11/08/2026
যারা হিজামা নিয়ে বিভিন্ন সময় আমাকে উদ্ভট প্রশ্ন করেন তাদের জন্য এই লেখা 🌷🌹💗🌼🌼🌺🕋দয়া করে সবাই সময় নিয়ে পড়বেন। 💌💓💔🌹🌷
হিজামা কাপিং থেরাপি / hijama Cupping therapy /সুন্নতি চিকিৎসা 🕋
টক্সিন(Toxin)
টক্সিনঃ আপনার নিরব ঘাতক
টক্সিন কি?
টক্সিন হল জৈব বিষ, যা মানব দেহে প্রতিমুহূর্তে তৈরী হয়। আবার শরীরের নিজস্ব প্রতিরোধ ব্যবস্থায় মল, মূত্র, ঘামের সাথে বেড়িয়ে যায়, এমনকি নিঃশ্বাসের সাথেও টক্সিন রিলিজ হয়। কোন কারনে যদি দেহে জমতে থাকে তবে যত রকম রোগ যাতনার সৃষ্টি করে।
টক্সিন কিভাবে উৎপন্ন হয়?
আমাদের শরীরে যে বর্জ্য উৎপন্ন হয়, তা মল, মূত্র, ঘাম, নিশ্বাস ইত্যাদির সাথে দেহ থেকে নিষ্কাশিত হয়, যদি উৎপন্ন বর্জ্যের পরিমান নিষ্কাশিত বর্জ্যের থেকে বেশি হয় তবে কিছু পরিমান করে ঐ দূষিত পদার্থ দেহে জমতে জমতে টক্সিনে পরিনত হয়। এইএএএএএএএ
টক্সিন জমলে কি ধরনের অসুবিধা হয়?
টক্সিন জমতে থাকলে প্রাথমিক ভাবে empty heat অর্থাৎ অপ্রয়োজনীয় তাপ বাড়তে থাকে, বদহজম, ক্লান্তি, জ্বর, বমিভাব, মাথাধরা বা ঘোরার মত সমস্যা দেখা দিতে পারে, প্রত্যেকেরই একই symptom দেখা যাবে তার কোন মানে নেই, শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা অনুযায়ী রকমফের হয়। যদি বহুদিন ধরে টক্সিন জমতে থাকে, তবে আমাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলি পুষ্টির অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সুগার, প্রেসার, হার্টের রোগ, কিডনী সমস্যা, চোখের রোগ, চর্ম রোগ, মোটাপন, হাঁটু-কোমর ব্যথা ইত্যাদি বিবিধ স্থায়ি সমস্যা একে একে চেপে ধরে, যার সহজ কোন প্রতিকার নেই। রোগী যখন ডাক্তারবাবুর কাছে যাবেন প্রাথমিকভাবে উপসর্গাদি কিছুটা কমলেও স্থায়িভাবে সারতে চায়না, ফলে চিকিৎসা চলতেই থাকে বন্ধ করা যায়না। প্রয়োজনে ওষুধের ডোজ / পরিমান বাড়তে থাকে এমনকি রোগ লক্ষণগুলিও বাড়তে পারে, কারন শরীরে জমে থাকা টক্সিনের পরিমান ইতিমধ্যে আরও বেড়েছে।
কিভাবে বোঝা যাবে শরীরে টক্সিন জমছে?
আমাদের চুল, দাঁড়ি, নখ যেমন ধীরে ধীরে বাড়ে, টক্সিনও ধীরে ধীরে জমা হতে থাকে, বেশ কিছুটা জমার পড়ে উপসর্গগুলি চোখে পড়ে, যাকে রোগী প্রাথমিকভাবে উপেক্ষা করে। যথেষ্ট পরিমানে জমলে অনেক সময় একই ধরনের টক্সিন অনুগুলি পরষ্পর যুক্ত হয়ে ক্রিষ্টাল তৈরী করে অর্থাৎ দলা পাকিয়ে থাকে, ফলে ঐ অঞ্চলে রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, চাপ দিলে ব্যথা অনুভব হয়, বেশিরভাগ সময়ে রোগি নিজেও ঐ ব্যথায় ওয়াকিবহাল থাকেনা, ডাক্তারবাবু চাপ দিলে তখন বলে ব্যথা লাগছে। কখনো বা জায়গাটা ফুলে ওঠে এমনিতেই ব্যথা করতে থাকে। কোথায় কি ধরনের টক্সিন জমছে তার ওপর রোগ লক্ষণ নির্ভর করে। উল্লিখিত রোগ সমুহ সবই টক্সিন জমার লক্ষন। কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড ইত্যাদি কয়েকটি হল টক্সিনের উদাহরন, আরও বহু রকমের টক্সিন শরীরে জমে গিয়ে বিবিধ শারীরিক এমনকি মানসিক রোগের কারন হয়ে থাকে।
টক্সিন কি প্রত্যেকের শরীরেই জমে?
মল-মূত্র যেমন দেহে সৃষ্টি হয়, তেমনই টক্সিনের সৃষ্টিও অবশ্যম্ভাবি, তবে যাঁরা নিয়মিত শরীরচর্চা বা খেলাধূলা (outdoor) করেন, তাজা শাকসব্জী ফলাদি খান, তাঁদের টক্সিন জমার হার অনেক কমে যায়। যাঁরা ফাষ্ট ফুড খান অথবা মদ বা সিগারেট বা অন্য ক্ষতিকর নেশায় অভ্যস্ত বা ব্রেন ওয়ার্ক বেশী করেন তাঁদের টক্সিন জমার মাত্রা বহুগুন বেশি। বাসি খাবার, দূষিত বাতাস বা বন্ধ ঘরের বাতাসও টক্সিনের ভাল উৎস। সমীক্ষায় দেখা যায় গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারিদের শরীরে টক্সিনের মাত্রা কম, তাঁদের রোগ ভোগের হার কম, বিশেষ উল্লিখত রোগের রুগিরা বেশিরভাগই শহুড়ে।
টক্সিন শরীরের ঠিক কোথায় জমতে থাকে?
সারা দেহেই টক্সিন জমতে পারে, তবে তার বিভিন্ন রূপ হতে পারে। ‘ইউরিক অ্যাসিড’ যেমন পায়ের পাতা ও সংলগ্ন অঞ্চলে, ‘চর্বি’ জমার প্রবনতা বেশি হয় পেট, কোমর ও থাইতে, টক্সিন যখন রক্তবাহী নালিতে তখন তার পরিচিতি ‘কোলেস্টেরল-ট্র
াইগ্লিসারাইড’, কিডনি বা ব্লাডারে জমে যখন শক্ত হয়ে যায় তখন পরিচিত ‘ষ্টোন’ নামে, ফুসফুসে জমলে বলা বুকে ‘শ্লেষ্মা’ জমেছে, হাটু-কোমর ইত্যাদি জয়েন্টে জমলে রোগের নাম ‘আর্থারাইটিস’, শিড়দাড়ার ক্ষেত্রে ‘স্পন্ডেলাইটিস’, ত্বকের ক্ষেত্রে ‘ফোঁড়া/ পিমপল’ বা অন্যান্ন চর্মরোগ, লিভারের ক্ষেত্রে ‘ফ্যাটি লিভার’, গ্ল্যান্ডে জমলে ‘সুগার’ ইত্যাদি। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরনের ফলে রক্তনালির বাইরে জমে যাওয়া রক্ত, সেটাও টক্সিন, নিষ্কাসিত না হলে প্যারালাইসিসের সম্ভাবনা। মানবদেহে এমন কোন জায়গা নেই যেখানে টক্সিন জমতে পারেনা। সামান্য সর্দি-জ্বর-মাথাব্যথা থেকে শুরু করে স্ট্রোক-প্যারাল
াইসিস, অ্যাপেন্ডিসাইটিস, ব্রঙ্কাইটিস, সায়টিকা ছাড়াও বেশিরভাগ শারীরিক-মানসিক রোগের জন্য টক্সিন ভিলেন রোল পালন করে। কাজেই সব সমস্যার একটাই সমাধান টক্সিন মুক্ত করে শরীর রক্ষা করা।
টক্সিন মুক্তির উপায় কি?
সবচেয়ে ভাল শরীরে টক্সিন জমতে না দেওয়া। এজন্য জিভের বা মনের প্রয়োজনে খাবার না খেয়ে শরীরের প্রয়োজনে পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, নিয়মিত প্রাণায়াম, শরীরচর্চা বা খেলাধূলা করা। সর্বদাই রোগ নিরাময় অপেক্ষা প্রতিরোধ শ্রেষ্টতর। আর কোন ভাবে যদি টক্সিন জমে যায়, তবে তা নিষ্কাশন করাই সর্বোত্তম উপায় এর মধ্যে একটি হল কাপিং থেরাপি (Cupping Therapy)। দক্ষ থেরাপিস্টের হাতে কাপিং থেরাপি গ্রহণ করুন সুস্থ থাকুন .
ফিজিওঃ মোঃ আশরাফুল আলম পিটি 🌼🌺
ফিজিওথেরাপিস্ট
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট।
চেম্বার: প্যানোরোমা হসপিটাল লিঃ
ধানমন্ডি -৮,ঢাকা।
যোগাযোগ ঃ01717516037