25/09/2026
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় সঠিক পরিকল্পনা কেন জরুরি?
সন্তান না হওয়ার কারণ নারী, পুরুষ—যেকোনো একজনের হতে পারে, আবার দুজনেরই কিছু সমস্যা থাকতে পারে। তাই চিকিৎসা শুরুর আগে স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
১. প্রথমে বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া হয়
স্বামী-স্ত্রী দুজনের কাছ থেকেই জানা হয়—
* বয়স এবং কতদিন ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছেন
* আগের বিয়ে বা সন্তান আছে কি না
* ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ আছে কি না
* তলপেট, জরায়ু বা অণ্ডকোষে কোনো অপারেশন হয়েছে কি না
* যক্ষ্মা বা যক্ষ্মার সংস্পর্শে আসার ইতিহাস আছে কি না
* পরিবারে বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান হতে দেরির ইতিহাস আছে কি না
* ধূমপান, পান বা অ্যালকোহল গ্রহণের অভ্যাস আছে কি না
* নারীর মাসিক নিয়মিত কি না, রক্তপাতের পরিমাণ ও ব্যথা কেমন
২. এরপর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়
পরীক্ষা নির্ভর করে দম্পতির ইতিহাস ও শারীরিক অবস্থার ওপর। যেমন—
* দুজনের সাধারণ স্বাস্থ্য ও প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষা
* পুরুষের বীর্যের সংখ্যা ও গুণগত মান পরীক্ষা
* নারীর জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের আলট্রাসনোগ্রাম
* ডিম্বাশয়ে ডিমের মজুত সম্পর্কে ধারণা
* টিউব খোলা আছে কি না, তা প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা
* থাইরয়েড, প্রোল্যাক্টিনসহ প্রয়োজনীয় হরমোন পরীক্ষা
৩. সব তথ্য মিলিয়ে চিকিৎসার পরিকল্পনা করা হয়
মূল্যায়নের পর বোঝা যায়—
* সমস্যা আছে কি না এবং থাকলে কার
* সমস্যাটি কতটা গুরুতর
* স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের চেষ্টা, ওষুধ বা অন্য চিকিৎসা—কোনটি উপযুক্ত
* কখন IVF-এর মতো চিকিৎসা বিবেচনা করা দরকার
কিছু দম্পতির ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে সাধারণ চিকিৎসায় গর্ভধারণ সম্ভব হতে পারে। আবার টিউব বন্ধ থাকা, বীর্যে শুক্রাণু না থাকা, ডিমের মজুত কম থাকা বা বয়সের কারণে সময় সীমিত হলে দ্রুত অন্য চিকিৎসা বিবেচনা করতে হতে পারে।
প্রতিটি দম্পতির পরিস্থিতি আলাদা। তাই সঠিক ইতিহাস, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই চিকিৎসার পরিকল্পনা করা উচিত।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━━
#আইভিএফ
#বন্ধ্যাত্ব # DOR # #ডাঃ_নাজিয়া_সুলতানা