04/04/2022
ডিমেনশিয়ায় (ভুলে যাওয়া রোগে) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা।।।
ডিমেনশিয়া এক ধরনের নিউরজিক্যাল রোগ যা মস্তিস্কের কর্মক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশসহ বিশ্ব জুড়েই ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ রোগের ভয়াবহতা দিনে দিনে বাড়ছে। ডিমেনশিয়া মস্তিষ্কের এক ধরনের রোগ যার ফলে কিছু মনে রাখতে পারেন না রোগী। এমনকি এ রোগটির কারণে একটু আগেই করা কাজ ভুলে যায় অনেকে।
যেসব উপসর্গ আছে, তার মধ্যে রয়েছে আচরণের পরিবর্তন, ঘরে কোথাও কোন কিছু রাখলে তা সে ভুলে যায়, পুরো ঘর খুঁজতে থাকে এবং অন্য কেউ নিয়ে ফেলছে এই ধরনের সন্দেহ করে। পরিচিত মানুষের নাম ভুলে বলে যায় কিন্তু লোকটিকে সে চিনতে পারে, পরিচিত জায়গাতেও হারিয়ে যাওয়া, অথবা কারো সঙ্গে আলাপ করার সময় সঠিক শব্দটি খুঁজে না পাওয়া। এটা এমন এক পর্যায়ে গিয়েও পৌঁছাতে পারে যে তিনি খেয়েছেন কিনা সেটাও তিনি মনে করতে পারেন না। ঘরে তালা লাগিয়ে কোথাও গেলে আবার এসে চেক করে ঘরে তালা লাগিয়েছে কিনা, কারো কাছে চিঠি অথবা দরখাস্ত লিখলে পুনরায় খুলে পড়ে দেখে ঠিকমতো লিখছে কিনা।- এসব তারা সহজেই ভুলে যান।
এমনকি তারা কথাও গুছিয়ে বলতে পারেন না। অগোছালো কথা বলে। কথা বলার সময় কোন শব্দের পরে কোন শব্দ ব্যবহার করবে কিংবা একটা বাক্যের পর, পরের বাক্যে কী বলবেন, সেসব তারা মেলাতে পারেন না।
ডিমেনশিয়া হওয়ার কারণ : কিছু পরীক্ষায় মস্তিষ্কের বয়সজনিত ক্ষয়, কার্যক্ষমতার হ্রাস ধরা পড়তে পারে। তবে ডিমেনশিয়ার অন্যান্য কারণও খুঁজতে হবে। ডায়াবেটিস, হৃদ্রোগ, হাইপারটেনশন ইত্যাদি এক বা একাধিক রোগ এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। কিছু ওষুধ রোগীর স্মৃতিশক্তি অল্প কিছুদিন ধরে রাখতে সাহায্য করে বটে, তবে সময়ের সঙ্গে কার্যকারিতা হ্রাস পায়। তবে বার্ধক্য জনিত কারণ ছাড়া আর যেসব কারণ মূলত দায়ী তা হচ্ছে গনোরিয়া চাপা পড়লে সাইকোসিস এবং সিফিলিস মাইজম এর প্রভাবে এই ডিমেনশিয়া রোগটি হতে পারে।
ডিমেনশিয়া প্রতিরোধ এ করণীয়ঃ
নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক ব্যয়াম, খাবার গ্রহনে সচেতন হলে এবং জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন আনলে ডিমেনশিয়াকে কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা যায়। এক্ষেত্রে কিছু বিষয় মনে রাখা দরকারঃ
# সবার সাথে মিশতে হবে, অন্যদের খোঁজখবর রাখা এবং নানান রকম সামাজিক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে হবে।
# বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে হবে।
# নানা রকম বৈচিত্র্যময় কাজে মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে। যেমন- অবসরে পত্রিকা, ম্যাগাজিন বা বই পড়া, আবার বুদ্ধির খেলা যেমন- শব্দভেদ (ক্রসওয়ার্ড পাজল) মেলানো, দাবা খেলা, ধাঁধার সমাধান ইত্যাদি অথবা যেকোনো সৃজনশীল কাজের চর্চায় স্মৃতিশক্তি বাড়বে।
# বেশি করে তাজা শাকসবজি, ফলমূল ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া কমাতে হবে। মাছের তেল মস্তিস্কের জন্য বেশ উপকারী।
# প্রয়োজন অনুযায়ী বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত ঘুম মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
# ধূমপান, মদ্যপান কিংবা যেকোনো তামাকজাত দ্রব্য বর্জন করতে হবে।
হোমিও চিকিৎসাঃ এ রোগের সঠিক এবং সুন্দর বিজ্ঞান সম্মত চিকিৎসা হচ্ছে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ছাড়া এই রোগের চিকিৎসা করা খুবই কঠিন। কারণ একমাত্র হোমিওপ্যাথিতে মানসিক লক্ষণ এর উপরে খুব জোর দেওয়া হয়। যা অন্য কোন চিকিৎসা পদ্ধতিতে তুলনামূলকভাবে অনেক কম। আর ডিমেনশিয়া হচ্ছে মানসিক রোগের অন্তর্ভুক্ত। হোমিওপ্যাথি নীতিমালা অনুযায়ী চিকিৎসা করলে সম্পূর্ণ আরোগ্য হওয়া সম্ভব।
ডিমেনশিয়া রোগ অধিক ব্যবহৃত ওষুধ সমূহ নিচে দেওয়া হল। এছাড়া লক্ষণ সমষ্টির উপর ভিত্তি করে আরো মেডিসিন হাসতে পারে।
1.Syphilinum 2. Medo 3. Tubercilinum 4. Aurum Met 5. Cal Phos 6. Kali Brome 7. Argent Met 8. Anacardium ori 9.Acid phos 10.Baryta Carb 11. Nux Moschata 12. Canabis Indica 13. Natrum Mur 14. Acid pic 15. Lachesis 16. Ignatia 17.Coffea Cruda 18. Acid Fluor
কারোর মধ্যে ডিমেনশিয়া প্রতীয়মান হলেও উপরোল্লিখিত ওষুধ সরাসরি সেবন করা যাবেনা। একজন বিশেষজ্ঞ হোমিও চিকিৎসক এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা নেওয়ার পরামর্শ রইল। উপরোল্লেখিত ওষুধ সমূহের লক্ষণ জানা থাকলেও এবং নিজের সাথে মিলে গেলে ও চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ সেবন করা জরুরি কারণ এখানে মাত্রা ও শক্তি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা জানা না থাকলে ওষুধ সেবনে ক্ষতি পরিলক্ষিত হতে পারে।
পূর্ণ হোমিও হল
ডাঃ দ্বীপক কর
ডি এইচ এম এস (ঢাকা)