Prof. Dr. Tapesh Kumar Paul

Directions Website

Prof. Dr. Tapesh Kumar Paul Prof. Ethical, safe, evidence-based care.

Dr. Tapesh Kumar Paul
MBBS (DMC) FCPS (Surgery)
MS (Surgical Oncology)

Surgical Oncologist & Breast Surgeon with 20+ years’ experience in breast, colorectal, stomach cancer and minimally invasive surgery.

05/10/2026

🌸 **রোগী সচেতনতা সিরিজ: বিভিন্ন রকম ব্রেস্ট সার্জারি এবং তা কেন করা হয়?**

"ব্রেস্ট সার্জারি" বা স্তনে অপারেশনের কথা শুনলেই বেশিরভাগ নারী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকেই ভাবেন, স্তনে ছুরি লাগানো মানেই বোধহয় ক্যান্সার, আর অপারেশন মানেই পুরো স্তন কেটে ফেলা! এই অমূলক ভয়ের কারণে অনেক নারী ছোটখাটো সমস্যা লুকিয়ে রাখেন এবং রোগটিকে জটিল পর্যায়ে নিয়ে যান।

আজকের সচেতনতামূলক পোস্টে চলুন জেনে নিই, স্তনের সাধারণ কিছু সার্জারি সম্পর্কে এবং চিকিৎসকরা সাধারণত কখন কোন সার্জারির সিদ্ধান্ত নেন:

১. **লাম্পেক্টমি বা লাম্প এক্সিশন (Lumpectomy):**
স্তনে যদি সাধারণ বা নিরীহ কোনো টিউমার (যেমন: ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা) থাকে, তবে শুধুমাত্র সেই চাকা বা লাম্পটি অপারেশন করে বের করে আনা হয়। এটি অত্যন্ত ছোট ও নিরাপদ একটি সার্জারি, যাতে স্তনের স্বাভাবিক আকার বা সৌন্দর্যের কোনো ক্ষতি হয় না।

২. **ব্রেস্ট কনজারভিং সার্জারি (Breast Conserving Surgery - BCS):**
প্রাথমিক পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার ধরা পড়লে আজকাল আর পুরো স্তন কাটার প্রয়োজন হয় না। আধুনিক অনকোপ্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে স্তনের স্বাভাবিক আকৃতি ১০০% ঠিক রেখে শুধুমাত্র ক্যান্সারে আক্রান্ত অংশটুকু (নিরাপদ মার্জিনসহ) ফেলে দেওয়া হয়।

৩. **মাস্টেক্টমি (Mastectomy):**
ক্যান্সার যদি স্তনের অনেকটা অংশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে বা অ্যাডভান্সড স্টেজে (Advanced Stage) থাকে, তখন রোগীকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত করতে এবং জীবন বাঁচাতে পুরো স্তনটি অপসারণ করা হয়। তবে আধুনিক সার্জারিতে এরপরও 'ব্রেস্ট রিকনস্ট্রাকশন' বা প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে স্তন পুনর্গঠনের সুযোগ থাকে।

৪. **মাইক্রোডোকেক্টমি (Microdochectomy):**
অনেক সময় নিপল বা স্তনবৃন্ত থেকে রক্ত বা অস্বাভাবিক তরল নির্গত হয়। তখন রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার জন্য স্তনের ভেতরের নির্দিষ্ট মিল্ক ডাক্ট বা দুধের নালিটি ছোট একটি অপারেশনের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়।

৫. **অ্যাবসেস ড্রেনেজ (Abscess Drainage):**
ব্রেস্ট ফিডিং বা স্তন্যদানকারী মায়েদের স্তনে অনেক সময় মারাত্মক ইনফেকশন হয়ে পুঁজ জমে যায় (ব্রেস্ট অ্যাবসেস)। তখন ছোট একটি কাটার মাধ্যমে সেই পুঁজ বের করে দিয়ে ড্রেসিং করা হয়, যাতে ইনফেকশন পুরো শরীরে বা রক্তে ছড়াতে না পারে।

**সার্জনের পরামর্শ:**
অপারেশন মানেই অঙ্গ হারানো বা জীবনের শেষ নয়, বরং এটি আপনাকে একটি সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া। আধুনিক রোবোটিক ও মিনিমালি ইনভেসিভ প্রযুক্তির ফলে ব্রেস্ট সার্জারি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ, নিখুঁত ও কসমেটিকভাবে উন্নত। তাই ভয় না পেয়ে, যেকোনো অস্বাভাবিকতায় সঠিক সময়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

**ডা. সায়দা আলী**
MBBS, FCPS (Surgery)
সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ, ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
জেনারেল, ব্রেস্ট ও কোলোরেক্টাল সার্জন

🏥 **চেম্বার-১:**
রুম ২৩৩, ডেলটা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
রোগী দেখার সময়: প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা।

🏥 **চেম্বার-২:**
ইবনে সিনা হাসপাতাল, বাড়ি ৬৮, রোড ১৫/এ, শংকর, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা–১২০৯
রোগী দেখার সময়: প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা–রাত ৯টা (শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন বন্ধ)
সিরিয়াল: 01711167233

মেডিক্যাল কলেজ এ যেসকল ছাত্র/ছাত্রী/ইন্টার্ন এর শেখার আগ্রহ কম বা শিখতে সমস্যা হচ্ছে !! শিক্ষার্থীর অনাগ্রহ বা শেখার সমস...
30/09/2026

মেডিক্যাল কলেজ এ যেসকল ছাত্র/ছাত্রী/ইন্টার্ন এর শেখার আগ্রহ কম বা শিখতে সমস্যা হচ্ছে !!

শিক্ষার্থীর অনাগ্রহ বা শেখার সমস্যার পেছনে অনেক সময় স্রেফ অলসতা থাকে না; বরং ভয়, আত্মবিশ্বাসের অভাব বা বিশাল সিলেবাস ও কাজের চাপ দেখে ঘাবড়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো কাজ করে। বিশেষ করে ক্লিনিক্যাল বা সার্জারির মতো প্র্যাকটিক্যাল জায়গায় এটি বেশি দেখা যায়। এ ধরনের শিক্ষার্থীদের মোটিভেট করতে নিচের কৌশলগুলো দারুণ কাজে দিতে পারে:

ভয় বা দুর্বলতার আসল কারণটি খুঁজে বের করা: অনেকেই না পারার ভয়ে শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। হয়তো ওটিতে (OT) কোনো কাজ করতে গিয়ে হাত কাঁপছে বা নার্ভাস লাগছে, তাই সে কাজটি এড়িয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সবার সামনে তাকে বকা না দিয়ে, আলাদাভাবে কথা বলে তার দুর্বলতার জায়গাটি বোঝার চেষ্টা করুন। তার ভয়টা কোথায়, সেটা জানলে সমাধান করা সহজ হয়।

ছোট ছোট লক্ষ্য বা 'Small Wins' নির্ধারণ করা: বিশাল কোনো প্রসিডিউর বা টপিক একবারে না চাপিয়ে, কাজগুলোকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে দিন। যেমন—আজকে শুধু সঠিকভাবে ইন্সট্রুমেন্ট ধরা বা বেসিক নট (Knot) দেওয়াটা শিখুক। ছোট একটি কাজ সফলভাবে করতে পারলে তার মাঝে পরের ধাপটি শেখার আত্মবিশ্বাস ও স্পৃহা তৈরি হবে।

বাস্তব জীবনের সাথে যুক্ত করে বোঝানো (Clinical Relevance): কোনো থিওরি বা বেসিক কাজ কেন শিখতে হবে, তা যখন শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে না, তখনই তারা আগ্রহ হারায়। যেমন, ফ্লুইড ব্যালেন্স বা চার্ট মেইনটেইন করাটা হয়তো বিরক্তিকর মনে হতে পারে, কিন্তু এটি কীভাবে একজন পোস্ট-অপারেটিভ রোগীর জীবন বাঁচাতে সাহায্য করছে—সেই প্র্যাকটিক্যাল গুরুত্বটা বুঝিয়ে বললে কাজের প্রতি তাদের ডেডিকেশন বাড়বে।

গোছানো ও সহজ রেফারেন্স দেওয়া: অনেক সময় বিশাল গাইডলাইন বা বই দেখে শিক্ষার্থীরা ভয় পায়। তাদের জন্য যদি কঠিন টপিকগুলোকে সহজ চেকলিস্ট, স্টেপ-বাই-স্টেপ অ্যালগরিদম, ফ্লোচার্ট বা পয়েন্ট-ভিত্তিক নোট আকারে উপস্থাপন করা যায়, তবে তারা অনেক দ্রুত বিষয়টি ধরতে পারে এবং শেখার প্রতি আগ্রহ ফিরে পায়।

ফলাফলের চেয়ে চেষ্টাকে মূল্যায়ন করা: কোনো মাইনর প্রসিডিউর করতে গিয়ে ব্যর্থ হলে হতাশ করা যাবে না। "তোমার অ্যাপ্রোচটা ঠিক ছিল, শুধু এই অ্যাঙ্গেলটাতে আরেকটু পরিবর্তন আনতে হবে"—এমন ইতিবাচক ফিডব্যাক একজন হতাশ শিক্ষার্থীকে নতুন করে চেষ্টা করার সাহস দেয়।

পিয়ার লার্নিং (Peer Learning): অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সরাসরি সিনিয়র বা শিক্ষকদের কাছে প্রশ্ন করতে দ্বিধাবোধ করে। এমন ক্ষেত্রে তাদের সমবয়সী বা অল্প একটু সিনিয়র কারও সাথে ট্যাগ করে দিন। একটু ইনফরমাল পরিবেশে তারা অনেক সময় বেশি স্বাচ্ছন্দ্যে শিখতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা হলো ধৈর্য। একজন প্রকৃত মেন্টরের কাজই হলো একজন পিছিয়ে পড়া বা খেই হারিয়ে ফেলা শিক্ষার্থীকে সঠিক গাইডলাইনের মাধ্যমে একজন দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী প্রফেশনালে পরিণত করা।

— প্রফেসর ডা. তপেশ কুমার পাল
MBBS (DMC), FCPS (Surgery), MS (Surgical Oncology)
সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ও ব্রেস্ট সার্জন
প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, সার্জারি
ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

সার্জারীতে  গুরু-শিষ্য সম্পর্ক !সার্জারি চিরকালই হাতে-হাতে শেখানো একটা শিল্প — শুধু বই থেকে নয়, বরং অপারেশন টেবিলের দুই...
25/09/2026

সার্জারীতে গুরু-শিষ্য সম্পর্ক !

সার্জারি চিরকালই হাতে-হাতে শেখানো একটা শিল্প — শুধু বই থেকে নয়, বরং অপারেশন টেবিলের দুই পাশে দাঁড়িয়ে এক জোড়া হাত থেকে আরেক জোড়া হাতে। যত বিস্তারিত curriculum-ই হোক, সেই সার্জনের বিকল্প হয় না, যিনি একজন জুনিয়রকে নিজের ছায়ায় নিয়ে শুধু operate করা নয় — কীভাবে ভাবতে হয়, কীভাবে আচরণ করতে হয়, আর কীভাবে এই কাজের ভারটা বইতে হয়, সেটাও শেখান।

মেন্টর–মেন্টি (গুরু-শিষ্য) সম্পর্ক চিকিৎসার সবচেয়ে পুরোনো শিক্ষা-পদ্ধতি, আর আজও সবচেয়ে শক্তিশালী। কিন্তু এটা দুই দিকের একটা চুক্তি — দুজনের কাছ থেকেই কিছু না কিছু চায়। কে কার কাছে কী পাওনা, তা-ই এখানে বলছি।

একজন ভালো সার্জিক্যাল #মেন্টরের গুণ

অনুসরণযোগ্য দক্ষতা। মেন্টরকে আগে কাজে ভালো হতে হয়। জুনিয়র দেখে দেখে শেখে, তাই মেন্টরের technique, সিদ্ধান্ত আর শৃঙ্খলাই হয়ে ওঠে তার আদর্শ ছাঁচ। তবে শুধু কারিগরি দক্ষতাই যথেষ্ট নয় — সবচেয়ে ভালো operator যদি শেখাতে না পারেন, তিনি মেন্টর নন।
চমক নয়, চরিত্র।

একজন ট্রেইনি সবচেয়ে বেশিদিন যা মনে রাখে, তা প্রায় কখনোই anatomy নয় — বরং সার্জন কীভাবে একজন ভীত রোগীর সাথে কথা বলেছিলেন, কীভাবে একটা complication নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন, কিংবা রুমের সবচেয়ে জুনিয়র মানুষটার সাথে কেমন আচরণ করেছিলেন। ভালো মেন্টর সততা শেখান সেটা যাপন করে — কারণ চরিত্র শেখানোর চেয়ে দেখে শেখা বেশি হয়।

ধাপে ধাপে আস্থা। সার্জারিতে মেন্টরিং-এর আসল শিল্প হলো — কখন হাত ধরে রাখতে হবে আর কখন ছেড়ে দিতে হবে, সেটা জানা। ভালো মেন্টর ধীরে ধীরে স্বাধীনতা দেন — “আমাকে দেখো, তারপর এই অংশটা আমার সাথে করো, তারপর আমি দেখতে থাকি আর তুমি করো” — রোগীকে নিরাপদ রেখে ট্রেইনিকে তার দক্ষতার শেষ সীমা পর্যন্ত ঠেলে দেন। আস্থা খুব কম দিলে ট্রেইনি বড় হয় না; আবার খুব তাড়াতাড়ি বেশি দিলে রোগী আর ট্রেইনি — দুজনেই বিপদে পড়ে।

#মানসিক নিরাপত্তা। জুনিয়ররা তখনই দ্রুত শেখে, যখন একটা “বোকা” প্রশ্ন করা নিরাপদ, না-জানা স্বীকার করা নিরাপদ, আর ছোট ভুল করেও অপমানিত না হওয়া নিরাপদ। যে মেন্টর ভয় দেখিয়ে শেখান, তিনি এমন ডাক্তার বানান যারা ভুল লুকায়; আর যিনি নিরাপত্তা দিয়ে শেখান, তিনি এমন ডাক্তার বানান যারা মুখ খুলতে শেখে।

#সৎ, সুনির্দিষ্ট feedback। সততা ছাড়া দয়া হলো তোষামোদ; আর দয়া ছাড়া সততা হলো নিষ্ঠুরতা। ভালো মেন্টর দুটোই দেন — সুনির্দিষ্ট, সময়মতো, আর কাজের দিকে তাক করা, ব্যক্তির দিকে নয়। “গিঁটটা ঢিলা হয়েছে, কেন হলো দেখাই” — এটা শেখায়। “তুমি অমনোযোগী” — এটা শুধু আঘাত করে।

#সময় ও সুযোগে উদারতা। মেন্টরিং মেন্টরের কিছু একটা খরচ করায় — বুঝিয়ে বলার মিনিট, হাতে তুলে দেওয়া কেস, ভাগ করে নেওয়া কৃতিত্ব।

#সেরা মেন্টররা মুক্ত হাতে দেন, ট্রেইনিকে সুযোগের জন্য এগিয়ে দেন, অনুপস্থিতিতেও তার সুনাম করেন, আর এমন দরজা খুলে দেন যেগুলো তাদের নিজেদের একসময় ধাক্কা দিয়ে খুলতে হয়েছিল।

নয়, বিচারবুদ্ধি শেখানো। কোথায় কাটতে হবে, তা যে কাউকে দেখিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু বড় মেন্টর কঠিন জিনিসটা শেখান — কখন কাটতে হবে, কখন অপেক্ষা করতে হবে, আর কখন সাহায্য ডাকতে হবে। তারা জোরে জোরে ভাবেন, যাতে ট্রেইনি শুধু ‘কী’ নয়, ‘কেন’-টাও শেখে।
===============================
একজন ভালো সার্জিক্যাল মেন্টি কীভাবে হবেন
===============================
মেন্টরিং এমন কোনো উপহার নয় যা আপনি নিষ্ক্রিয়ভাবে পেয়ে যাবেন; এটা এমন একটা সম্পর্ক, যা অর্জন করতে হয় আর যত্ন করে বাঁচিয়ে রাখতে হয়।

#নির্ভরযোগ্য হন। যে জুনিয়র কথা দিয়ে কথা রাখে, প্রস্তুত হয়ে আসে, আর কাজটা শেষ করে জানায় — তার চেয়ে দ্রুত আর কিছুই আস্থা গড়ে না। নির্ভরযোগ্যতা operating team-এর আসল মুদ্রা।

#প্রস্তুত হয়ে আসুন। scrub করার আগে কেসটা পড়ে আসুন। রোগী, anatomy আর ধাপগুলো জেনে আসুন। যে মেন্টি প্রস্তুত হয়ে আসে, সে কঠিন কেস পায়; আর যে ফাঁকা এসে দাঁড়ায়, তাকে শুধু retractor ধরিয়ে রাখা হয়।

#শেখার জন্য উন্মুক্ত থাকুন। একজন ট্রেইনির সবচেয়ে মূল্যবান গুণ — আত্মরক্ষার ভঙ্গি ছাড়া feedback নিতে পারা, আর সেটা কাজে লাগানো। ভুল ধরিয়ে দিলে বলুন “ধন্যবাদ”, “কিন্তু…” নয়। মেন্টরকে দেখান যে তার কথা পরেরবার আপনার কাজটাই বদলে দিয়েছে।

#উদ্যোগ নিন। নিজের শেখার দায়িত্ব নিজে নিন। পরের ধাপটা চেয়ে নিন, কেস খুঁজে নিন, রোগীকে পরে follow করুন, আর কখনো মুখে তুলে খাইয়ে দেওয়ার অপেক্ষা করবেন না। মেন্টররা সবচেয়ে বেশি লগ্নি করেন তাদের পেছনে, যারা ইতিমধ্যেই ছুটছে।

#বিনয়ী ও কৌতূহলী হন। প্রশ্ন করুন — ভালো প্রশ্নটাও, “বোকা” প্রশ্নটাও। যা জানেন না, স্বীকার করুন। মিথ্যা আত্মবিশ্বাসের চেয়ে কৌতূহল একজন শিক্ষককে অনেক বেশি খুশি করে, আর সেটাই আপনার রোগীকে নিরাপদ রাখে।

তাদের সময়কে সম্মান করুন। সংক্ষিপ্ত হোন। হোমওয়ার্ক শেষ করে, প্রশ্নটা ধারালো করে আসুন। মেন্টরের প্রতিটা মিনিটকে সেই দুর্লভ, উদার উপহার হিসেবে দেখুন, যা আসলে তা-ই।

ভাবুন ও লিখে রাখুন। একটা logbook রাখুন, আর তার চেয়েও জরুরি — প্রতিটা কেসের পর একটু ভাবার অভ্যাস: একটা শেখা জিনিস, একটা উন্নতি করার জিনিস। ইচ্ছাকৃত হলে, বৃদ্ধিটা যৌগিক হারে বাড়ে।

#অনুগত ও কৃতজ্ঞ থাকুন। মেন্টরকে ভালোভাবে উপস্থাপন করুন, তার কৃতিত্ব দিন, আর তার নাম কখনো হালকাভাবে ব্যবহার করবেন না। একটা সরল, আন্তরিক ধন্যবাদ মানুষ বছরের পর বছর মনে রাখে।

"আমার সার্জারি জীবনের মেন্টর ও প্রিয় শিক্ষার্থীদের প্রতি আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। আজকের এই অবস্থানে পৌঁছানো এবং আমার সমস্ত অর্জনের পেছনে তাঁদের অবদান অনস্বীকার্য।"

— প্রফেসর ডা. তপেশ কুমার পাল
MBBS (DMC), FCPS (Surgery), MS (Surgical Oncology)
সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ও ব্রেস্ট সার্জন
প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, সার্জারি
ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

23/09/2026

🌸 প্রিয় রোগী ও শুভানুধ্যায়ীরা, আসসালামু আলাইকুম।

চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রতিনিয়ত উন্নত হচ্ছে, আর একজন সার্জন হিসেবে আমার সবসময়ই চেষ্টা থাকে রোগীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ও নিরাপদ চিকিৎসাটি নিশ্চিত করা।

সেই লক্ষ্যেই স্তন ক্যান্সারের অত্যাধুনিক সার্জিক্যাল পদ্ধতিগুলো নিয়ে আরও বিশদভাবে জানতে আমি বর্তমানে চীনের ফোসান শহরের Foshan Fosun Chancheng Hospital-এ “Minimal Invasive and Robotic Breast Cancer Surgery Training”-এ অংশ নিচ্ছি।

আমার বিশ্বাস, এই অ্যাডভান্সড ট্রেনিং থেকে অর্জিত রোবোটিক ও মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারির জ্ঞান আমার রোগীদের চিকিৎসাসেবায় নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং তাদের দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠায় আরও বেশি সাহায্য করবে, ইনশাআল্লাহ।

এই বিশেষ প্রশিক্ষণের কারণে ২০ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আমি আমার নিয়মিত চেম্বার ও ওপিডি (OPD)-তে উপস্থিত থাকতে পারব না। তবে এই সময়ে আমার ফলোআপ রোগীদের ড্রেসিং বা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে আমার রেসিডেন্ট ও সহযোগী চিকিৎসকরা সার্বক্ষণিকভাবে আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন।
সাময়িক এই অসুবিধার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত এবং আপনাদের নিরন্তর সহযোগিতা ও বোঝাপড়ার জন্য কৃতজ্ঞ।

🌿 ইনশাআল্লাহ, আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে আমি ইবনে সিনা হাসপাতালে আমার নিয়মিত চেম্বারে ফিরে আসব এবং যথারীতি রোগী দেখব।
নতুন কিছু শেখা আর আপনাদের আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা দেওয়ার এই যাত্রায় আপনাদের দোয়াই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন। 🤍

ডা. সায়দা আলী
MBBS, FCPS (Surgery), MRCS
সহযোগী অধ্যাপক, সার্জারি বিভাগ
জেনারেল, ব্রেস্ট ও কোলোরেক্টাল সার্জন
চেম্বার: ইবনে সিনা হাসপাতাল, বাড়ি ৬৮, রোড ১৫/এ, শংকর, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা–১২০৯
সিরিয়াল: 01711167233

🏥 আবার নিয়মিত চেম্বারে — ৯ সেপ্টেম্বর থেকেজাপানে একটি আন্তর্জাতিক সার্জিক্যাল কনফারেন্সে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে আগামী ৯...
08/09/2026

🏥 আবার নিয়মিত চেম্বারে — ৯ সেপ্টেম্বর থেকে

জাপানে একটি আন্তর্জাতিক সার্জিক্যাল কনফারেন্সে অংশগ্রহণ শেষে দেশে ফিরে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে Bangladesh Specialized Hospital-এ আমার নিয়মিত চেম্বার পুনরায় শুরু হচ্ছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে শেখার কোনো শেষ নেই। নতুন জ্ঞান, আধুনিক surgical practice এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার মূল উদ্দেশ্য একটাই—নিজের রোগীদের আরও ভালো ও সময়োপযোগী চিকিৎসা দেওয়া।

এই উপলক্ষে রোগীদের জন্য ছোট্ট একটি কথা—

অনেক রোগই শুরুতে খুব সামান্য উপসর্গ নিয়ে আসে। ব্যথা নেই বা সমস্যা সহনীয় বলে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করলে কখনো কখনো রোগ জটিল হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে ব্রেস্টের গাঁট, থাইরয়েডের গাঁট, দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যা, অস্বাভাবিক রক্তপাত, শরীরের কোনো গাঁট দ্রুত বড় হওয়া বা ক্যান্সারের সন্দেহজনক কোনো লক্ষণ অবহেলা করবেন না।

সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা শুরু করা অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসাকে সহজ করে এবং ভালো ফলাফলের সম্ভাবনা বাড়ায়।

সুস্থ থাকুন, নিজের শরীরের পরিবর্তনের প্রতি সচেতন থাকুন এবং প্রয়োজন হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

📍 চেম্বার

Bangladesh Specialized Hospital
🗓️ নিয়মিত চেম্বার শুরু: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
🕔 বিকাল ৫:০০ – সন্ধ্যা ৭:০০
📞 অ্যাপয়েন্টমেন্ট: 10633

— প্রফেসর ডা. তপেশ কুমার পাল
MBBS (DMC), FCPS (Surgery), MS (Surgical Oncology)
সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ও ব্রেস্ট সার্জন
প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, সার্জারি
ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

🎓 ফলাফল একটি অধ্যায়ের শেষ, চিকিৎসক জীবনের নয়আজ যারা MBBS পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছ, তোমাদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন।দীর...
02/09/2026

🎓 ফলাফল একটি অধ্যায়ের শেষ, চিকিৎসক জীবনের নয়

আজ যারা MBBS পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছ, তোমাদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন।

দীর্ঘ পাঁচ বছরের পড়াশোনা, অসংখ্য পরীক্ষা, ward, clinical class, sleepless night, ভয় আর অনিশ্চয়তার পর আজকের এই অর্জন অবশ্যই আনন্দের। তোমাদের পরিবার এবং শিক্ষকদের জন্যও এটি গর্বের মুহূর্ত।

কিন্তু মনে রেখো—MBBS পাশ করা চিকিৎসক হওয়ার যাত্রার শেষ নয়; বরং দায়িত্বের শুরু।

আজ থেকে তোমার জ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হবে একজন অসুস্থ মানুষের বিশ্বাস, পরিবারের প্রত্যাশা এবং মানুষের জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব। ভালো চিকিৎসক হওয়ার পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টাটাও যেন কখনো হারিয়ে না যায়।

আর যারা এবার উত্তীর্ণ হতে পারোনি, তোমাদের জন্যও আমার কিছু কথা আছে।

আজ হয়তো মন খারাপ। বন্ধুদের আনন্দ দেখে নিজের কষ্টটা আরও বেশি মনে হতে পারে। কিন্তু একটি পরীক্ষার ফলাফল তোমার মেধা, যোগ্যতা কিংবা ভবিষ্যতের চিকিৎসক হিসেবে তোমার মূল্য নির্ধারণ করে না।

আমি শিক্ষক জীবনে বহু ছাত্রকে দেখেছি—কেউ কখনো একটি পরীক্ষায় পিছিয়ে গেছে, পরে সেই ছাত্রই নিজেকে গুছিয়ে নিয়ে অত্যন্ত ভালো চিকিৎসক হয়েছে।

তাই নিজেকে ছোট কোরো না। কোথায় ঘাটতি ছিল, সেটা খুঁজে বের করো। সাহায্য নাও। আবার পড়ো। আবার দাঁড়াও।

আজ তোমার সহপাঠী হয়তো কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে—কিন্তু তোমার পথ এখানেই শেষ হয়ে যায়নি।

আর যারা পাশ করেছ, এই সময়ে তোমাদের একটি দায়িত্বও আছে। যে বন্ধুটি পারেনি, তার সামনে নিজের আনন্দ প্রকাশ করতে গিয়ে তার কষ্টটুকু ভুলে যেও না। তাকে এড়িয়ে যেও না। ফোন করো। পাশে বসো। বলো—

“চলো, এবার আমরা একসঙ্গে প্রস্তুতি নিই।”

একজন ভালো চিকিৎসক হওয়ার শিক্ষা এখান থেকেই শুরু হতে পারে—অন্য মানুষের কষ্ট বুঝতে শেখা থেকে।

তোমাদের সবার জন্য আমার শুভকামনা।

যারা সফল হয়েছ—বিনয়ী থেকো।
যারা এবার পারোনি—হাল ছেড়ো না।
আর তোমরা সবাই—মানুষের জন্য ভালো চিকিৎসক হয়ে ওঠো।

আজকের ফলাফল তোমাদের আলাদা করতে পারে, কিন্তু আমার কাছে তোমরা সবাই আমার ছাত্র।
কাউকে নিয়ে আজ গর্ব, আর কাউকে নিয়ে আশা—কিন্তু কাউকে নিয়ে হতাশা নয়।

— প্রফেসর ডা. তপেশ কুমার পাল
প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, সার্জারি
ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

---
For international Students......

🎓 A Result Marks a Milestone, Not the Measure of Your Future

To all my students who have passed the MBBS examination, my heartfelt congratulations.

After years of lectures, wards, clinical examinations, sleepless nights, uncertainty and hard work, you deserve to celebrate this moment. Your families and teachers share in your happiness and pride.

But remember: passing MBBS is not the end of becoming a doctor; it is the beginning of the responsibility of being one.

From now on, your knowledge will be accompanied by a patient's trust, a family's hope, and the responsibility of making decisions that may profoundly affect another human life. Never allow the pursuit of becoming a skilled doctor to overshadow the importance of becoming a compassionate one.

And to those who did not pass this time, I have an equally important message.

I know today may be difficult. Watching your friends celebrate can make disappointment feel even heavier. But one examination result does not define your intelligence, your worth, or the doctor you may one day become.

Throughout my years as a teacher, I have seen students stumble at one stage, recover, work harder, and later become excellent doctors.

So do not let one result become your identity.

Find out where you struggled. Seek guidance. Prepare again. And come back stronger.

To those celebrating today, remember your friends who are not. A little sensitivity now matters. Call them. Sit beside them. Help them prepare.

Perhaps one of the earliest lessons in becoming a good doctor is simply this—learning to recognise another person's pain and choosing to stand beside them.

To all of you, my very best wishes.

If you have succeeded, remain humble.
If you have fallen short this time, do not give up.
And wherever you stand today, keep becoming the kind of doctor your patients will one day be grateful to meet.

Today's result may place you at different points on the journey, but to a teacher, you remain his students.

For some of you, today I feel pride; for others, hope—but for none of you, disappointment.

— Prof. Dr. Tapesh Kumar Paul
Former Head, Department of Surgery
Delta Medical College & Hospital

💙 সেপ্টেম্বর—Prostate Cancer Awareness Monthপ্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে লজ্জা নয়, প্রয়োজন সচেতনতাপুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে স...
02/09/2026

💙 সেপ্টেম্বর—Prostate Cancer Awareness Month

প্রোস্টেট ক্যান্সার নিয়ে লজ্জা নয়, প্রয়োজন সচেতনতা

পুরুষদের বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রস্রাবের কিছু সমস্যা খুব সাধারণ হয়ে ওঠে। অনেকেই বলেন—

“বয়স হয়েছে, তাই হয়তো প্রস্রাবের চাপ কমেছে।”
“রাতে কয়েকবার উঠতে হয়, এটা তো স্বাভাবিক।”
“কিছুদিন দেখি, পরে ডাক্তার দেখাব।”

কিন্তু সব সমস্যাকে শুধু বয়সের পরিবর্তন বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

প্রোস্টেট ক্যান্সার অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণই তৈরি করে না। আবার প্রস্রাবের যেসব উপসর্গ দেখা যায়, তার অধিকাংশই ক্যান্সার ছাড়াও benign prostate enlargement-এর মতো কারণে হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখেই ভয় পাওয়াও ঠিক নয়, অবহেলা করাও ঠিক নয়।

প্রোস্টেট কী?

প্রোস্টেট পুরুষের একটি ছোট গ্রন্থি, যা মূত্রথলির নিচে এবং মূত্রনালির চারপাশে থাকে। বয়সের সঙ্গে এটি বড় হতে পারে। এর কোষে অনিয়ন্ত্রিত malignant পরিবর্তন হলে prostate cancer হতে পারে।

কারা তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিতে?

বয়স বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে ৫০ বছরের পর। বাবা বা ভাইয়ের prostate cancer-এর ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

তাই নিজের বয়স ও পারিবারিক ইতিহাস চিকিৎসককে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।

কোন লক্ষণগুলো অবহেলা করবেন না?

প্রস্রাব শুরু করতে কষ্ট, প্রস্রাবের flow দুর্বল হওয়া, ঘন ঘন বা রাতে বারবার প্রস্রাব, প্রস্রাব বা বীর্যে রক্ত—এ ধরনের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা—

এই লক্ষণগুলো থাকলেই prostate cancer হয়েছে—এমন নয়। আর early prostate cancer লক্ষণ ছাড়াও থাকতে পারে।

PSA করলেই কি ক্যান্সার ধরা পড়ে?

PSA (Prostate-Specific Antigen) একটি গুরুত্বপূর্ণ blood test, কিন্তু এটি একা cancer diagnosis নয়।

Benign prostate enlargement, inflammation বা অন্য কারণেও PSA বাড়তে পারে। আবার PSA result ব্যাখ্যা করতে বয়স, clinical findings, previous PSA এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করতে হয়।

প্রয়োজনে চিকিৎসক Digital Re**al Examination (DRE), MRI এবং সন্দেহজনক ক্ষেত্রে prostate biopsy-এর পরামর্শ দিতে পারেন।

তাই নিজের সিদ্ধান্তে শুধু একটি PSA report দেখে “ক্যান্সার হয়েছে” বা “ক্যান্সার নেই”—কোনোটিই ধরে নেওয়া উচিত নয়।

Screening নিয়ে সবার জন্য একই নিয়ম নেই

একটি নির্দিষ্ট বয়স হলেই প্রত্যেক পুরুষকে একইভাবে পরীক্ষা করাতে হবে—বিষয়টি এত সরল নয়।

Screening-এর সম্ভাব্য উপকার ও সীমাবদ্ধতা আছে। তাই বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, ব্যক্তিগত ঝুঁকি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য বিবেচনা করে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে PSA testing-এর সিদ্ধান্ত নেওয়াই ভালো।

প্রোস্টেট ক্যান্সার ধরা পড়লে কি সবসময় অপারেশন লাগে?

না।

এটাই রোগীদের বোঝা খুব জরুরি।

Prostate cancer-এর চিকিৎসা নির্ভর করে cancer-এর stage ও grade, PSA, biopsy findings, imaging, রোগীর বয়স ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর।

কিছু low-risk cancer-এ active surveillance যথেষ্ট হতে পারে। আবার নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে surgery, radiotherapy, hormone therapy বা অন্যান্য systemic treatment প্রয়োজন হতে পারে।

অর্থাৎ—

একজনের চিকিৎসা পরিকল্পনা অন্যজনের জন্য প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

পুরুষদের জন্য আমার একটি অনুরোধ

আমরা অনেক সময় পরিবারের সবার চিকিৎসার খোঁজ রাখি, কিন্তু নিজের সমস্যা নিয়ে কথা বলতে সংকোচ করি।

প্রস্রাবের সমস্যা বা পুরুষস্বাস্থ্য নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।

বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকুন। কোনো পরিবর্তন দীর্ঘদিন চললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ক্যান্সার শব্দটি ভয় তৈরি করে।
কিন্তু ভয় নয়—সঠিক সময়ে সঠিক মূল্যায়নই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

এই সেপ্টেম্বরের Prostate Cancer Awareness Month-এ নিজের বাবা, ভাই, স্বামী, বন্ধু বা পরিবারের বয়স্ক পুরুষটির কাছেও কথাটি পৌঁছে দিন—

“নিজের স্বাস্থ্যের কথাও একটু ভাবুন।”

— প্রফেসর ডা. তপেশ কুমার পাল
MBBS (DMC), FCPS (Surgery), MS (Surgical Oncology)
সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ও ব্রেস্ট সার্জন
প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, সার্জারি
ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

📍 Delta Medical College & Hospital
সকাল ৮:০০–দুপুর ২:০০
রাত ৭:০০–৮:০০

📍 Bangladesh Specialized Hospital
বিকাল ৫:০০–সন্ধ্যা ৭:০০
📞 অ্যাপয়েন্টমেন্ট: 10633

মেডিকেল শিক্ষা—পর্ব ১আমার ছাত্রদের বলছি: শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়ো না, চিকিৎসক হওয়ার জন্য শেখোঅনেক বছর ধরে মেডিকেল...
28/08/2026

মেডিকেল শিক্ষা—পর্ব ১
আমার ছাত্রদের বলছি: শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়ো না, চিকিৎসক হওয়ার জন্য শেখো

অনেক বছর ধরে মেডিকেল ছাত্রদের পড়াতে গিয়ে একটা বিষয় বারবার দেখেছি।

একজন ছাত্র প্রচুর পড়াশোনা করে, পরীক্ষায় ভালো নম্বরও পায়। কিন্তু রোগীর সামনে দাঁড়িয়ে তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়—

“এই রোগীটার আসল সমস্যা কী বলে তোমার মনে হচ্ছে?”

তখন অনেক সময় সে আটকে যায়।

আবার এমন ছাত্রও দেখেছি যার হয়তো textbook-এর প্রতিটি line মুখস্থ নেই, কিন্তু সে রোগীর কথা মন দিয়ে শোনে, examination ঠিকভাবে করে, abnormal finding চিনতে পারে এবং নিজের clinical reasoning পরিষ্কার করে বলতে পারে।

দ্বিতীয় গুণটিই শেষ পর্যন্ত একজন চিকিৎসকের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

কারণ Medicine শুধু information মনে রাখার বিদ্যা নয়; information ব্যবহার করে একজন মানুষের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিদ্যা।

তোমার সবচেয়ে বড় শত্রু—শুধু পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনা

Professional examination অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। পাস করতে হবে, ভালো ফল করার চেষ্টা করবে।

কিন্তু যদি পড়ার সময় তোমার একমাত্র প্রশ্ন হয়—

“এটা পরীক্ষায় আসবে?”

তাহলে শেখার একটি বড় অংশ হারিয়ে যাবে।

বরং মাঝে মাঝে নিজেকে জিজ্ঞেস করো—

“আগামীকাল Emergency-তে এই রোগী এলে আমি কী করব?”

এই একটি প্রশ্ন তোমার পড়ার ধরন বদলে দিতে পারে।

Shock পড়ছ?

শুধু definition মুখস্থ করো না। ভাবো—একজন hypotensive patient সামনে এলে প্রথম পাঁচ মিনিটে তুমি কী করবে?

Breast lump পড়ছ?

শুধু differential diagnosis নয়। ভাবো—রোগীকে কী প্রশ্ন করবে, কীভাবে examine করবে, malignancy সন্দেহ হলে পরবর্তী step কী?

এভাবেই textbook knowledge ধীরে ধীরে clinical knowledge হয়।

Ward-কে classroom হিসেবে ব্যবহার করো

Medical college-এর সবচেয়ে মূল্যবান classroom অনেক সময় lecture gallery নয়।

রোগীর bedside।

একজন jaundice-এর রোগী তোমাকে যে শিক্ষা দিতে পারেন, সেটি দশটি PowerPoint slide দিয়েও সবসময় দেওয়া যায় না।

Ward-এ গেলে শুধু attendance দিয়ে চলে এসো না।

একজন রোগীর history নিজে নাও।
নিজে examination করো।
তার investigation দেখো।
তারপর নিজের একটি diagnosis তৈরি করো।

Senior কী বলেছেন, সেটি পরে মিলিয়ে দেখো।

ভুল হলেও সমস্যা নেই।

বরং নিজের reasoning ভুল হওয়া এবং পরে সেটি সংশোধন করাই শেখার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Case present করতে শেখো

একজন ভালো চিকিৎসকের একটি বড় দক্ষতা হলো—জটিল তথ্যকে সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কারভাবে communicate করা।

তাই case presentation-কে শুধু পরীক্ষার বিষয় ভেবো না।

আজ তুমি যদি ward-এ তিন মিনিটে একটি patient পরিষ্কারভাবে present করতে শেখো, ভবিষ্যতে critically ill patient নিয়ে senior-কে ৩০ সেকেন্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে পারবে।

সেদিন এই skill সরাসরি patient safety-এর অংশ হবে।

Procedure দেখেই সন্তুষ্ট থেকো না

Cannulation, catheterisation, suturing, dressing, NG tube insertion—এসব skill বই পড়ে পুরোপুরি শেখা যায় না।

প্রথমে দেখবে।
তারপর supervision-এ করবে।
Feedback নেবে।
আবার করবে।

“আমি একবার দেখেছি”—এবং “আমি নিরাপদভাবে করতে পারি”—এই দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য।

Internship শুরু হওয়ার আগেই যতটা সম্ভব basic clinical skill হাতে-কলমে শেখার চেষ্টা করো।

প্রশ্ন করতে লজ্জা পেও না

আমার ছাত্রদের আমি একটা কথা প্রায়ই বলি—

না জানা অপরাধ নয়। না জেনে জানার অভিনয় করা বিপজ্জনক।

তুমি যদি না বোঝো, জিজ্ঞেস করো।

Senior কী ভাববেন—এই ভয় যেন patient safety-এর চেয়ে বড় না হয়।

Medicine এত বড় একটি বিষয় যে একজন professor-ও প্রতিদিন নতুন কিছু শেখেন।

তাই ছাত্র হিসেবে তোমার না জানা খুবই স্বাভাবিক।

এখন তোমাদের হাতে AI আছে—কিন্তু সাবধানে ব্যবহার করো

তোমাদের প্রজন্ম এমন একটি সময়ে চিকিৎসাবিদ্যা শিখছে যখন কয়েক সেকেন্ডে AI তোমাকে differential diagnosis, summary, flashcard বা explanation তৈরি করে দিতে পারে।

এটি অসাধারণ একটি সুযোগ।

কিন্তু বিপদও আছে।

AI-কে যদি teacher হিসেবে ব্যবহার করো, উপকার পাবে।
AI-কে যদি নিজের brain-এর replacement বানাও, ক্ষতি হবে।

AI-কে বলো—

“এই বিষয়টা আমাকে বুঝিয়ে দাও।”
“আমার reasoning-এ ভুল কোথায়?”
“এই case থেকে আমাকে viva নাও।”

কিন্তু যাচাই না করে কোনো clinical information সত্য ধরে নিও না। Guideline, standard textbook এবং reliable source দেখতে শেখো।

ভবিষ্যতের ভালো doctor সেই ব্যক্তি হবে না যে AI ব্যবহার করে না; বরং যে AI-এর সাহায্য নেয় কিন্তু নিজের clinical judgement হারায় না।

রোগীর সঙ্গে কথা বলা শেখো

Medical education-এর সবচেয়ে অবহেলিত অংশগুলোর একটি হলো communication।

রোগীর চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা, তার ভয় বোঝা, খারাপ খবর সম্মানের সঙ্গে দেওয়া, consent নেওয়া—এসবও clinical skill।

তুমি খুব ভালো diagnosis করতে পারো, কিন্তু রোগী যদি তোমার কথা বুঝতেই না পারেন, তাহলে চিকিৎসার একটি অংশ অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

Feedback চাইতে শেখো

Class বা bedside শেষে মাঝে মাঝে senior-কে জিজ্ঞেস করো—

“Sir/Madam, আমার presentation-এ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোন জিনিসটা improve করা দরকার?”

একটি ভালো feedback তোমার কয়েক মাসের ভুল অভ্যাস পরিবর্তন করে দিতে পারে।

Feedback শুনে defensive হয়ো না।

তোমার শিক্ষক যদি বলেন examination technique দুর্বল, সেটিকে অপমান হিসেবে নয়—improvement-এর সুযোগ হিসেবে দেখো।

নম্বরের সঙ্গে নিজেকে তুলনা কোরো না

Medical college-এ এমন সময় আসবে যখন তোমার বন্ধু তোমার চেয়ে ভালো করবে।

কেউ দ্রুত answer দেবে।
কেউ বেশি marks পাবে।
কেউ খুব confident হবে।

সবসময় comparison করতে থাকলে শেখার আনন্দ হারিয়ে যাবে।

তোমার প্রতিযোগিতা হওয়া উচিত গত মাসের তোমার নিজের সঙ্গে।

আজ তুমি কি গতকালের চেয়ে একটু ভালো history নিতে পারছ?
একটু ভালো examination করতে পারছ?
একটু পরিষ্কারভাবে clinical reasoning বলতে পারছ?

এই উন্নতিটাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আর একটি কথা—মানুষ হও

আমরা অনেক সময় medical student-কে knowledge ও skill শেখাতে গিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি ভুলে যাই।

তোমার সামনে যে মানুষটি শুয়ে আছেন, তিনি তোমার “case” নন।

তিনি কারও বাবা।
কারও মা।
কারও সন্তান।

Examination শেখার সময় permission নাও।
Privacy দাও।
ব্যথা দিলে sorry বলো।
একই রোগীকে দশজন মিলে অপ্রয়োজনে examine কোরো না।

একজন ভালো doctor হওয়ার শুরু এখান থেকেই।

শেষ কথা

তোমার MBBS certificate একদিন তোমাকে চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দেবে।

কিন্তু certificate তোমাকে ভালো চিকিৎসক বানাবে না।

সেটা তৈরি হবে প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসে—

একটা history একটু ভালোভাবে নেওয়া,
একটা clinical sign নিজে খুঁজে দেখা,
না বুঝলে প্রশ্ন করা,
ভুল হলে স্বীকার করা,
একজন রোগীর কথা একটু বেশি মন দিয়ে শোনা।

পরীক্ষার জন্য অবশ্যই পড়বে।
কিন্তু শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়ো না।

এমনভাবে শেখো, যেন একদিন তোমার সামনে অসুস্থ একজন মানুষ বসলে তুমি বলতে পারো—

“আমি জানি না সবকিছু। কিন্তু আমি জানি কীভাবে এই মানুষটির সমস্যাটা বুঝতে হবে, কীভাবে নিরাপদ সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কখন সাহায্য চাইতে হবে।”

সেদিনই medical education-এর আসল উদ্দেশ্য পূরণ হবে।

— প্রফেসর ডা. তপেশ কুমার পাল
MBBS (DMC), FCPS (Surgery), MS (Surgical Oncology)
সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ও ব্রেস্ট সার্জন
প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, সার্জারি
ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

একজন ভালো শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত? # # আমার ছাত্রদের জন্য কিছু কথাচিকিৎসক জীবনে আমরা অনেক শিক্ষক পাই। কিন্তু সবাইকে কি মনে...
18/08/2026

একজন ভালো শিক্ষক কেমন হওয়া উচিত?

# # আমার ছাত্রদের জন্য কিছু কথা

চিকিৎসক জীবনে আমরা অনেক শিক্ষক পাই। কিন্তু সবাইকে কি মনে থাকে?

সত্যি বলতে, না।

আমরা বেশি মনে রাখি সেই শিক্ষককে, যিনি কঠিন বিষয় সহজ করে বুঝিয়েছেন, ভুল করলে ছোট করেননি, প্রশ্ন করলে বিরক্ত হননি, আর কোনো এক সময়ে বলেছেন—

**“তুমি পারবে।”**

আমার কাছে ভালো শিক্ষক মানে শুধু অনেক জানা নয়।

ভালো শিক্ষক সে, যে জানে **কীভাবে শেখাতে হয়।**

ছাত্র উত্তর দিতে না পারলে “এটাও জানো না?” বলার চেয়ে—

**“আবার ভাবো, তুমি পারবে”**

এই কথাটা অনেক বেশি শেখায়।

আমি চাই আমার ছাত্ররা প্রশ্ন করুক।
ভুল করুক।
আবার চেষ্টা করুক।

কারণ ভুল না করলে শেখাও হয় না। তবে ভুল যেন রোগীর ক্ষতি না করে—সেখানে শিক্ষককে পাশে থাকতে হয়।

একজন ভালো শিক্ষক শুধু বই শেখান না।

তিনি শেখান—

রোগীর সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয়,
junior-কে কীভাবে সম্মান করতে হয়,
ভুল হলে কীভাবে স্বীকার করতে হয়,
আর না জানলে কীভাবে সাহায্য চাইতে হয়।

আরেকটা কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ—

সব ছাত্র এক রকম নয়।

কেউ দ্রুত শেখে, কেউ সময় নেয়।
কেউ surgery ভালোবাসে, কেউ medicine, কেউ research, কেউ teaching।

শিক্ষকের কাজ সবাইকে নিজের মতো বানানো নয়; বরং **প্রত্যেকের ভালো দিকটা খুঁজে বের করতে সাহায্য করা।**

বছর পরে আমার ছাত্ররা হয়তো আমার পুরো lecture মনে রাখবে না।

কিন্তু আমি চাই তারা মনে রাখুক—

আমি তাদের কথা শুনেছি,
তাদের সম্মান করেছি,
ভুল করলে আবার সুযোগ দিয়েছি,
আর তাদের ওপর বিশ্বাস রেখেছি।

একদিন তোমাদের মধ্যেই কেউ professor হবে, কেউ consultant, কেউ surgeon, কেউ teacher।

সেদিন নিজের ছাত্রদের সঙ্গে এমন আচরণ করো—
**যে আচরণ তুমি তোমার নিজের শিক্ষকের কাছ থেকে পেতে চেয়েছিলে।**

**একজন ভালো শিক্ষক শুধু জ্ঞান দেন না—তিনি আত্মবিশ্বাস দেন, পথ দেখান, আর ভবিষ্যতের শিক্ষক তৈরি করেন।**

— **প্রফেসর ডা. তপেশ কুমার পাল**
MBBS (DMC), FCPS (Surgery), MS (Surgical Oncology)
সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ও ব্রেস্ট সার্জন
প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান, সার্জারি
ডেল্টা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

 # চিকিৎসার আদি দেবতা: আসক্লেপিয়াস ও এক সাপের গল্প
17/08/2026

# চিকিৎসার আদি দেবতা: আসক্লেপিয়াস ও এক সাপের গল্প

# চিকিৎসার আদি দেবতা: আসক্লেপিয়াস ও এক সাপের গল্প

খেয়াল করে দেখুন — হাসপাতালের গায়ে, অ্যাম্বুলেন্সের গায়ে, ডাক্তারের লোগোতে একটা দণ্ডকে পেঁচিয়ে ধরে আছে একটা **সাপ**। অদ্ভুত নয় কি? যাকে আমরা সবচেয়ে বেশি ভয় পাই, মৃত্যুর যে প্রতীক — সেই সাপই কেন হয়ে উঠল আরোগ্যের চিহ্ন?

উত্তরটা লুকিয়ে আছে প্রায় তিন হাজার বছর আগের এক গ্রিক গল্পে।

# # আগুনের ভেতর থেকে জন্ম
থেসালির রাজকন্যা কোরোনিসের প্রেমে পড়েছিলেন স্বয়ং সূর্যদেব **অ্যাপোলো** — যিনি একাধারে আরোগ্য ও মহামারীর দেবতা। কিন্তু ভাগ্যের নিষ্ঠুর মোচড়ে কোরোনিসকে হারাতে হয় অ্যাপোলোর। চিতার আগুন যখন জ্বলছে, ঠিক তখন অ্যাপোলো মায়ের গর্ভ থেকে টেনে বের করে আনেন অনাগত শিশুটিকে। সেই শিশুর নাম — **আসক্লেপিয়াস** (Asclepius)। আগুন থেকে বাঁচিয়ে আনা এই জন্মকে অনেকে বলেন পুরাণের প্রথম "সিজারিয়ান"।

শিশুটিকে অ্যাপোলো তুলে দিলেন এক অসাধারণ শিক্ষকের হাতে — অর্ধেক মানুষ, অর্ধেক ঘোড়া, প্রজ্ঞাবান **কেন্টর কাইরন** (Chiron)-এর কাছে। কাইরন নিজে ছিলেন "the wounded healer" — অমর, অথচ এক নিরাময়-অযোগ্য ক্ষত বয়ে বেড়ানো এক চিকিৎসক। নিজের যন্ত্রণা বুকে নিয়েই তিনি আসক্লেপিয়াসকে শেখালেন ভেষজবিদ্যা, শল্যচিকিৎসা, আরোগ্যের সমস্ত গূঢ় রহস্য।

# # যে চিকিৎসক মৃত্যুকেও হার মানালেন

আসক্লেপিয়াস এত পারদর্শী হয়ে উঠলেন যে, কথিত আছে — মৃতকেও তিনি ফিরিয়ে আনতে পারতেন জীবনে। কিন্তু এখানেই বাঁধল বিপত্তি। মৃত্যুর দেবতা হেডিস অভিযোগ তুললেন: কেউ আর মরছে না, পাতালপুরী খালি হয়ে যাচ্ছে! প্রকৃতির নিয়ম ভেঙে পড়ার ভয়ে দেবরাজ **জিউস** এক বজ্রপাতে হত্যা করলেন আসক্লেপিয়াসকে।

এই গল্পের ভেতরেই লুকিয়ে চিকিৎসকের চিরকালীন শিক্ষা — জীবন বাঁচানো আর প্রকৃতির সীমা অতিক্রম করার মধ্যেকার সূক্ষ্ম রেখাটি (hubris)। পরে অবশ্য আসক্লেপিয়াসকে আকাশে স্থান দেওয়া হয় — আজও তিনি জ্বলজ্বল করছেন **Ophiuchus**, অর্থাৎ "সর্পধারী" নক্ষত্রমণ্ডল হয়ে।

# # এক পরিবার, যাদের নামেই আজ আমাদের পরিভাষা

আসক্লেপিয়াসের কন্যা-পুত্রদের নামগুলো শুনলে চমকে যাবেন — প্রতিটি নাম আজও আমাদের মেডিকেল শব্দভাণ্ডারে জীবন্ত:

- **হাইজিয়া** (Hygieia) — স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার দেবী। তাঁর নাম থেকেই এসেছে **hygiene**, **hygienic**।

- **প্যানাসিয়া** (Panacea) — "সর্বরোগহর"। আজও যেকোনো ধন্বন্তরি সমাধানকে আমরা বলি **panacea**।

- **আইয়াসো** (Iaso) — আরোগ্যলাভ, **অ্যাকেসো** (Aceso) — নিরাময়-প্রক্রিয়া, **আইগ্লে** (Aegle) — সুস্বাস্থ্যের দীপ্তি।

- আর দুই পুত্র **মাখাওন** ও **পোডালিরিয়াস** — হোমারের *ইলিয়াড*-এ ট্রোজান যুদ্ধের রণক্ষেত্রের শল্যচিকিৎসক।

# # সাপ, দণ্ড আর এক বিখ্যাত ভুল

এবার সেই সাপের রহস্য। আসক্লেপিয়াসের প্রতীক —
**একটি রুক্ষ দণ্ড, তাকে পেঁচিয়ে একটিমাত্র সাপ**। একেই বলে **Rod of Asclepius**, এবং এটাই চিকিৎসার প্রকৃত প্রতীক।

কেন সাপ? কারণ সাপ খোলস ছেড়ে নতুন হয় — পুনর্জন্ম, পুনরুজ্জীবন, আরোগ্যের নিখুঁত রূপক। আসক্লেপিয়াসের মন্দিরগুলোতে (Asclepieia) নির্বিষ সাপ পবিত্র প্রাণী হিসেবে অবাধে ঘুরে বেড়াত।

এবার মজার ভুলটি বলি। বহু হাসপাতাল, বিশেষত পশ্চিমে, নিজেদের লোগোতে ব্যবহার করে **Caduceus** — যেখানে **দুটি সাপ** একটি ডানাযুক্ত দণ্ডে জড়িয়ে আছে।

কিন্তু এটি আসলে দেবতা **হার্মিসের** দণ্ড — যিনি বাণিজ্য, ভ্রমণ, চোর আর মৃতদের পথপ্রদর্শকের দেবতা! আরোগ্যের সঙ্গে এর দূরতম সম্পর্কও নেই।

ইতিহাসের এক মজার ভুলে (মূলত ১৯০২ সালে মার্কিন সেনা মেডিকেল কোরের হাত ধরে) বাণিজ্য ও চাতুর্যের প্রতীকটাই বসে গেল চিকিৎসার লোগোতে। এক সাপ না দুই সাপ — পরেরবার কোনো লোগো দেখলে গুনে নেবেন!

# # এবং সেই চিরন্তন শপথ
আজও একজন চিকিৎসক যে **হিপোক্রেটিক শপথ** নেন, তার প্রথম বাক্যেই আছে এই পরিবার:

> *"আমি শপথ করছি চিকিৎসক অ্যাপোলোর নামে, আসক্লেপিয়াসের নামে, হাইজিয়া ও প্যানাসিয়ার নামে..."*
অর্থাৎ পাশ্চাত্য চিকিৎসাশাস্ত্রের ভিত্তি-শপথটিই শুরু হয় এই দেবপরিবারকে সাক্ষী রেখে।
---
# # # 🩺 গল্পের ছলে
যে সাপকে আমরা ভয় পাই, সে-ই হয়ে উঠল নিরাময়ের প্রতীক — কারণ চিকিৎসা মানেই তো খোলস-বদল, প্রতিবার নতুন করে ফিরে আসা। আর প্রতিটি চিকিৎসক আসলে এক ছোট্ট আসক্লেপিয়াস: জীবন বাঁচানোর ক্ষমতা হাতে নিয়ে, অথচ নিজের সীমা জেনে বিনম্র থাকার শিক্ষা বুকে নিয়ে হাঁটেন। বজ্রপাতের ভয়টুকুই আমাদের মানুষ রাখে।

---
*© Surgical Handicraft — Crafting Surgeons..........

Address

Bangladesh Specialized Hospital
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Prof. Dr. Tapesh Kumar Paul posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category