10/05/2026
কিডনি সমস্যায় ব্যথা কোথায় হয়, জানেন?
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আর ডায়েটে বিশ্বে দ্রুতগতিতে বাড়ছে কিডনি রোগীর সংখ্যা। শরীরে কিডনি রোগ বাসা বাধলে প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো উপসর্গই শরীরে স্পষ্ট হতে পারে না। এরপর ধীরে ধীরে কিছু লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রাথমিক স্টেজে কিডনি রোগ নির্ণয়ে প্রস্রাব পরীক্ষা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
প্রাথমিক স্টেজে কিডনি রোগ নির্ণয়ে প্রস্রাব পরীক্ষা জরুরি।
কিডনির প্রধান কাজ হলো রক্ত ফিল্টার করে বর্জ্য পদার্থ (যেমন- ইউরিয়া, ক্রিয়েটিনিন) প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে বের করে দেয়া এবং শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করা। এছাড়া কিডনি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, লোহিত রক্তকণিকা তৈরি এবং হাড় সুস্থ রাখতে হরমোন উৎপাদন করে।
কিন্তু কোনো কারণে কিডনি ক্ষতির সম্মুখীন হলে এর নির্দিষ্ট কাজগুলো করতে পারে না। আর এতেই শরীরে স্পষ্ট হতে শুরু করে কিছু উপসর্গ।
কিডনি রোগের লক্ষণ
১। সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা
২। পা, গোড়ালি বা চোখের নিচে ফোলা
৩। প্রস্রাবের পরিমাণ বা রঙে পরিবর্তন, ফেনাযুক্ত প্রস্রাব
৪। ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
৫। ত্বক চুলকানো বা শুষ্ক হয়ে যাওয়া
৬। রাতে পেশিতে টান ধরা
৭। মনোযোগে সমস্যা বা ঘুমের ব্যাঘাত
৮। ওজন কমে যাওয়া
৯। শ্বাসকষ্ট (বিশেষ করে শরীরে পানি জমলে)
১০। জ্বর, ঠান্ডা লাগা (বিশেষ করে কিডনি ইনফেকশনে)
১১। শরীর ফুলে যাওয়া (বিশেষ করে চোখ ও পায়ের পাতায়)
১২। কোমর ও পিঠে ব্যথা
কিডনি ব্যথার অবস্থান ও প্রকৃতি
কিডনি সমস্যায় রোগীর গুরুত্বপূর্ণ একটি লক্ষণ কোমর ও পিঠে ব্যথা হওয়া। কিন্তু অনেকেই এ ব্যথাকে অন্যসব সাধারণ ব্যথার সাথে গুলিয়ে ফেলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত কিডনির ব্যথা পিঠের নিচের দিকে বা কোমরের দুই পাশে অনুভূত হয় কিন্তু অনেকেই একে সাধারণ কোমর বা পেশির ব্যথা ভেবে ভুল করেন।
তাই আসুন জেনে নিই, কিডনি সমস্যায় ব্যথা ঠিক কোথায় অনুভূত হয় তা চেনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়-
১. পিঠের এক বা দুই পাশে, পাঁজরের নিচের দিকে ব্যথা হয়।
২. ব্যথা হালকা চাপ বা গভীর ধরনের হতে পারে।
৩. অনেক সময় ব্যথা নিচের পেট, কুঁচকি বা উরু পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়।
আরও পড়ুন: গরমে অতিরিক্ত ঘাম হলে কী করবেন?
ব্যথার ধরন-
১. কিডনিতে পাথর থাকলে ব্যথা হঠাৎ তীব্র হয়
২. কিডনিতে ইনফেকশন হলে ব্যথা সাধারণত ধীরে ধীরে বাড়ে।
প্রস্রাবের পরিবর্তন-
১. প্রস্রাব ঘন ঘন হয় বা একদম কমে যায়।
২. প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া, গন্ধ, বা রঙ পরিবর্তন (লালচে, ঘোলা)।
৩. প্রস্রাবে রক্ত দেখা যেতে পারে
আরও পড়ুন: সিদ্ধ মিষ্টি আলু যেসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে-
১. ব্যথা যদি ১ থেকে ২ দিনের বেশি থাকে
২. প্রস্রাবে রক্ত দেখা দেয়
৩. জ্বর বা ঠান্ডা লাগে