22/05/2026
মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের চারপাশে থাকা সূক্ষ্ম আবরণকে মেনিনজেস বলা হয়। এই আবরণে সংক্রমণজনিত প্রদাহ হলে তাকে মেনিনজাইটিস বলা হয়। এটি একটি প্রাণঘাতী রোগ, যা দ্রুত শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে মৃত্যু বা স্থায়ী প্রতিবন্ধিতার কারণ হতে পারে।
মেনিনজাইটিসের ধরনঃ
১. ব্যাকটেরিয়াল: নিসেরিয়া মেনিনজাইটিস, স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি-ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে ছড়ায়, সবচেয়ে বিপজ্জনক।
২. ভাইরাল: হাঁচি-কাশি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ছড়ায়, তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী।
৩. ফাঙ্গাল: বিরল, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে ঝুঁকি বেশি।
৪. প্যারাসাইট: অত্যন্ত বিরল কিন্তু মারাত্মক।
অসংক্রামক: ক্যানসার, লুপাস, কিছু ওষুধ, মাথায় আঘাত বা অস্ত্রোপচারের কারণে হতে পারে।
প্রধান লক্ষণঃ
তীব্র মাথাব্যথা, ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, বমি, আলোর দিকে তাকাতে না পারা, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হওয়া, অতিরিক্ত ঘুম, শরীরে দাগ ইত্যাদি।
(বয়সভেদে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে)
রোগ নির্ণয়ঃ
১। রক্ত পরীক্ষা
২। লাম্বার পাংচার (CSF পরীক্ষা)
৩। সিটি স্ক্যান
চিকিৎসাঃ
-ব্যাকটেরিয়াল: অ্যান্টিবায়োটিক (যেমন সেফালোস্পরিনস)
-ভাইরাল: সহায়ক চিকিৎসা
-ফাঙ্গাল: দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমাত্রার অ্যান্টিফাঙ্গাল
⚠️ ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিসে চিকিৎসার সময় খুবই সীমিত (২৪ ঘণ্টার কম)- তাই প্রতিরোধ হিসেবে মেনিনগোকক্কাল ভ্যাকসিন (A, C, W-135, Y) নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হোন।
#মেনিনজাইটিস
#অধ্যাপক_ডা_হারাধন_দেব_নাথ