10/09/2026
দুইজন রিফাতের গল্প (গত শনিবারের)।সফলতাই যেখানে ছিল শেষ কথা।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
প্রথম রিফাত🥰 :
ভাগ্য যাকে দারুন ভাবে ফেবার করল:
**********************************
মেয়েটার এটা প্রথম প্রেগনেন্সি।আমাকে দেখাচ্ছে কারণ ও নরমাল ডেলিভারি চায় । ভালো কথা। ডেলিভারি দিন ঘনিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার থেকে হালকা হালকা পেইন।
শুক্রবার রাত থেকে বেশ একটু ব্যথা। শনিবারের সকালে চেম্বারে আসলো। বেশ ভালো ফাইন্ডিং। আমি খুব আশাবাদী। বাচ্চা পেটের মধ্যে পায়খানা করে না দিলে নরমাল ডেলিভারি হবে। আমি চেম্বার থেকে ব্যাথা বাড়ানোর ওষুধ দিয়ে লেবার রুমে পাঠিয়ে দিলাম।
বিপদের শুরু। ব্যথা বাড়তে থাকলে ও আর নরমাল ডেলিভারি করাবে না। আমরা বললাম এপিদুরাল নাও। না, তাও নিবে না। ও সিজার করবেই।ওর পক্ষে আর একটুও পেইন নেয়া সম্ভব না।
এদিকে শনিবারে আমার চেম্বার ভরা রোগী। চেম্বার আমার খুবই প্রিয় জায়গা। কিন্তু সবার সাথে যেরকম করে কথা বলতে চাচ্ছি সেরকম যেন হয়ে উঠছে না । ভিড়ে চেম্বারের সামনে রোগীদের কারো কারো মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো অনেকক্ষণ ধরে বসে আছেন। এর মধ্যে আমার আত্মীয়-স্বজনও আছে। কাকে রেখে কাকে দেখব।
এরই মধ্যে লেবার রুম থেকে বারবার ফোন। ম্যাডাম রিফাত এখনই সিজার করাতে চায়।
আমি জানালাম এখন অসম্ভব। যেহেতু বাচ্চার হার্টবিট ভালো আছে এবং পানি পরিষ্কার তাই এই মুহূর্তে চেম্বার থেকে উঠে আমার পক্ষে অসম্ভব। বিকাল ৪ টায় সিজার করবো। নিজেরও অসম্ভব ওয়াশরুম লেগেছে।
কিন্তু চেম্বার থেকে বেরোনো অসম্ভব ।
এই করতে করতে কোন রকমের চেম্বার শেষ করে দৌড়ে উপরে গেলাম। রিফাতের চিৎকারে ওয়াশরুমের কথা ভুলেই গেলাম ।
চেক করে দেখলাম জরায়ুর মুখ ১০ সেন্টিমিটার খুলে গিয়েছে।
একটা বকা দিলাম। তোমার দশ সেন্টিমিটার খুলে গিয়েছে।এখান থেকে সিজার করা খুব কষ্টকর । তুমি প্লিজ আমাদের একটু সাহায্য করো।ও জানালো ও কিছুই করতে পারবে না ।
যদিও এরপরে আমাদেরকে সাহায্য করলো। দারুন সুন্দর করে ওর নরমাল ডেলিভারি টা হয়ে গেল।
ডেলিভারির পরে কি যে খুশি।কতজনকে যে মিষ্টি খাইয়েছে আর কতজনকে যে গিফট দিয়েছে ।
হা হা হা ... জানালাম রিফাত ভাগ্য তোমাকে আজ দারুন ভাবে সাহায্য করলো 😊।চেম্বারে এত ব্যস্ততা না থাকলে তোমার সিজারটা আজ হয়েই যেত।
এবার আরেক রিফাতের 🥰গল্প।যদিও এই গল্পের সফলতার কৃতিত্বের অনেকটার দাবিদার ওর স্বামী।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
মেয়েটা অনেক কষ্ট করে প্রেগনেন্সি টা কন্টিনিউ করছে। প্রেগনেন্সি শেষের দিকে ওর মা মারা গেলেন। ওর দারুন দায়িত্ববান স্বামী ওর প্রেগনেন্সি টাকে সহজ করতে সাহায্য করছে । দুই তিন দিন পর পরই পর হয় আমার কাছে অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট নিচ্ছে অথবা হাসপাতালে নিয়ে আসছে।
শুক্রবার রাতে আমার সাথে যোগাযোগ করে ওর একটু একটু ব্যথা হচ্ছে। শনিবার চেক করলে আমার মনে হয় এবার আমরা ওর নর্মাল ডেলিভারি চেষ্টা করতে পারি।
চেম্বার থেকে ব্যথা উঠানোর ওষুধ দিয়ে লেবার রুমে পাঠিয়ে দিলাম।
ওর জরায়ুর মুখ কিছুটা খুলছে। তবে আগের রিফাতের চেয়ে অনেকটা শ্লো গতিতে। বিকাল পাঁচটার দিকে পানি ভেঙ্গে দিলাম। পানিতে হালকা হলুদাভ ভাব আছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল। ৬-৭ সেন্টিমিটারের মতো খোলা।
জানালাম তোমরা কি সিজার করবে। পানির রং সামান্যই পরিবর্তিত।কিছুটা সময় নেয়া যেতে পারে । সিদ্ধান্ত নিলাম এখন একটা সিজার আছে। সিজার টা করে দেখি তোমার টা এরমধ্যে কতদূর আগায়।
এর মধ্যে ওরা সিদ্ধান্ত নিল, যা হোক ওরা শেষ পর্যন্ত নরমাল ডেলিভারি চেষ্টা করবে। এর মধ্যে আমার আরো দুজন পেশেন্টের সিজার হয়ে গেল। তৃতীয় শেষ হতেই ডাক্তার শিলা আপা ডাক দিলেন দ্রুত লেবার রুমে আসেন। রোগীর অনেক বেশি চাপ আসছে।
সিজার রুম থেকে দৌড়ে লেবার রুমে চলে গেলাম।
এই রিফাত ও দারুন করে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ওর প্রথম সন্তানের জন্ম দিল।
আসলে এখনো যদি দেখতাম এই রিফাতের এখনো ডেলিভারি অনেক দেরি হবে তাহলে কিন্তু আমরা সিজারের সিদ্ধান্তই নিতাম।
এক রিফাতের ভাগ্য আরেক রিফাতের চেষ্টা দুজনকে সফল করলো।
তবে দুজনের ক্ষেত্রে একটা জিনিস কিন্তু এক। ওরা কেউই প্রথমেই সিজারের সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রেগনেন্সির শুরু থেকে থেকে লেবার পেইন বাড়া পর্যন্ত দুজনেই কিন্তু নরমাল ডেলিভারিই চেয়েছিল।
ছবিতে আমার লেবার টিমের প্রিয় ডাক্তারেরা এবং তাদের বাচ্চারা (যদিও কয়েকজনকে আমরা মিস করেছি)