23/07/2026
নাপা বেশি খেলে কি কি ক্ষতি হতে পারে?
১. লিভারের মারাত্মক ক্ষতি: এটা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। প্যারাসিটামল লিভারে গিয়ে ভাঙে। অতিরিক্ত ডোজে লিভার সেটা সামলাতে পারে না, তখন লিভারের কোষ নষ্ট হতে শুরু করে। এর থেকে জন্ডিস, লিভার ফেইলিওর পর্যন্ত হতে পারে। যারা নিয়মিত খালি পেটে নাপা খান বা অ্যালকোহল পান করেন, তাদের ঝুঁকি আরো বেশি।
২. কিডনির সমস্যা: দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত প্যারাসিটামল খেলে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে। কিডনি শরীর থেকে ওষুধ বের করে দেয়, বেশি চাপ পড়লে কিডনি দুর্বল হয়ে যায়।
৩. পেট ও বমি সংক্রান্ত সমস্যা: বেশি নাপা খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, ক্ষুধা কমে যাওয়া, পেট ফাঁপা হতে পারে।
৪. রক্তের সমস্যা: খুব বেশি মাত্রায় খেলে রক্তে প্লাটিলেট ও শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, যদিও এটা কম দেখা যায়।
৫. অ্যালার্জি ও ত্বকের প্রতিক্রিয়া: কারো কারো ক্ষেত্রে শরীরে র্যাশ, চুলকানি, মুখ-ঠোঁট ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জি হতে পারে।
৬. ওভারডোজের লক্ষণ: একসাথে অনেকগুলো নাপা খেয়ে ফেললে প্রথম ২৪ ঘণ্টায় তেমন কিছু বোঝা যায় না, কিন্তু পরে প্রচন্ড পেট ব্যথা, বমি, ঘাম হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে। এটা মেডিকেল ইমার্জেন্সি।
তাহলে কী করবেন? • প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পর পর ১ টা ৫০০ মি.গ্রা. নাপা খাওয়া হয়, এবং ২৪ ঘণ্টায় ৪ গ্রামের বেশি নয়। তবে আপনার ওজন, বয়স, অন্য রোগ আছে কিনা তার ওপর ডোজ নির্ভর করে, তাই সবসময় প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তার/ফার্মাসিস্টের পরামর্শ মেনে চলুন। • জ্বর ৩ দিনের বেশি থাকলে বা ব্যথা না কমলে নিজে নিজে নাপা বাড়িয়ে না খেয়ে ডাক্তার দেখান। • নাপা, নাপা এক্সট্রা, এইস, প্যারাসিটামল সব একই জিনিস। একসাথে দুটো নামে খেলে ডোজ দ্বিগুণ হয়ে যায়, এটা ভুলেও করবেন না। • খালি পেটে না খেয়ে হালকা কিছু খেয়ে নাপা খাওয়া ভালো।
আপনি যদি ভুলে বেশি খেয়ে ফেলেন বা আপনার পরিচিত কেউ অতিরিক্ত খেয়ে অসুস্থ বোধ করে, দেরি না করে দ্রুত কাছের হাসপাতাল বা ডাক্তারের কাছে যান।