Dr.Tahmeed Kamal - Pain, Paralysis and Rehabilitation Medicine Specialist

  • Home
  • Bangladesh
  • Dhaka
  • Dr.Tahmeed Kamal - Pain, Paralysis and Rehabilitation Medicine Specialist

Dr.Tahmeed Kamal - Pain, Paralysis and Rehabilitation Medicine Specialist Dr.Tahmeed Kamal,
FCPS ( Physical Medicine and Rehabilitation)
(2)

26/05/2026
রমজান  ও ডায়াবেটিসরমজান মুসলমানদের জন্য খুবই বরকতময় সময়। সবাই চান এই মাসের রহমত ও বরকতে অংশ নিতে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে কি...
19/02/2026

রমজান ও ডায়াবেটিস

রমজান মুসলমানদের জন্য খুবই বরকতময় সময়। সবাই চান এই মাসের রহমত ও বরকতে অংশ নিতে। তবে ডায়াবেটিস থাকলে কিছু বিষয় জানা জরুরি, যাতে রোজা নিরাপদে রাখা যায়।

প্রথম কথা হলো—ডায়াবেটিস রোগীদের অনেকেই রোজা রাখতে পারেন, কিন্তু সবার জন্য নিয়ম এক নয়। কারো শারীরিক অবস্থা ভালো থাকলে তিনি রোজা রাখতে পারেন, আবার কারো ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে। তাই রোজা শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যাদের সুগার খুব অনিয়ন্ত্রিত, সুগার কমে গেলে বুঝতে পারেন না, সম্প্রতি ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস হয়েছে, হার্ট-কিডনি-লিভারের জটিল সমস্যা আছে, সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়েছে, খুব দুর্বল বৃদ্ধ, গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ান—তাদের সাধারণত রোজা না রাখাই নিরাপদ।

সঠিকভাবে রোজা রাখলে কিছু উপকারও হতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে শরীরের মেটাবলিজম ভালো হয়, ওজন কমতে সাহায্য করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং নিয়ম মেনে চলার অভ্যাস তৈরি হয়। কিছু রোগীর ইনসুলিনের কার্যকারিতাও উন্নত হতে পারে।

তবে ঝুঁকিও থাকে। রোজায় সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো রক্তে সুগার কমে যাওয়া, যাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এছাড়া সুগার বেড়ে যাওয়া, পানিশূন্যতা এবং ওজনের অস্বাভাবিক পরিবর্তনও হতে পারে। সুগার কমে গেলে সাধারণত অতিরিক্ত ঘাম, হাত কাঁপা, বুক ধড়ফড়, প্রচণ্ড ক্ষুধা, ঝিমুনি, মাথা ঘোরা বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা যায়। এসব লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে রোজা ভেঙে ফেলতে হবে, ইফতারের সময় কাছাকাছি হলেও। তখন দ্রুত এক গ্লাস পানিতে চার থেকে ছয় চামচ চিনি মিশিয়ে খাওয়া বা মিষ্টি কিছু খাওয়া প্রয়োজন।

অনেকেই জানতে চান, রোজা রেখে রক্তে সুগার মাপা যাবে কি না। এতে কোনো সমস্যা নেই—রোজা ভাঙে না। বরং নিয়মিত সুগার মাপা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সেহরির প্রায় দুই ঘণ্টা পর এবং ইফতারের প্রায় এক ঘণ্টা আগে সুগার চেক করা ভালো।

কিছু অবস্থায় রোজা অবশ্যই ভাঙতে হবে। যদি রক্তে সুগার ৩.৯ mmol/L এর নিচে নেমে যায় বা ১৬.৬ mmol/L এর বেশি হয়ে যায়, তাহলে রোজা চালিয়ে যাওয়া বিপজ্জনক।

খাবারের ক্ষেত্রে রমজানে সুষম ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে হবে। সেহরিতে এমন খাবার খাওয়া ভালো যা ধীরে হজম হয়, যেমন ভাত, রুটি বা ওটসের সঙ্গে ডাল, সবজি, মাছ বা ডিম, দুধ ও ফল। সেহরি যতটা সম্ভব দেরিতে খাওয়াই ভালো। ইফতারে অতিরিক্ত ভাজা ও মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে, মিষ্টি শরবত কম খেতে হবে এবং অল্প অল্প করে খাবার গ্রহণ করতে হবে। ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি।

শরীরচর্চার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ করা যাবে, তবে দিনের বেলা ভারী পরিশ্রম এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। ইফতারের পর ৩০ থেকে ৬০ মিনিট হালকা ব্যায়াম করা যেতে পারে। তারাবীহ নামাজকেও শারীরিক কার্যকলাপ হিসেবে ধরা যায়।

ওষুধ ও ইনসুলিনের ব্যাপারটি খুবই ব্যক্তিনির্ভর। তাই নিজের ডাক্তারের পরামর্শই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের সময় ইফতার ও সেহরি অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়, কিন্তু নিজে নিজে ডোজ পরিবর্তন করা ঠিক নয়।

আপনি ডায়াবেটিস রোগী হোন বা না হোন, লক্ষ্য হওয়া উচিত সুস্থভাবে রোজা পালন করা। যদি শারীরিক কারণে চিকিৎসক রোজা রাখতে নিষেধ করেন, তাহলে মন খারাপ করার কিছু নেই। আল্লাহ নিয়্যাত দেখেন। পরে কাজা আদায় করা যাবে, ইনশাআল্লাহ। এই রমজান হোক আমাদের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ রমজান। আমীন।

আমাদের সমাজে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ যেভাবে মহামারীর রূপ নিয়েছে, তার পেছনে বড় একটি ঐতিহাসিক কারণ আছে—ব্রিটিশ উপনিবেশিক শোষণ। ...
03/02/2026

আমাদের সমাজে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ যেভাবে মহামারীর রূপ নিয়েছে, তার পেছনে বড় একটি ঐতিহাসিক কারণ আছে—ব্রিটিশ উপনিবেশিক শোষণ। দক্ষিণ এশীয়রা যে সহজেই শরীরে চর্বি জমায় আর তুলনামূলকভাবে কম মাসল ধরে রাখে, সেটাকে শুধু “জেনেটিক দুর্বলতা” বলে দায় সারা যায় না। এই বৈশিষ্ট্য আসলে তৈরি হয়েছে দীর্ঘদিনের অনাহার, শোষণ আর ট্রমার মধ্য দিয়ে।

খুব সম্ভবত ব্রিটিশদের আগমনের আগে আমাদের গড় উচ্চতা ও শারীরিক গঠন ইউরোপিয়ানদের কাছাকাছিই ছিল। সুলতানি ও নবাবি আমলে এই অঞ্চলের খাদ্যতালিকা ছিল সমৃদ্ধ—মাছ, তেল, ঘি, মাখন, দুধ, দই ছিল নিত্যদিনের খাবার। প্রায় প্রতিটি ঘরেই ছিল গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি। সে সময় বাংলা ছিল পৃথিবীর অন্যতম ধনী অঞ্চল। স্প্যানিশরা পুরো আমেরিকা লুট করেও যা অর্জন করতে পারেনি, ব্রিটিশরা তা ছাড়িয়ে গেছে শুধু বাংলা, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার শোষণ করেই। ব্রিটিশদের শিল্প বিপ্লবের পেছনে মূল জ্বালানি ছিল বাংলার কৃষকের রক্ত ও ঘাম।

ব্রিটিশ শাসনের শুরুতে বাংলাদেশ ছিল বিশ্বে মাথাপিছু উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থানে। প্রথম স্থানে ছিল দক্ষিণ ভারতের মহীশুর সালতানাত। মুঘল সাম্রাজ্যের মোট রাজস্বের প্রায় অর্ধেক আসত শুধু বাংলা থেকেই—এত সম্পদের পরও।

কিন্তু ব্রিটিশ শাসন শুরুর অল্প কিছু বছরের মধ্যেই ঘটে ভয়াবহ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর—যা মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ। তখন বাংলাদেশের প্রতি তিনজনের একজন মারা যান; মোট মৃতের সংখ্যা প্রায় এক কোটি। এরপর একে একে আসে ১৮৬৬ সালের উড়িষ্যার দুর্ভিক্ষ, ১৮৯৬–৯৮ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষ—যেগুলোতে প্রাণ হারান আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পঞ্চাশের মন্বন্তরে মারা যান আনুমানিক ১৫ থেকে ৫০ লাখ মানুষ।

এই বড় দুর্ভিক্ষগুলোর মাঝখানে ছোট-বড় মিলিয়ে আরও ডজনখানেক দুর্ভিক্ষ হয়। মোট কথা, ব্রিটিশ ইন্ডিয়াতে দুর্ভিক্ষের সংখ্যা ছিল ৩০টিরও বেশি। আজ আমরা যারা বেঁচে আছি, তারা সবাই সেই দুর্ভিক্ষ-জয়ী মানুষগুলোরই উত্তরসূরি।

ড. মবিন সাঈদের মতে, এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে টিকে থাকা মানুষের শরীরে স্বাভাবিকভাবেই দুটি বড় অভিযোজন (adaptation) তৈরি হয়—
1. স্টারভেশন এডাপ্টেশন
2. ট্রমা এডাপ্টেশন

স্টারভেশন এডাপ্টেশনের কারণে শরীর খাবার পেলেই সেটাকে দ্রুত ফ্যাটে রূপান্তর করতে শেখে—যাতে ভবিষ্যতে আবার না খেয়ে থাকতে হলে সেই ফ্যাট পুড়িয়ে বেঁচে থাকা যায়। একই সঙ্গে শরীর মাসল ধরে রাখতে চায় না, কারণ মাসল মেইনটেইন করা ব্যয়বহুল—এতে বেশি ক্যালরি পোড়ে, বেশি প্রোটিন দরকার হয়। অথচ আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রায় দুই শতাব্দী ঠিকমতো ভাতই পাননি, প্রোটিন ছিল বিলাসিতা।

আর ট্রমা এডাপ্টেশনের ফলে শরীর দীর্ঘদিন কর্টিসোল-ডমিনেটেড অবস্থায় থাকে। এতে কার্বোহাইড্রেটের প্রতি প্রবল আকর্ষণ তৈরি হয় এবং তা সহজেই ফ্যাটে জমে। তখন যে যত বেশি ফ্যাট জমাতে পেরেছে, তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা তত বেশি ছিল। বেশি মাসল মানে বেশি খাবারের প্রয়োজন—দুর্ভিক্ষে যা ছিল মারাত্মক অসুবিধা। তাই শুকনো, কম-মাসলের পরিবারগুলোই টিকে থাকার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল।

এইভাবেই অভিযোজনের মাধ্যমে টিকে থাকা আমাদের শরীর আজও খুব সহজে ফ্যাট জমায়, দ্রুত মাসল ভাঙে, খিটখিটে থাকে, অলস হয়ে পড়ে, আর ভাত দেখলেই ঝাঁপিয়ে পড়তে চায়। মানসিকভাবে আমরা হয়ে পড়েছি চাপগ্রস্ত ও সুযোগসন্ধানী।

ব্রিটিশরা যখন এই দেশ ছেড়ে যায়, তখন আমরা ছিলাম নিঃস্ব—হাড় জিরজিরে শরীর, সামনে ঝুলে থাকা ভুঁড়ি, শারীরিক দুর্বলতা আর দীর্ঘদিনের অপুষ্টির বোঝা নিয়ে। আমাদের থালা থেকে হারিয়ে গেছে সেই ঘি-ভাত, আর তার পরপরই এসেছে সবুজ বিপ্লব।

সব মিলিয়ে, ব্রিটিশ শাসন আমাদের ইউরোপিয়ানদের তুলনায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৬০০% বাড়িয়ে দিয়েছে, আর হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়েছে প্রায় ২৫০%।
হ্যাঁ, আমরা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি আর ইংরেজি ভাষা পেয়েছি—
কিন্তু তার বিনিময়ে হারিয়েছি আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ: স্বাস্থ্য।

Address

Mirpur DOHS
Dhaka
1216

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr.Tahmeed Kamal - Pain, Paralysis and Rehabilitation Medicine Specialist posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr.Tahmeed Kamal - Pain, Paralysis and Rehabilitation Medicine Specialist:

Shortcuts

Share

Category