29/05/2026
এ কাঁধ যেন পঞ্চান্ন হাজার বর্গমাইল চওড়া!
কাঁধে স্ত্রীর লাশ, বুকে আদরের সন্তানের লাশ, বাম হাতে ধরলেন পেছনে হাউমাউ করে কান্না করা মেয়ে সন্তানটির হাত!
ঈদের কেনাকাটার জন্য স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে গত বুধবার নরসিংদী শহরে এসেছিলেন সুজন মিয়া। মনের খুশিতে কেনাকাটা শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনে আসেন তারা।
রেললাইন পার হয়ে হাজেরা টাওয়ারের সামনে থেকে বাড়ির উদ্দেশে অটোরিকশায় উঠার কথা ছিল তাদের। স্টেশনে এসে তারা দেখেন, ঢাকাগামী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন দীর্ঘক্ষণ ধরে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে থেমে আছে। অন্য অনেকের মতো তারাও মহানগরের একটি বগির দরজা দিয়ে উঠে অন্য দরজা দিয়ে নামেন।
সুজনের স্ত্রী সাথী বেগমের কোলে ২ বছরের ছেলে হাছেন।এ সময় হাছেনকে নিয়ে প্রথমে নামে সাথী। ৫ বছর বয়সী মেয়ের হাত ধরে পেছনে পেছনে যাচ্ছেন বাবা সুজন মিয়া। ওই সময় আন্তনগর কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। ট্রেনের ধাক্কায় কোলে থাকা হাছেনসহ সাথী বেগম ছিটকে পড়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত পান।
বীর সাহাবি নামে একজন সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, সুজন মৃতপ্রায় স্ত্রীকে প্রথম বাম কাঁধে তুললেন, এরপর দুই বছরের সন্তানকে বুকে নিলেন। সুজনের হাতে ঈদের বাজার, কেমন করে যেন সেসবের ভেতর এক হাত দিয়ে মেয়ের হাত ধরলেন, তারপর হাসপাতালের দিকে হাঁটা শুরু করলেন। সুজনের চারপাশে মোটা তাজা কত লোক ছিল, জিম করা কেউও থাকতে পারে; কেউ তাদের ধরল না। সুজন হাঁটলেন, হাসপাতালেও পৌঁছে জানলেন স্ত্রী ও সন্তান দুজনেই মারা গেছে।
রেলস্টেশনের এই ভিডিও যারা করেছেন তারা সমেত সেখানে শতশত মানুষ ছিল, কিন্তু সুজনের আহত পরিবারের পাশে কাউকে পাওয়া গেল না...!’
স্ত্রী-ছেলেকে হারিয়ে হাসপাতাল চত্বরেই কান্নায় ভেঙে পড়েন সুজন মিয়া। বলেন, ‘চোখের সামনেই আমার অবুঝ শিশুসন্তান আর স্ত্রীকে হারালাম। ডাইরেক্ট ট্রেন আসতে দেখে চিৎকার করছিলাম, আটকানোরও চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছুই করতে পারিনি।