25/09/2026
আজ আপনাদের আমার দুই ছেলের ওজন কমানোর গল্প শোনাবো।
একজন বাবা হিসেবে মাঝে মাঝে অন্যদের সন্তানদের ওজন নিয়ে কথা বলেছি, পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু নিজের দুই ছেলের দিকে তাকিয়ে আমার নিজের কাছেই মনে হতো—ওদের ওজনটা বোধহয় একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু গত ছয় মাসে আমার দুই ছেলে আমাকে যে শিক্ষা দিয়েছে, সেটা কোনো বই থেকে শেখা নয়—এটা চেষ্টা, ধৈর্য আর মনোবলের শিক্ষা।
বিশেষ করে আমার ছোট ছেলের গল্পটা আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে।
একদিন সে বসুন্ধরা টগি ওয়ার্ল্ডে গিয়েছিল ‘Fly Max’ গেমে ওঠার জন্য। কিন্তু সেখানে নির্দিষ্ট ওজনের বেশি হলে ওঠার অনুমতি নেই। তার ওজন তখন ছিল ৮৩ কেজি।
তাকে বলা হলো—
“তুমি উঠতে পারবে না।”
ভাবুন তো, একটা শিশুর মনে তখন কী হতে পারে!
সে খুব কষ্ট পেয়েছিল। কিন্তু সেই কষ্টকে হতাশায় পরিণত করেনি।
বাসায় ফিরে হঠাৎ আমাকে বলল—
“বাবা, আমার জন্মদিনে তুমি আমাকে একটা ট্রেডমিল উপহার দাও।”
সেদিন হয়তো আমি জানতাম না, এই ছোট্ট কথাটাই একদিন তার জীবনের একটা বড় পরিবর্তনের শুরু হবে।
ট্রেডমিল এলো।
সঙ্গে শুরু হলো নিয়মিত শরীরচর্চা।
খাবারের পরিমাণ ও ধরন পরিবর্তন করলাম।
আমি যেভাবে সম্ভব হয়েছে, ওদের খাবারের একটি নিয়ম করে দিলাম।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
আমার ছেলে নিজে সিদ্ধান্ত নিল, সে বদলাবে।
তারপর শুরু হলো পথচলা।
দিনের পর দিন।
সপ্তাহের পর সপ্তাহ।
কোনো ম্যাজিক নয়।
কোনো শর্টকাট নয়।
শুধু নিয়ম, পরিশ্রম আর নিজের ওপর বিশ্বাস।
আর মাত্র তিন মাসে সে ১৭ কেজি ওজন কমিয়ে ৬৯ কেজিতে চলে এলো!
কিন্তু গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অংশটা তখনও বাকি ছিল।
যে জায়গায় একদিন তাকে বলা হয়েছিল—
“তুমি উঠতে পারবে না…”
ঠিক সেই জায়গায় একদিন সে আবার ফিরে গেল।
এবার তার ওজন ৬৯ কেজি।
আর যে ব্যক্তি তাকে সেদিন উঠতে দেননি, তিনিই এবার তাকে Fly Max-এ উঠতে দিলেন।
আমার ছেলে সেই মুহূর্তের একটি ছবি তুলে আমাকে পাঠিয়েছে।
ছবিটা আমার কাছে শুধু একটা ছবি নয়।
এটা আমার ছেলের জেদ।
এটা তার আত্মবিশ্বাস।
এটা তার পরিশ্রমের প্রমাণ।
এটা হেরে না যাওয়ার গল্প।
সেদিন সে শুধু ১৪ কেজি ওজন কমায়নি—
সে নিজের কাছে নিজেকে প্রমাণ করেছে।
আমি সবসময় বলি—
“যে চেষ্টা করে, তার কখনো হার হয় না।”
হয়তো ফল পেতে সময় লাগে।
হয়তো মাঝপথে মন খারাপ হয়।
হয়তো অনেক দিন মনে হয় কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
কিন্তু চেষ্টা যদি থেমে না যায়, পরিবর্তন একদিন আসবেই।
আমার দুই ছেলের এই পরিবর্তন আমাকে আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে—
শিশুর স্বাস্থ্য শুধু পড়াশোনা বা পরীক্ষার ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
সঠিক খাবার, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও তাদের ভবিষ্যতের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তাই বাবা-মায়েদের কাছে আমার ছোট্ট অনুরোধ—
আপনার সন্তানকে শুধু বেশি খাওয়াবেন না, সঠিক খাবার খাওয়ান।
শুধু মোটা ও স্বাস্থ্যবান দেখতে চাইবেন না, তাকে সত্যিকারের সুস্থ রাখুন।
কারণ ছোটবেলায় স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করা অনেক সহজ।
কিন্তু অযাচিত ওজন অনেক বেড়ে যাওয়ার পর সেটা কমানো সত্যিই কঠিন হতে পারে।
আর হ্যাঁ…
আমি নিজেও এখন ওজন কমানোর চেষ্টা করছি। 😄
ছেলেরা যখন পারে,
বাবা কেন পারবে না?
আমার ছেলের এই গল্পটা যদি একজন বাবাকে তার সন্তানকে একটু স্বাস্থ্যকর খাবার দিতে উৎসাহিত করে,
একজন মাকে সন্তানের জন্য একটু ভালো অভ্যাস তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করে,
অথবা একজন শিশুকে নিজের শরীর ও স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে শেখায়—
তাহলেই এই গল্প বলা সার্থক।
চেষ্টা করুন।
ধৈর্য ধরুন।
নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।
কারণ—
চেষ্টা করলে সবকিছু হয়তো সহজ হয় না, কিন্তু অসম্ভবও থাকে না।
আর যে চেষ্টা করে, সে কখনো সত্যিকারের হারতে পারে না।
আমার দুই ছেলের জন্য দোয়া করবেন।