08/01/2026
কিডনি স্টোন বা কিডনি পাথর :
যাদের কিডনিতে স্টোন ধরা পড়েছে তাঁরাই হয়তো একমাত্র জানেন যে যন্ত্রণা কেমন মারাত্মকভাবে হয়। কারোর যদি কিডনিতে স্টোন ধরা পড়ে তাহলে তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোন উপায় থাকে না। কিন্তু এখনকার দিনে কিডনিতে স্টোন তৈরি হওয়া প্রতিরোধ করার জন্য একাধিক উপায় রয়েছে।
খাওয়া-দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম সবকিছুর উপর নির্ভর করেই কিডনিতে স্টোন হওয়া থেকে রক্ষা করা যেতে পারে নিজেকে। চিকিৎসকেরা বলছেন, কিডনিতে স্টোন আদতে ক্যালসিয়াম অক্সালেট স্টোন। তবে, এই সমস্যা যদি কেউ এড়াতে চান তাহলে মূলত তিনটি জিনিস মেনে চলতে হবে। চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কী কীজিনিস মেনে চললে কিডনিতে স্টোন হওয়ার ঝুঁকি কমবে-
পর্যাপ্ত জল পান করা:
কিডনি স্টোন প্রতিরোধের সবচেয়ে প্রধান নিয়ম হল প্রচুর পরিমাণে জল পান করা। পর্যাপ্ত জল শরীরে প্রস্রাব তৈরি করতে সাহায্য করে এবং প্রস্রাবকে পাতলা রাখে। এর ফলে, পাথর সৃষ্টিকারী খনিজ উপাদানগুলো জমাট বাঁধতে পারে না। দিনে অন্তত ৮-১০ গ্লাস অর্থাৎ ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল খাওয়া জরুরি।
লবণের ব্যবহার কমানো:
খাবারে অতিরিক্ত নুন বা সোডিয়াম কিডনি স্টোনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সোডিয়াম প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তীতে অক্সালেটের সঙ্গে মিশে পাথর তৈরি করে। তাই, কাঁচা নুন খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করার পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবার, চিপস ও নোনতা খাবার এড়িয়ে চলুন।
অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার এবং প্রাণিজ প্রোটিনে নিয়ন্ত্রণ:
যদি কারোর আগে কিডনি স্টোনের সমস্যা হয়ে থাকে, তবে অতিরিক্ত অক্সালেট যুক্ত খাবার (যেমন: পালং শাক, বিট, বাদাম) পরিমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। এছাড়া, রেড মিট বা অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন প্রস্রাবে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা পাথর তৈরির অন্যতম কারণ। এর বদলে বেশি করে ফাইবার সমৃদ্ধ সবজি ও ফল খাওয়া যেতে পারে।