Psychologist Naiem

Psychologist Naiem Psychologist & Social Skill trainer

"Gaslighting" - যে মানসিক নির্যাতন আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি নাহিয়া জানত, সে মিথ্যা বলছে না।  কিন্তু  তার পার্টনার প্র...
31/07/2026

"Gaslighting" - যে মানসিক নির্যাতন আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না
হিয়া জানত, সে মিথ্যা বলছে না। কিন্তু তার পার্টনার প্রায়ই বলত, এরকম কিছুই হয়নি,তুমি ভুল মনে করছ, এটা তোমার ওভারথিংকিং। সামান্য বিষয় নিয়ে এত কষ্ট পাও কেন ইত্যাদি।

প্রথমে হিয়া প্রতিবাদ করত। কিন্তু একই কথা বারবার শুনতে শুনতে সে নিজেকে বলতে শুরু করলো, হয়তো আমারই ভুল হচ্ছে, হয়তো আমি বেশি আবেগী। এভাবেই ধীরে ধীরে সে নিজের অনুভূতি, স্মৃতি এবং বিচারবোধের ওপর আস্থা হারাতে শুরু করল। এটাকে বলা হয় Gaslighting।

Gaslighting হলো এমন এক ধরনের Psychological manipulation যেখানে একজন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যজনকে এমনভাবে প্রভাবিত করেন যাতে তিনি নিজের স্মৃতি, অনুভূতি এবং বাস্তবতা নিয়েই সন্দেহ করতে শুরু করেন।

মনোবিজ্ঞানী Robin Stern বলেছেন, এটি সাধারণত একদিনে হয় না। ধীরে ধীরে, ছোট ছোট ঘটনা দিয়ে শুরু হয়। একসময় ভুক্তভোগী এমন অবস্থায় পৌঁছে যান যে তিনি নিজের চেয়ে অন্যের কথাকেই বেশি বিশ্বাস করতে শুরু করেন। (Stern, R., 2007, The Gaslight Effect)

হিয়া একজন সাইকোলজিস্টের কাছে গিয়ে জানতে চেয়েছিল, সমস্যাটা সত্যিই কি তার? সব কথা শোনার পর সাইকোলজিস্ট বললেন, আপনার অনুভূতিগুলো ভুল নয়। বরং আপনাকে এমনভাবে বিশ্বাস করানো হচ্ছে যেন সব দোষ আপনার।

সেদিনই হিয়া বুঝতে পারল, সে দুর্বল নয়। সে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক কারসাজির শিকার ছিল। সুস্থ হওয়ার প্রথম ধাপ হলো নিজের অনুভূতি ও বাস্তবতাকে আবার বিশ্বাস করতে শেখা। মনে রাখবেন, কেউ যদি বারবার আপনাকে নিজের বাস্তবতা নিয়েই সন্দিহান করে তোলে, তাহলে সমস্যাটা সবসময় আপনার নাও হতে পারে।

রাকিব আর ইমন - দুজন বন্ধু।রাকিব এমন একজন মানুষ, যে কখনো নিজের ভুল স্বীকার করে না। কোনো সমস্যা হলেই সে অন্যকে দোষারোপ করে...
30/07/2026

রাকিব আর ইমন - দুজন বন্ধু।

রাকিব এমন একজন মানুষ, যে কখনো নিজের ভুল স্বীকার করে না। কোনো সমস্যা হলেই সে অন্যকে দোষারোপ করে। তার বিশ্বাস সে ভুল করতেই পারে না। আর যদি ভুল হয়ও, তাহলে তার কাছে সবসময় কোনো না কোনো অজুহাত প্রস্তুত থাকে।

অন্যদিকে, ইমন ঠিক তার উল্টো। কোনো কিছু ঘটলেই সে সবার আগে নিজেকেই দোষ দেয়। সে মনে করে, "হয়তো আমারই কোনো ভুল ছিল", "নিশ্চয়ই আমার মধ্যেই সমস্যা আছে।"

তাহলে প্রশ্ন হলো - সব সময় অন্যকে দোষ দেওয়া ঠিক, নাকি সব সময় নিজেকে দোষ দেওয়া ঠিক?

উত্তর: কোনোটিই নয়।

Sigmund Freud-এর Defense Mechanisms অনুযায়ী, অনেক সময় মানুষ নিজের Ego (অহম) রক্ষা করতে, লজ্জা, অপরাধবোধ বা ব্যর্থতার অনুভূতি থেকে বাঁচতে এবং ব্যক্তিগত দায়িত্ব এড়াতে নিজের ভুল স্বীকার করতে চায় না। তাই রাকিবের মতো কিছু মানুষ নিজের ভুল না মেনে অন্যকে দোষারোপ করে।

অন্যদিকে, ইমনের মতো যারা সব সময় নিজেকেই দোষ দেয়, তাদের ক্ষেত্রে এর পেছনে কম আত্মসম্মান (low self-esteem), অতিরিক্ত আত্মসমালোচনা (self-criticism), প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়, কিংবা শৈশবের অভিজ্ঞতা কাজ করতে পারে। তারা প্রায়ই মনে করে, "যা-ই ঘটুক, দোষটা নিশ্চয়ই আমারই।"

সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ হলো - ভুল হলে সেটি সৎভাবে স্বীকার করা, নিজের দায়িত্ব নেওয়া এবং যেখানে অন্যের ভুল আছে, সেটিও বাস্তবসম্মতভাবে মূল্যায়ন করা। সব সময় অন্যকে বা নিজেকে দোষারোপ না করে, পরিস্থিতিকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে দেখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

"আমি ঠিক আছি।"সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বলা এবং সবচেয়ে কম সত্যি, বাক্যগুলোর একটি।আমাদের সমাজে ছোটবেলা থেকেই অনেক পুরু...
30/07/2026

"আমি ঠিক আছি।"
সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বলা এবং সবচেয়ে কম সত্যি, বাক্যগুলোর একটি।

আমাদের সমাজে ছোটবেলা থেকেই অনেক পুরুষকে শেখানো হয়, কাঁদা দুর্বলতার লক্ষণ, কষ্ট প্রকাশ করা মানে দুর্বল হওয়া, আর সবকিছু একাই সামলাতে হবে। ধীরে ধীরে তারা অনুভূতি প্রকাশ না করে তা চেপে রাখতে শেখে। বাইরে থেকে শক্ত দেখালেও, ভেতরে জমতে থাকে ক্লান্তি, উদ্বেগ, একাকীত্ব এবং অব্যক্ত কষ্ট।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, দীর্ঘদিন আবেগ চেপে (emotional suppression) রাখলে মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং সম্পর্কের জটিলতা বাড়তে পারে। অনুভূতি প্রকাশ করা দুর্বলতার নয়, বরং মানসিক পরিপক্বতার একটি লক্ষণ।

আপনার আশেপাশের কোনো পুরুষ যদি বারবার বলে, "আমি ঠিক আছি", তাহলে শুধু কথাটা বিশ্বাস না করে একবার জিজ্ঞেস করুন "সত্যিই কি ঠিক আছো?"

অনেক সময় একজন মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কোনো সমাধান নয়, বরং এমন একজন মানুষ,যার কাছে সে নিরাপদে বলতে পারে, "আমি ভালো নেই।"

পুরুষও অনুভব করে। পুরুষও কাঁদে। আর তাদেরও মানসিক যত্নের প্রয়োজন হয়।

অহনা পড়াশোনার মাঝে শুধু একবার নোটিফিকেশন দেখতে ফোন হাতে নিল। কিন্তু কখন যে ২ ঘণ্টা কেটে গেল, সে টেরই পেল না। এটিই হলো D...
30/07/2026

অহনা পড়াশোনার মাঝে শুধু একবার নোটিফিকেশন দেখতে ফোন হাতে নিল। কিন্তু কখন যে ২ ঘণ্টা কেটে গেল, সে টেরই পেল না। এটিই হলো Doom Scrolling।


Doom Scrolling সাধারণত কৌতূহল, কিছু মিস করে ফেলার ভয় (FOMO), মানসিক চাপ, একঘেয়েমির কারণে হয় । আমাদের মস্তিষ্ক নতুন তথ্য খুঁজতে থাকে, তাই খারাপ লাগলেও আমরা স্ক্রল করা থামাতে পারি না। এর ফলে উদ্বেগ বাড়ে, মনোযোগ কমে, ঘুমের সমস্যা হয় এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেগেটিভ প্রভাব পড়ে।

কীভাবে এর থেকে বাঁচবেন?

• সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন।
• অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
• ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করুন।
• অবসর সময়ে বই পড়ুন, হাঁটাহাঁটি করুন বা পরিবারের সাথে সময় কাটান।
• সেইসব অ্যাকাউন্ট বা পেজকে Hide বা Block করে রাখুন যেগুলো থেকে অধিকতর সময় নেতিবাচক খবর পাওয়া যায় ।

মনে রাখুন, সব খবর সব সময় জানা জরুরি নয়। তাই সচেতনভাবে ফোন ব্যবহার করুন এবং নিজের মানসিক শান্তিকে গুরুত্ব দিন।

Victim blaming -কেন আমরা ব্যর্থ মানুষকে দোষ দিই?একটা মেয়ে রাস্তায় হয়রানির শিকার হলো। আশেপাশের মানুষের প্রথম প্রশ্ন, স...
29/07/2026

Victim blaming -কেন আমরা ব্যর্থ মানুষকে দোষ দিই?

একটা মেয়ে রাস্তায় হয়রানির শিকার হলো। আশেপাশের মানুষের প্রথম প্রশ্ন, সে কী পরেছিল? এত রাতে একা কেন ছিল? একজন মানুষ প্রতারিত হলো। সবার প্রথম কথা, এত বিশ্বাস করল কেন? বুঝল না কীভাবে?

ভিকটিমকে দোষ দেওয়া আমাদের সমাজে এতটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না ভুল করছি নাকি ঠিক করছি। এর পেছনে আছে একটা শক্তিশালী মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া, যার নাম Just World Hypothesis।

মনোবিজ্ঞানী Melvin Lerner বলেছেন, মানুষ বিশ্বাস করতে চায় যে পৃথিবীটা ন্যায্য। ভালো মানুষের সাথে ভালো হয়, খারাপ মানুষের সাথে খারাপ হয়। এই বিশ্বাসটা আমাদের নিরাপদ অনুভব করায়। (সূত্র: Lerner, M.J., 1980, The Belief in a Just World, Plenum Press)

তাই কেউ বিপদে পড়লে আমাদের মস্তিষ্ক আগে খোঁজে, সে নিশ্চয়ই কিছু একটা করেছে যার কারণে সে ঐরকম পরিস্থিতির শিকার। এই চিন্তাটা আসলে আমাদের একটা মিথ্যা নিরাপত্তা দেয়। যদি ভিকটিম দোষী হয়, তাহলে আমি সতর্ক থাকলে আমার সাথে এটা হবে না। কিন্তু বাস্তবে দুর্ঘটনা, প্রতারণা, নির্যাতন যেকোনো মানুষের সাথে হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বিপদের পর Victim Blaming এর শিকার হন তাদের মধ্যে PTSD এবং বিষণ্নতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। (সূত্র: Ullman & Filipas, 2001, Journal of Interpersonal Violence)

পরের বার কেউ বিপদে পড়লে নিজেকে একটাই প্রশ্ন করুন। এই মানুষটার এখন কী দরকার? সমালোচনা, নাকি সহযোগিতা?কারণ অন্যকে জাজ করা খুবই সহজ কিন্তু পাশে থাকাটা তার থেকেও বেশী প্রয়োজনীয়।

29/07/2026

আপনি কি 'না' বলতে পারেন না? না বললে কি নিজেকে স্বার্থপর মনে হয়?

Self Acceptance, যখন নিজেকে মেনে নেওয়া হয়ে পড়ে সবচেয়ে কঠিন কাজ। সাদিয়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন নিজের খুঁত খুঁজত...
28/07/2026

Self Acceptance, যখন নিজেকে মেনে নেওয়া হয়ে পড়ে সবচেয়ে কঠিন কাজ।
সাদিয়া আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন নিজের খুঁত খুঁজত। বাহ্যিক সৌন্দর্য, একাডেমিক রেজাল্ট অথবা স্মার্টনেস নিয়ে বছরের পর বছর তুলনা করে সে নিজেকে এতটাই ছোট করে ফেলেছিল যে একসময় আয়নার দিকে তাকাতেই তার ভয় লাগত।
মানুষ যখন নিজের বাস্তব সত্তা আর আদর্শ সত্তার মধ্যে বিশাল ফারাক দেখে, তখন তৈরি হয় গভীর অসন্তুষ্টি ও উদ্বেগ। তখনই এরকম চিন্তা আসে
Self Acceptance মানে এই না যে আমি নিখুঁত। পৃথিবীর কোনো মানুষ ই শতভাগ perfect না এবং আমি নিজেও perfect না । এবং এই জিনিসটা একদম স্বাভাবিক। এটা মেনে নেওয়াই হলো self acceptance।
Kristin Neff-এর গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যারা নিজেদের প্রতি সহানুভূতিশীল, তারা মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে অনেক বেশি সুস্থ এবং জীবনে বেশি সফল।
(সূত্র: Neff, K.D., 2003, Self and Identity)

তাই নিজের সাথে কথা বলার ধরনটা বদলে ফেলুন। কোনো কাজ ভুল হলে নিজেকে বলুন, ভুল থেকেই আমি শিখলাম। এই একটা অভ্যাস মস্তিষ্কের নিজেকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি ধীরে ধীরে বদলে দেয়।
সাদিয়া একদিন সাইকোলজিস্ট এর কাছে গিয়েছিল। সাইকোলজিস্ট তাকে বলেছিলেন, আপনি অন্যদেরকে যেই নজরে দেখছেন , নিজেকেও একটু সেভাবে দেখুন নিজেকে গ্রহণ করাটা দুর্বলতা না, বরং আত্মবিশ্বাস।

"You don't have to be everyone's butterfly. Be a bee." Butterfly সুন্দর। সবাই তাকে পছন্দ করে। কিন্তু সে ফুল থেকে ফুলে উড...
28/07/2026

"You don't have to be everyone's butterfly. Be a bee."

Butterfly সুন্দর। সবাই তাকে পছন্দ করে। কিন্তু সে ফুল থেকে ফুলে উড়ে বেড়ায়। কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়া, সবাইকে খুশি করার চেষ্টায়। অন্যদিকে Bee দেখতে সুন্দর না হলেও তার একটা স্পষ্ট কাজ আছে। সে মধু তৈরি করে। পরাগায়ণ করে। তার অস্তিত্বের একটা মূল্য আছে। সবাইকে খুশি করার জন্য না, নিজের কাজের জন্য।

আমরা আগে অনেকবার কথা বলেছি People Pleasing নিয়ে। এইটা ঠিক সেই থিমের সাথে মেলে। সবাইকে খুশি রাখার চেষ্টা করতে করতে আমরা নিজের লক্ষ্য, নিজের পরিচয়, নিজের কাজ ভুলে যাই। সবার কাছে প্রিয় হওয়ার চেষ্টায় নিজের মূল্যবান কাজটা করা হয় না।

মনোবিজ্ঞান বলছে যারা নিজের লক্ষ্য এবং মূল্যবোধের সাথে সংযুক্ত থেকে জীবন কাটান তাদের জীবনে সন্তুষ্টির মাত্রা অনেক বেশি। সবার পছন্দের মানুষ হওয়ার চেয়ে। কারণ Approval সাময়িক। কিন্তু Purpose স্থায়ী।

আজকে থেকে একটাই কথা মনে রাখুন। সবাই আপনাকে পছন্দ করবে না। এবং এইটা ঠিক আছে। আপনার কাজ সবাইকে খুশি করা না। আপনার কাজ হলো আপনার মূল্যবোধ অনুযায়ী, আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী জীবন গড়া।

Butterfly হওয়ার চেষ্টা ছাড়ুন। Bee হোন। আপনার কাজটা করুন। 🐝🤍

Last day I conducted a session with Let's Spark BD - a youth organization titled  "Lead with empathy, speak with purpose...
27/07/2026

Last day I conducted a session with Let's Spark BD - a youth organization titled "Lead with empathy, speak with purpose."

Address

Mohakhali CA
Dhaka
1212

Opening Hours

Monday 10:00 - 22:00
Tuesday 10:00 - 22:00
Wednesday 10:00 - 22:00
Thursday 10:00 - 22:00
Friday 14:00 - 23:00
Saturday 10:00 - 22:00
Sunday 10:00 - 22:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Psychologist Naiem posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share