের ভেতর ডিরেক্টর, প্রিন্সিপাল ও মধ্যস্ততা করতে আসা পেশেন্ট পার্টির পক্ষের কিছু স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার সামনে তাকে মাফ চাওয়ানো ও ১০ বার কান ধরে উঠবস করানোর একটা ভিডিও করে মিডিয়া ও ছাত্রদের হাতে দিয়ে বলা হয় ও মাফ চাইছে এবার ক্ষমা করে দাও।
সবাই ক্ষোভে ফেটে পড়ে, আমাদের একজন কলিগের গায়ে হাত তুলছে বলে আমরা এতগুলা মানুষ এই রোদের মধ্যে ঘামে ভিজে চিল্লায়ে যাচ্ছি আর আপনারা এসি রুমে অপরাধীকে বসিয়ে একটা ক্ষমা চাওয়া আর ১০ বার কান ধরে উঠবস করার ভিডিও দিয়ে শেষ করে দিতে চান? আপনাদেরই প্রোপোজাল ছিল আমাদের সবার সামনে সে ৫০ বার কান ধরে উঠবস করবে। আমাদের কথা তো দূরের কথা আপনারা নিজেদের কথাও রাখলেন না।
তখন ডিরেক্টর বলেন পেশেন্ট পার্টির সিকিউরিটি সবার আগে। আমরা জানতে চাই আমাদের সিকিউরিটির কি হবে। তিনি বলেন আমাদের সিকিউরিটি দিতে তিনি ব্যর্থ, আমরা যেন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাকে বদলির ব্যবস্থা করি। এখানে অনেক লোকাল প্রেশার, এখানে কাজ করে তিনি নিজেও সেফ না। একজন সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ারের মুখে এমন কথা শুনে আমরা আশাহত হই।
প্রিন্সিপাল স্যার বোঝানোর চেষ্টা করেন সবার সামনে আসলে কেউ যদি ওর হাত তুলত, এতগুলা মানুষ ও তো মরে যাইতো। আর ৫০ বার উঠবস করবে বললেই করা যায় নাকি, শরীরের স্টাবিলিটি.....ব্লা ব্লা
এপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা প্রিন্সিপাল ও ডিরেক্টরের নামে ভুয়া স্লোগান দেয় এবং এমন নির্লজ্জ প্রশাশনের কাছে তারা কোনো বিচার আশা করেনা বলে জানায়। ইন্টার্নদের সিকিউরিটি যেহেতু তারা দিতে পারবে না তাহলে ইন্টার্নরাও আর হাসপাতালে আসবে না বলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়।

ইন ডিটেইলস এই ছিল সেদিনের ঘটনা।

©কৌশিক মন্ডল

আলহামদুলিল্লাহ!
14/06/2026

আলহামদুলিল্লাহ!

14/06/2026

ঘটনা সংক্ষেপে :

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল রাতে ৩:৩৫ মিনিটে একজন মহিলা দুইদিনের বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে ইমার্জেন্সিতে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে দেখে দ্রুত CCU-তে পাঠান এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ আনতে রোগীর ছেলেকে বাইরে পাঠানো হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওষুধ আনতে আনতে রোগী মৃত্যু বরণ করেন।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

এখন আপনার সুস্থ মস্তিষ্ক কি বলে? এখানে ডাক্তারের দোষটা কোথায়?
দুই দিন ধরে বুকের ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর উপসর্গ নিয়ে রোগীকে বাসায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল—এর দায় কার? একজন সম্ভাব্য হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর যদি তাকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালে না থাকে, গত ৪ মাস ধরে যার সরবরাহ নেই—সেই ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার দায় কি চিকিৎসকের?

রোগী মারা যাওয়ার শোক কি একজন চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলার লাইসেন্স হয়ে যেতে পারে?

এখন,ডাক্তারের গায়ে হাত তোলা সেই লোককে কানে ধরানো দেখে আপনাদের দরদ উথলে পড়ছে। অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সেইম ঘটনা একবার ভাবুন তো। গণপিটুনি খেয়ে হয়তো লোকটা জানে বাচতেই পারত না। সেখানে সভ্য ডাক্তার সমাজ তাদের ধৈর্যের প্রমাণ দিয়েছে।

চিকিৎসায় বিলম্ব, অব্যবস্থাপনা ও বাস্তবতা নিয়ে কথা না বলে প্রতিবার সহজ টার্গেট হিসেবে যেভাবে চিকিৎসককে বেছে নিচ্ছেন, এর প্রভাব কিন্তু শেষ পর্যন্ত আপনাদের ওপরই পড়বে—আজ হোক বা কাল।

আর সেই প্রভাব খুবই বাজেভাবে পড়বে। আজ বললাম, সময় হলে মিলিয়ে নিয়েন।

Address

Chittagong
Chittagong
4000

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Foysal Bhuiyan posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category