26/05/2026
আমরা যখনই দোকানের তাকে সাজানো রঙিন প্যাকেটের জুস দেখি, অনেকেরই মনে হয় ফল ও খাওয়া হলো, ভিটামিনও পাওয়া যাবে। কিন্তু সত্যি বলতে, প্রসেসড বা প্যাকেটজাত জুস আর আস্ত একটি ফলের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে। আমরা অনেক সময় তাড়াহুড়োর চোটে বা সহজে পাওয়ার আশায় প্যাকেটজাত জুসকে ফলের বিকল্প হিসেবে বেছে নিই।
ফলের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো এর ডায়াটারি ফাইবার। আপনি যখন আস্ত ফল খান, তখন ফাইবার আপনার রক্তে চিনির শোষণকে ধীর করে দেয়। ফলে শরীরে হুট করে ইনসুলিনের স্পাইক হয় না। কিন্তু প্যাকেটজাত জুস তৈরির প্রক্রিয়ায় এই ফাইবার পুরোপুরি ছেঁকে ফেলে দেওয়া হয়। ফলে এটি কেবল একটি গ্লুকোজ বা চিনির দ্রবণ হিসেবে কাজ করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস ও স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ায়। প্যাকেটজাত জুস দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য তাতে প্রচুর পরিমাণে প্রিজারভেটিভ যোগ করা হয়। এছাড়া স্বাদের ভারসাম্য রাখতে কোম্পানিগুলো এতে অতিরিক্ত চিনি বা হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ ব্যবহার করে। এক গ্লাস প্যাকেটজাত জুসে যে পরিমাণ চিনি থাকে, তা অনেক ক্ষেত্রে একটি কোল্ড ড্রিংকসের চেয়েও বেশি হতে পারে। অথচ একটি আস্ত ফলে যে প্রাকৃতিক চিনি থাকে, তা ফাইবারের উপস্থিতির কারণে শরীরে খুব ধীরে এবং নিরাপদে শোষিত হয়। ফলের ভেতর যে ফাইটোক্যামিকেলস, অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন থাকে, তা প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় তাপ ও যান্ত্রিক চাপে অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। প্যাকেটজাত জুস দীর্ঘসময় রাখার জন্য সেগুলোকে প্যাস্টুরাইজ করা হয়, যা অনেক সংবেদনশীল ভিটামিনকে ধ্বংস করে ফেলে। আপনি হয়তো জুস খাচ্ছেন, কিন্তু প্রাকৃতিক খাবারের যে আসল পুষ্টি তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আস্ত ফল চিবিয়ে খেতে হয়, যা আমাদের মস্তিষ্ককে একটি সংকেত দেয় যে আমরা খাচ্ছি। এতে পেট ভরে যাওয়ার একটা তৃপ্তি আসে। কিন্তু জুস পান করলে মস্তিষ্ক সেভাবে পেট ভরার সংকেত পায় না, ফলে আমরা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করে ফেলি, যা ওজন বৃদ্ধির মূল কারণ।
প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অন্তত একটি করে আস্ত ফল রাখার চেষ্টা করুন। সিজনাল ফল সব সময় বেশি পুষ্টিকর। জুস যদি খেতেই হয় ঘরে তৈরি ফ্রেশ জুস হতে পারে মাঝে মাঝে এক গ্লাস, তবে চিনি ছাড়া। আর অবশ্যই তা সাথে সাথে পান করবেন, দীর্ঘসময় রেখে দেবেন না। যদি কখনো কিনতেই হয়, তবে প্যাকেটের গায়ে Added Sugar বা Artificial Flavors আছে কি না, তা যাচাই করে নিন। তবে মনে রাখবেন, প্যাকেটজাত জুস কখনোই ফলের বিকল্প হতে পারে না। সুস্থ থাকতে চাইলে প্রাকৃতিক খাবারের কোনো বিকল্প নেই। আপনার হাতের কাছে থাকা একটি আপেল বা পেয়ারা দোকানের রঙিন প্যাকেটের জুসের চেয়ে হাজার গুণ বেশি কার্যকর।
ডাঃ মোঃ আবদুল্লাহ ইউসুফ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ইউএসএ