16/05/2026
লেখাটা গ্রুপের মেয়েদের জন্য মায়েদের জন্য যারা সারাক্ষণ টেনশন করেন। দু বছর আগের...
আপনি যদি মুসলিম হন, আপনার যদি ধর্মে বিশ্বাস থাকে, যদি তাওয়াককুল থাকে তাহলে জীবনের কষ্ট আপনাকে ভাঙতে পারবে না।
আপনি জীবনকে মেনে নিতে শিখবেন, এমনকি মৃত্যুকেও। বুঝবেন, আল্লাহ এই দুনিয়াকে স্থায়ী আরামের জায়গা বানাননি। এখানে প্রত্যেক মানুষই কোনো না কোনো সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
কেউ কাঁদে, কেউ চিৎকার করে নিজের কষ্ট জানায়, আবার কেউ মনে মনে বলে “এটাই আমার রিযিক। আল্লাহ আমার জন্য যা লিখেছেন, আমি তার উপর সন্তুষ্ট।”
আমারও কষ্ট আছে। আমিও আল্লাহকে বলি
“হে আল্লাহ, আমার কষ্ট লাঘব করে দিন, আমার ভাগ্যকে সুপ্রসন্ন করে দিন।”
আমি এটা বলি না যে মানুষ কষ্ট নিয়ে লিখবে না, পোস্ট দেবে না। অবশ্যই বলুন, মন হালকা করুন। তবে সাথে সাথে “অ্যাডাপ্ট” করাও শিখুন। দুঃখ-কষ্ট আল্লাহর উপর ছেড়ে দিতে শিখুন।
যে মানুষ রিযিকে বিশ্বাস করে, সে কি শুধু এই কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদবে যে তার সন্তান মায়ের দুধ খেতে পারেনি?
যে মানুষ তাওয়াককুল বোঝে, সে কি সারাক্ষণ এই ভয় নিয়ে বাঁচবে “আমার সন্তান সুস্থ হবে তো?”
যে মানুষ আল্লাহর সিদ্ধান্তে বিশ্বাস করে, সে কি সন্তান ছেলে না মেয়ে হবে এটা নিয়ে অস্থির হয়ে পড়বে?
এখন অনেকে বলতে পারেন ,তাহলে কি চুপ করে বসে থাকবো? ডাক্তার দেখাবো না? চেষ্টা করবো না?
না।
জীবনটা যেন রেললাইনের মতো এক পাশে তাওয়াককুল, আরেক পাশে চেষ্টা।
১০০% তাওয়াককুল, ১০০% চেষ্টা।
সন্তান গর্ভে আসার পর জ্ঞান অর্জন করা, ডাক্তার দেখানো, নিজের যত্ন নেওয়া এগুলো সবই আপনার চেষ্টা।
আমি বহুবার বলেছি, যেসব মায়েরা বুকের দুধ খাওয়াতে পারেননি, তারা অস্থির হয়ে ফর্মুলাকে “সেরা” প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না।
“ফর্মুলা খাইয়েছি, কিছু তো হয়নি” এই ধরনের অহংকার না করে আল্লাহকে বলুন
“হে আল্লাহ, ভুলে বা পরিস্থিতির কারণে বুকের দুধ খাওয়াতে পারিনি। আপনি আমার সন্তানকে সুস্থতা দিন।”
ডাক্তারের কথার চেয়েও মায়ের দোয়া অনেক শক্তিশালী।
তাই বলে আবার সবাইকে ফর্মুলা খাওয়াতে উৎসাহ দেবেন না। নিজের ভুল বা সীমাবদ্ধতাকে সবার জন্য স্বাভাবিক বানাতে চাওয়া ঠিক নয়।
আমি পরিস্থিতি অনুযায়ী লিখি। আপনাদের অস্থিরতা আর হতাশা দেখেই আজ এসব বললাম।
এত টেনশন আর হতাশা কখনোই ভালো কিছু দেয় না।
মুসলমানের জীবনেও কষ্ট আসবে, হতাশাও আসতে পারে। কিন্তু সে নিজেকে আবার সামলে নেয়। কারণ সে জানে আল্লাহর উপর ভরসা হারানো যাবে না।