17/02/2026
বাংলাদেশের রোগীদের সবথেকে বড় ভোগান্তির কারণ হলো, তাঁরা জানেন না, তাঁদের রোগটি নিয়ে কোথায় যেতে হবে।
ফলে তাঁরা তাঁদের রোগ নিয়ে একবার এ ডাক্তার, আরেকবার ও ডাক্তারের কাছে দৌড়াদৌড়ি করতে থাকেন। ফলে তাঁদের অবর্ণনীয় হয়রানি হতে থাকে। সাথে চলে যায় পানির মতো টাকা।
ধরা যাক, একজনের রোগ এন্ডোক্রাইনোলজির, তিনি গিয়েছেন নিউরোলজির ডাক্তারের কাছে। আবার উক্ত নিউরোলজির ডাক্তার সাহেব কিছুদিন নিজের মতো করে চিকিৎসা দিতে থাকলেন, রোগীটি তাঁর সংশ্লিষ্ট না হবার পরও।
এই দোষ অবশ্য আমি উক্ত নিউরোলজির ডাক্তারকে দেবো না। এই দোষ বাংলাদেশের সিস্টেমের। আমাদের এখানে ভালো কোনো রেফারাল সিস্টেম গড়ে ওঠেনি।
আবার কোনো ডাক্তার যদি সৎ মনে রোগী রেফার করেন, অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা মনে করেন, আরে, এই ডাক্তার তো কিছুই পারে না, ফলে আমাকে আরও বড় ডাক্তারের কাছে রেফার করেছে- এই মিথ্যা অপবাদ অনেক ডাক্তার নিতে চান না বলে রেফার করেন না।
যাইহোক, উন্নত রাষ্ট্রগুলোয় সুন্দর রেফারাল সিস্টেম রয়েছে। সেখানকার জিপি ডাক্তাররা (জিপি= জেনারেল প্রাক্টিশনার) প্রথমে রোগী দেখেন। রোগটি যদি তাঁরা আয়ত্তে থাকে তবে তিনিই চিকিৎসা করেন। আর তাঁর আয়ত্তে না হলে, অন্য কোনো স্পেশালিটির হলে তিনি তখন রেফার করেন। রোগীকে কিছুই চিন্তা করতে হয় না।
এদিকে দেখেন, আমাদের দেশে সামান্য সর্দি হলেও লোকে প্রফেসরের কাছে চলে যান। ফলে উক্ত প্রফেসরের চেম্বারের সামনে কম্বা লাইন। একটা লোক দিনে একশটার মতো রোগী দেখলে তার এনার্জি স্বাভাবিকভাবেই থাকবে না। ফলে আমাদের অভিযোগ, আমার কথা ডাক্তার মন দিয়ে শোনেননি, আমাকে ভালোমতো সময় দেননি।
যদি আমাদের দেশে এমন সিস্টেম হত, লোকে প্রথমে একজন জেনারেল প্রাক্টিশনারের কাছে যাবেন। এরপর উক্ত জেনারেল প্রাক্টিশনার রেফার করতে হবে নাকি হবে না সেই সিদ্ধান্ত নেবেন, তাহলে কেমন হতো ভাবুন তো!
কিছুদিন আগে আমার মা স্ট্রোক করেছিলেন। আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জানি বলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পেরেছিলাম (এরপরও কিছু হয়রানি হয়েছিল অবশ্য) এবং এখন আমার মা মোটামুটি সুস্থ। আমি যদি কিছু না জানতাম, এত দ্রুত হয়তো আমার মা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারতেন না। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, স্ট্রোক জিনিসটা কতটা ভয়াবহ।
যাইহোক, আপনারা যদি কখনো স্বাস্থ্য বিষয়ে দ্বিধায় পড়েন, এই অধমকে নক দিতে পারেন। আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করব আপনাকে উপযুক্ত পরামর্শ দেবার। যদি তা আমার আওতায় থাকে তাহলে তো হলোই, আমার আওতায় না হলে কোথায় যেতে হবে, কোন স্পেশালিষ্টকে কিভাবে দেখাবেন, সে বিষয়ে পরামর্শ দেবার চেষ্টা করব। আমি চাই, স্বাস্থ্য বিষয়ে কেউ হয়রানির শিকার না হোক।