17/02/2026
রমজান শুরু হওয়ার আগে রোগীরা প্রায়ই জানতে চান-রোজায় ওষুধ কীভাবে নেবেন, খাবার কেমন হওয়া উচিত। সবার উপকারের জন্য আজ এই বিষয়েই একটি সংক্ষিপ্ত ও প্রয়োজনীয় আলোচনা করছি-
ওষুধ গ্রহণের নির্দেশনা:
* মেটফরমিন (Metformin)
দৈনিক মোট ডোজের ২/৩ অংশ ইফতারের সময় এবং ১/৩ অংশ সেহরির সময় নিন। যদি দিনে একবার গ্রহণ করেন, তবে ইফতারের পর নিন।
* সালফোনিলইউরিয়া (Gliclazide, Glimepiride ইত্যাদি) দিনে একবার হলে ইফতারের সময় গ্রহণ করুন। চিকিৎসকের পরামর্শে ডোজ ২৫–৫০% কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। সেহরির সময় এই ওষুধ এড়িয়ে চলাই ভালো, যাতে দিনের বেলায় সুগার অতিরিক্ত কমে না যায়।
* ডিপিপি-৪ ইনহিবিটর (Gliptins) সাধারণত ডোজ পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। রোজায় তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।
* ইনসুলিন (Insulin) দীর্ঘমেয়াদী (Basal) ইনসুলিন ১৫-২০% কমিয়ে ইফতারের সময় নেওয়া যেতে পারে। মিক্সড বা শর্ট-অ্যাক্টিং ইনসুলিনের ক্ষেত্রে সেহরির ডোজ ২৫-৫০% কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করে ডোজ সমন্বয় করুন।
খাদ্য অভ্যাস ও নিয়মাবলী:
সেহরি-
সেহরি যতটা সম্ভব শেষ সময়ে করুন। লো-জিআই বা জটিল শর্করা জাতীয় খাবার বেছে নিন-লাল চাল, ওটস, ডাল। এগুলো ধীরে হজম হয় এবং দীর্ঘসময় শক্তি জোগায়।
ইফতার-
১–২টি খেজুর ও পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ইফতার শুরু করুন।
অতি ভাজাপোড়া, চর্বিযুক্ত খাবার ও অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলুন। প্লেটে রাখুন শাকসবজি ও লিন প্রোটিন (মাছ, মুরগি ইত্যাদি)।
পানি পান-
ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত ২–৩ লিটার পানি পান করুন।
চা, কফি বা অতিরিক্ত ক্যাফেইন শরীরকে পানিশূন্য করতে পারে-এড়িয়ে চলুন।
ব্যায়াম ও তারাবি
দিনের বেলায় ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন, এতে হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তারাবির নামাজ হালকা ব্যায়াম হিসেবে কাজ করতে পারে।
সুগার পরীক্ষা
রোজা রেখে সুগার পরীক্ষা করলে রোজা ভাঙে না। দিনে কয়েকবার সুগার চেক করা নিরাপদ।
কখন রোজা ভাঙবেন?
যদি ব্লাড সুগার
* 3.9 mmol/L (70 mg/dL) এর নিচে নেমে যায়
অথবা
* 16.7 mmol/L (300 mg/dL) এর উপরে উঠে যায়
তবে দেরি না করে রোজা ভেঙে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
টাইপ-১ ডায়াবেটিস বা নিয়মিত ইনসুলিন ব্যবহারকারীরা রোজা রাখার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে ডোজ পুনরায় সমন্বয় করে নিন। যদি কারো কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে যোগাযোগ করতে পারেন, ধন্যবাদ সবাই কে।