02/05/2026
কিছুদিন ধরে আমরা এমন কিছু খবর দেখতেছি-
মা হয়ে শিশুকে হত্যা।
সন্তানের মৃত্যুর ঘটনায় মাকে গ্রেফতার।
সন্তান জন্মের পর মায়ের মানসিক অস্থিরতার কথা।
নিজের সন্তানের ক্ষতি করার অভিযোগ।
এই ধরনের নিউজগুলো দেখলে প্রথমেই মনে হয়, এগুলো ভয়ংকর একটা ক্রাইম।
কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো-
এগুলো কি শুধুই ক্রাইম?
নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো মানসিক সংকটও থাকতে পারে?
আমরা কোনো ঘটনার কারণ নিশ্চিতভাবে বলতে পারি না, যতক্ষণ না তদন্ত বা চিকিৎসাগতভাবে সেটা প্রমাণিত হয়।
কিন্তু একটা বিষয় পরিষ্কার-
সন্তান জন্মের পর মায়ের মানসিক অবস্থাকে অবহেলা করা খুব ঝুঁকিপূর্ণ।
মায়ের জন্য, সন্তানের জন্য, পরিবারের জন্য।
অনেক সময় একজন মাকে বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালেও, ভেতরে ভেতরে তিনি অনেক কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে পারেন।
কারণ মা হওয়াটা সহজ না।
মা হওয়ার পর একজন নারীর শরীর, মন, ঘুম, রুটিন, সম্পর্ক, দায়িত্ব- সবকিছুতেই বড় পরিবর্তন আসে। হরমোনাল পরিবর্তন আসে, পারিপার্শ্বিক অবস্থার পরিবর্তন আসে, নিজের ভেতরেও অনেক ধরনের চাপ তৈরি হয়।
এসব পরিবর্তনের কারণে একজন মা অনুভব করতে পারেন-
অতিরিক্ত ক্লান্তি
ঘুমের অভাব
অস্থিরতা
ভয়
অকারণে কান্না
নিজেকে ব্যর্থ মনে হওয়া
সবার কাছ থেকে আলাদা মনে হওয়া
নিজের বা শিশুর ক্ষতির চিন্তা আসা
এগুলো শুধু “মুড খারাপ” তা কিন্তু না।
এগুলো হতে পারে Baby Blues, Postpartum Depression, Postpartum Anxiety বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে Postpartum Psychosis-এর লক্ষণ।
বিশেষ করে মা যদি বলেন-
“আমি আর এসব নিতে পারতেছি না”
“আমার মাথা ঠিক নেই”
“আমার বাচ্চার কিছু হয়ে যাবে মনে হচ্ছে”
“নিজের বা বাচ্চার ক্ষতি করতে ইচ্ছা করছে”
“কোনো কিছু ভালো লাগছে না”
“সবকিছু উল্টাপাল্টা লাগছে”
“বাস্তব মনে হচ্ছে না”
“হ্যালুসিনেশন হচ্ছে”
তাহলে এগুলোকে নাটক, রাগ, দুর্বলতা বা “মা হতে পারে না” এই ধরনের কথা বলে ছোট করবেন না। বিচার করবেন না।
প্রথম কাজ হলো তার কথা শোনা।
তারপর তাকে নিরাপদ রাখা এবং সন্তানকে নিরাপদ রাখা।
তাকে একা না রাখা।
আর দ্রুত psychiatrist, psychologist, gynecologist বা জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করা।
একজন মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত বিষয় না।
এটা শিশুর নিরাপত্তা, মায়ের নিরাপত্তা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং সমাজের দায়িত্বের বিষয়।
তাই এই খবরগুলো আসলে শুধু ভয় দেখানোর জন্য না।
খবরগুলো আমাদের সতর্ক করার জন্য।
মা হওয়ার পর যদি মন, আচরণ বা চিন্তায় বড় পরিবর্তন দেখা যায়, তাহলে অপেক্ষা করবেন না।
আপনি যদি বাচ্চার বাবা হন, সচেতন হোন।
পরিবারের কেউ যদি এমন কিছু লক্ষ্য করেন, সতর্ক হোন।
মাকে একা ছেড়ে দেবেন না।
সহায়তা নিন।
সহায়তা দিন।
সময়মতো পাশে দাঁড়ান।
কারণ সময়মতো পাশে দাঁড়ালে অনেক কিছু বদলে যেতে পারে।
অনেক বড় ক্ষতির হাত থেকে একটি মা, একটি শিশু এবং একটি পরিবার রক্ষা পেতে পারে।
মায়ের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও কথা বলা জরুরি।