24/08/2026
ঘাড়ের সমস্যা থেকে মাথাব্যথা?
জেনে নিন সম্পর্কে।
অনেকেই ভাবেন, মাথাব্যথা মানেই হয়তো #মাইগ্রেন, #সাইনাস বা #চোখের সমস্যা। কিন্তু এমন এক ধরনের মাথাব্যথা আছে, যার আসল উৎস থাকে ঘাড়ে। এর নাম Cervicogenic Headache (সার্ভিকোজেনিক হেডেক)।
যদি মাথাব্যথার সঙ্গে ঘাড় শক্ত লাগে, একদিকে বেশি ব্যথা হয় বা ঘাড় নাড়ালে ব্যথা বেড়ে যায়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
Cervicogenic Headache কী?
এটি এমন একটি সেকেন্ডারি হেডেক, অর্থাৎ মাথার ভেতর থেকে নয়, বরং ঘাড়ের হাড়, জয়েন্ট, ডিস্ক, লিগামেন্ট, পেশি বা স্নায়ুর সমস্যার কারণে মাথায় ব্যথা অনুভূত হয়।
ঘাড়ের উপরের অংশের (বিশেষ করে C1, C2 ও C3) স্নায়ু এবং #ট্রাইজেমিনাল স্নায়ুর মধ্যে একটি সংযোগ রয়েছে। তাই ঘাড়ে সমস্যা হলে মস্তিষ্ক সেই সংকেতকে মাথার ব্যথা হিসেবে অনুভব করতে পারে।
কী কারণে হয়?
সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো হলো:
#ঘাড়ের ফ্যাসেট জয়েন্টের সমস্যা
#সার্ভিক্যাল ডিস্কের ক্ষয় বা বাল্জ
#ঘাড়ের পেশির ট্রিগার পয়েন্ট
#দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে থাকা
#ভুল বসার অভ্যাস
#হঠাৎ আঘাত (যেমন Whiplash injury)
spondylosis
কীভাবে বুঝবেন?
এই ধরনের মাথাব্যথার কিছু পরিচিত লক্ষণ রয়েছে, যেমন:
* সাধারণত মাথার এক পাশ বেশি ব্যথা করে।
* ব্যথা ঘাড় থেকে শুরু হয়ে মাথার পেছন, কপাল বা চোখের আশপাশে ছড়িয়ে যায়।
* ঘাড় ঘোরালে ব্যথা বাড়ে।
* ঘাড় শক্ত লাগে।
* অনেকের কাঁধেও টান অনুভূত হয়।
#ব্যথা কোথায় ছড়াতে পারে?
ব্যথা সাধারণত এই জায়গাগুলোতে অনুভূত হতে পারে:
* মাথার পেছন (Occipital region)
* কানের আশপাশ
* কপাল
* চোখের চারপাশ
* কানের নিচ থেকে ঘাড় পর্যন্ত
#কারা বেশি ঝুঁকিতে?
#অফিসে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করেন যারা
#সারাদিন মোবাইল ব্যবহার করেন
#ড্রাইভার
#কম্পিউটার অপারেটর
#ঘাড়ে পুরনো আঘাত রয়েছে এমন ব্যক্তি
***কীভাবে পরীক্ষা করা হয়?
একজন ফিজিওথেরাপিস্ট বা চিকিৎসক সাধারণত:
#ঘাড়ের নড়াচড়া পরীক্ষা করেন
#কোন জয়েন্টে সমস্যা আছে তা মূল্যায়ন করেন
#পেশির ট্রিগার পয়েন্ট খুঁজে দেখেন
#প্রয়োজনে X-ray বা MRI পরামর্শ দেন
#চিকিৎসায় কী করা হয়?
#চিকিৎসার মূল লক্ষ্য শুধু ব্যথা কমানো নয়, বরং ঘাড়ের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ফিরিয়ে আনা।
#ফিজিওথেরাপিতে সাধারণত করা হয়:
Therapy
Mobilization
Point Release
Correction
Strengthening Exercise
Neck Flexor Training
পরামর্শ
কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অন্যান্য চিকিৎসাও যুক্ত হতে পারে।
***নিজে কী করবেন?
#মোবাইল চোখের সমান উচ্চতায় ধরুন।
#প্রতি ৩০–৪০ মিনিট পর ঘাড় নাড়ান।
#একই ভঙ্গিতে দীর্ঘ সময় বসে থাকবেন না।
#সঠিক উচ্চতার বালিশ ব্যবহার করুন।
#হালকা ঘাড়ের ব্যায়াম নিয়মিত করুন।
*""**কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
***নিচের যেকোনো লক্ষণ থাকলে দেরি না করে চিকিৎসা নিন।
#হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথাব্যথা
মনে রাখবেন
সব মাথাব্যথা এক ধরনের নয়। অনেক সময় সমস্যার মূল কারণ থাকে ঘাড়ে। তাই বারবার একই ধরনের মাথাব্যথা হলে শুধু ব্যথার ওষুধ খেয়ে না থেকে সঠিক মূল্যায়ন করানো জরুরি।
সঠিক কারণ শনাক্ত করা গেলে, লক্ষ্যভিত্তিক চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিনের ঘাড়জনিত মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
#হাত-পা দুর্বল হয়ে যাওয়া
#কথা জড়িয়ে যাওয়া
#জ্বরের সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
#মাথায় আঘাতের পর নতুন মাথাব্যথা