27/07/2026
"চেষ্টা, যা সবাই পারে না।
আর যে পারে, সে দুনিয়াতেই জান্নাত দেখে।"
এই কথার বাস্তবতা আপনারা পুরো দু'আ কবুলের গল্পের মধ্যেই দেখতে পাবেন।
তিনি লিখেছেন, এক বোন ছিলেন। যার বাবা-মা কেউই নেই। তিনি এতিম। দেখতে তেমন সুন্দর নন, ফেস কাটিংও সাধারণ। তবে সবই তো আল্লাহর দান, এতে কারও কিছু করার নেই। তিনি অনেক মোটা ও শ্যামলা ছিলেন। এসব কারণে তাঁর বিয়ে হচ্ছিল না। একে একে তাঁর ছোট সবার বিয়ে হয়ে গেল, শুধু তাঁরটাই বাকি রয়ে গেল।
পরে আল্লাহর রহমতে আমার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। আমি যখন যে আমল করতে বলতাম, তিনি কষ্ট হলেও তা করার চেষ্টা করতেন। এমনও দিন গেছে, তিনি ৭০ হাজার বারও ইস্তেগফার পড়েছেন। আর তাহাজ্জুদ তো প্রায় প্রতিদিনই পড়তেন। একদিন এসে তিনি বললেন, "আপু, আমার বোনের মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। ওর বয়স মাত্র ১৫ বছর। আমি আর সহ্য করতে পারছি না। আমি ওর বিয়েতে যাব না।"
আমি বললাম, "না, তুমি অবশ্যই যাবে। এমনও তো হতে পারে, ঐ বিয়ের উসিলাতেই আল্লাহ তোমার বিয়ের ব্যবস্থা করে দিবেন।"
সুবহানাল্লাহ! ঠিক তাই হলো।
সেই বিয়েতে তিনি নিজের হাতে কনেকে সাজিয়ে দেন। সবাই তাঁর কাজের অনেক প্রশংসা করে এবং জানতে চায়, কে এত সুন্দর করে কনেকে সাজিয়েছে। এরপর তাঁকে দেখে একটি পরিবার পছন্দ করে এবং বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আলহামদুলিল্লাহ, ২০২৫ সালের রমজান মাসে তাঁর বিয়ে হয়ে যায়। সাত ভরি সোনা দিয়ে তাঁকে বিয়ে করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর স্বামী অনেক ধনী। তাঁদের বাসা ভাড়া থেকেই প্রতি মাসে তিন-চার লাখ টাকা আয় হয়। তাঁর স্বামী লন্ডনে পড়াশোনা করেন। আর একটি বিষয় আমাকে সবসময় ভাবায়। তিনি নিজেকে দেখতে খারাপ মনে করতেন। কিন্তু তাঁর শ্বশুরবাড়ির প্রায় সবাই দেখতে তাঁর চেয়েও সাধারণ। তাই তাঁকে চেহারা নিয়ে কেউ কখনো কথা শোনাতে পারেনি। বরং তিনি তাঁদের সবার চেয়ে সুন্দর।
আলহামদুলিল্লাহ, আজ ছয় দিন হলো তাঁর একটি ছেলে সন্তান হয়েছে। আর মজার বিষয় হলো, এত মোটা হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। মাঝেমধ্যে তাঁর সঙ্গে আমার কথা হয়। তিনি একদিন বললেন, "আপু, জানো? থার্টিফার্স্টে আমার হাজবেন্ডের ১০ দিনের ছুটি ছিল। সে শুধু আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য ১০ দিনের ছুটিতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ করে দেশে এসেছে।"
সুবহানাল্লাহ! এটাই হলো ইস্তেগফারের কামাল।
একটা ইউটিউব ভিডিও থেকে লেখা। (সংগৃহীত)
©
মডারেটর_ পোস্ট