Khadizatul Kobra

Khadizatul Kobra এখানে নিয়মিত আবেগি, রোমান্টিক, সামাজিক ও জীবনের নানা বাস্তবতার গল্প শেয়ার করা হয়। ভালো লাগলে পেজটি ফলো করে পাশেই থাকুন। 💙"

গল্পের নাম: অচেনা ঠিকানায় মন (পর্ব ২)হাতে সেই বেনামী চিঠিটা নিয়ে রফিক এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নূরু মিয়...
04/09/2026

গল্পের নাম: অচেনা ঠিকানায় মন (পর্ব ২)
হাতে সেই বেনামী চিঠিটা নিয়ে রফিক এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। নূরু মিয়ার বড় ছেলে আরিফ শহরের একটা ছোট চাকরি করত। রফিকের কাছেই সে শেষবার এসে বলেছিল, "কাকু, বড় একটা বিপদে পড়েছি। শহরে টিকতে পারছি না। তবে আমি ঘুরে দাঁড়াবোই, মাকে বলো না যেন কোনো কষ্ট পায়।"
কিন্তু সেই ঘুরে দাঁড়ানো আর হলো না। গত মাসেই কাজের সূত্রে ঢাকা যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়ে গেছে। আরিফের বন্ধুরা খবরটা গ্রামে পৌঁছাতে দেয়নি পাছে বৃদ্ধা মা পাগল হয়ে যান, কিন্তু এমন একটা চিঠি হঠাৎ কীভাবে এল? খামের ভেতর তাকাতেই রফিকের চোখ গেল ডাকটিকিটের ওপর—চিঠিটা তো গত মাসেই পোস্ট করা হয়েছিল, ঠিক মৃত্যুর দু'দিন আগে! হয়তো যাওয়ার আগে শেষবারের মতো মায়ের জন্য লিখে কোথাও ফেলে গিয়েছিল, যা আজ এসে পৌঁছাল পোস্টমাস্টারের হাতে।
সামনে বসা বৃদ্ধা রহিমা বেগম ততক্ষণে রফিকের মুখের দিকে অপলক তাকিয়ে আছেন। কাঁপাকাঁপা গলায় তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, "বাবা রফিক, কিসের চিঠি গো ওইটা? আমার খোকার কোনো খবর আছে কি না একটু পড়ে শোনাও না বাবা! আমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন করছে।"
রফিকের গলা দিয়ে আর স্বর বের হচ্ছিল না। সত্যটা এত কঠিন, তা সে কল্পনাও করতে পারেনি। এই বয়সে একমাত্র ছেলের মৃত্যুর খবর শুনলে মানুষটার বেঁচে থাকাটাই দায় হয়ে যাবে। সে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে কৃত্রিম একটা হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করল। খামটা বুক পকেটে লুকিয়ে রেখে রফিক মিথ্যে সান্ত্বনার সুরে বলল, "না মা, ভয়ের কিছু নাই। আরিফ ভালো আছে। সে বলেছে পেটের দায়ে দূরে আছে ঠিকই, কিন্তু খুব শীঘ্রই টাকা পাঠাবে আর নিজে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসবে।"
ছেলের কথা শুনে বৃদ্ধার মুখটা খুশিতে চকচক করে উঠল। তিনি দুই হাত তুলে রফিকের জন্য দোয়া করতে লাগলেন, "আল্লাহ তোমার ভালো করুক বাবা! আমার বুক খালি হোক আল্লাহ চায় না। আমার খোকা ঠিক চইলা আসবে।"
বৃদ্ধার এই বুকভরা আশা দেখে রফিকের বুকটা আরও বেশি দুমড়ে-মুচড়ে গেল। সে মিথ্যা বলে সান্ত্বনা দিল বটে, কিন্তু মনের ভেতর এক অদ্ভুত অপরাধবোধ তাকে কুড়ে কুড়ে খেতে লাগল। মিথ্যে কতদিন টিকবে? আর এই গোপন সত্য কি চিরকাল লুকিয়ে রাখা সম্ভব?
[চলবে... আগামী পর্বে দেখুন, রফিকের এই মিথ্যে কি শেষ পর্যন্ত টিকবে, নাকি অন্য কোনো মোড় নেবে এই গল্প?]

03/09/2026

পর্ব ১
গল্পের নাম: শেষের সে দিন
সকাল থেকেই রোদটা কেমন যেন তেজী। উঠানের কোণে পুরোনো আমগাছটার ছায়ায় বসে আনমনে চা খাচ্ছিলেন রহীম সাহেব। বয়স হয়েছে, শরীরের জোর কমেছে, কিন্তু মনের জেদ আর অহংকার একটুও কমেনি। তার দুই ছেলে—বড় আরিফ শহরে চাকরি করে, আর ছোট শফিক থাকে বাবার সাথেই, গ্রামের বাড়িতে।
শফিকের বউ রিনা প্রতিদিনের মতো আজও শাশুড়িকে ওষুধ খাইয়ে রান্নাঘরে ব্যস্ত। কাজের ফাঁকে শফিক এসে বাবার পাশে বসল। চায়ে একটা চুমুক দিয়ে শফিক বলল, "বাবা, সামনের সপ্তাহে জমিটার দলিলটা একটু রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে ভালো হতো। ছোটখাটো একটা লোন তোলার দরকার ছিল।"
কথাটা শোনামাত্রই রহীম সাহেবের চেহারা কঠোর হয়ে গেল। তিনি কাপটা টেবিলে সজোরে রেখে বললেন, "জীবিত থাকতে আমার সম্পত্তি কাউকে লিখে দেবো না! তোরা কি আমাকে মরা দেখতে চাস? সম্পত্তি হাতানোর মতলব কবে থেকে শুরু হয়েছে রে তোর?"
ছেলের মুখের ওপর এমন কথা শুনে শফিকের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। সে তো কোনো অন্যায় কিছু বলেনি, কেবল ভবিষ্যতের কথা ভেবে একটা সাহায্যের চেষ্টা করছিল। শফিক আর একটা কথাও বলল না, চুপচাপ মাথা নিচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
ঠিক এর দু'দিন পর শহরের বড় ছেলে আরিফ এল বাড়িতে। এসেই বাবাকে জড়িয়ে ধরে মিষ্টি হাসিমুখে বলল, "বাবা, তোমার শরীর ইদানিং বেশি ভালো যাচ্ছে না। আমার সাথে চলো, শহরে ভালো ডাক্তার দেখাবো আর কিছুদিন ঘুরে আসবে।"
ছেলের এই আদুরে কথায় গলে গেলেন রহীম সাহেব। তিনি ভাবলেন, বড় ছেলেই তাকে প্রকৃত সম্মান করে। পরদিন সকালেই তিনি আরিফের সাথে ব্যাগ গুছিয়ে শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন। যাওয়ার সময় ছোট ছেলে শফিক ও তার বউয়ের দিকে ফিরে তাকানোরও প্রয়োজন মনে করলেন না তিনি।
শহরে পৌঁছানোর প্রথম কয়েক দিন খুব যত্নআত্তি পেলেন রহীম সাহেব। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিবর্তনটা তার চোখে পড়তে শুরু করল। আরিফ সারাদিন অফিসে থাকে, আর তার স্ত্রী সারাদিন নিজের কাজে ব্যস্ত থাকে। রহীম সাহেবকে একটা ছোট রুমে একা বসিয়ে রাখা হয়। কথা বলার মতো কেউ নেই, খোলা আকাশের নিচে হাঁটার মতো একটু জায়গাও নেই।
একদিন রাতে শোবার ঘরে খাটে শুয়ে শুয়ে রহীম সাহেবের চোখের কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। তার মনে পড়ল, গ্রামে থাকাকালীন প্রতিদিন বিকেলে শফিক তাকে কীভাবে চা বানিয়ে দিতো, তার পা টিপে দিতো, আর রিনা তার পছন্দমতো খাবার রান্না করে সামনে এনে দিতো। অথচ সামান্য কিছু সম্পত্তির লোভে তিনি নিজের ঘরের সেই আপন মানুষগুলোকে কতটা কষ্ট দিয়েই না দূরে ঠেলে দিয়েছিলেন!
[চলবে... আগামী পর্বে দেখুন শহরে গিয়ে রহীম সাহেবের জীবনে আর কী ঘটে?

03/09/2026

গল্পের নাম অচেনা ঠিকানায় মন (পর্ব ১)
গ্রামের মেঠো পথ ধরে হেঁটে যাওয়ার সময় রফিকের চোখ সবসময় থাকে গ্রামের ওই পুরোনো ইশকুল বাড়িটার দিকে। বয়স হয়েছে ষাটের কোঠায়। গত বিশ বছর ধরে তিনি এই গ্রামের একমাত্র পোস্টমাস্টার। মানুষের সুখ-দুঃখের চিঠি বিলি করতে করতে নিজের জীবনের হিসাবটাই যেন গোলমেলে হয়ে গেছে।
আজ সকালেও অফিসে বসে একটা পুরোনো খামের ওপর চোখ আটকে গেল রফিকের। খামের গায়ে কোনো প্রেরকের নাম নেই, শুধু প্রাপকের জায়গায় লেখা— "গ্রামের শেষ মাথার ভাঙা কুঁড়েঘরের সেই অবহেলিত মা"। ঠিকানা বলতে কেবল গ্রামের নামটুকুই আছে। কিন্তু এই নামে তো গ্রামে অন্তত তিনজন মা আছেন! তাহলে চিঠিটা কার জন্য?
পোস্ট অফিসের কাজ শেষ করে রফিক ঠিক করল, চিঠিটা সে নিজে গিয়ে সঠিক ঠিকানায় পৌঁছে দেবে। দুপুরের রোদে ছাতা মাথায় দিয়ে সে যখন নূরু মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছাল, তখন দেখা গেল উঠানে বসে এক বৃদ্ধা মা আনমনে তাকিয়ে আছেন পথের দিকে। তার বড় ছেলে শহরে থাকে, বছর পাঁচেক ধরে কোনো খোঁজ নেয় না। মা শুধু প্রতিদিন গেটের দিকে তাকিয়ে থাকেন, এই বুঝি তার খোকা ফিরল।
রফিক গিয়ে আলতো পায়ে বৃদ্ধার সামনে দাঁড়াল। বৃদ্ধা কাঁপাগালায় বললেন, "বাবا, আমার খোকার কোনো চিঠি কি আইছে?"
রফিকের বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল। খামটা খোলার পর সে দেখল, ভেতরে কোনো সাধারণ চিঠি নেই—আছে এক টুকরো সাদা কাগজ, আর তাতে বড় বড় অক্ষরে লেখা কয়েকটি লাইন: "মা, তোমার বুকের ধন আজ অনেক দূরে হারিয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু তোমার প্রতি তার ভালোবাসার একটুও কমতি হয়নি। একদিন ঠিক তোমার কোলে ফিরে আসব।"
চিঠিটা পড়ার সময় রফিকের চোখের কোণ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। কারণ এই হাতের লেখাটা সে খুব ভালো করেই চেনে... এটা আর কারও নয়, নূরু মিয়ার বড় ছেলের লেখা, যে গত মাসেই এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছে। কিন্তু তার মৃত্যুর খবর আজও এই বৃদ্ধা মায়ের কাছে পৌঁছায়নি!
[চলবে... আগামী পর্বে দেখুন, রফিক কি পারবে এই কঠিন সত্যটা বৃদ্ধা মাকে জানাতে, নাকি লুকিয়ে রাখবে?

Address

Dokkhinpara
Dhaka
2230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Khadizatul Kobra posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share