23/08/2026
যে রোগীকে অপারেশন করার জন্য OT-তে নেওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত অপারেশন ছাড়াই তাকে ফিরিয়ে দিলাম।
কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রোগীর সবচেয়ে কষ্টের সময়ে।
কোমর ব্যথা, পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা, হাঁটতে না পারা—এমন অবস্থায় অনেক রোগী আমাদের কাছে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তৎকালীন শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে কখনো কখনো অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হয়।
কিন্তু জীবন সবসময় একই জায়গায় থাকে না।
কেউ ওষুধ ও বিশ্রাম নেন।
কেউ নিয়ম মেনে চিকিৎসা চালিয়ে যান।
কেউ আবার নানা কারণে কিছুদিন অপারেশন পিছিয়ে দেন।
তারপর কয়েক মাস বা অনেকদিন পর যখন সময় ও সুযোগ হয়, রোগী অপারেশনের জন্য হাসপাতালে আসেন।
সম্প্রতি এমনই একজন রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছিল।
আমরা আগের রিপোর্ট ও আগের সিদ্ধান্ত মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু অপারেশনের আগে রোগীকে আবার পরীক্ষা করলাম, বর্তমান উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা মূল্যায়ন করলাম।
দেখলাম—রোগী আগের তুলনায় অনেকটাই ভালো।
তখন প্রশ্নটা আর ছিল না,
“অপারেশন কীভাবে করব?”
প্রশ্নটা হয়ে গেল—
“এখন আদৌ অপারেশন করার প্রয়োজন আছে কি?”
আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম—এই মুহূর্তে অপারেশন না করাই ভালো।
রোগীকে OT থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হলো।
কারণ একজন চিকিৎসকের দায়িত্ব শুধু প্রয়োজনের সময় অপারেশন করা নয়; যখন অপারেশনের প্রয়োজন নেই, তখন অপারেশন থেকে বিরত থাকাও চিকিৎসারই অংশ।
একজন রোগী যখন আমাদের হাতে নিজেকে সঁপে দেন, তখন তার শরীরের পাশাপাশি তার বিশ্বাসের দায়িত্বও আমাদের নিতে হয়।
আগের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু রোগীর বর্তমান অবস্থা তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই অপারেশনের দিনও আমরা রোগীকে নতুন করে মূল্যায়ন করি।
কারণ—
“অপারেশন করতে পারা একজন সার্জনের দক্ষতা।
কিন্তু অপারেশন না করেও রোগীর ভালো থাকা সম্ভব হলে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে পারাটাও একজন সার্জনের দায়িত্ব।” ❤️