Dr. Chhanda Majumder

Call Directions Contact the practice

Dr. Chhanda Majumder Normal delivery Expert, Doctor/Gynacologist/NVD specialist. (Popular Diagnostic Center, Dhanmondi 2)

দুইজন রিফাতের গল্প (গত শনিবারের)।সফলতাই যেখানে ছিল শেষ কথা।🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹প্রথম রিফাত🥰 :ভাগ্য যাকে দারুন ভাবে ফেবার ক...
10/09/2026

দুইজন রিফাতের গল্প (গত শনিবারের)।সফলতাই যেখানে ছিল শেষ কথা।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹

প্রথম রিফাত🥰 :

ভাগ্য যাকে দারুন ভাবে ফেবার করল:
**********************************
মেয়েটার এটা প্রথম প্রেগনেন্সি।আমাকে দেখাচ্ছে কারণ ও নরমাল ডেলিভারি চায় । ভালো কথা। ডেলিভারি দিন ঘনিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার থেকে হালকা হালকা পেইন।
শুক্রবার রাত থেকে বেশ একটু ব্যথা। শনিবারের সকালে চেম্বারে আসলো। বেশ ভালো ফাইন্ডিং। আমি খুব আশাবাদী। বাচ্চা পেটের মধ্যে পায়খানা করে না দিলে নরমাল ডেলিভারি হবে। আমি চেম্বার থেকে ব্যাথা বাড়ানোর ওষুধ দিয়ে লেবার রুমে পাঠিয়ে দিলাম।

বিপদের শুরু। ব্যথা বাড়তে থাকলে ও আর নরমাল ডেলিভারি করাবে না। আমরা বললাম এপিদুরাল নাও। না, তাও নিবে না। ও সিজার করবেই।ওর পক্ষে আর একটুও পেইন নেয়া সম্ভব না।

এদিকে শনিবারে আমার চেম্বার ভরা রোগী। চেম্বার আমার খুবই প্রিয় জায়গা। কিন্তু সবার সাথে যেরকম করে কথা বলতে চাচ্ছি সেরকম যেন হয়ে উঠছে না । ভিড়ে চেম্বারের সামনে রোগীদের কারো কারো মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে। কেউ কেউ হয়তো অনেকক্ষণ ধরে বসে আছেন। এর মধ্যে আমার আত্মীয়-স্বজনও আছে। কাকে রেখে কাকে দেখব।

এরই মধ্যে লেবার রুম থেকে বারবার ফোন। ম্যাডাম রিফাত এখনই সিজার করাতে চায়।

আমি জানালাম এখন অসম্ভব। যেহেতু বাচ্চার হার্টবিট ভালো আছে এবং পানি পরিষ্কার তাই এই মুহূর্তে চেম্বার থেকে উঠে আমার পক্ষে অসম্ভব। বিকাল ৪ টায় সিজার করবো। নিজেরও অসম্ভব ওয়াশরুম লেগেছে।
কিন্তু চেম্বার থেকে বেরোনো অসম্ভব ।

এই করতে করতে কোন রকমের চেম্বার শেষ করে দৌড়ে উপরে গেলাম। রিফাতের চিৎকারে ওয়াশরুমের কথা ভুলেই গেলাম ।

চেক করে দেখলাম জরায়ুর মুখ ১০ সেন্টিমিটার খুলে গিয়েছে।

একটা বকা দিলাম। তোমার দশ সেন্টিমিটার খুলে গিয়েছে।এখান থেকে সিজার করা খুব কষ্টকর । তুমি প্লিজ আমাদের একটু সাহায্য করো।ও জানালো ও কিছুই করতে পারবে না ।

যদিও এরপরে আমাদেরকে সাহায্য করলো। দারুন সুন্দর করে ওর নরমাল ডেলিভারি টা হয়ে গেল।

ডেলিভারির পরে কি যে খুশি।কতজনকে যে মিষ্টি খাইয়েছে আর কতজনকে যে গিফট দিয়েছে ।

হা হা হা ... জানালাম রিফাত ভাগ্য তোমাকে আজ দারুন ভাবে সাহায্য করলো 😊।চেম্বারে এত ব্যস্ততা না থাকলে তোমার সিজারটা আজ হয়েই যেত।

এবার আরেক রিফাতের 🥰গল্প।যদিও এই গল্পের সফলতার কৃতিত্বের অনেকটার দাবিদার ওর স্বামী।
🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹🌹
মেয়েটা অনেক কষ্ট করে প্রেগনেন্সি টা কন্টিনিউ করছে। প্রেগনেন্সি শেষের দিকে ওর মা মারা গেলেন। ওর দারুন দায়িত্ববান স্বামী ওর প্রেগনেন্সি টাকে সহজ করতে সাহায্য করছে । দুই তিন দিন পর পরই পর হয় আমার কাছে অনলাইন এপয়েন্টমেন্ট নিচ্ছে অথবা হাসপাতালে নিয়ে আসছে।

শুক্রবার রাতে আমার সাথে যোগাযোগ করে ওর একটু একটু ব্যথা হচ্ছে। শনিবার চেক করলে আমার মনে হয় এবার আমরা ওর নর্মাল ডেলিভারি চেষ্টা করতে পারি।
চেম্বার থেকে ব্যথা উঠানোর ওষুধ দিয়ে লেবার রুমে পাঠিয়ে দিলাম।

ওর জরায়ুর মুখ কিছুটা খুলছে। তবে আগের রিফাতের চেয়ে অনেকটা শ্লো গতিতে। বিকাল পাঁচটার দিকে পানি ভেঙ্গে দিলাম। পানিতে হালকা হলুদাভ ভাব আছে। মনটা খারাপ হয়ে গেল। ৬-৭ সেন্টিমিটারের মতো খোলা।

জানালাম তোমরা কি সিজার করবে। পানির রং সামান্যই পরিবর্তিত।কিছুটা সময় নেয়া যেতে পারে । সিদ্ধান্ত নিলাম এখন একটা সিজার আছে। সিজার টা করে দেখি তোমার টা এরমধ্যে কতদূর আগায়।

এর মধ্যে ওরা সিদ্ধান্ত নিল, যা হোক ওরা শেষ পর্যন্ত নরমাল ডেলিভারি চেষ্টা করবে। এর মধ্যে আমার আরো দুজন পেশেন্টের সিজার হয়ে গেল। তৃতীয় শেষ হতেই ডাক্তার শিলা আপা ডাক দিলেন দ্রুত লেবার রুমে আসেন। রোগীর অনেক বেশি চাপ আসছে।

সিজার রুম থেকে দৌড়ে লেবার রুমে চলে গেলাম।
এই রিফাত ও দারুন করে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ওর প্রথম সন্তানের জন্ম দিল।

আসলে এখনো যদি দেখতাম এই রিফাতের এখনো ডেলিভারি অনেক দেরি হবে তাহলে কিন্তু আমরা সিজারের সিদ্ধান্তই নিতাম।

এক রিফাতের ভাগ্য আরেক রিফাতের চেষ্টা দুজনকে সফল করলো।

তবে দুজনের ক্ষেত্রে একটা জিনিস কিন্তু এক। ওরা কেউই প্রথমেই সিজারের সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রেগনেন্সির শুরু থেকে থেকে লেবার পেইন বাড়া পর্যন্ত দুজনেই কিন্তু নরমাল ডেলিভারিই চেয়েছিল।

ছবিতে আমার লেবার টিমের প্রিয় ডাক্তারেরা এবং তাদের বাচ্চারা (যদিও কয়েকজনকে আমরা মিস করেছি)

অনেক সুন্দর একটা চিঠি পাঠিয়েছে আমার এক প্রিয় রোগি  মিসেস কামরুন নাহার ফারজানা🥰। অনেক অনেক ধন্যবাদ, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞত...
10/09/2026

অনেক সুন্দর একটা চিঠি পাঠিয়েছে আমার এক প্রিয় রোগি মিসেস কামরুন নাহার ফারজানা🥰। অনেক অনেক ধন্যবাদ, ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতা তোমাকে এত সুন্দর একটা চিঠি লেখার জন্য🙏🙏🙏

প্রিয় ডা. ছন্দা মজুমদার ম্যাডাম,

কেমন আছেন? আজ নাকি চিঠি দিবস! 😊
অনেকদিন ধরেই ভাবছিলাম আপনাকে একটা চিঠি লিখব। আপনার *“মায়েদের খোলা চিঠি”*গুলো দেখলে প্রায়ই মনে হতো—আমিও একদিন আমার ম্যাডামকে একটা কৃতজ্ঞতার চিঠি লিখব। সেই “একদিন” আর আসছিল না। তাই আজ ভাবলাম, মনের কথাগুলো আর জমিয়ে না রেখে আজই লিখে ফেলি। ❤️

দিনটা ছিল ২১ নভেম্বর ২০২৫, শুক্রবার। সেদিনের সেই বড় ভূমিকম্পটার কথা নিশ্চয়ই আপনার মনে আছে। শুক্রবার আপনার ছুটির দিন ছিল, তারপরও শুধু আমার জন্য আপনি এসেছিলেন। ভূমিকম্পের পরপরই এসে আমার পরিবারকে খুব শান্তভাবে বলেছিলেন, “আর কিছুক্ষণ, আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবু হয়ে যাবে। সবাই একটু ধৈর্য ধরুন।”

হয়তো আপনার কাছে কথাগুলো খুব সাধারণ ছিল, কিন্তু সেদিন আমাদের কাছে ওই কথাগুলোই ছিল অনেক বড় একটা ভরসা। আমার পরিবারের মানুষগুলোও আপনার কথায় সেদিন অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়েছিল।

তারপর আপনি আবার এলেন। আর আপনি আসার মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই আমার নরমাল ডেলিভারি হয়ে গেল। আমার বাবু পৃথিবীতে এলো আপনার হাত ধরে। 🥹❤️

আমি আপনার কাছে গিয়েছিলাম ৩৬ সপ্তাহে, এক বান্ধবীর রেফারেন্সে। এর আগে নরমাল ডেলিভারির জন্য অনেক ডাক্তার দেখিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ তেমন আশাবাদী ছিলেন না। আপনি ৩৬ সপ্তাহে আমাকে দেখে যখন বললেন, “তোমার নরমাল ডেলিভারি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, যেকোনো সময়ের জন্য প্রস্তুত থাকো,” তখন আপনার কথায় আমি এমন একটা ভরসা পেয়েছিলাম যে মনে মনে ঠিক করে ফেলেছিলাম—আমার ডেলিভারি ম্যাডামের হাতেই করাব।

দুই সপ্তাহ পর, ৩৮ সপ্তাহে, ঠিক সেটাই হলো।

ম্যাডাম, আপনি হয়তো প্রতিদিন অনেক মায়ের পাশে থাকেন, অনেক শিশুকে পৃথিবীতে আসতে সাহায্য করেন। আপনার কাছে হয়তো এটা আপনার পেশারই একটি অংশ। কিন্তু একজন মায়ের কাছে তার সন্তানের পৃথিবীতে আসার মুহূর্তটা জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্তগুলোর একটি।

আমার সেই মুহূর্তটার সঙ্গে আপনি জড়িয়ে আছেন।

তাই এই ছোট্ট চিঠিটা আসলে শুধু ধন্যবাদ বলার জন্য নয়—আপনাকে জানানো যে, আপনার প্রতি আমার এবং আমার পরিবারের কৃতজ্ঞতাটা সত্যিই অনেক গভীর। ❤️

আপনি সেদিন আপনার ছুটির দিনেও এসেছিলেন, আমাকে সাহস দিয়েছিলেন, আমার পরিবারকে আশ্বস্ত করেছিলেন, আর শেষ পর্যন্ত আমার বাবুকে নিরাপদে পৃথিবীতে আসতে সাহায্য করেছিলেন।

এই ঋণ হয়তো কোনোদিন শোধ করার নয়। শুধু মন থেকে দোয়া করি, আল্লাহ আপনাকে সবসময় ভালো রাখুন এবং আপনার হাত দিয়ে আরও অসংখ্য মা তাদের সন্তানকে নিরাপদে পৃথিবীতে স্বাগত জানানোর সুযোগ পান। 🤍

আর হ্যাঁ, শেষে আমার সেই বহুদিনের ছোট্ট কৌতূহলটা থেকেই গেল! 😊

ম্যাডাম, আমার ডেলিভারিটা আপনার কত নম্বর নরমাল ডেলিভারি ছিল?
খুব জানতে ইচ্ছে করে!

অনেক অনেক ভালোবাসা, দোয়া আর কৃতজ্ঞতা রইল। ❤️

ইতি,
আপনার নরমাল ডেলিভারির মা

08/09/2026

1025

খুব সুন্দর একটা চিঠি!!! অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা মিসেস শামসুন্নাহার 🥰 তোমাকে এত সুন্দর একটা চিঠি লেখার জন্য....... "আসসা...
04/09/2026

খুব সুন্দর একটা চিঠি!!! অনেক ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা মিসেস শামসুন্নাহার 🥰 তোমাকে এত সুন্দর একটা চিঠি লেখার জন্য.......

"আসসালামু আলাইকুম ম্যাডাম,,কয়েকদিন ধরেই আপনাকে মেসেজ দিবো ভাবছিলাম,,কিন্তু বাবুকে নিয়ে একটু সময় পাচ্ছিলাম না,,কিভাবে কিভাবে আপনার আন্তরিকতাপূর্ণ ব্যবহার,পরামর্শ আর চিকিৎসায় আমার নরমাল ডেলিভারি হলো আমি নিজেও বুঝলাম। একধরনের মিরাকলই বলা যায়,,আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এবং আপনার প্রতি আমি এবং আমার পরিবার সবাই খুব কৃতজ্ঞ।
একই সাথে আমার গল্প টা সবার সাথে শেয়ার করার জন্য ফেসবুকেও দিলাম
*আমার অবিশ্বাস্য নরমাল ডেলিভারির গল্প*

আমি আমার প্রেগ্ন্যাসির শুরু থেকেই নরমাল ডেলিভারির জন্য খুব বেশি ডিটারমাইন্ড ছিলাম না। ডাক্তারও অন্য একজনকে দেখাচ্ছিলাম আর একটু খবর রাখছিলাম নরমাল ডেলিভারির জন্য কোন ডাক্তার একটু চেষ্টা করে। এরমধ্যেই ২৬ সপ্তাহে আমার ডায়বেটিস ধরা পড়লো, আর কলিগদের কাছে থেকে ছন্দা ম্যাডামের সম্পর্কে শুনলাম। এরপর ম্যাডামের কাছে প্রথমবার যখন গেলাম তখন আমার প্রেগ্ন্যাসির ২৬ সপ্তাহ প্লাস,ডায়বেটিস, আমার ওয়েট ৯০ কেজি, আগের একটা মিসক্যারেজ, বয়স ৩১,থাইরয়েড এর প্রব্লেম প্রেগ্ন্যাসির শুরু থেকেই ছিল৷ ম্যাডাম আমাকে পরামর্শ দিলেন সুগার কন্ট্রোল করতে ইনসুলিন যত খুশি বাড়াতে পারি সাথে আমার ওয়েট ১০০ এর নিচে রাখতে যদি নরমালের চেষ্টা করতে চাইলে।শুরু হলো আমার চ্যালেঞ্জিং সময় নিয়মিত সুগার মনিটর আর ইনসুলিন ডোজ বাড়ানো ফাইনালি ইনসুলিন একটা ২০ করে তিনবার আরেকটা ৪০ পয়েন্ট করে নিতাম। এরমাঝে ৩২ সপ্তাহের পর থেকে প্রেসারও বেড়ে গেলো।নিয়মিত প্রেসারের ওষুধও খাওয়া শুরু করলাম। নরমালের আশা আমি মোটামুটি বাদই দিলাম। সর্বশেষ গত ২৬ আগস্ট আমার ৩৭ সপ্তাহ প্লাস এ ম্যাডামের কাছে নরমাল চেক আপে গেলাম। ম্যাডাম সব দেখে আমাকে আর আমার হাজব্যান্ডকে বললেন আমরা চাইলে এখনই ডেলিভারির জন্য প্রস্তুতি নিতে পারি অথবা আর সর্বোচ্চ একসপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারি। সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হবে,বাবুর ওয়েট বেড়ে যাচ্ছে। আর সাথে বললেন যে ওয়েট করলে আরেকটা আল্ট্রা করে আসতে। আমরা দুইজনই খুব কনফিউজড ছিলাম কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম আল্ট্রাটা অন্তত করি আজই আর ভর্তি না হয় আরও দুইদিন পরে হবো।পরে সেদিন আল্ট্রা করে ম্যাডাম কে রিপোর্ট পাঠালাম।ম্যাডাম নিজে আমাকে ফোন ব্যাক করে বললেন আর একদিনও ওয়েট করার সুযোগ নাই,বাচ্চার মুভমেন্ট কমে গেছে আগামীকাল সকাল ৭ টার মধ্যে ভর্তি হয়ে যেতে। আর বাচ্চার মাথার সাইজ প্লাস ওজন বেশি হওয়ায় আমার জন্য নরমালে চেষ্টা করাটা খুব রিস্কি হবে,,তবুও সিদ্ধান্ত আমাদের আমরা কি করব! তারপর সেই ২৭ তারিখ সকালে গিয়ে ভর্তি হলাম। আমরা পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নিয়ে গেলাম যে সরাসরি সিজারেই যাবো। কিন্তু যাওয়ার পর ম্যাডাম নিজের থেকে বললেন আমরা আপাতত ওষুধ দিয়ে শুরু করি। এরপরের গল্পগুলো লেবার রুমের ভিতরের গল্প।সকাল ৯ টা থেকে হালকা ব্যাথা শুরু হলো ১২ টা থেকে অসহনীয় ব্যাথা এর মাঝে প্রেসার বেড়ে ১৯০, বাচ্চার হার্টবিট কমে গেছে। ম্যাডাম ৩ টায় এসে বললেন আমি যদি আর একঘণ্টা একটু কোওপারেট করতে পারি তাহলে আমার নরমালে সম্ভব না হলে সিজারেই যেতে হবে। তারপরে বিকেল ৪ টা ০৩ মিনিটে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে ম্যাডামের ১০০৯ তম নরমালি ডেলিভারি হিসেবে আমারও মিরাকেল নরমালি ডেলিভারি হয়।
জানি না এই চমকপ্রদ নরমালি ডেলিভারি আল্লাহর রহমত আর ছন্দা ম্যাডাম এবং তার টিমের আন্তরিকতাপূর্ণ চেষ্টা ছাড়া সম্ভব হতো কি না। ম্যাডাম যে কি পরিমাণ রিস্ক নিয়েছিলেন সেটা অবিশ্বাস্য।
সব শেষে ম্যাডামের কাছে আমি এবং আমার পরিবারের সবাই খুব কৃতজ্ঞ!!!"

গতকাল বৃহস্পতিবারের  অমানবিক পরিশ্রম এবং অভাবনীয় সাফল্যের গল্প : # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # ...
28/08/2026

গতকাল বৃহস্পতিবারের অমানবিক পরিশ্রম এবং অভাবনীয় সাফল্যের গল্প :
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #

গতকাল আমাদের তত্ত্বাবধানে পাঁচ জনের 🥰মায়ের নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। প্রত্যেক মায়েরই সিজার হওয়ার যথেষ্ট কারণ ছিল।

স্রষ্টার ইচ্ছা, আপনাদের আশীর্বাদ, প্রসূতি মায়েদের এবং আমাদের টিমের প্রবল চেষ্টা, ধৈর্য, ইচ্ছায় সব কয়জন মায়েরই নরমাল ডেলিভারি হয়েছে। সবাই আজ শুক্রবার বাচ্চা সহ যার যার বাসায় চলে গেছেন।

ভোরে যখন পরপর চারজন মা ভর্তি হলেন তখনই ডাক্তার মেহনাজকে জানালাম আজকের ডেলিভারিগুলো এত সহজ নয়। যে কারো সিজার লাগতে পারে।সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলাম।

🥰কেস ১:
এই মায়ের প্রথম বাচ্চা আমাদের তত্ত্বাবধানেই ডেলিভারি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আল্ট্রাসনোগ্রামে বাচ্চার ওজন প্রায় সাড়ে তিন কেজি দেখা যায়। কিন্তু জরায়ুর মুখের তেমন কোন পরিবর্তন নেই। সকালবেলা ইন্ডাকশন শুরু হবার কিছুক্ষণ পরেই ব্যথা শুরু হলো এবং ধীরে ধীরে নরমাল ডেলিভারি হলো।

🙂আমাদের ভাবনা তখন :যাক বাবা একজনের তো অন্তত নরমাল ডেলিভারি হলো।

🥰কেস দুই :
এই মা হালকা কিছুটা ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছে।তবে ওর বাচ্চার ওজন সাড়ে তিন কেজির কাছাকাছি এবং মাথার সাইজ বেশ বড়। BPD 99।
ওর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রচুর পরিমাণে ইনসুলিন, সাথে উচ্চ রক্তচাপ এবং থাইরয়েডের সমস্যা আছে। আলট্রাসনোগ্রামে বাচ্চা নড়াচড়াও কম দেখাচ্ছে।
কোন উপায় না দেখে বৃহস্পতিবারই ভর্তি দেয়া হলো। হালকা ব্যথা আছে দেখে আমরা ব্যথা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলাম। দেখি কি হয়?

খুব সুন্দর করে ৩ কেজি ৩০০ গ্রামের একটা বাচ্চা নরমাল ডেলিভারি হলো।
😊আমাদের ভাবনা :যাক অন্তত দুজনের তো নরমাল ডেলিভারি হলো।

🥰কেস তিন :
এই মা ও ভর্তি হয়েছে কোন ধরনের ব্যথা ছাড়া এবং জরায়ুর মুখ বেশ মোটা। দুইটা ডোজের ওষুধ দেয়া হয়ে গিয়েছে।

এই মায়ের ডেলিভার নরমাল ডেলিভারির চান্স ফিফটি ফিফটি । ওষুধ দেবার পরে তিনবার বমি করা হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় মায়ের যখন ডেলিভারি করাচ্ছি তখন ওর মাঝে মাঝে ওর চিৎকার শোনা যাচ্ছে। দ্বিতীয় মায়ের ডেলিভারি করিয়ে ওকে চেক করাতে গিয়ে খুবই খুশি হয়ে যাই। জরায়ুর মুখ একদম পাতলা হয়ে এসেছে এবং সুন্দর করে খুলে যাচ্ছে। এই মাও খুব সুন্দর করে তার বাচ্চা নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে প্রসব করল।

😊আমাদের ভাবনা :যাক বাবা! তিনজন মায়ের নরমাল ডেলিভারি করে ফেললাম।একজনেরটা ব্যর্থ তো হতেই পারি ।

🥰কেস ৪ :পুরো প্রেগনেন্সিতে এই মায়ের গর্ভফুল নিচে ছিল।উনার প্রথম বাচ্চাও নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে হয়েছিল । কিন্তু ওই ডাক্তার এবার আর নরমাল ডেলিভারি করাতে নারাজ। একদম শেষে আমার কাছে আসল দেখাতে। আমার পছন্দের ম্যাডামের কাছে একটা USG করিয়েছিল। সেখানে দেখা যায় গর্ভফুল ২.৮ সেন্টিমিটার উপরে সরে গিয়েছে। কিন্তু আমাকে দেখানোর আগের দিন আলট্রাসনোগ্রাম আবার অন্য এক ম্যাডামকে দিয়ে করিয়েছে। উনি লিখেছেন গর্ভফুল ১.৫ সেন্টিমিটার উপরে। আমি বিশ্বাস করলাম না। বললাম যদিও তুমি গতকাল আলট্রাসনোগ্রাম করিয়েছো কিন্তু আমি আমার ম্যাডামকে দিয়ে আবার একটা আল্টাসনোগ্রাম করাতে চাই। ওরা রাজি হল।

আমার ম্যাডামকে দিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানোর পরে দেখা গেল জরায়ুর মুখ চার সেন্টিমিটার এর উপরে আছে। কিন্তু বাচ্চার ওজন সাড়ে তিন কেজির কাছাকাছি। জরায়ুর মুখ এখনো তেমনভাবে খুঁজে পাওয়া যায় না।

ওদের সাথে আলাপ করলাম।ব্যর্থ হবার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যদি তোমরা আমাকে সুযোগ দাও তাহলে আমি চেষ্টা করে দেখতে পারি।
চেষ্টা করলাম এবং ৩ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের বাচ্চা নরমাল ডেলিভারি হলো।
😊আমাদের ভাবনা :ওরে ফাটাফাটি!!! চারজনেরই নরমাল ডেলিভারি করে ফেললাম। এবার বাসায় গিয়ে আরামে একটা ঘুম দিব। সারাদিন যে পরিমাণে ধকল গেছে। ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমাবো। সকাল দশটার আগে উঠবো না।

🥰কেস ৫:
বাসায় আসা ঠিক আগ মুহূর্তে আমার এক আত্মীয়ের ফোন।
দিদি , লাবণ্যেরতো ব্যথা শুরু হয়েছে।
আমি কোনভাবে ঠেকাতে চাইলাম ভর্তি। বললাম বেশি ব্যথা না হলে ভর্তি হবার দরকার নেই। আগামীকাল সকালে ভর্তি হবে।ও জানালো রিস্ক নেবার দরকার নেই ভর্তি হয়ে থাক আজ রাতে। আপনি প্রয়োজনে সকালে যেটা করার করবেন।
একটু ব্যাকগ্রাউন্ডে যাই। এই মেয়েটার প্রায় ৩২ সপ্তাহ থেকে বাচ্চা হয়ে যায় হয়ে যায় অবস্থা। অনেক কষ্ট করে ওর বাচ্চাকে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। এক মাসের উপরে ওকে অফিসে যেতে দেয়া হচ্ছে না। এরকম অবস্থায় ও মানসিকভাবে প্রচন্ড বিপর্যস্ত।
ওর সিদ্ধান্ত । ওর পক্ষে আর নরমাল ডেলিভারির ধকল নেওয়া সম্ভব নয়। ও সিজার করবে। আমি বললাম ঠিক আছে।
কিন্তু রাত গভীর হতে হতে ওর ব্যথা বাড়তে থাকলো। রাত দুইটার সময় ফোন দিদি তাড়াতাড়ি চলে আসেন।
🙁আমার ভাবনা :আমার পক্ষে এখন কিভাবে সম্ভব হাসপাতালে যাওয়া!!
একটু পরেই ভাবনাটা উবে গেল।
ডাক্তার সানজিদাকে ফোন দিলাম। সানজিদা দ্রুত আমার জন্য অ্যাম্বুলেন্স পাঠাও।
ওর নরমাল ডেলিভারি করিয়ে রাত ৪ টায় বাসায় ফিরলাম।
তখন হাসপাতালে আরেক মা পানি ভেঙ্গে ভর্তি হয়েছে।
ফলে শুক্রবারে বেশি ঘুমানোর কোন উপায় নেই।

এভাবেই চলছে দিন কাল।

😜এবার আমার ভাবনা :আরে মেয়ে তুমি তো ভালই!!! নরমাল ডেলিভারি ও করাতে চাও! আবার ঘুমাতেও চাও!
তা তো সম্ভব না। হয় ঘুমাও এবং নরমাল ডেলিভারি বাদ দাও। অথবা নরমাল ডেলিভারি করাও আর ঘুমানো বাদ দাও ।
চিন্তায় আছি দুটোকে কিভাবে ব্যালেন্স করি।

🌺উপসংহার :যারা চেষ্টা করেন, স্রষ্টা তাদের প্রতি সহায় হোন।সব সময় না হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই হন ।

BPD 99গতকালের আলট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট। খুবই কনফিউজড ছিলাম আসলেই নরমাল ডেলিভারি হবে কিনা। আর নরমাল ডেলিভারি চেষ্টা করা উ...
27/08/2026

BPD 99
গতকালের আলট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট। খুবই কনফিউজড ছিলাম আসলেই নরমাল ডেলিভারি হবে কিনা। আর নরমাল ডেলিভারি চেষ্টা করা উচিতই কিনা।

আজকে ভর্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম পেশেন্টকে। দারুন একটা নরমাল ডেলিভারি হয়ে গেল।

যদিও ডেলিভারি শেষের দিকে আমার ও বেশ ভয় করছিল।ভুল সিদ্ধান্ত নিলাম না তো ।

এত সুন্দর ভাবে দ্রুততার সাথে নরমাল ডেলিভারি হয়ে গেল।

সকাল থেকে চারজন মায়ের নরমাল ডেলিভারি চেষ্টা শুরু করেছি।তিনজন মায়ের ডেলিভারি অলরেডি হয়ে গিয়েছে।
অপেক্ষা চতুর্থ মায়ের নরমাল ডেলিভারির।

বেশি বেশি আশীর্বাদ করেন যেন এই মা ও তাড়াতাড়ি নরমাল ডেলিভারি করাতে পারে।

কৃতজ্ঞতা আমার রোগীদের প্রতি। ভালবাসি তোমাদের।বাসে যেতে যেতে ও পাশের সিটের যাত্রীর সাথে নিজের ডেলিভারির গল্প গল্প করতে কর...
25/08/2026

কৃতজ্ঞতা আমার রোগীদের প্রতি। ভালবাসি তোমাদের।
বাসে যেতে যেতে ও পাশের সিটের যাত্রীর সাথে নিজের ডেলিভারির গল্প গল্প করতে করতে পাশের সিটের যাত্রী ও এখন আমার রোগী। কারন সেও প্রেগন্যান্ট। নরমাল ডেলিভারি চেষ্টা করতে চায়। আমাদের টিম অবশ্যই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। কারন চেষ্টাটাই শুধু আমাদের হাতে, ফলাফলের জন্য স্রষ্টা বা ভাগ্যের সাহায্য ও দরকার।

"Ma'am Surma name ek Apu k Apnar name suggest korechi. Uni age Apnar kotha janten na. Ekdin office theke ferar somoy bus e unar sathe amr porichoy howate Apnar kotha 1st Uni janlo. Tai uni last muhurte Apnar kache giyechen."

ছবিতে আমরা তিন ভাই বোন

আজ শুক্রবারের নরমাল ডেলিভারি :*********************************ওদের ঘরে এটা আমাদের নরমাল ডেলিভারি হওয়া দ্বিতীয় বাবু। এ...
21/08/2026

আজ শুক্রবারের নরমাল ডেলিভারি :
*********************************
ওদের ঘরে এটা আমাদের নরমাল ডেলিভারি হওয়া দ্বিতীয় বাবু। এই প্রসূতি মায়ের বড় জায়ের নরমাল ডেলিভারি ও হয়েছিল আমার কাছে।

যেহেতু ওদের ঘরে অলরেডি আমার কাছে হওয়া একজন নরমাল ডেলিভারির বাবু আছে তাই ওদের কাছে আমি প্রমাণিত ছিলাম।

গর্ভাবস্থার শুরু থেকেই আমাকে দেখাচ্ছিল। মাঝখানে রক্তশূন্যতা নিয়ে এবং বাচ্চার কম নড়াচড়া নিয়ে বেশ কিছু জটিলতা তৈরি হয়।

বাচ্চার নড়াচড়া কম থাকায় সিটিজি করতে হয়েছিল। এই প্রসূতি মা কেন জানি বাচ্চার নড়াচড়া খুব কম টের পেতো।
আমি সানলজিস্টকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এই মা কেন এত বাচ্চার নড়াচড়া কম টের পায়। বাচ্চার কোন অস্বাভাবিকতা আছে কিনা।

কিন্তু আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী বাচ্চা একদম ঠিক ছিল ।সুতরাং আমাদের সামনের দিকে এগোতে থাকলাম।

গতরাতে ঘুমাতে যাবার ঠিক আগের মুহূর্তে ভাবলাম whatsapp চেক করে দেখি কারো কোন সমস্যা আছে কিনা। রাত পৌনে দুইটা বাজে। এ প্রসূতিমা এসএমএস পাঠিয়েছে ওর ব্যথা হচ্ছে। আমি হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেই।

ওরা প্রায় রাত তিনটা নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছায়।
জরায়ুর মুখের পরিবর্তন খুব ভালো।সকাল নাগাদ পানি ভেঙ্গে দেয়া হলো। পানির রং পরিষ্কার। ব্যথা তীব্র হলো।
কোন ধরনের জটিলতা ছাড়া দুপুরে ১২:৩৭ মিনিটে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ২ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের বাবুর জন্ম হলো।

রোগীদের মনে প্রায় একটা প্রশ্ন থাকে। বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার তো চেম্বার বন্ধ। তাহলে রোগীদের প্রয়োজন হলে কি করবে?

আমার উত্তর :আপনাদের ম্যাডামের চেম্বার বন্ধ। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের সেবা দিতে সমস্যা নেই। এবং ম্যাডাম পপুলারের বাইরে কোথাও বা ঢাকার বাইরে কোথাও চেম্বার করেন না। সে ক্ষেত্রে ম্যাডামকে অধিকাংশ সময়েই পাওয়া যায়। এছাড়া এই ম্যাডামের আরেকটা সুবিধা, সুযোগ পেলেই তিনি হোয়াটসঅ্যাপের এসএমএস চেক করেন। সুতরাং ম্যাডামের সাথে সরাসরি এসএমএস এর মাধ্যমে যোগাযোগ করার সুযোগ আছে।

সুতরাং আপনারা যদি আমাদেরকে প্রসূতি মায়েদের সেবা করার সুযোগ দেন সে ক্ষেত্রে আমরা সাধ্যমত তাদের সেবা দেয়ার চেষ্টা করব।

খুব সুন্দর একটা চিঠি মিসেস  রুবায়েত শারমিনের 🥰কাছ থেকে।অনেক অনেক ভালোবাসা আর ধন্যবাদ মিসেস রুবায়েত শারমিন তোমাকে। দুই ...
19/08/2026

খুব সুন্দর একটা চিঠি মিসেস রুবায়েত শারমিনের 🥰কাছ থেকে।

অনেক অনেক ভালোবাসা আর ধন্যবাদ মিসেস রুবায়েত শারমিন তোমাকে। দুই বাচ্চা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকার পরও
তুমি যে আমাকে এত সুন্দর একটা চিঠি পাঠিয়েছো।

আমার কাজের জন্য এই চিঠি গুলোর চেয়েও বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক আর কিছু হতে পারে না।

ম্যাডাম,
আমি চাই আপনি আমার গল্পটাও প্রকাশ করুন।
আমি আপনার এক হাজার গল্প পূরণ হওয়ার দুইটি গল্পের অংশ। ৯২৬ এবং ১৮৬ দুইটা গল্পই আমার এবং আপনার। আপনার থেকে যে ভালবাসা পেয়েছি এটা কখনোই ভুলে যাবার নয়। আপনার কাছে অনেক বেশি কৃতজ্ঞ,কিভাবে ধন্যবাদ জানাবো তা আসলে জানা নেই। আমার প্রথম বেবিটা হয়েছে নরমালে ২০২৩ শে অক্টোবরের ৪ তারিখ। আর দ্বিতীয় বেবিটা হলো এই রমজান মাসে ১৮ মার্চ। দুইটা জার্নিতেই আপনার দেয়া সাহস, আপনার এডভাইস গুলো অনেক কাজে এসেছে। আপনার মত এত সুন্দর করে হাসি দিয়ে কোন ডাক্তারকেই আমি দেখি না কথা বলতে।

এবার আমার বাসা হাজবেন্ডের জবের পোস্টিং এর জন্য নরসিংদীতে ছিল। আমি আমার ৩৬ সপ্তাহে তাই বাবার বাসায় এসে পড়ি। আপনি আমাকে বলেছিলেন যেন যাতায়াত না করি বাকিটা সময় আপনার সাথে আমি অনলাইনে দেখাতাম।৩৭ সপ্তাহে আপনার কাছে যাই বলেন নেক্সট উইকে আবার যেন আসি। আমি ১৭ তারিখ আপনার কাছে গেলাম সন্ধ্যায়। ফাইন্ডিংস অনেক ভালো পাওয়ার পর আপনি বললেন ১৮ তারিখ সকালেই যেন ভর্তি হই। আমি অনেক দ্বিধায় ছিলাম যে হব, নাকি হবো না। আপনার কথামতোই যা বললেন তাই হল, সকালের মধ্যেই আমার পানি ভেঙে গেল এবং আমি সাড়ে নয়টায় ভর্তি হলাম আর আল্লাহর রহমতে বারোটায় আমার পুত্র সন্তান হলো। আমার বেবির গলাতে নাড়ো পেচিয়েছিল। তারপরও আল্লাহর রহমতে নরমালেই হলো কারণ আপনি পাশে ছিলেন। আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ। আর আগের বার ২০২৩এ প্রায় ১৬ ঘণ্টার মতো ডেলিভারি পেইন ছিল অন্য কোন ডক্টর হলে আমাকে অবশ্যই সিজার করাতো। কিন্তু আপনি আমাকে অনেক সাহস দিয়েছিলেন আল্লাহর রহমতে রাত সাড়ে আটটায় আমার মেয়ে হয়েছিল। আপনার কাছে চির কৃতজ্ঞ এবং অনেক ভালোবাসার একজন মানুষ আপনি। 😍আল্লাহ আপনাকে অনেক ভালো রাখুক। 🥰

অনেক আদরের রোগী মিসেস  অর্থির🥰 কাছ থেকে পাওয়া খুব সুন্দর একটা চিঠি..... ও ওর পুরো প্রেগনেন্সিতে কত শতবার যে আমাকে স্বপ্...
18/08/2026

অনেক আদরের রোগী মিসেস অর্থির🥰 কাছ থেকে পাওয়া খুব সুন্দর একটা চিঠি..... ও ওর পুরো প্রেগনেন্সিতে কত শতবার যে আমাকে স্বপ্নে দেখেছে.....

অনেক অনেক ধন্যবাদ আর ভালোবাসা মিসেস অর্থী তোমাকে এত সুন্দর একটা চিঠি পাঠানোর জন্য 🥰🥰

নমস্কার ম্যাম,
কেমন আছেন? মেয়ে, সংসার নিয়ে এখন মহাব্যস্ত। কতদিন যাবত ভাবছি ম্যামকে চিঠি লিখব ব্যস্ততায় হচ্ছিল না।
ম্যাম প্রথমত আমি একটা কথাই বলব আমি আপনাকে প্রচন্ড মিস করি, আগে রেগুলার স্বপ্ন দেখতাম আপনাকে এখন তো রাতে ঘুমাইই না স্বপ্ন কিভাবে দেখব! সেই নভেম্বরের এক তারিখ থেকে আপনার সান্নিধ্যে থাকা শুরু প্রতিমাসে আমি অপেক্ষায় থাকতাম আপনার কাছে যাওয়ার জন্য, যদিও আপনার কাছে গেলেই কেন জানি আমার প্রেশারটা বেড়ে যেতো। প্রেগ্ন্যাসিতে ডাক্তার হিসাবে আপনাকে বেছে নেয়া ছিলো আমাদের জন্য ব্লেসিং, অযথা কোনো মেডিসিন দেননি, টেস্ট দেননি, কখনো ভয় পাবো এমন কিছু বলেননি, যদিও শেষমেশ আপনার নরমাল ডেলিভারির একজন হবার সুযোগ আমার হলো না এতে বোধহয় আমার থেকে আপনার আফসোস বেশি ছিলো বারবার বলছিলেন তোমার মেয়ের এতো তাড়া ছিলো পটি না করলে নরমালে ট্রাই করা যেতো, আমার লাস্ট পিভি টেস্টে অনেক চেষ্টার পর যখন দেখলেন জরায়ু মুখের খুব একটা উন্নতি নাই আমি তাতে যতটা ব্যাথা পেয়েছিলাম আপনি বোধহয় তার থেকে বেশি অনুভব করেছিলেন, বারবার বলছিলেন মেয়েটাকে আজকে ভীষণ ব্যাথা দিয়ে ফেলছি। লাস্ট ফলোআপে পিভিচেক+ আল্ট্রায় বাবুর ওজন বেশি ওজন বেশি দেখে আপনি সার্বিক অবস্থা আমাদের বুঝালেন এঅবস্থায় নরমালে ট্রাই করলে কি কি অসুবিধা হতে পারে, তারপরও বললেন এক সপ্তাহ দেখি কি হয়, আপনার সিদ্ধান্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দেননি, বরং আমরাই বলেছিলাম যাতে আমার এবং বেবির ভালো হবে আপনি তাইই করবেন।
আমার ইমার্জেন্সি ওটি করতে হলো, সবকিছু এতো দ্রুত হচ্ছিল নার্ভাস হবার অবকাশ পাইনি, তবুও এনেস্থিসিয়া নিয়ে একটু ভয় করছিলো, আপনি কি পরম স্নেহে আমায় জড়িয়ে ধরে ছিলেন তখন, অপারেশন শেষে আপনি আমার মাথায় হাত রেখে বললেন সব ঠিক আছে আগামীকাল সকালে দেখা হবে।
ম্যাম, এই প্রেগ্ন্যাসির জার্নিতে আমি আপনাকে অনেক জ্বালিয়েছি, দিন নাই রাত নাই কিছু একটু হলেই টেক্সট করতাম আপনি সাথে সাথে না পারলেও সবসময় রেসপন্স করেছেন।
ম্যাম সবকিছুর জন্য অনেক বেশি ধন্যবাদ, আমাদের আশীর্বাদে রাখবেন আর আপনিও ভালো থাকবেন, আপনার ওই হাসিটা যেনো সারাজীবন অমলিন থাকে।
-অর্থী

Address

Dhaka
1207

Opening Hours

Monday 09:00 - 20:00
Tuesday 09:00 - 20:00
Wednesday 09:00 - 20:00
Thursday 09:00 - 20:00
Saturday 09:00 - 20:00
Sunday 09:00 - 20:00

Telephone

01933452057

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Chhanda Majumder posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Chhanda Majumder:

Shortcuts

Share

Category