23/08/2026
আজকের ঘটনা শোনার পরেও যদি আপনার বাংলাদেশের ডাক্তারদের তিন বেলা কদমবুসি করতে মন না চায়, তাইলে আপনি অকৃতজ্ঞ এবং অসভ্য শ্রেণির।
ঘটনা শুরু করার আগে আমার দেশের ডাক্তারদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা রইলো।
তো ঘটনা হইলো আমার আজকে ৭ দিন ধরে জ্বর। প্রথম তিনদিন নরমাল জ্বর ভেবে খালি প্যারাসিটামল খাইলাম। জ্বর কমার নাম নাই। যেমন জ্বর, তেমন মাথা ব্যথা, তেমন পুরা শরীর ব্যথা।
আস্তে আস্তে অকেজোর মতো হইতে থাকলাম। মানে একা একা আমি আর বিছানা থেকে উঠতে পারি না। প্রতি ৪ ঘন্টা অন্তর অন্তর জ্বর উঠতে লাগলো ১০৩।
৬ ঘন্টার আগেই আবার ঔষধ খাওয়ার উপক্রম। পরে ৪ দিনের দিন জিপি'র কাছে গেলাম (এখানে মেডিসিন স্পেশালিষ্ট দেখানোর আগে জিপিকে আগে দেখাইতে হয়)!
জিপি রেফার করলে পরে স্পেশালিষ্ট দেখানো যায়। তো জিপি কিছু ব্লাড টেস্ট আর ইউরিন টেস্ট করলো। আর বললো, প্যারাসিটামল চলবে ১০০০ মি.গ্রা করে ৪ বার। আর সাথে নিউরোফেন ব্যথার জন্য। তাতেও আমার জ্বর কমতেছে না। সেইম ভাবেই জ্বর আসতেছে।
তো রিপোর্ট আসবে আরও ৩ দিন পর আর জিপিকে দেখানো যাবে ৪ দিনের দিন।
মানে এই কয়দিন এভাবেই যাবে।
এদিকে জ্বরে আমার শরীরে আর কোনো শক্তি অবশিষ্ট নাই। আমি প্যারালাইজড রোগির মতো শুয়েই থাকলাম আর কাতরাইলাম। এরমধ্যে আমার গ্লান্ড গুলাও ফুলে গেলো মাথায় ঠান্ডা পানি দিতে দিতে।
ফুলে এমন ব্যথা - সেই ব্যথা ঘাড় অব্দি চলে গেলো। তো গতকালকে অনিন্দ্য বারবার কল দিয়ে জানছে যে, বাই এনি চান্স রিপোর্ট আগে আসছে কিনা।
তো লাকিলি রিপোর্ট পাওয়া গেলো।
রিপোর্ট নিয়ে জিপির কাছে গেলো অনিন্দ্য , জিপি আমাকে ইমার্জেন্সিতে রেফার করে দিসে কারণ রোগ আইডেন্টিফাই করতে পারতেছে না।
রাত ৮:৩০ টায় ইমার্জেন্সিতে গেলাম কুঁকাইতে কুঁকাইতে! ভাবলাম, যাক এবার সুস্থ হবো। ৮:৩০ টায় এডমিট হইলাম ৬২ হাজার টাকা দিয়ে। ভাবলাম, থাক টাকা গেলেও মেডিসিন স্পেশালিষ্ট এবার দেখাইতে পারবো। ১০ টার মধ্যে ব্লাডটেস্ট করলো একটা আর দুইবার প্রেশার মাপলো।
প্রেশার তখন ৮৫/৬৬। জানাইলো, ৬-৮ ঘন্টা ওয়েটিং রুমে বসতে হবে।
ডাক্তার ৮ ঘন্টা পরে আসবে - তাও শিওর না।
আমার তো শুনে কান্না আইসা পরছে, যে এতো সময় আমি এই জ্বর নিয়ে কিভাবে বসে থাকবো। একটু পরেই আমার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর। আকাশ পাতাল এক করে আমি কুঁকাচ্ছি। এরপর আমাকে প্যারাসিটামল আর নিউরোফেন দিলো। খাওয়ার ১ ঘন্টা পর একটু স্টেবল হইসি। এরপর অপেক্ষার পালা শুরু। অপেক্ষা করতে করতে ভোর ৪ টা। আমার ডাক আর আসে না।
আমার আর ধৈর্য্যেও কুলায় না।
বসে থাকতে থাকতে পায়ে যন্ত্রণা শুরু হইছে। এক পর্যায়ে আমি দেয়ালে পা উঠায় দিয়ে চেয়ারে শুয়ে পড়ছি। হাজার বার বলসি আমি বসে থাকতে পারতেছি না।
তাদের কিছুই করার নাই কারণ, ইমার্জেন্সি রোগীর জন্য কোনো বেড নাই।
যত সিরিয়াস রোগীই হও না কেন, তোমাকে বসেই থাকা লাগবে।
তো সকাল ৭ টায় আমার ডাক আসলো। এরপর ইনভেস্টিগেশন শুরু করসে এক এসিস্ট্যান্ট। করার পর বলতেসে আরো কিছু টেস্ট লাগবে। ১ ঘন্টা পরে কোভিড টেস্ট করলো। এর মধ্যে আবার আমার জ্বর উঠছে। সেইম ঔষধ। সকাল ৮:৩০ টায় আমাকে স্যালাইন দিসে কারণ ৬ বার প্রেশার মাপার পরে মনে হইসে আমার স্যালাইন লাগবে।
মানে ১২ ঘন্টা পর আমি ট্রিটমেন্টের মধ্যে এক ব্যাগ স্যালাইন পাইসি। এরপর মনে পড়সে আরে, এক্সরে তো দিলাম না - রোগীরে তাই লাস্টে আবার একটা এক্সরে করাইছে।
তারপরেও আমি যদি স্পেশালিস্ট অব্দি যাইতে পারতাম, আমার মনরে বুঝ দিতে পারতাম। সেই এসিস্ট্যান্ট অব্দিই। আর আমার ব্লাডে কোনো সমস্যা নাই। আমাকে প্যারাসিটামলই খেয়ে যাইতে হবে। আমার আর কোনো চিকিৎসা নাই। লাস্টে জাস্ট একটা ডিসচার্জ লেটার ধরায় দিসে। কোনো প্রেশক্রিপশনও না। বাসায় আসলাম সকাল ১০:৩০ টায়। আসতে না আসতেই জ্বর আবার। প্যারাসিটামল খেয়ে যাচ্ছি।
এটাই হচ্ছে একটা উন্নত দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা। অস্ট্রেলিয়া চু*। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থা চু*।
( মূল পোস্ট ১ম কমেন্টে)- একজন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসীর লেখা থেকে