30/05/2026
Aisa Siddika Tuli
Room 714
রাত ১১টা ৪৮।
মাহিরের প্রথম দিন নতুন চাকরিতে।
ম্যানহাটনের পুরনো একটা হোটেলে নাইট ম্যানেজার হিসেবে জয়েন করেছে সে।
হোটেলের নাম — The Velorian।
বাইরে থেকে বিল্ডিংটা সুন্দর। পুরনো নিউইয়র্কের ক্লাসিক স্থাপত্য। কিন্তু ভেতরে ঢুকলেই একটা অদ্ভুত নিস্তব্ধতা টের পাওয়া যায়। যেন জায়গাটা সবসময় কিছু লুকিয়ে রাখে।
রিসেপশনের পেছনে বসে থাকা বৃদ্ধ কর্মচারী, মি. কেলার, মাহিরকে নিয়মগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন।
“রাত ২টার পর কোনো কল এলে আগে লগ চেক করবে।”
মাহির হালকা হেসে বললো, “কেন?”
লোকটা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলো।
তারপর বললো—
“কারণ সব রুম থেকে কল আসে না।”
মাহির ভেবেছিল বৃদ্ধ লোকটা মজা করছে। সে আর গুরুত্ব দিল না।
রাত ১টা ৫৭।
পুরো লবি ফাঁকা।
ঘড়ির টিকটিক শব্দ পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে।
মাহির কফি খেতে খেতে ফোন স্ক্রল করছিল।
ঠিক তখন রিসেপশনের ফোনটা বেজে উঠলো।
ট্রিং…
ট্রিং…
সে রিসিভ করলো।
“Front desk, how may I help you?”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড কোনো শব্দ নেই।
তারপর খুব নিচু গলায় একজন মহিলা বললো—
“Please… someone is inside my room.”
মাহির সোজা হয়ে বসল।
“ম্যাম, কোন রুম?”
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর—
“Seven… one… four…”
লাইন কেটে গেল।
মাহির দ্রুত কম্পিউটারের দিকে তাকালো।
Room 714.
কিন্তু স্ক্রিনে বুকিং স্ট্যাটাস দেখে তার ভ্রু কুঁচকে গেল।
Vacant.
রুমটা খালি।
সে ভাবলো হয়তো সিস্টেম আপডেট হয়নি।
ঠিক তখন মি. কেলার আসে। মাহিরকে একটু বিব্রত মনে হচ্ছিল। বিষয়টি খুব আমলে না নিয়ে তিনি খুব ধীরে বললেন—
“কলটা ধরেছো?”
মাহির চমকে তাকালো।
“হ্যাঁ। ৭১৪ থেকে। কেউ বলছে রুমে কেউ আছে।”
বৃদ্ধ লোকটার মুখের রং বদলে গেল। কয়েক সেকেন্ড তিনি কিছু বললেন না।
তারপর খুব আস্তে বললেন—
“ওই রুমে যেও না।”
মাহির বিরক্ত হলো।
“স্যার, কেউ বিপদে থাকলে তো যেতে হবে।”
লোকটা এবার স্পষ্ট গলায় বললেন—
“৭১৪ তিন বছর ধরে বন্ধ।”
লবির বাতাস হঠাৎ ভারী লাগতে শুরু করলো।
মাহির হেসে উড়িয়ে দিতে চাইল।
“হয়তো কেউ ঢুকে আছে।”
মি. কেলার এবার একদম কাছে এসে বললেন—
“তিন বছর আগে ওই রুমে একজন মহিলা মারা গিয়েছিল।”
হঠাৎ করে কিছুক্ষণের জন্য নিস্তব্ধতা নেমে এলো যেন।
দূরে কোথাও লিফটের ধাতব শব্দ হলো।
মাহিরের গলা শুকিয়ে গেল।
“কীভাবে?”
বৃদ্ধ লোকটা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন।
তারপর বললেন—
“সে রাত ২টা ১৪ মিনিটে ফ্রন্ট ডেস্কে কল করেছিল। বলেছিল, রুমে আরেকজন আছে।”
মাহিরের বুক ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে গেল।
“তারপর?”
“সিকিউরিটি ওপরে যায়।”
লোকটা থামলেন।
“রুম ভেতর থেকে লক ছিল।”
“মহিলাটা?”
“মেঝেতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।”
মাহির কিছু বলার আগেই ফোনটা আবার বেজে উঠলো।
ট্রিং…
ট্রিং…
ট্রিং…
এবার স্ক্রিনে পরিষ্কার লেখা উঠলো—
ROOM 714.
লবির সব আলো একবার খুব আস্তে ফ্লিকার করলো।
মাহির ধীরে ফোনটা তুললো।
ওপাশে এবার শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ।
তারপর খুব নিচু গলায় সেই একই মহিলা বললো—
“He is behind you.”
মাহিরের পুরো শরীর জমে গেল।
কারণ ঠিক সেই মুহূর্তে—
রিসেপশনের পেছনের আয়নায় সে দেখলো, লবিতে সে আর মি. কেলার ছাড়া আরও একজন দাঁড়িয়ে আছে।
(চলবে....)
#থ্রিলার_গল্প #হাসানমাহামুদ