01/07/2021
হস্তমৈথুনের ক্ষতি যেভাবে পূরণ করবেন
১. বেশি বেশি আল্লাহকে ভয় করা, ভালোবাসা, দ্বীনি খেদমতে সময় ব্যয় করা এবং নামাজে মনোযোগী হওয়া।
২. খুব দ্রুত বিয়ে করে ফেলা,সেটা সম্ভব না হলে নিজের নফসকে কষ্ট দিতে রাসূল(সাঃ)এর আদেশ অনুযায়ী সাওম পালন করা।
৩. নিজেকে যথাসম্ভব ব্যস্ত রাখা এবং দৃষ্টি হেফাজত করা।কোন ব্যক্তি বা অশ্লীল ছবির দিকে দৃষ্টিপাত করা, সেটা জীবিত মানুষের হোক কিংবা আঁকা হোক, বাঁধহীন দৃষ্টি ব্যক্তিকে হারামের দিকে নিয়ে যায়।
৪. কোন কোন সময় হস্তমৈথুন বেশি করেন, সেই সময়গুলো চিহ্নিত করুন। বাথরুম বা ঘুমাতে যাওয়ার আগে যদি উত্তেজিত থাকেন, বা হঠাৎ কোনও সময়ে যদি এমন ইচ্ছে হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে কোনও শারীরিক পরিশ্রমের কাজে লাগে যান। যেমন কোনও ব্যায়াম করতে পারেন। যতক্ষণ না শরীর ক্লান্ত হয়ে যায়, অর্থাৎ হস্তমৈথুন করার মত আর শক্তি না থাকে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই কাজ বা ব্যায়াম করুন। গোসল করার সময় এমন ইচ্ছে জাগলে শুধু ঠাণ্ডা জল ব্যবহার করুন এবং দ্রুত বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসুন।
৫. ধৈর্য ধরতে হবে। একদিনেই নেশা থেকে মুক্তি পাবেন, এমন হবে না। একাগ্রতা থাকলে ধীরে ধীরে যে কোন নেশা থেকেই বের হয়ে আসা যায়। মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যাবে। তখন হতাশ হয়ে সব ছেড়ে দেবেন না। চেষ্টা করে যান।
৬. হস্তমৈথুনে চরমভাবে এডিক্টেড হলে কখনোই একা থাকবেন না, ঘরে সময় কম কাটাবেন, বাইরে বেশি সময় কাটাবেন। জগিং করতে পারেন, সাইকেল নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন। ছাত্র হলে ক্লাসমেটদের সাথে একসাথে পড়াশুনা করতে পারেন। লাইব্রেরি বা কফি শপে গিয়ে সময় কাটাতে পারেন।
৭. বেশি রাত জাগা যাবেনা। এশার নামাজ পড়েই দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে হবে।ঘুমানোর সময় ইসলামী আদবগুলো মেনে চলা। যেমন- ঘুমানোর দোয়াগুলো পড়া, ডান পার্শ্বে কাত হয়ে শোয়া, পেটের উপর ভর দিয়ে না-ঘুমানো; যেহেতু এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিষেধ আছে।
৮. সেক্সুয়াল ব্যাপারগুলো একেবারেই এড়িয়ে চলবেন। এধরনের কোনও শব্দ বা মন্তব্য শুনবেন না।
৯. নিজের সাথে সবসময় ইসলামিক সাইন নিয়ে চলুন। যেমন আপনার মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের স্ক্রীনে লিখে রাখুন আল্লাহ আমাকে দেখছেন।
১০. ছোট ছোট টার্গেট সেট করুন। ধরুন প্রথম টার্গেট টানা দুইদিন হস্তমৈথুন করবেন না। দুইদিন না করে পারলে ধীরে ধীরে সময় বাড়াবেন।
১১. দিনেরবেলা বিছানায় যাবেন না। কোথাও বসলে অন্যদের সঙ্গ নিয়ে বসুন।
১২.দীনি বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের সবার সাথে বেশি সময় কাটান।
১৩. ধ্যান বা মেডিটেশন করতে পারেন। যোগ ব্যায়াম করতে পারেন।
১৪. যে মেয়ে বা মহিলা আপনার জন্য লা-মাহরাম বা যাদের সাথে দেখা করা নিষেধ তাদের সাথে কথা না বলুন।
১৫. রাতে গুরুপাক ও উত্তেজক খাবার খাবেন না।
১৬. বাদাম, শুকনো কিস্মিস, খেজুর, বেশি বেশি খাবেন। নফল সিয়াম রাখবেন।
ডা. এম. বখতিয়ার রহমান
ডিএইচএমএস, বিএইচবি, ঢাকা।
বিএসসি (অনার্স) ঢা.বি.
বি এ (ফাজিল) আ.বি.
প্রতিষ্ঠাতা ভাইস প্রিন্সিপাল- কালিয়াকৈর হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (প্র.) গাজিপ