25/02/2026
পুরুষের স্থায়ী বন্ধ্যাকরনের বা ভ্যাসেকটমি পরবর্তী সন্তান লাভ।
প্রথমে জেনে নেই পুরুষের স্থায়ী বন্ধ্যাকরন বা ভ্যাসেকটমি কি ।
পুরুষকে কীভাবে স্থায়ীভাবে সন্তান জন্মদানে অক্ষম করা হয় এ বিষয়ে অনেকেরই সঠিক ধারনা না থাকায় সাধারনের মধ্য অনেক সময় ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকে। এমনকি ব্যক্তিজীবনে তথা পারিবারিক ক্ষেত্রে ও সুদূরপ্রসারী বিরূপ পরিনতির সৃষ্টি হতে পারে। এই বিষয়ে সঠিক ধারণা দিতেই এই প্রয়াস। কয়েক দশক ধরেই আমাদের দেশে পুরুষকে স্থায়ীভাবে সন্তান জন্মাদানে অক্ষম করার এই পদ্ধতি চালু রয়েছে। কিন্তু খুব কম সংখ্যক মানুষই এই ব্যাপারে জানেন। এই পদ্ধতিটির চিকিৎসাগত নাম ভ্যাসেকটমি। আসুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ভ্যাসেকটমি খুবই কার্যকর ও কম ক্ষতিকর একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে শুধু ছোট্ট একটি অপারেশন করে একজন পুরুষকে স্থায়ীভাবে সন্তান জন্মদানে বাধাদানের জন্য নারীর জননাঙ্গে শুক্র প্রতিস্থাপনে অক্ষম করে দেওয়া হয়। শুক্রাণু অণ্ডকোষ থেকে পুরুষাঙ্গের বাহিরে যাওয়ার নালী কেটে দেওয়া হয় এই পদ্ধতিতে।
একজন পুরুষের দুটি অণ্ডকোষেই শুক্রাণু উৎপাদিত হয়। এরপর সেসব শুক্রাণু শুক্রবাহী নালী হয়ে পুরুষাঙ্গ দিয়ে বের হয়ে আসে। ওই নালীগুলো কেটে ফেলার পর দুটো অণ্ডকোষই স্টিচ বা সেলাই করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই কাজটি করার সময় অণ্ডকোষে একটু ছোট ছিদ্র করতে হয়।
প্রথমদিকে এই পদ্ধতিটিই অনুসরণ করা হত। তবে বর্তমানে আরো উন্নত পদ্ধতিতে ভ্যাসেকটমি করাহয়। উদ্ভাবিত পদ্ধতির নাম নন-স্ক্যালপেল ভ্যাসেকটমি। এই পদ্ধতিতে খুবই ছোট্ট ছিদ্র করে অণ্ডকোষদ্বয় থেকে শুক্রাণু চলাচলের নালী দুটো কেটে ফেলা হয়। এতে কোনো সেলাইও লাগে না। আর ছিদ্রটি নিজে নিজেই সেরে যায়।
এই পদ্ধতিটিই গত ৪০ বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে । এতে রক্তপাত ও ব্যথা হয় খুবই কম।
ভ্যাসেকটমি অপারেশন করতে মাত্র ১৫ থেকে ৩০ মিনিটি সময় লাগে।
তবে ভ্যাসেকটমি করানোর সঙ্গে সঙ্গেই একজন পুরুষ সন্তান উৎপাদনে অক্ষম হয়ে পড়েন না। কারণ তখনও অন্ডকোষের পাশের গ্রন্থিতে শুক্রাণু থেকে যেতে পারে। সুতরাং বীর্যে শুক্রাণুর হার একেবারে শুন্যে নেমে না আসা পর্যন্ত অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ এড়াতে সাবধান থাকতে হবে। এর জন্য বীর্যস্খলনের সময় নিয়মিতভাবে বীর্যে শুক্রাণুর হার কত তা পরীক্ষা করাতে হবে।
ভ্যাসেকটমি করানোর অন্তত দুই মাস পরে বা ১০ থেকে ২০ বার বীর্য নিঃসরণের পরে শুক্রানু আর থাকে না। এরপর আর কন্ডোম ছাড়াও যৌন মিলন করলেও আর সন্তান উৎপাদন হবে না। জীবনে আর কখনো জন্মনিয়ন্ত্রণের অন্য কোনো পদ্ধতিও অবলম্বন করতে হয় না।শুক্রাণু উৎপাদন ব্যহত হয় না! ভ্যাসেকটমি করানোর পরও অণ্ডকোষে শুক্রাণু উৎপাদন চলতে থাকে। প্রাত্যহিক কাজ হিসেবেই দেহ এই শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়া জারি রাখে। কিন্তু নালী কেটে ফেলায় এখন আর শুক্রানু বের হয়ে আসতে পারে না। আপনি যতদিন চাইবেন ততদিন এই বের না হয়ে আসা অব্যাহত রাখা যাবে।
এখন প্রশ্ন বের না হতে পারলে উৎপাদিত শুক্রাণু কোথায় যায়?
ভ্যাসেকটমি করানোর পর অণ্ডকোষে উৎপাদিত শুক্রাণু একটা সময়ের পর দেহ শুষে নেয়।
একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে ভ্যাসেকটমি করানোর পর টেস্টোস্টেরন হরমোন নিঃসরণ কমে যায়। কিন্তু এই ধরণাটি ঠিক নয়। ভ্যাসেকটমি করানোর পরও আগের মতোই স্বাভাবিক বিষয় হলো এতে যৌনশক্তিরও কোনো ক্ষয় হয় না। এবং যৌনাকাঙ্খাও কমে না। পুরুষের লিঙ্গোত্থান এবং ধাতু নিঃসরণের হার ভ্যাসেকটমির পরও আগের মতোই স্বাভাবিক থাকে।
ভ্যাসেকটমি এবং যৌনতাবাহিত রোগের মধ্যেও কোনো যোগসাজশ নেই। এর মূল উদ্দেশ্য হলো শুক্রাণু বের হতে না দেওয়া।
ভাসেকটমি বা পুরুষের স্থায়ী বন্ধ্যাকরণের পরে কি সন্তান জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া সম্ভব কি ?
অধিকাংশ সাধারণের ধারনা সম্ভব নয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো সম্ভব। তবে কিভাবে ।
শুক্রাণুবাহী নালীগুলো পুনরায় জোড়া (vasreversal operation)দিয়ে সন্তান জন্মদেওয়াও সম্ভব! ঠিকই শুনেছেন। ভ্যাসেকটমি করানোর সময় অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণুবাহী নালীগুলো কেটে ফেলার বহু বছর পরও সেগুলো জোড়া লাগিয়ে চাইলে আপনি পুনরায় সন্তান জন্মদানে নিজের সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। ফের জোড়া (vasreversal operation) লাগানোর পর একবার নালীগুলো শুক্রানু চলাচলের জন্য পরিষ্কার হয়ে গেলেই পুনরায় আপনি সন্তান জন্মদানে সক্ষম হবেন। এভাবে পুনরায় জোড়া (vasreversal operation) লাগানোর পর মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই গর্ভধারণের নজির দেখা গেছে।
এই অপারেশন এ ঝুঁকি কেমন ?
ঝুঁকি কম অন্য আর যে কোনো অপারেশনের তুলনায় ভ্যাসেকটমিতে ঝুঁকি অনেক কম। তবে অণ্ডকোষের যেখানে ফুটো করা হবে সেখানে ফুলে যাওয়া বা জখম হতে পারে।
এছাড়া অণ্ডকোষে ইনফেকশন বা সংক্রমণ, নালী দিয়ে শুক্রাণু লিক করা বা উপচে পড়া, নালীগুলোতে প্রদাহ সৃষ্টি হওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। তার হার ও নগন্য।
ভ্যাসেকটমি করানোর পর একজন পুরুষ মাত্র এক সপ্তাহ বা এমনকি মাত্র ১-৩ দিন পরই পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে বা কাজে ফিরে যেতে পারেন।
ভাসেকটমি করার ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল ভাসেকটমি রিভারসাল বা শুক্রবাহী নালীর জোড়া দেওয়ার পদ্ধতি প্রায় একই। এক্ষেত্রে অপারেশন এর সময় বেশী প্রোয়োজন হয় এবং ব্যয় ও বেশি কিংবা বিশেষভাবে দক্ষতা সম্পন্ন অস্ত্রোপচার কারি বা সার্জনের অনুষঙ্গ পরে।তবে এই অপারেশন অনেক পুরুষের ক্ষেত্রে নতুন আশার দুয়ার খুলে দিয়েছে। আরো জানতে যোগাযোগ করতে পারেন।