27/09/2026
সেদিন বিকেলে চেম্বারে এসে এক ভদ্রলোক ধপাস করে চেয়ারে বসলেন। চেহারাটা একদম ফ্যাকাসে, চোখ দুটো কোটরে বসা।
বললেন, "ডাক্তার সাহেব, শরীরটা আর টেনে নিতে পারছি না। ঘুম থেকে উঠলেও মনে হয় পাহাড় ভেঙে পড়েছে গায়ে, এমন অসাড় করা ক্লান্তি নিয়ে বাঁচা যায় না।"
ফাইলটা খুলে দেখলাম রক্তে সুগার ১৮-২০ এর ঘরে লাফাচ্ছে।
বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এটা কেবলই একটা ল্যাব রিপোর্টের খেলা। কিন্তু শরীরের ভেতরের মেটাবলিক প্যাথলজি কী বলছে?
এখানে ইনসুলিনের চেয়ে বড় সংকট হলো ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স (সহজ কথায়, রক্তে ইনসুলিন ঘুরলেও কোষের তালা খোলার ক্ষমতা সে হারিয়ে ফেলেছে)। ফলে রক্তে গ্লুকোজের বন্যা বয়ে গেলেও কোষগুলো না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে কাতরাচ্ছে। শক্তি তৈরি হবে কোথা থেকে? অগ্ন্যাশয়ের বিটা কোষগুলো ওভারটাইম ডিউটি করত গিয়ে একসময় একদম নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
কিন্তু ফিজিওলজির পেছনের মনোদৈহিক সত্যটা কী?
ডায়াবেটিস আসলে জীবনে মাধুর্য বা নিখাদ আনন্দের অভাবের এক চরম শারীরিক প্রকাশ।
মানুষটি সারাজীবন নিজের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে কেবল পরিবার আর অন্যদের প্রত্যাশা পূরণ করে গেছেন। সবসময় অন্যের মন জুগিয়ে চলার এই যে নীরব চাপ, নিজের ভেতরের এই গভীর শূন্যতাবোধ—এটাই একটু একটু করে তার প্যানক্রিয়াসকে (অগ্ন্যাশয়) পঙ্গু করে দিয়েছে। প্যানক্রিয়াস হলো দেহের সেই সংবেদনশীল অঙ্গ, যা জীবনের আনন্দ আর মিষ্টতাকে ধরে রাখে। সেই আনন্দটাই যখন উবে যায়, শরীর তখন রক্তে কৃত্রিম চিনির স্তূপ জমিয়ে মনের ক্ষোভ প্রকাশ করে।
এমন কেসে যখন ক্লান্তি, বুক ধড়ফড় আর বরফ-শীতল পানির তৃষ্ণা নিয়ে রোগী সামনে দাঁড়ায়—যিনি সবাইকে ভালোবেসে শূন্য হাতে একা হয়ে গেছেন—তখন আমাদের ভাবায় ফসফরাস (Phosphorus)। অগ্ন্যাশয়ের গভীর মেটাবলিক ক্ষতি সামলাতে এটি অনবদ্য।
আবার যখন দীর্ঘদিনের সুগারের ধাক্কায় চরম দুর্বলতা, শরীর শুকিয়ে যাওয়া, দিনে-রাতে ঘন ঘন প্রস্রাবের তোড় আর শরীরে ঘামাচির মতো তীব্র চুলকানি দেখা দেয়, তখন সিজাইজিয়াম জাম্বোলানামের মতো রেমেডিগুলো (Syzygium jambolanum) কোষের মেটাবলিক ছন্দকে স্বাভাবিক করতে চমৎকার সহায়তা করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু রক্ত মেপে চলা যথেষ্ট নয়; সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত হাঁটা এবং নিজের জন্য একটু মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করা না গেলে মেটাবলিজমের এই অচলাবস্থা কাটানো কঠিন।
এ বিষয়ে কারও কোনো অভিজ্ঞতা বা পর্যবেক্ষণ থাকলে মন্তব্যে আলোচনা করা যেতে পারে।
ধন্যবাদ।
ডা. তারিক ইমাম
D. Hom USA, DHMS BHMEC Dhaka
Integrated homoeopathy
F/22 Zakir Hossain road
Lalmatia, Muhammad pur, Dhaka.