06/04/2026
শিশুদের হাম, আমাদের করনীয়ঃ
লেখকঃ ডাঃ মোঃ কায়সার মাহমুদ
নবজাতক ও শিশু রোগ বিষয়ক চিকিৎসক, টাংগাইল।
যোগাযোগঃ 01712050910
শিশুদের হাম ( Measles) একটি অতি সক্রামক রোগ, যা মিজেলস ও রুবেওলা নামক RNA ভাইরাস এর কারনে হয়ে থাকে। ভাইরাস টি হাঁচি- কাশির মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়িয়ে যায়।
লক্ষণঃ প্রথম দিকে এই ভাইরাস নাক ও গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে আক্রান্ত করে। ফলে শিশুর নাক দিয়ে পানি পড়া, শুস্ক কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা পানি পড়া, গলা ব্যাথা, মুখের ভেতরে কপলিক স্পট ( লাল পটভূমিতে ছোট সাদা দাগ), হালকা জ্বর ইত্যাদি থাকে।
সংক্রমণের ৩- ৪ দিন পর থেকে বাচ্চার কানের পেছন বা চারপাশ, মুখ এবং পর্যায়ক্রমে শরীর ও হাতপায়ে লালচে বাদামী ফুসকুড়ি দেখা দেয়। এ সময় জ্বরের মাত্রা বাড়তে পারে।
ফুসকুড়ি উঠার ৪-৫ দিন পরথেকে যেভাবে ফুসকুড়ি উঠা শুরু হয়েছিলো ঠিক তেমনি ভাবে ( প্রথমে মুখ তারপর শরীরের ও হাতপায়ের) ফুসকুড়ি কমে যাবে। একই সাথে জ্বরও কমতে শুরু করবে। তবে কাশি ২ সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে।
সংক্রমণ কালঃ ফুসকুড়ি উঠার ৪ দিন আগে থেকে শুরু হয়ে ৪ দিন পর পর্যন্ত অর্থাৎ ৮-৯ দিন।
জটিলতাঃ রোগে আক্রান্ত হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, এছাড়া নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, ভিটামিন এ কমে যেয়ে অন্ধত্ব, এনকেফালাইটস সহ বেশ কিছু মারাত্মক জটিলতা তৈরী হতে পারে। এসব জটিলতায় শিশুর মৃত্যু ঘটতে পারে।
ঝুকিতে আছেন কারাঃ যারা হামের টিকা পায়নি/ নেয়নি তাদের হাম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, যদি কোন শিশু যে সকল এলাকায় হামের টিকার কভারেজ কম এমন অঞ্চলে সম্প্রতি ভ্রমণ করে তার ক্ষেত্রে হতে পারে, যার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, যার ভিটামিন-এ এর ঘাটতি আছে।
চিকিৎসাঃ প্রথমত আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশন করতে হবে। শিশুকে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার, শক্তি দায়ক খাবার, ফলমূল দিতে হবে। ডাক্তারের পরামর্শে জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল ও কাশির ঔষধ দিতে হবে। ৬ মাস থেকে ১ বছরের বাচ্চার জন্য ১ লাখ IU এবং ১ বছরের উপরের বাচ্চার জন্য ২ লাখ IU এর ভিটামিন-এ ক্যাপসুল পরপর ২ দিন দিতে হবে। যেহেতু এটি ভাইরাস জনিত রোগ, তাই এন্টিবায়োটিক এর বিশেষ ভুমিকা নেই। শুধু ধৈর্য ধরে যত্ন নিতে হবে। তবে কোন জটিলতা দেখা দিলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রতিরোধঃ হামের টিকা গ্রহণ করে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। বাংলাদেশে এই টিকা সরকারি ভাবে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দেয়া হয়। তবে প্রাদুর্ভাব এর সময় ৬ মাস বয়স থেকে এই টিকা দেয়া যায়। এবং বেসরকারি ভাবেও এই টিকা (MR/MMR) পাওয়া যায়। যে সকল শিশু কোন টিকা পায়নি তারা অন্তত ২৮ দিন অন্তরে ২ টি ডোজ গ্রহন করবে। যারা ১ টি ডোজ নিয়েছে, তারা দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করবে। যারা ২ টি ডোজ নিয়েছে, তারা একটি বুস্টার ডোজ টিকা গ্রহন করবে। যদি কোন ব্যাক্তি হামে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসে তবে সংস্পর্শের ৭২ ঘন্টার মধ্যে ব্যাক্তি টিকা গ্রহন করললে, তার রোগের তীব্রতা কমে আসে।
ডাক্তার কায়সার মাহমুদ
টাঙ্গাইল প্রতিদিন
05/04/2026
#হাম