16/07/2026
"সিজারিয়ান ডেলিভারির পর আমার কোমরে ব্যথা” 👈
আজ আমরা আরও একটি কমন সমস্যা নিয়ে কথা বলব –“ কোমরে ব্যথা, সিজারের পর থেকে”- আসলে ঘটনাটা কি? কেন এই ব্যথা ,করনীয় কি ?
আমরা একটু মনোযোগ দিয়ে বিষয়টি খেয়াল করলেই বুঝতে পারবো আসলে ব্যাথাটা কেন হচ্ছে - ডেলিভারি সিজারিয়ান হোক আর নরমাল ই হোক, ব্যথার কারণ একই জায়গায় –
সিজারের সময় অবশ করার জন্য কোমরের ইনজেকশন দেয়া হয় সেটা আসলেই ব্যথার জন্য খুব একটা বিশেষ কারণ নয় l
👉 তাহলে কি কারণে ব্যাথা হয় :-
✏️ গর্ভাবস্থায় আমাদের শরীরে একটা হরমোন নিঃসরণ হয় যার নাম রিলাক্সিন এই রিলাক্সিন হরমোন আমাদের হাড়গুলো যে লিগামেন্ট দিয়ে বাঁধা থাকে, সে লিগামেন্টগুলো কে ঢিলা করে দেয় আর তাই তখন নড়াচড়া করতে গেলে হারগুলো নিজের জায়গা থেকে একটু সরে যায় আর ব্যথা অনুভূত হয় l
✏️ গর্ভবস্থায় আমরা যতটা ভালো ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খায় না কেন একটা ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট না খেলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থেকে যায়, আবার বাচ্চা যখন ব্রেস্ট ফিডিং করছে তখন ক্যালসিয়াম একটা বড় ঘাটতি দেখা যায় l এটাকে যদি সঠিকভাবে পূরণ না করা হয় তাহলে কোমরে ব্যথা হয় l
✏️ বাচ্চা যখন মায়ের পেটে বড় হতে থাকে বাচ্চার এই ওজন মায়ের মেরুদন্ড কে বহন করতে হয়, এই সময় মায়ের বিশ্রাম যদি সঠিকভাবে না হয় তাহলে এই মেরুদন্ডের ব্যথার সৃষ্টি হতে পারে l
✏️ মা যখন ব্রেস্ট ফিডিং করানো তখন দেখা যায় বাচ্চার দিকে ঝুঁকে পড়ে খাওয়াচ্ছেন এবং বাচ্চার মুখের দিকে না তাকিয়ে থাকে ব্রেস্টফিডিং এর পুরোটা সময় -এতে করে তার মেরুদন্ড বাঁকা হয়ে থাকে অনেকটা সময়ের জন্য যেটা কোমরে ব্যথার কারণ হতে পারে l
এখন আমরা দেখব এই ব্যথা থেকে আমরা কিভাবে রেহাই পেতে পারি :-
✏️ গর্ভাবস্থায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং সাপ্লেমেন্টারি ক্যালসিয়াম অবশ্যই খেতে হবে যাতে করে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি না হয় l
✏️ গর্ভকালীন সময় চলাফেরার একটু সতর্ক হতে হবে , ঝাড় কি মুভমেন্ট এভয়েড করতে হবে এবং ভারী ওজন বহন করা থেকে বিরত থাকতে হবে , আর খুব বেশি ঝুঁকে পড়ে কোন কাজ করা যাবে না কারণ আমরা জেনেছি যে রিলাক্সিন হরমোন এর কারনে হাড়ের বাধাগুলো এসময় ঢিলা হয়ে যায় তাই মুভমেন্ট এর বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করতে হবে l
✏️ এরপর আসি আমরা ডেলিভারির পর ব্রেস্ট ফিডিং এর সময়ের কথা -এই সময়টা কোমরে ব্যথার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় l ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার এবং একটা ক্যালসিয়াম অবশ্যই খেতে হবেl
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্রেস্টফিডিং এর সমাস মাকে সোজা হয়ে বসে খাওয়াতে হবে ,মায়ের কনুইয়ে নিচে একটা বালিশ দিয়ে বাচ্চাকে একটু চুতে রাখলে মা যখন বাচ্চার মুখের দিকে তাকিয়ে খাওয়াবে তখন খুব বেশি ঝুঁকে থাকতে হবে না l
✏️ কোমরে ব্যথার জায়গায় একটু কুসুম গরম পানি ঢালতে পারেন বা গরম খেতে পারেন ,অথবা ম্যাসেজ করতে পারেন ব্যথার জায়গায়l পাশাপাশি ব্যথার ওষুধ প্যারাসিটামল কিংবা আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথার ওষুধ অল্প পরিমাণে নিতে পারেন l
উপরের সবগুলো নিয়ম মেনে দেখবেন ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে আপনার ব্যথা পুরোপুরি সেরে যাবে l
আর যদি কোমরে ব্যথার সাথে জ্বর কিংবা শরীরের কোন অংশের অনুভূতি কমে যায় তাহলে অতি দ্রুত ডাক্তারের কাছে যেতে হবে l কারণ এই ব্যথা আপনার কোমরের জ্যাকসন জনিত কারণে হতে পারে তাই সঠিক চিকিৎসা শুরু করে দিতে হবে সময় নষ্ট না করে ,তবে এটা খুবই রেয়ার তাই ভয়ের কারণ তেমন নেই l
অধ্যাপক ডাঃ শিল্পী সাহা
এমবিবিএস, এফসিপিএস (গাইনি ও অবস্)
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা বিভাগ, এমসিডব্লিউ, উত্তরা, ঢাকা।