17/08/2022
কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি, লক্ষণ ও চিকিৎসাঃ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ক্যান্সার বিশ্বে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ। চিকিৎসা শাস্ত্রে কোলন ক্যানসার বলতে মলাশয়ের ক্যানসারকে বোঝায়। কোলন সাধারণত খাবার শোষণ করে এবং শরীর থেকে বর্জ্য বের করে দেয়।
বাংলাদেশে ক্যানসার আক্রান্ত পুরুষ রোগীদের প্রায় সাড়ে ছয় শতাংশ কোলন ক্যানসারে ভুগছে।কোলন ক্যান্সার নারী ও পুরুষ উভয়েরই হয়। তবে নারীদের ক্ষেত্রে কোলোরেকটাল এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে রেকটাল ক্যানসার বেশি হতে দেখা যায়।
পরিবেশ ও জিনগত কারণে বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ে ক্যান্সারের ঝুঁকি পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। খাদ্যাভ্যাস একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতিরিক্ত গরু বা ছাগলের মাংস খাওয়া, খাদ্যতালিকায় আঁশজাতীয় খাবারের অনুপস্থিতি, ধূমপান ও মদ্যপান এই ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
রোগের লক্ষণ
প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণত রোগীর পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, পেট ফাঁপা ফাঁপা লাগা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে দেখা যায়। পরবর্তী সময়ে পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, রক্তশূন্যতা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়। মলত্যাগের পরও মনে হতে পারে ভালোভাবে মলত্যাগ হয়নি। এ ছাড়া রোগ ছড়িয়ে পড়লে আরও অনেক ধরনের সমস্যা হতে পারে।
চিকিৎসা
কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা এক-কথায় অস্ত্রোপচার। কোলনের ক্যান্সারযুক্ত অংশ এবং এর আশেপাশের অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে বা পরে কেমোথেরাপি দেওয়া হয়। যেকোনো ক্যানসারের চিকিৎসায় মাল্টিডিসিপ্লিনারি অ্যাপ্রোচ (multidisciplinary approach) এখন সারা বিশ্বে বহুল সমাদৃত। এটি হলো সার্জন, প্যাথলজিস্ট, ক্যানসার বিশেষজ্ঞ, সাইকোথেরাপিস্টসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা।
কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে নিয়মিত আঁশযুক্ত, অ্যান্টি–অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ এবং ভিটামিন ও খনিজযুক্ত খাবার নিয়মিত গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওজন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা, অ্যালকোহল ও ধূমপান পরিহার করাও এই ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রতিরোধ ও প্রতিকারযোগ্য এই ক্যানসারকে প্রতিহত করার জন্য দরকার একটুখানি সতর্কতা ও সচেতনতা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা।
ডাঃ মনোজ রায়
এম.বি.বি.এস(ঢাকা)।