06/08/2026
কৃষি অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, গত এক দশকে দেশে ফসলের নিবিড় চাষ, উচ্চফলনশীল জাতের বিস্তার এবং সবজি ও ফল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। চাষাবাদ বাড়ার সঙ্গে কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহারও বেড়েছে। ২০১৫ সালে দেশে ৩৫ হাজার ৫২৩ টন কীটনাশক ব্যবহার হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ২০২৪ সালে দেশে কীটনাশকের ব্যবহার হয় ৪০ হাজার ৮৩২ টন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে আবাদযোগ্য কৃষিজমি ৮৮ দশমিক ২৯ লাখ হেক্টর। সেই হিসাবে হেক্টরপ্রতি কীটনাশক ব্যহার হয়েছে ৪ দশমিক ৬২ কেজি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে কীটনাশক ব্যবহারের ধরন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। একই জমিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ, অনুমোদনহীন মিশ্রণ তৈরি, একই সক্রিয় উপাদান বারবার ব্যবহার এবং ফসল কাটার আগমুহূর্ত পর্যন্ত স্প্রে করার কারণে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে। বাজারে আসা শাকসবজি ও ফলমূলেও প্রায়ই অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ বা রেসিডিউ পাওয়া যায়। ফলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ কৃষক এখনো প্রি-হারভেস্ট ইন্টারভ্যাল বা কীটনাশক স্প্রে করার পর ফসল তোলার নির্ধারিত অপেক্ষার সময় যথাযথভাবে অনুসরণ করেন না। ফলে রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ সরাসরি খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে।
২০২৩ সালে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগ ‘বাংলাদেশে সবজি উৎপাদনে কীটনাশকের ব্যবহার: গত এক দশকে দূষণের মাত্রা ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকির একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা’ শীর্ষক গবেষণা প্রকাশ করে। সায়েন্স ডাইরেক্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়, তাদের সংগ্রহ করা সবজির নমুনার ২৯ শতাংশেরও বেশি কীটনাশকের অবশিষ্টাংশে দূষিত ছিল। দূষিত নমুনাগুলোর মধ্যে ৭৩ শতাংশে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশের মাত্রা সর্বোচ্চ অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করেছে।
অন্যদিকে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উপকারী অণুজীব, পরাগায়নকারী মৌমাছি, জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক এলাকায় একই কীটনাশক দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে পোকামাকড়ের প্রতিরোধক্ষমতাও (রেজিস্ট্যান্স) তৈরি হয়েছে। এতে কৃষকদের আরো বেশি মাত্রায় বা আরো শক্তিশালী কীটনাশক ব্যবহার করতে হচ্ছে।
দেশে কীটনাশকের ব্যবহারকে আরো বিজ্ঞানভিত্তিক, সীমিত ও পরিবেশবান্ধব করতে নতুন নীতিমালা (পলিসি গাইডলাইন) প্রণীত হচ....