লিখনালয়

লিখনালয় সব ধরনের লেখা প্রকাশের উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম
সাহিত্য, কবিতা ও গল্পের এক মিলনমেলা

নীল-সবুজ আশ্রয়মো রাকিব হোসেনআমার করোটির ভেতরে এক বিশাল আকাশ আকাশ খেলে,যেখানে মেঘেরা ঘুমিয়ে পড়ে ডানার ছায়া ফেলে।সবুজ ঘাসে...
13/07/2026

নীল-সবুজ আশ্রয়
মো রাকিব হোসেন

আমার করোটির ভেতরে এক বিশাল আকাশ আকাশ খেলে,
যেখানে মেঘেরা ঘুমিয়ে পড়ে ডানার ছায়া ফেলে।
সবুজ ঘাসের মখমলে আমি যখন শরীর এলিয়ে দিই,
মাটির গভীর থেকে এক প্রাচীন সুরের পরশ নিই।
আমার নীল-সবুজ আশ্রয়—এক অমোঘ পলিমাটির ঘ্রাণ,
যার ধুলিকণায় মিশে আছে আমার পূর্বপুরুষের অম্লান প্রাণ।
পদ্মার ঐ নীল ঢেউ যখন পাড় ছুঁয়ে দেয় সাহসে,
আমি তখন বিলীন হই কোনো এক বৈশাখী মেঘের পরশে।
সবুজ ধানের ঢেউয়ে যে দিনলিপি লেখে বাংলার বায়ু,
সেখানেই খুঁজে পাই আমি আমার আজন্ম সঞ্চিত আয়ু।
এ মাটি কেবল দেশ নয়, এ তো আমারই শরীরের বর্ধিত অংশ,
যার প্রতিটি রক্তকণায় জাগে এক অপরাজেয় অবিনাশী বংশ।
যখন কোনো বিষণ্ণ দুপুরে ঝিঁঝিঁ পোকারা করে কোলাহল,
আমি দেখি আমার নীল-সবুজ আশ্রয়ের সেই শান্ত টলমল জল।
বটের ছায়ায় যে নিবিড় শান্তি, যে গভীর আশ্রয়ের ছায়া,
পৃথিবীর কোনো প্রান্তেই মিলবে না এমন মায়াবী কায়া।
আকাশের নীল আর দিগন্তের সবুজ যেখানে এক হয়ে মেশে,
আমি সেই মোহনাতেই বারবার হারাই এক গভীর ভালোবেসে।
যদি কোনোদিন জনারণ্যে পথ হারিয়ে ফেলি আমি অচিন দেশে,
শেকড়েরা যেন টেনে নেয় আমায় এই আশ্রয়ের পরম আবেশে।
হে আমার দেশ, তোমার নীলিমা আর শ্যামলিমাই আমার ঘর—
তোমার কোলেই শেষ ঘুম ঘুমাবো, ঘুচবে আমার সবটুকু পর।

লিখনালয় #লিখনালয় #নীল #সবুজ #আকাশ

অন্নভূমি   মো রাকিব হোসেনএই সে ভূমি, যার আঁচল ভরে আছে শস্যের সোনালি ঘ্রাণে,যেখানে প্রথম নিশ্বাস মিশেছিল আমার অজাত শৈশবের...
07/07/2026

অন্নভূমি
মো রাকিব হোসেন

এই সে ভূমি, যার আঁচল ভরে আছে শস্যের সোনালি ঘ্রাণে,
যেখানে প্রথম নিশ্বাস মিশেছিল আমার অজাত শৈশবের গানে।
অন্নভূমি মোর—তোমার ধুলোয় মাখা আমার প্রতিটি হাড় ও মজ্জা,
তোমার সবুজ শ্যামলিমা ঢেকে রেখেছে আমার সকল অভাব ও লজ্জা।
যেদিন প্রথম এই পৃথিবীর আলোয় মেলেছিলাম আমার তৃষ্ণার্ত আঁখি,
তোমারই শীতল বাতাস দিয়েছিল আমায় আপন মায়ায় ঢাকি।
তোমারই পলিমাটির দানে পুষ্ট হয়েছে এই রক্ত ও মাংসের দেহ,
এমন অকৃত্রিম মমতা কি আর আমায় দিতে পারে অন্য কেহ?
কৃষকের ঘামে ভেজা ধানক্ষেতে আমি দেখি পরম করুণার ছবি,
যেখানে শ্রম আর অন্ন মিলেমিশে হয়ে ওঠে এক এক মহাকাব্যিক কবি।
প্রতিটি দানায় আমি পাই এক অদৃশ্য নাড়ির পবিত্র সেই টান,
তুমি কেবল অন্নদাত্রী নও—তুমিই তো আমার বাঁচার শ্রেষ্ঠ আধান।
আমার এই সচল দেহটি যেন তোমারই মাটির এক অস্থায়ী ঋণী,
যতদিন বাঁচি, এই ধূলিকণাকেই আমি আমার শ্রেষ্ঠ ঐশ্বর্য চিনি।
হে আমার দেশ, তোমারই স্তন্যপানে বড় হয়েছে এই অধম সন্তান,
তোমারই বুক চিরে আসা বাতাসের ঘ্রাণে ফিরে পাই হারানো প্রাণ।
তুমিই দিয়েছ প্রথম নিশ্বাস, দিয়েছ এই অস্তিত্বের এক দৃঢ় পরিচয়,
তোমাকে ঘিরেই শুরু হয়েছে আমার এই জীবনের সবটুকু জয়।
যদি কোনোদিন ফুরিয়ে আসে মোর এ ক্ষণস্থায়ী আয়ুর অন্তিম বেলা,
যদি থেমে যায় এই হৃদস্পন্দন আর পৃথিবীর সব রূপের খেলা—
তবে হে জননী, তোমারই শান্ত কোল পেতে দিও এই সন্তানের তরে,
যাতে শেষ নিশ্বাসটুকু ত্যাগ করতে পারি তোমারই শীতল কবরে।
যে মাটির অন্ন খেয়ে এই শরীর পায় এক সজীব সচল জ্যোতি,
সেই মাটিতেই যেন মিশে যাই আমি—এটাই আমার শেষ মিনতি।

#অন্নভূমি #সোনালি #মিনতি #হৃদস্পন্দন #শৈশবের #মহাকাব্যিক #কবি #কবিতা #কবিতার #কবির #জননী #শ্যামলিমা

মেঠো সুরের ঝিলিক মো রাকিব হোসেনমেঘের দেশে বাজল নুপূর,রোদের দেশে ছায়া—সেই সুরেতে নাচছে খোকন, জুড়ায় বুকে মায়া!ঘরের কোণের হ...
06/07/2026

মেঠো সুরের ঝিলিক
মো রাকিব হোসেন

মেঘের দেশে বাজল নুপূর,রোদের দেশে ছায়া—
সেই সুরেতে নাচছে খোকন, জুড়ায় বুকে মায়া!
ঘরের কোণের হুলো বিড়াল মিউ মিউ গান গায়,
চড়ুই পাখি ওড়না টেনে খুকুর পিছে ধায়।
মস্ত বড়ো মামার বাড়ি, মফস্বলের পথ,
ঝুমঝুমি আর পুতুল নিয়ে জমবে এবার রথ!
টুনটুনিটার খুনসুটি আর দিদিমাদের ছড়া,
এই তো রূপের বাংলা, ভালোবাসায় গড়া!

জুলাই ছত্রিশ   মো রাকিব হোসেন জুলাই ছত্রিশ, রক্তের সেই স্মৃতি, যেখানে বাজল বীভৎস এক হত্যাকান্ডের রীতি। ছাত্র রক্তে সিঞ্চ...
02/07/2026

জুলাই ছত্রিশ
মো রাকিব হোসেন

জুলাই ছত্রিশ, রক্তের সেই স্মৃতি,
যেখানে বাজল বীভৎস এক হত্যাকান্ডের রীতি।
ছাত্র রক্তে সিঞ্চিত সেই ইতিহাসের পাতা,
যেখানে উঠেছিলো স্বাধীনতার তাড়া।
দেশ হারাতে গেলেন হাজারো মায়ের ছায়া,
ফ্যাসিস্ট পাড়ি দিলেন দূরের পালায়।
বিপ্লবের সুরে বাজলো দুঃখের গান,
ভালোবাসার মৃত্তিকায় লুট হলো শত প্রাণ।
সত্যের পথে লড়াই ছিল অবিচল,
তবু ভয় ছিল শক্তির গর্জন ভুল্ল।
ছত্রিশ কি বেচেঁ থাকবে হাজার বছর?
অশ্রুসিক্ত মায়ের মনকে করলো তছর।
জুলাই ছত্রিশ স্মরণীয় হয়ে থাকবে,
বীরের রক্তে ইতিহাস খোদিত হয়ে কি থাকবে?
যারা হারালো জীবনের দাম,
তাদের স্মৃতিতে বাজুক স্বাধীনতার গান।
দেশের মাটিতে উঠে নতুন সকাল,
যেখানে থাকবে শোষণের আর কোন মহাকাল?

゚ ゚ ゚

সৈনিক কবি                     মো রাকিব হোসেনলেখনী ছেড়ে যে হাত ধরেছে যুদ্ধের হাতিয়ার,রণাঙ্গনের তপ্ত বালুতে কাঁপাল স্বৈরাচ...
29/06/2026

সৈনিক কবি
মো রাকিব হোসেন

লেখনী ছেড়ে যে হাত ধরেছে যুদ্ধের হাতিয়ার,
রণাঙ্গনের তপ্ত বালুতে কাঁপাল স্বৈরাচার।
করোনার মতো করাচি শহর, পল্টনে চেনা প্রাণ—
৪৯ নম্বর রেজিমেন্টে যে গেয়েছিল জয়গান।
পায়ের নিচে মাটির কাঁপন, আকাশে বারুদ-ঝড়,
তারই মাঝে তুমি বুনেছ শব্দ, হে অকুতোভয় স্বর!
খাকি পোশাকের আড়ালে লুকিয়ে একলা কবি-মন,
অস্ত্রের মুখে এঁকেছে যে চির মুক্তির আল্পন।
কামানের গর্জন যেখানে থামায় পৃথিবীর সব সুর,
সেখানেই তুমি গানের ছন্দে এনেছ নতুন নূর।
সমর-ক্ষেত্রের তপ্ত অনল বুকেতে ধারণ করে,
ফিরে এলে তুমি ‘সৈনিক কবি’ হয়ে এ দেশের ঘরে ঘরে।
যুদ্ধের সেই ক্ষুরধার দীক্ষা মিশেছে কাব্যের ধারায়,
তাই তো তোমার বিদ্রোহী বাণী শোষকের ঘুম কাড়ায়।
তুলেছ খড়্গ, ভেঙেছ শৃঙ্খল, এনেছ সাম্যবাদ—
তোমার কলমে আজো কাঁপে সব অন্যায়ের অপবাদ।
রণে ও কাব্যে বীরের মতন যে পুরুষ লড়ে গেছে চিরকাল,
হে সৈনিক কবি, তুমিই তো দিলে এই বাংলাকে নতুন সকাল!

#লিখনালয় ゚ ゚

রোরুদ্যমান স্বদেশ                         মো রাকিব হোসেনসবুজ শ্যামল পলিমাটি আজ লোভে হয়েছে ধূসর,ভাইয়ের রক্তে রাঙিয়েছ হাত,...
27/06/2026

রোরুদ্যমান স্বদেশ

মো রাকিব হোসেন

সবুজ শ্যামল পলিমাটি আজ লোভে হয়েছে ধূসর,
ভাইয়ের রক্তে রাঙিয়েছ হাত, সেজেছ শাসনাসুর।
যেখানে থিতু হওয়ার কথা ছিল সাম্যের জয়গান—
সেখানে আজ দুনীর্তির বিষে নীল লোহিত প্রাণ।
সহজ প্রাপ্য অন্ন কেড়েছ পেশির কালো ছায়ায়,
মানুষের হাহাকার আজ গুমরে মরে মায়ায়।
চাঁদাবাজির মহোৎসবে বিকিয়েছ সব লাজ—
ওরে অধম বাঙালি, মানুষ হবি কবে আর কবে হবে তোর কাজ?
ফুটপাত থেকে অরণ্য আজ দখলের মরণ খেলায়,
পিশাচের হাসি অট্টহাসি হয়ে ভাসে ক্ষমতার ভেলায়।
জুলুমের বিষে নীল হয়ে গেছে পল্লীর শান্ত নদী,
বিবেক বেচেছ গদিতে বসে, হবে কি মুক্তি কভু যদি?
গরীবের ঘামে অট্টালিকা গড়ি গর্বে ফোলাও বুক—
আয়নায় কি চেয়ে দেখেছ কভু নিজের কলঙ্কিত মুখ?
অন্যায়ের সাথে আপোষ করে সেজেছ ধূর্ত বাজ—
ওরে অধম বাঙালি, মানুষ হবি কবে আর কবে হবে তোর কাজ?
প্রতিবাদের মশালগুলো নিভিয়েছ ভয়ে ও ত্রাসে,
মিথ্যে মায়ার চাদর বুনেছ পরস্ব হরণ আশায়।
শকুনের থাবায় আজো কাঁদে কত নিষ্পাপ রামিশা, নুসরাত—
আর তুমি চেয়ে দেখো নির্বাক, পোহাবে না এই রাত?
শেকড়ের টান ভুলে গিয়ে আজ ধ্বংসের নেশায় মাতি—
নিজের ঘরেই নিজেই দিচ্ছ কুঠারের মারণ বাতি।
ভেঙে ফেল আজ এই শঠতার জীর্ণ কঙ্কাল সাজ—
ওরে অধম বাঙালি, মানুষ হবি কবে আর কবে হবে তোর কাজ?

সীমান্তের কাঁটাতার               মো রাকিব হোসেনআঁধার রাতে সীমান্তে আবার বুলেটের ক্রূর শিস,বাতাসে ভাসছে স্বজন-হারানো কান্...
25/06/2026

সীমান্তের কাঁটাতার

মো রাকিব হোসেন

আঁধার রাতে সীমান্তে আবার বুলেটের ক্রূর শিস,
বাতাসে ভাসছে স্বজন-হারানো কান্নার অহর্নিশ।
কাঁটাতারের ওপার থেকে ধেয়ে আসে একী বিভীষিকা,
পুশইনের নামে প্রতিনিয়ত জ্বলছে ক্ষোভের শিখা!
যাদের রক্তে কেনা এ মাটি, যাদের চেনা এই ঘাস—
তাদেরই ভিটেয় আজ কেন চলে মরণ-অট্টহাস?
নদী এক নদী, মাটি এক মাটি—তবুও কেন এই দেয়াল?
সীমান্তজুড়ে লাশের মিছিলে কার মেটে এই খেয়াল?
পুশইনের এই নোংরা খেলায় বিপন্ন আজ মানবতা,
স্বাধীন দেশের প্রতিটি ধূলি আজ প্রকাশ করছে নীরবতা।
আর কতদিন সইবে রে মাটি ফেলানী বা কিশোরীর লাশ?
আর কতকাল সার্বভৌমত্বে লাগবে বেনিয়া গ্রাস?
প্রতিবাদের মশাল এবার জ্বালতে হবে ওই বুকে,
নতজানু নীতি ঝেড়ে ফেলে আজ কথা বলতে হবে মুখে।
বাংলার ঘরে ঘরে আজ এক অবিনাশী হুংকার তোলো,
ভয়ের চাদর ছিন্নভিন্ন করে প্রতিবাদের দুয়ার খোলো।
এ মাটি কারও করদরাজ্য নয়, এ মাটি মুক্ত বীরের ঘর—
পুশইনের এই জুলুমের বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠুক স্বর!

মাটির পতাকা                             মো রাকিব হোসেনযেখানে সীমানা শেষ, সেখান থেকেই শুরু আমার আসল দেশ,মাটির গন্ধে মাখান...
23/06/2026

মাটির পতাকা
মো রাকিব হোসেন

যেখানে সীমানা শেষ, সেখান থেকেই শুরু আমার আসল দেশ,
মাটির গন্ধে মাখানো এক কৃষকের জীর্ণ বেশ।
তামাটে পিঠে রোদের চাবুক, কপালে নোনা ঘাম—
এই ধুলিকণায় খোদাই করা আছে মোর জননীর নাম।
কাঁধের ঐ ঘামভেজা গামছা যখন বাতাসের বুকে ওড়ে,
বাংলার শ্রেষ্ঠ পতাকাটি দেখি ঐ মেহনতি মানুষের ঘরে।
এ পতাকা কোনো রেশমে বোনা বিলাসী হাতের কাজ নয়,
এ তো ঘাম আর রক্তে লেখা এক অবিনাশী বিজয়।
লাঙলের ফলায় যখন চিরে যায় তৃষ্ণার্ত মাটির বুক,
আমি দেখি সেই ফাটলে লুকিয়ে থাকা এক আজব সুখ।
মাটির ভাঁজে ভাঁজে যারা বুনে দেয় আগামীর সোনালি স্বপ্ন,
তাদের রুক্ষ হাতের তালুই তো এ দেশের শ্রেষ্ঠ রত্ন।
মায়ের হাতের জীর্ণ আঁচল আর কৃষকের ঐ গামছাখানি,
আমার মানচিত্রের শ্রেষ্ঠ অলংকার—এক পবিত্র নিশানি।
রাজপ্রাসাদের জৌলুস নয়, বরং ঐ কাদা-মাখা পায়ের ছাপ,
মুছে দিয়ে যায় এ জাতির শত বছরের সব গ্লানি ও পাপ।
ঘামভেজা সেই কাপড়ের ভাঁজে যখন মোছে শ্রান্ত মুখ,
সেখানেই খুঁজে পাই আমি আমার আজন্ম লালিত পরম সুখ।
যতবার দেখি ঐ মলিন গামছা উড়ছে মাঠের আলপথে,
আমি জয়গান গাই এক অপরাজেয় মানুষের রথে।
হে আমার দেশ, তোমার গর্ব তো কোনো মারণাস্ত্রে সাজানো নেই—
তোমার আসল পতাকা ওড়ে ঐ কৃষকের ঘামভেজা নিঃশ্বাসেই।
মাটির পতাকা চিরকাল রবে আমাদের এই অস্তিত্বের মূলে,
বাংলার প্রাণ যে মিশে আছে ঐ ঘাম ঝরানো শস্যের ফুলে।

জীর্ণ মানচিত্রের হাহাকার   মো রাকিব হোসেনসবুজ জমিনে কালিমার দাগ, শকুনের তীক্ষ্ণ নখ,আঁধার চাদরে ঢাকা পড়ে গেছে বাঙালির যত ...
16/06/2026

জীর্ণ মানচিত্রের হাহাকার

মো রাকিব হোসেন

সবুজ জমিনে কালিমার দাগ, শকুনের তীক্ষ্ণ নখ,
আঁধার চাদরে ঢাকা পড়ে গেছে বাঙালির যত শখ।
মিছিলের ভিড়ে নীতি আজ নিস্প্রাণ, বিবেকের ঘরে তালা,
স্বার্থের টানে ভাই কাটে গলা, বাড়ে অবিরাম জ্বালা।
আদর্শ বেচে গদি কেনা আজ এক অদ্ভুত খেলা—
লুণ্ঠিত জনপদে বেড়ে চলে শুধু দীর্ঘশ্বাসের মেলা।
পলিমাটির ঘ্রাণে মিশেছে আজ চাঁদাবাজির বিষ,
ঘামের বদলে রক্তের টানে চলে অন্যায়ের শিস।
দখলদারির দাপটে আজ বৃক্ষও ডুকরে কাঁদে,
সাধ্যেরা সব আটকা পড়েছে শোষকের মায়াফাঁদে।
ফুটপাত থেকে অট্টালিকা—সবই জুলুমের গ্রাস,
ন্যায়বিচারের লাশের ওপরে চলছে অট্টহাস।
যে হাতের ছোঁয়ায় শস্য ফলে, আজ সেখানে কেন ছুরি?
কেন সাহসের ঘরে ভিড় জমিয়েছে তঞ্চক আর চুরির ভুরি?
লজ্জায় নত পূর্বপুরুষের সেই বীরত্বের কৃতি—
নষ্ট হচ্ছে প্রতিদিন আমাদের চিরকালীন সব প্রীতি।
সব পেয়েছর এই নষ্ট দেশে একটিই হাহাকার জাগে,
রক্তাত এই ক্ষতের মুখে প্রশ্নটা রাখা লাগে—
মানুষ হবি কবে রে বাঙালি? মানুষ হবি কবে?
স্বার্থের এই ঘোর অমানিশা আর কতকাল রবে?
জুলুমের বিষ উগরে দিয়ে, শুদ্ধ কর এই মাটি,
নইলে নামটা থাকবে কেবল, মানুষ রবে না খাঁটি।
জাগো আবারও সত্যের পথে, ছাড়ো লালসার ঘোরে—
মুক্তির আলো জ্বালতে হবে ওই বিবেক-মুক্তির ভোরে।

15/06/2026

Address

Mohammadpur
Dhaka
1207

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when লিখনালয় posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share