10/05/2026
(This article is based on astrology, horoscope and is for only education purposes)
রাশি/রাশিচক্র: পর্ব ২
কেনো এবং কিভাবে।
গত পর্বে আমরা জেনেছিলাম রাশির ইতিহাস। আজ আমরা জানবো কিভাবে এই রাশিগুলো আসলো। বিভিন্ন প্রাচীন পৌরাণিক গ্রন্থে কিভাবে এসেছে।
এখানে আমরা গ্রীক পূরাণের গল্প নিয়ে আসবো। কারণ ব্যবিলনীয়ন মিথলজি পরিপূর্ণ আকারে পাওয়া যায় না। তবে প্রতিটি রাশির ব্যবিলনিয়ান, মিশরীয়, গ্রীক ও রোমান নাম উল্লেখিত থাকবে।
মাউন্ট অলিম্পাসে দেবতাদের রাজা Zeus বিভিন্ন বস্তু, বীর বা প্রাণীকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য নক্ষত্রমন্ডলে স্থাপন করে।
১, Agru (ব্যবীলনীয়)/ Aries (রোমান)/ Krios (গ্রীক) বা মেষরাশি :
রাজা অ্যাথামাসের সন্তান ফ্রিক্সাস ও হেলেকে তাদের সৎমা ইনোর হাতের বলি থেকে বাঁচাতে তাদের মা ক্লাউড নিম্ফ(মেঘের পরী) নেফেলে এই ভেড়া পাঠায়। ভেড়াটি উড়ে কলচিসে নিয়ে যায় (হেলে পড়ে হেলেসপন্টে মা০রা যায়) সেখানে পৌঁছে ভেড়াটি ফ্রিক্সোসকে নির্দেশ দেয় যে, তাকে (ভেড়াটিকে) দেবতাদের উদ্দেশ্যে ব০লি দিতে। পরে জিউস বা অন্য দেবতা এটিকে আকাশে রাখেন।
২, Guanna/ Ta**us/ Ta**us বা বৃষ(ষাঁড়) রাশি:
অলিম্পিয়ান দেবতা Poseidon এই ষাড়টিকে সমুদ্র থেকে মিনোসের কাছে পাঠিয়েছিলো বলি দেয়ার জন্য। কিন্তু মিনোস অন্য পশুকে ব০লি দেয়। Poseidon ক্ষি০প্ত হয়ে ষাড়টিকে পাগল করে দেয়। ইউরিসথিয়াস হারকিউলিসকে পাঠায় ষাড়টিকে শিকার করবার জন্য। হারকিউলিস ষাড়টিকে ধরে আনে কিন্তু ছেড়ে দেয়। থিসাস এরপর ষাড়টিকে হ০ত্যা করে। এরপর দেবতারা এটিকে নক্ষত্রপুঞ্জে রেখে দেয় যা বৃষ রাশি নামে পরিচিত।
৩, Mas.tab. ba/ Didymoi/ Gemini বা মিথুন(জমজ) রাশি:
জিউসের সন্তান হওয়ায় দুই জমজ ভাইকে আকাশে রেখে দেয়া হয়। যা মিথুন(জমজ) রাশি বলে পরিচিত।
৪, Al.lul/ Karkinos/ Cancer বা কর্কট(কাকড়া) রাশি:
হারকিউলিসের আরেকটি মিশন ছিলো লার্নাইয়া নামের হাইড্রাকে মে০রে ফেলার জন্য।দেবী হেরা কাকড়াকে পাঠায় সাহায্য করতে লার্নাইয়াকে। হারকিউলিস পায়ে পিষে মে০রে ফেলে কাকড়াকে। হেরা দেবী দুঃখ বোধ করে কাকড়াকে আকাশে স্থাপন করে দেয়।
৫, Ur.gula/ Leon/ Leo বা সিংহ রাশি:
নেমিয়ান শহরে এক সিংহ তান্ডব চালাচ্ছিলো। রাজা ইউরিসথিয়াস তার বারোটি শ্রমের প্রথমটি হিসেবে হারকিউলিসকে এই সিংহকে হ০ত্যা করতে বলে। হারকিউলিস সিংহকে হ০ত্যা করে। দেবী হেরা সিংহকে আকাশে স্থাপন করে দেয়।
৬, Ab.sin/ Parhtenos/ virgo বা কন্যা রাশি:
Astraea ছিল ন্যায়বিচারের কুমারী দেবী। স্বর্ণযুগে সে মানবজাতির সাথে পৃথিবীতে বাস করত পরবর্তীতে ব্রোঞ্জ যুগে (খৃষ্টপূর্ব ৩৩০০-১২০০ সাল) আইনশৃঙ্খলাহীনতার কারণে তাকে বিতাড়িত করা হয়। জিউস তাকে কন্যা রাশি নক্ষত্রপুঞ্জ হিসেবে নক্ষত্রদের মাঝে স্থাপন করেন।
৭, Zibanitu/ zygos/ Libra বা তুলারাশি:
ন্যায়ের দাড়িপাল্লা। virgo এর ন্যায়ের প্রতীক।
৮, Gir.tab/ Skorpios/ Scorpio বা বৃশ্চিক(বিচ্ছু) রাশি:
দেবী Gaia বিশাল বিচ্ছুকে পাঠায় Orion কে মা০রার জন্য।কারণ অরায়ন গর্ব করে বলেছিল সব প্রাণী মে০রে ফেলবে। বিচ্ছুর কামড়ে অরায়ন মা০রা যায়। জিউস বিচ্ছুকে আকাশে রেখে দেয়।
৯, Pabilsag/ toxotes/ sagittarius বা ধনু রাশি:
ধনু রাশি তীরন্দাজ নামেও পরিচিত এবং এই রাশিটি সাধারণত পৌরাণিক চরিত্র কাইরনের সাথে সম্পর্কিত। কাইরন ছিল একজন অমর, সভ্য সেন্টর, যে অনেক বিখ্যাত বীরের শিক্ষক ছিল।
হেরাক্লিসের ভুলবশত একটি তীরের আকস্মিক আঘাতে কাইরন তাঁর অমরত্ব ত্যাগ করে। পরে জিউস তাকে নক্ষত্রে স্থাপন করে দেয়।
১০, Suhur/ Aigokeros/ capricorn বা মকর(সমুদ্র-ছাগল) রাশি:
আইগিপান (Aegipan) ছিল ছাগলের পা-ওয়ালা প্যানদের মধ্যে একজন। যখন দেবতারা দানব টাইফোয়াসের হাত থেকে বাঁচতে পশুদের রূপ ধরে লুকিয়েছিলেন, তখন আইগিপান মাছের লেজওয়ালা একটি ছাগলের রূপ ধারণ করেন। পরে তিনি জিউসের সাহায্যে এগিয়ে আসেন এবং দৈত্যটির শরীর থেকে দেবতার বিচ্ছিন্ন পেশীগুলো চুরি করে ফিরিয়ে আনেন। তার এই সেবার পুরস্কারস্বরূপ আইগিপানকে মকর নক্ষত্রপুঞ্জ হিসেবে নক্ষত্রপুঞ্জের মাঝে স্থাপন করা হয়।
১১, Gu/ Hydrokhoos/ Aquarius বা কুম্ভ রাশি:
কুম্ভ রাশির পৌরাণিক কাহিনীতে গ্যানিমিডের কথা বলা হয়েছে। গ্যানিমিড ছিলো সবচেয়ে সুদর্শন যুবক।প্রাচীন গ্রীসে বয়স্ক পুরুষের সাথে ১৪/১৫ বছরের যুবকদের প্রেমিক হিসবে গ্রহণ করাটা সামাজিক রীতি ছিলো। দেবতা জিউস গ্যানিমিডের প্রেমে পড়ে (নাউজুবিল্লাহ)। এরপর গ্যানিমিডকে কুম্ভ রাশি হিসেবে নক্ষত্রে স্থাপন করে অমরত্ব দেয়।
১২, Zib/ Ichthyes/ pisces বা মীন (দুটি মাছ) রাশি:
দানব টাইফোয়াস থেকে বাচতে এফ্রোডাইটি ও তার ছেলে ইরোস মাছের রূপ ধারণ করে সমুদ্রে লুকিয়ে পড়ে। তাদের স্মরণীয় করে রাখতে মাছ হিসেবে নক্ষত্রপুঞ্জে রেখে দেয় জিউস।
এই হচ্ছে ১২ টি রাশির পৌত্তলিকতা ভরপুর পৌরাণিক গল্প। এই নক্ষত্রপূঞ্জ সবই কাল্পনিক। দূরের হাজারো জ্বলমলে নক্ষত্রকে নিজের কল্পনা থেকে একেকেটা প্রাণী, মানুষের অবয়ব তৈরি করেছিলো পৌরাণিকেরা।
আমরা এবার বেদ থেকেও কিছু জেনে নিব। তাহলে প্রতিটা প্রজন্ম নিয়েই জানা হয়ে যাবে। গ্রীক, রোমান, মিশর, ব্যবিলন যেহেতু একের পর এক এসেছে। সাথে হি০ন্দু ধর্মের টা যোগ করলে পরিপূর্ণতা পাবে। বেদ হচ্ছে হি০ন্দুধর্মের সর্বপ্রাচীন, পবিত্র এবং শাশ্বত জ্ঞান বা ধর্মগ্রন্থের সমষ্টি, যা ঈশ্বরের বাণী হিসেবে গণ্য করা হয়। বেদ এস্ট্রলজিতে ১২ টি রাশির নাম: Mesha, Vrishabha, Mithuna, Karka, Simha, Kanya, Tula, Vrishchika, Dhanu, Makara, Kumbha, Meena. নামগুলো Sanskrit. আমরা যেই নামে চিনি হুবহু কিন্তু সেই নামেই! রিগবেদে মহাজাগতিক ঘটনার উল্লেখ সম্বলিত Hymns (প্রাচীন লিখা বা কবিতাকে হাইম বলে) পাওয়া যায় যা খৃষ্টপূর্ব ১৫০০ সাল। অর্থাৎ আজ থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর আগে!!
Vedic Astrology is highly regarded for its accuracy and depth. While no system can predict the future with 100% certainty,
বেদীক জোতিষ শতভাগ ভবিষ্যতর ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেয় যা অন্য কোনো এস্ট্রলজিতে নেই। বাস্তবেও তাই।
এজন্য দেখবেন পশ্চিমা দেশের জায়োনিস বা খৃষ্টানরাও হিন্দু জোতিষশাস্ত্র অনুসরণ করে। আপনি দেখবেন একজন এমেরিকান, অথচ ইয়োগা শেষে সবাইকে "নামাস্তে" বলে সমাপ্তি দেয়।
বেদাঙ্গ জ্যোতিষ হল বেদের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কিত প্রাচীনতম গ্রন্থগুলির মধ্যে একটি। কিছু পণ্ডিত মনে করে যে ভারতীয় উপমহাদেশে প্রচলিত রাশিচক্রীয় জ্যোতিষশাস্ত্র হেলেনিস্টিক প্রভাব থেকে এসেছে। যখন গ্রিক সংস্কৃতি গ্রিসের বাইরে অন্যান্য দেশ ও সভ্যতার সাথে মিশে নতুন রূপ নেয়, তখন তাকে হেলেনিস্টিক যুগ বা হেলেনিজম বলা হয়।
চাইনীজ এস্ট্রলজিতে প্রতিটি রাশি একেকটি পশুকে পার্সোনিফিকেট করে। যেমন, ইদুর, ষাড়, বাঘ, খরগোশ, ড্রাগন, সাপ, ঘোড়া, ছাগল, বা০নর, মোরগ, কু০কুর আর শূ০কর।
এস্ট্রলজার এই ১২ টি রাশির প্রতি তিনটিকে ৪ টি মৌলিক উপাদানে ভাগ করে ( পানি (কর্কট, বৃশ্চিক, মীন), বায়ু(মিথুন, তুলা, কুম্ভ), আগুন(মেষ, সিংহ, ধনু), পৃথিবী(বৃষ, কন্যা, মকর)।
These associations are not given any great importance in modern astrology, although they are prominent in modern Western ceremonial ma০gic,reconstructionist neopagan systems such as neodruidism and Wicca.
অর্থাৎ জোতিষশাস্ত্রে যদিও এই সংযোগসমূহকে অতটা গুরুত্ব দেয়া হয় না, তবে যা০দুর ক্ষেত্রে তা উল্লেখযোগ্য।
এজন্য একজন যা০দুকর যদি যা০দু করতে চায় তাহলে যা০দুগ্রস্থ কে তার জন্ম তারিখের সাথে রাশিকে বের করতে হবে। এরপর অই যা০দুকর রাশির উপাদানের সাথে মিল রেখে যা০দুকে আগুনে পুড়াবে, অথবা পানিতে ফেলবে কিংবা মাটিতে পুতে বা বাতাসে ছেড়ে দিবে (আমাদের দেশের অনেক হুজুর ঝাড়ফুকের ক্ষেত্রে এমন করে তাই না? তাবিজ মাটিতে পুতে রাখতে বলবে, বা আগুনে পুড়িয়ে ধোয়া নিতে বলবে। জ্বি এটা যা০দুই)
একজন যা০দুকর সে উদায়চল থেকে অস্তাচল, উত্তর থেকে দক্ষিন, যেখান থেকেই হোক না কেনো, কুড়েঘর বা অট্টালিকায় থাকুক না কেন যা০দুবিদ্যার জন্য তাকে এস্ট্রলজি নিয়ে জানা লাগবে।
National Geography-র একটি আর্টিকেলে বলা হয়েছে,
বর্তমানে, রাশিফল আগের চেয়ে অনেক বেশি জনপ্রিয়, বিশেষ করে জেন জি এবং মিলেনিয়াল(১৯৮১-১৯৫৬ সালে জন্মগ্রহণকারী)দের মধ্যে। কার্ল ইয়ুং, একজন প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী যিনি জ্যোতিষশাস্ত্রের আদিম প্রতীক এবং মানব মনের উপর তাদের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেছেন, তিনি পরামর্শ দিয়েছিলেন যে জ্যোতিষশাস্ত্র মানব অভিজ্ঞতার সার্বজনীন ধরণগুলি বোঝার জন্য একটি ভাষা প্রদান করে।
পরবর্তীতে আমরা রাশির বিষয়ে ইসলামের অবস্থান জানবো।