ডাঃ মোঃ নাজমুস সিহান

ডাঃ মোঃ নাজমুস সিহান সুস্থ্য শিশু, সুন্দর ভবিষ্যৎ

27/08/2026

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা সংস্কারে একটি বাস্তবভিত্তিক নীতিপ্রস্তাব

বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার, শক্তিশালী Primary Care, কার্যকর Referral System এবং Team-Based Healthcare-এর মাধ্যমে একটি জনমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব

ভূমিকা

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা গত কয়েক দশকে অবকাঠামো, চিকিৎসক, নার্স এবং বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাগত দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে জনসংখ্যার চাপ, রোগীর ক্রমবর্ধমান প্রত্যাশা, স্বাস্থ্যকর্মীর অসম বণ্টন, অতিরিক্ত patient load, দুর্বল referral system, প্রশাসনিক অদক্ষতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সম্পদের অকার্যকর ব্যবহারের কারণে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে।

মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমস্যা কেবল নতুন হাসপাতাল, নতুন ভবন কিংবা নতুন যন্ত্রপাতির ঘাটতি নয়। বরং বিদ্যমান অবকাঠামো, জনবল ও সম্পদকে একটি সমন্বিত, দক্ষ, জবাবদিহিমূলক এবং রোগীকেন্দ্রিক ব্যবস্থার অধীনে সর্বোচ্চ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে না পারাই বড় চ্যালেঞ্জ।

অতএব, স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত—

“Build less, utilize better; treat the system, not only the symptom.”



১. Vision

বাংলাদেশের জন্য এমন একটি patient-centred, team-based, integrated and accountable health system গড়ে তোলা, যেখানে—

* রোগী সঠিক স্তরে সঠিক সময়ে সেবা পাবেন;
* Primary ও Secondary Care কার্যকরভাবে কাজ করবে;
* Tertiary ও Specialized hospitals অপ্রয়োজনীয় রোগীর চাপ থেকে মুক্ত থাকবে;
* চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী তাদের দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবেন;
* বিদ্যমান হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হবে;
* স্বাস্থ্যসেবার প্রতিটি স্তরের মধ্যে কার্যকর referral ও communication system থাকবে;
* সম্পদ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকবে;
* এবং সর্বশেষে, স্বাস্থ্যব্যবস্থার সাফল্য পরিমাপ করা হবে রোগীর outcome দিয়ে।



২. মূল নীতিগত পরিবর্তন

২.১ “More Infrastructure” থেকে “Better Utilization”-এ পরিবর্তন

নতুন হাসপাতাল বা স্থাপনা নির্মাণের আগে প্রতিটি এলাকায় বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের—

* Bed occupancy
* Patient load
* Human resources
* Diagnostic capacity
* Medicine availability
* Equipment utilization
* Maintenance
* Infection control
* Sanitation
* Referral capacity

মূল্যায়ন করতে হবে।

নতুন অবকাঠামো নির্মাণ কেবল তখনই করা উচিত যখন evidence-based assessment প্রমাণ করবে যে বিদ্যমান capacity যথেষ্ট নয়।



৩. Primary Healthcare শক্তিশালী করা

স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভিত্তি হতে হবে Primary Healthcare।

Community Clinic, Union-level facilities এবং Upazila Health Complex-কে এমনভাবে শক্তিশালী করতে হবে যাতে সাধারণ ও uncomplicated রোগের একটি বড় অংশ স্থানীয় পর্যায়েই ব্যবস্থাপনা করা যায়।

প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে ধাপে ধাপে নিশ্চিত করা যেতে পারে—

* পর্যাপ্ত চিকিৎসক
* প্রশিক্ষিত নার্স
* মেডিকেল টেকনোলজিস্ট
* Essential medicines
* Basic laboratory
* প্রয়োজনীয় imaging facilities
* Emergency care
* Maternal and child health services
* Infection prevention and control

এর ফলে tertiary hospital-এর ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।



৪. কার্যকর Referral System প্রতিষ্ঠা

একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো well-functioning referral pathway।

প্রস্তাবিত কাঠামো:

Community → Union/Primary Care → Upazila → District Hospital → Medical College/Specialized Hospital

প্রতিটি স্তরের জন্য পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করতে হবে—

* কোন রোগ সেখানে চিকিৎসাযোগ্য;
* কখন referral করতে হবে;
* কোথায় referral করতে হবে;
* referral-এর আগে কী পরীক্ষা করতে হবে;
* receiving hospital কীভাবে রোগী গ্রহণ করবে।

Referral হবে শুধু রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া নয়; বরং clinical information transfer-এর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রক্রিয়া।



৫. Medical College Hospital-কে Tertiary Care Centre হিসেবে পুনর্গঠন

Medical College Hospital-এর প্রধান কাজ হওয়া উচিত—

জটিল রোগ, specialist care, teaching, training এবং research।

কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ ও uncomplicated রোগীর বিপুল চাপ tertiary hospital-এর specialist services-কে অকার্যকর করে তুলছে।

Primary ও Secondary Care শক্তিশালী হলে Medical College Hospital-এর specialistরা জটিল রোগীদের জন্য বেশি সময় দিতে পারবেন এবং diagnosis ও treatment-এর মান বাড়বে।



৬. Hospital Capacity বনাম Patient Load—বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা

একটি ৫০-বেড হাসপাতাল যদি নিয়মিত ১০০–১৫০ রোগী নিয়ে পরিচালিত হয়, সেটিকে কেবল চিকিৎসকের performance-এর সমস্যা হিসেবে দেখা যাবে না।

এটি একটি system capacity failure।

তাই প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের জন্য নির্ধারণ করতে হবে—

* sanctioned bed capacity
* functional bed capacity
* average daily admission
* average occupancy
* doctor-to-patient ratio
* nurse-to-patient ratio
* support-staff requirement

Capacity-এর তুলনায় রোগীর চাপ দীর্ঘমেয়াদি হলে সরকারকে service redesign করতে হবে।



৭. Healthcare-কে Team-Based Service হিসেবে প্রতিষ্ঠা

স্বাস্থ্যসেবা কোনো একক পেশাজীবীর কাজ নয়।

একটি কার্যকর healthcare team-এর মধ্যে রয়েছেন—

Doctor + Nurse + Medical Technologist + Pharmacist + Aya + Ward Boy + Cleaner + Administrative Staff + অন্যান্য সহায়তাকারী।

চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে যদি নার্স না থাকে, নার্স থাকলেও cleaner না থাকে, laboratory technician না থাকে, medicine supply না থাকে—তাহলে একটি হাসপাতাল কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

অতএব, “one professional at a time” recruitment policy-এর পরিবর্তে “complete service team” staffing model প্রয়োজন।



৮. Human Resource Management সংস্কার

স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।

প্রয়োজন—

Right Person

যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ ও দায়িত্ব প্রদান।

Right Place

যেখানে রোগীর চাপ বেশি সেখানে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা।

Right Number

Patient load অনুযায়ী staffing নির্ধারণ।

Right Skill

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের service profile অনুযায়ী দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা।

Right Incentive

দুর্গম ও high-workload এলাকায় কাজের জন্য যথাযথ incentive ও career recognition।



৯. OPD Management-এর আধুনিকীকরণ

সরকারি হাসপাতালের OPD-তে অস্বাভাবিক patient load চিকিৎসকদের consultation time কমিয়ে দেয়।

এজন্য চালু করা যেতে পারে—

* Triage system
* Nurse-led initial assessment
* Serial/appointment management
* Separate fast-track service for minor illness
* Chronic disease follow-up clinics
* Dedicated emergency pathway

এতে চিকিৎসকরা রোগীর history, examination এবং clinical reasoning-এর জন্য পর্যাপ্ত সময় পাবেন।



১০. Preventive Healthcare-এর নতুন কৌশল

Preventive medicine অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রতিটি নাগরিকের বাড়িতে গিয়ে routine screening করা সব ক্ষেত্রে cost-effective বা বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে।

এর পরিবর্তে—

Mass awareness + Risk identification + Accessible screening facility + Early referral

এই মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে।

গণমাধ্যম, social media, community health workers এবং educational institutions ব্যবহার করে স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে।

যাদের screening-এর clinical indication রয়েছে, তাদের নিকটবর্তী বিদ্যমান স্বাস্থ্যকেন্দ্রে screening-এর সুযোগ দিতে হবে।



১১. Digital Referral এবং Electronic Health Record

একটি national/interoperable digital health information system ধাপে ধাপে প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

একজন রোগী এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে গেলে তার—

* Diagnosis
* Investigation
* Medication
* Previous treatment
* Referral reason

যদি নিরাপদভাবে electronically transfer করা যায়, তাহলে অপ্রয়োজনীয় repeat investigation কমবে এবং continuity of care বাড়বে।



১২. Essential Medicine ও Diagnostic Availability নিশ্চিত করা

একজন চিকিৎসক সঠিক diagnosis করেও যদি—

* প্রয়োজনীয় medicine না পান,
* laboratory test না থাকে,
* imaging facility না থাকে,

তাহলে quality healthcare নিশ্চিত করা অসম্ভব।

প্রতিটি হাসপাতালের জন্য essential medicine ও essential diagnostic service-এর একটি minimum service package নির্ধারণ করা উচিত এবং তার availability নিয়মিত audit করা উচিত।



১৩. Hospital Cleanliness ও Support Services-কে Clinical Care-এর অংশ হিসেবে বিবেচনা

পরিচ্ছন্নতা কোনো cosmetic issue নয়; এটি patient safety এবং infection control-এর অংশ।

তাই—

* Cleaner
* Aya
* Ward Boy
* Waste management worker
* Maintenance staff

এদেরকে “অপ্রধান কর্মী” হিসেবে দেখা যাবে না।

Hospital sanitation-এর জন্য measurable indicators এবং regular audit থাকা উচিত।



১৪. Hospital Administration-এর professionalization

একটি হাসপাতাল পরিচালনা clinical এবং administrative—দুই ধরনের দক্ষতার সমন্বয়।

Hospital administration-এর মধ্যে থাকতে হবে—

* Human resource management
* Procurement
* Logistics
* Equipment maintenance
* Infection control
* Waste management
* Patient flow
* Complaint management
* Quality assurance

প্রতিটি হাসপাতালের প্রশাসনিক performance-এর জন্য measurable indicators নির্ধারণ করা উচিত।



১৫. Procurement সংস্কারে স্বচ্ছতা ও Value-for-Money নিশ্চিত করা

স্বাস্থ্য খাতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু—

“কী কেনা হলো?”

তা নয়; বরং—

“কত টাকা খরচ হলো, কতদিন ব্যবহার হলো, কতজন রোগী উপকৃত হলো এবং patient outcome কী পরিবর্তন হলো?”

Equipment procurement-এর সঙ্গে অবশ্যই থাকতে হবে—

* utilization plan
* maintenance plan
* trained manpower
* consumables
* outcome monitoring

অব্যবহৃত বা অকার্যকর equipment-এর জন্য institutional accountability থাকতে হবে।



১৬. Doctor Accountability-এর সঙ্গে System Accountability

চিকিৎসকের ভুল বা অবহেলার ক্ষেত্রে অবশ্যই professional accountability থাকতে হবে।

কিন্তু একই সঙ্গে system-level accountability নিশ্চিত করতে হবে।

কোনো adverse outcome হলে তদন্তে অন্তত নিম্নলিখিত প্রশ্ন থাকতে হবে—

1. পর্যাপ্ত চিকিৎসক ছিলেন কি?
2. পর্যাপ্ত নার্স ছিলেন কি?
3. প্রয়োজনীয় ওষুধ ছিল কি?
4. প্রয়োজনীয় investigation করা সম্ভব ছিল কি?
5. bed ও equipment available ছিল কি?
6. referral system কাজ করেছে কি?
7. hospital administration যথাযথভাবে কাজ করেছে কি?

System failure-কে individual doctor’s failure হিসেবে চিহ্নিত করা স্বাস্থ্যব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর।



১৭. চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের Professional Morale রক্ষা

একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা তার মানবসম্পদের ওপর নির্ভরশীল।

অতিরিক্ত workload, জনবল সংকট, inadequate facilities, প্রশাসনিক চাপ এবং প্রতিনিয়ত blame culture-এর কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের morale ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে patient care-এর ওপর।

তাই accountability-এর পাশাপাশি প্রয়োজন—

* নিরাপদ কর্মপরিবেশ
* ন্যায্য performance evaluation
* professional respect
* continuing medical education
* career development
* workload balancing



১৮. Health System Performance-এর জন্য National Dashboard

প্রতিটি জেলা ও হাসপাতালের performance measurable হতে হবে।

১৯. Pilot → Evaluate → Scale-up

সারা দেশে একসঙ্গে বড় সংস্কার করার পরিবর্তে প্রথমে নির্বাচিত কয়েকটি জেলা বা উপজেলায় pilot project করা যেতে পারে।

Phase 1: Baseline assessment
Phase 2: System redesign
Phase 3: Implementation
Phase 4: Independent evaluation
Phase 5: Successful model nationwide scale-up

এতে ব্যর্থ প্রকল্পে বিপুল অর্থ অপচয়ের ঝুঁকি কমবে।



২০. স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংস্কারের মূল দর্শন

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে এখন শুধু আরও ভবন, আরও equipment বা আরও প্রতিষ্ঠান তৈরির চিন্তা না করে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—

“More hospitals” নয়, “better hospitals”;
“more doctors” নয়, “better deployment of doctors”;
“more spending” নয়, “better spending”;
“more screening” নয়, “smarter prevention”;
“more referral” নয়, “appropriate referral”;
এবং সর্বোপরি—
“more healthcare infrastructure” নয়, “a better healthcare system।”



উপসংহার

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হলে সমস্যার দায় এককভাবে চিকিৎসক বা কোনো একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না।

একজন চিকিৎসক একটি বৃহৎ স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাত্র একটি অংশ। তার পাশে দক্ষ নার্স, টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, আয়া, ওয়ার্ডবয়, ক্লিনার, প্রশাসক এবং কার্যকর supply ও referral system না থাকলে একজন চিকিৎসকের ব্যক্তিগত দক্ষতা দিয়েও একটি হাসপাতালকে মানসম্মত করা সম্ভব নয়।

তাই স্বাস্থ্য সংস্কারের মূলনীতি হওয়া উচিত—

“Fix the System, Empower the Team, Strengthen Primary Care, Rationalize Referral, and Measure Outcomes.”

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নতুন নতুন স্থাপনা তৈরির মধ্যে যতটা না নিহিত, তার চেয়ে অনেক বেশি নিহিত রয়েছে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর করা, সঠিক জনবল সঠিক জায়গায় নিয়োগ করা, স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা, referral network শক্তিশালী করা এবং একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মধ্যে।

এটি কেবল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এটি চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্য প্রশাসন, নীতিনির্ধারক এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের একটি সমন্বিত দায়িত্ব।

লক্ষ্য হওয়া উচিত—একটি বড় স্বাস্থ্যব্যবস্থা নয়; একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা।

23/08/2026

আপনার বাচ্চার জন্য একজন ডাক্তার কীভাবে নির্বাচন করবেন?

সহজ করে বললে—আপনি আপনার বাচ্চাকে কোন শিশু ডাক্তারকে দেখাবেন?

অনেক বাবা-মা আমাকে এই প্রশ্নটি করেন—“স্যার, শিশুদের মধ্যে কোন ডাক্তার ভালো?”

আজকে খুব সহজভাবে এই বিষয়টি নিয়ে কিছু কথা বলব।

প্রথমেই আসি ডিগ্রির কথায়।

বাংলাদেশে এমবিবিএস করার পর শিশু রোগের ওপর পোস্টগ্র্যাজুয়েট প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রি থাকলে একজন চিকিৎসক শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। এর মধ্যে FCPS এবং MD—দুটি প্রচলিত উচ্চতর ডিগ্রি। এছাড়া Diploma in Child Health বা DCH-ও একটি স্বীকৃত পোস্টগ্র্যাজুয়েট যোগ্যতা।

অর্থাৎ, প্রথমেই দেখবেন—ডাক্তারটি শিশু রোগের ওপর যথাযথ প্রশিক্ষণ ও ডিগ্রি অর্জন করেছেন কি না।

এরপর আসবে অভিজ্ঞতা ও কর্মস্থলের বিষয়টি।

একজন শিশু বিশেষজ্ঞ মেডিকেল কলেজে Professor, Associate Professor, Assistant Professor, Consultant বা অন্য কোনো পদে থাকতে পারেন। পদমর্যাদা অবশ্যই একটি বিষয়, তবে শুধু পদবি দেখেই ডাক্তার নির্বাচন করা উচিত নয়। তাঁর প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা, রোগী দেখার ধরন—সবকিছু বিবেচনা করা ভালো।

অনেকেই সরকারি হাসপাতালের ডাক্তারকে পছন্দ করেন। এর একটা যৌক্তিক কারণ আছে। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে সাধারণত রোগীর চাপ অনেক বেশি থাকে। ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগী দেখার clinical exposure অনেক বেশি হয়। তবে এটাও মনে রাখতে হবে—শুধু সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন কি না, সেটিই একজন চিকিৎসকের দক্ষতার একমাত্র মাপকাঠি নয়।

এবার আসি ডাক্তার কত সময় দেন—এই প্রশ্নে।

অনেকেই মনে করেন, যে ডাক্তার একজন রোগীকে বেশি সময় দেন, তিনিই ভালো ডাক্তার।

রোগীকে যথেষ্ট সময় দেওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, ভালোভাবে examination করা এবং বাবা-মায়ের উদ্বেগ বোঝা—এসব চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কিন্তু বেশি সময় দেওয়াই ভালো চিকিৎসকের একমাত্র পরিচয় নয়।

একজন অপেক্ষাকৃত নতুন চিকিৎসক কোনো clinical finding বুঝতে যে সময় নেন, একজন বহু বছরের অভিজ্ঞ চিকিৎসক হয়তো সেটি খুব অল্প সময়েই বুঝে ফেলতে পারেন। কারণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে pattern recognition বা রোগের বৈশিষ্ট্য দ্রুত শনাক্ত করার দক্ষতা তৈরি হয়।

তাই শুধু “কত মিনিট দেখলেন”—এটা দিয়ে চিকিৎসকের দক্ষতা বিচার করা ঠিক নয়।

এরপর আসে ব্যবহার ও যোগাযোগের বিষয়টি।

আপনি এমন একজন চিকিৎসককে বেছে নিন, যার কাছে আপনি আপনার বাচ্চার সমস্যাগুলো নির্ভয়ে বলতে পারেন। আপনার কথা তিনি শুনবেন, আপনার প্রশ্নের উত্তর দেবেন এবং আপনাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলবেন।

একজন চিকিৎসকের ভালো ব্যবহার রোগীর আস্থা বাড়ায়। আর চিকিৎসায় trust এবং communication খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এবার আসি পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথায়।

অনেকে বলেন, “এই ডাক্তার অনেক পরীক্ষা দেন, তাই ভালো না।”

আবার কেউ বলেন, “ওই ডাক্তার কোনো পরীক্ষা দেন না, তাই ভালো।”

দুটো ধারণাই ঠিক নয়।

প্রয়োজন না থাকলে অযথা পরীক্ষা করানো যেমন ঠিক নয়, তেমনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা না করাও ঠিক নয়।

রোগ নির্ণয়ের জন্য যখন কোনো পরীক্ষা clinically indicated, তখন সেটি করাতে হবে। তাই এমন চিকিৎসককে বেছে নেওয়া ভালো, যিনি রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন—অতিরিক্তও নয়, অপ্রয়োজনীয় কমও নয়।

এরপর আসে ওষুধের বিষয়টি।

বিশেষ করে বাচ্চাদের ওষুধ খাওয়ানো কিন্তু সহজ কাজ নয়।

একটা ছোট বাচ্চাকে যদি পাঁচ-সাতটা ওষুধ খাওয়াতে হয়, বাবা-মায়ের জন্য সেটা কতটা কঠিন—তা আমরা সবাই জানি।

অবশ্যই কোনো রোগে যতগুলো ওষুধ প্রয়োজন, ততগুলোই দিতে হবে। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় ওষুধ না দিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ, সঠিক dose এবং সঠিক duration-এ চিকিৎসা করাই ভালো চিকিৎসার অংশ।

অর্থাৎ, “ওষুধ বেশি দিলেই চিকিৎসা ভালো”—এটা ঠিক নয়।

সবশেষে আসি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে—আস্থা।

আপনি যদি এমন একজন শিশু বিশেষজ্ঞকে খুঁজে পান, যাঁর ওপর আপনি এবং আপনার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আস্থা রাখতে পারেন, যিনি আপনার বাচ্চার আগের ইতিহাস জানেন এবং আপনার সঙ্গে ভালোভাবে communicate করেন—তাহলে সেই চিকিৎসকের কাছেই নিয়মিত follow-up করা অনেক সময় বেশি উপকারী।

তবে একটি বিষয় সবসময় মনে রাখবেন—

শিশু অসুস্থ হলে শুধু ডাক্তার ভালো কি না, সেটাই নয়; রোগটি কী, কতটা গুরুতর, কখন হাসপাতালে যেতে হবে এবং কখন specialist বা subspecialist-এর পরামর্শ প্রয়োজন—এসবও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই আপনার বাচ্চার জন্য ডাক্তার নির্বাচন করার সময় আমি বলব—

ডিগ্রি দেখুন, প্রশিক্ষণ দেখুন, অভিজ্ঞতা দেখুন, রোগীকে বোঝার ক্ষমতা দেখুন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন কি না দেখুন, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ এড়ান কি না দেখুন—আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর ওপর আপনার আস্থা আছে কি না সেটা দেখুন।

শুধু একজন ডাক্তার কত বড় পদে আছেন, কত মিনিট রোগী দেখেন, কতগুলো পরীক্ষা দেন বা কতগুলো ওষুধ লেখেন—এসবের কোনো একটিকে দিয়ে একজন চিকিৎসকের মান বিচার করা ঠিক নয়।

ভালো চিকিৎসা হলো সঠিক রোগ নির্ণয়, সঠিক চিকিৎসা এবং রোগী ও চিকিৎসকের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সমন্বয়।

28/07/2026

নবজাতকের চিকিৎসায় আমরা সবসময় একটি বিষয়কে সর্বাধিক গুরুত্ব দিই—রোগের চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধই উত্তম।

নবজাতকের সবচেয়ে মারাত্মক সমস্যাগুলোর একটি হলো রক্তে সংক্রমণ (Neonatal Sepsis)। এই সংক্রমণ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে প্রকাশ পেতে পারে, যেমন শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, জ্বর, শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া, খাওয়ায় অনীহা, অতিরিক্ত ঝিমিয়ে থাকা ইত্যাদি।

অনেক ক্ষেত্রে এই সংক্রমণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা। তাই আমরা সবসময় পরামর্শ দিই, নবজাতককে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে এমন এবং যতটা সম্ভব আলাদা পরিবেশে রাখতে। শিশুকে কোলে নেওয়া বা তার পরিচর্যা করার আগে অবশ্যই ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। বাইরে থেকে বাসায় ফিরে জামাকাপড় পরিবর্তন করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়ে, প্রয়োজনে গোসল করে তারপর নবজাতকের কাছে যাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

যদি কোনো কারণে শিশুর শ্বাসকষ্ট, জ্বর, খিঁচুনি বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে এক মুহূর্তও দেরি না করে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ বা নবজাতক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। কারণ নবজাতকের চিকিৎসায় প্রথম কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা গেলে জটিলতা এবং মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

সম্প্রতি এমনই একটি নবজাতক আমাদের এনআইসিইউতে ভর্তি হয়েছিল, যার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছিল অত্যন্ত ক্ষীণ। হাসপাতালে আসার সময় শিশুটির অক্সিজেন স্যাচুরেশন ছিল ৫০ শতাংশেরও কম। দ্রুত তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। আর্টেরিয়াল ব্লাড গ্যাস (ABG) পরীক্ষায় দেখা যায়, তার রক্তের pH ছিল ৬.৭, যা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং সাধারণত জীবনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা, আমাদের এনআইসিইউ টিমের নিরলস সেবা এবং সর্বোপরি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে শিশুটি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। টানা সাত দিনের নিবিড় চিকিৎসার পর এখন সে অক্সিজেন ছাড়াই ৯৯% অক্সিজেন স্যাচুরেশন বজায় রাখতে পারছে, স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করছে এবং তার সার্বিক অবস্থাও সন্তোষজনক।

আজ আমরা আনন্দের সঙ্গে শিশুটিকে সুস্থ অবস্থায় তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিতে পারছি।

সবার কাছে শিশুটির সুস্থ, সুন্দর ও দীর্ঘ জীবনের জন্য আন্তরিক দোয়া কামনা করছি।

13/07/2026

নবজাতকের চিকিৎসায় “গোল্ডেন মিনিট” অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা। বিশেষ করে যে নবজাতকের জন্মের পর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়, তার ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব সঠিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা (Respiratory support) শুরু করা প্রয়োজন।

চিকিৎসা শুরুতে বিলম্ব হলে বা অপচিকিৎসার কারণে শিশুর শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি (Hypoxia) তৈরি হতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্ক, হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি, ফুসফুসসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এতে পরবর্তী চিকিৎসা অনেক বেশি জটিল, দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এমনকি সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসা দেওয়ার পরও শিশুর মৃত্যু বা স্থায়ী শারীরিক ও মানসিক জটিলতার আশঙ্কা থেকে যেতে পারে।

তাই সকল অভিভাবকের প্রতি অনুরোধ—নবজাতকের শ্বাসকষ্ট, দ্রুত শ্বাস নেওয়া, বুক দেবে যাওয়া, নীলচে হয়ে যাওয়া, খেতে না পারা, অতিরিক্ত ঝিমিয়ে থাকা বা নিউমোনিয়াসহ যেকোনো গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে এক মুহূর্তও দেরি করবেন না। দ্রুত একজন দক্ষ শিশু বিশেষজ্ঞ বা নবজাতক বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হোন। সময়মতো সঠিক চিকিৎসাই একটি নবজাতকের জীবন বাঁচাতে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা প্রতিরোধ করতে পারে।

17/06/2026

# NICU STORY

আমার চিকিৎসক জীবনের শুরুর দিকে প্রথম incredibly low birth weight baby—জন্মের সময় যার ওজন ছিল মাত্র ৫০০ গ্রাম—আজ আমার সামনে দাঁড়িয়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিসংখ্যান, দীর্ঘ রাতের উদ্বেগ আর অসংখ্য প্রার্থনার ওপরে উঠে সে আজ সুস্থ ও প্রাণবন্ত। এমন মুহূর্তগুলোই আমাদের মনে করিয়ে দেয় কেন আমরা এই পেশায় এসেছি।

অনেক বাবা-মায়ের মনেই একটি অজানা আশঙ্কা কাজ করে—এত কম ওজন নিয়ে জন্মানো একটি শিশু যদি বেঁচেও থাকে, তবে সে কি ভবিষ্যতে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে? তার শারীরিক ও মানসিক বিকাশ কি স্বাভাবিক হবে?

আজ সেই প্রশ্নের এক জীবন্ত উত্তর আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আব্দুর রহমান, জন্মের সময় যার ওজন ছিল মাত্র ৫০০ গ্রাম, আজ আমার সামনে উপস্থিত।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিসংখ্যান, নিবিড় পরিচর্যা, বাবা-মায়ের অক্লান্ত ভালোবাসা এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমতের এক অনন্য সাক্ষী সে।

আমরা বরং তার মুখ থেকেই শুনি—সে কি স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে, তার স্বপ্ন কী, আর এই দীর্ঘ পথচলার গল্প কেমন ছিল।

একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমার জন্য এটি শুধু একটি রোগীর সঙ্গে পুনর্মিলন নয়; এটি আশা, অধ্যবসায় এবং সম্ভাবনার এক অসাধারণ গল্প।

বমি মানে গ‍্যস নয়, হতে পারে কোন জটিল রোগের লক্ষণ!!এই বাবুটি জন্মের পর থেকেই বমির সমস্যায় ভুগছিল ।বহুবার বিভিন্ন জায়গায...
10/05/2026

বমি মানে গ‍্যস নয়, হতে পারে কোন জটিল রোগের লক্ষণ!!

এই বাবুটি জন্মের পর থেকেই বমির সমস্যায় ভুগছিল ।বহুবার বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা নিয়েছে।সব জায়গায় গ‍্যাসের সমস‍্যা বলে গ‍্যাসের ঔষধ দেওয়া হয়েছে।

রোগী ৩ মাস পর আমার কাছে আসার পর ভাল করে শারীরিক পরীক্ষা করে জটিল কিছু মনে হয়!রোগীকে বুঝিয়ে বলি সঠিক রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা করাতে হবে ।তারপর USG WA , Electrolyte,Creatinine পরীক্ষা করতে দেই।রিপোর্ট দেখে আমার চোখ কপালে!!

বাবুটি জন্মগত জটিল কিডনি রোগী! Creatinine ৬!! Electrolytes severely abnormal (Na 112)!!USG WA রিপোর্ট হল ক্রনিক কিডনি ডিজিজ!!যার চিকিৎসা হল ডায়ালাইসিস এবং পরবর্তীতে কিডনী Transplant!!

সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া চিকিৎসা আপনার বাবুর জটিলতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

অযথা এনটিবায়োটিক কে না বলিঃমাএ ৪৫ দিন বয়সি এই বাবুটি এসেছে প্রশাব করার সময় কান্না করে, এই সমস‍্যা নিয়ে। এর আগে বাবুটিকে ...
01/05/2026

অযথা এনটিবায়োটিক কে না বলিঃ

মাএ ৪৫ দিন বয়সি এই বাবুটি এসেছে প্রশাব করার সময় কান্না করে, এই সমস‍্যা নিয়ে। এর আগে বাবুটিকে কয়েকবার এন্টিবায়োটিক দেয়া হয়। কোন সমাধান হয় নি।

অতপর , আমার চেম্বারে আসলে আমি urine C/S পরীক্ষা করতে দেই।যেখানে প্রশাবে সংক্রমন দেখা যায় এবং বেশীরভাগ Antibiotics Resistant রিপোর্ট পাওয়া যায় ।যার মানে হল মাএ ২ টি injection এবং যেগুলো Reserve Antibiotics হিসেবে পরিচিত, সেগুলো এই সংক্রমনের বিরুদ্ধে কার্যকর!!

বাচ্চাদের যেকোন সংক্রমন চিকিৎসায় সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরী।যথেচ্ছ Antibiotic ব‍্যবহারে Antibiotic resistance হয়ে এই ছোট শিশুদের ভবিষ্যৎ হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।

আমরা বাচ্চাদের অযথা Antibiotic ব‍্যবহারকে না বলি। সুস্থ সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ি!!

26/04/2026
20/04/2026

# Paediatric specialist
# NICU Specialist

আমি সবসময় চেষ্টা করি আমার রোগীর সব সমস্যা মন দিয়ে শোনার, বুঝার,সঠিক সমাধান দেওয়ার।রোগীর সব সমস্যা নিজের মত করে চিন্তা করার।রোগীর জন্য সবচেয়ে কম খরচে সেবা নিশ্চিত করার।সব সমাধান হয়ত আমার কাছেও নেই, তাদের সঠিক জায়গায় রেফার করাও আমি আমার কর্তব্য বলে মনে করি।কিছু সমস্যার সমাধান হয়ত কারও কাছেই নেই!

NICU বা PICU এর ক্ষেত্রে খরচের ব‍্যপারে সকলেই উদ্বিগ্ন থাকে। যাদের চিকিৎসা করলে বাবু সুস্থ হয়ে যাবে, তাদের আর্থিক সহ সকল ধরনের সহায়তা করার চেষ্টা করি।আবার যাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসার পরও বাঁচার সম্ভাবনা কম, তাদেরকে সব বুঝিয়ে বলি।

এই রোগীর অবিভাবক এসেছেন সুদূর প্রবাস থেকে আমার সাথে দেখা করার জন‍্য! ওনার প্রথম বাবু NICU তে সর্বোচ্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমি চারদিন পরে সব বুঝিয়ে বলে দিয়েছি এবং চিকিৎসা চালিয়ে যেতে নিষেধ করেছিলাম!তারপরও তারা অন‍্য একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, কিন্তু বাবুটি মারা যায়। তারপরও কথা প্রসঙ্গে জানতে পারলাম তাদের আত্মিয় সজন সকলেই আমার কাছে আসেন শুধু মাএ সুপরামর্শের জন‍্য।

আলহামদুলিল্লাহ!!

আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই।

Address

Room 605 (5 Th Floor), Moon Specialized Hospital, Shahid Khawaja Nizamuddin Road, , Room :222, Modern Hospital, Shaktola
Cumilla
3500

Telephone

+8801841525159

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ডাঃ মোঃ নাজমুস সিহান posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to ডাঃ মোঃ নাজমুস সিহান:

Shortcuts

Share

Category