Marriage and Divorce Counseling Centre

Marriage and Divorce Counseling Centre বিবাহ এবং তালাক সম্পর্কিত তথ্য জানতে চলে আসুন আমার পেইজে এবং লাইক কমেন্ট করে সাথে থাকুন...

28/07/2026

এক ব্যক্তি একটি মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে গেল।
শরীয়াহ সম্মত দেখাশোনার সময় মেয়েটি তাকে জিজ্ঞেস করল,
-আপনি কুরআনের কতটা মুখস্থ করেছেন?
ছেলেটি বলল, -আমি তেমন কিছু মুখস্থ করতে পারিনি, কিন্তু আমি সত্যিই একজন সৎ বান্দা হতে চাই।
তারপর ছেলেটি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করল,
— আর আপনি?
মেয়েটি বলল, — আমি ‘জুজ আম্মা (সূরা আন-নাবা থেকে আন-নাস পর্যন্ত) ’ মুখস্থ করেছি।

এবং মেয়েটি প্রস্তাব মেনে নিল, কারণ সে অনুভব করেছিল যে ছেলেটি সত্যিই একজন সৎ মানুষ।
বিয়ের পর মেয়েটি স্বামীকে বলল,— তুমি কি আমাকে পুরো কোরআন মুখস্থ করিয়ে দেবে?

স্বামী উত্তর দিল,
— সমস্যা নেই, আমরা একসাথে মুখস্থ করি।
তারা সূরা মারিয়ম দিয়ে মুখস্থ শুরু করল।
এরপর একে একে সূরাগুলো মুখস্থ করতে করতে শেষ পর্যন্ত সে স্বামীর সামনে পুরো কোরআন খতম করল।
তারা দুজনেই হিফজ সম্পন্ন করল এবং ইজাজাহও (সার্টিফিকেট) লাভ করল।
পরে মেয়েটি প্রস্তাব দিল,
— "আমরা কি এবার সহীহ বুখারীর হাদিস মুখস্থ শুরু করতে পারি?"

একদিন স্ত্রীর বাবার বাড়ি সফরে গিয়ে স্বামী বলল,
— আলহামদুলিল্লাহ, আপনার মেয়ে পুরো কুরআন মুখস্থ করেছে।

এ কথা শুনে শ্বশুর অবাক হলেন।
তিনি মেয়ের ঘর থেকে অনেকগুলো কাগজপত্র নিয়ে এসে জামাতার সামনে রাখলেন।
আর স্বামী তো হতবাক!

স্ত্রী আসলে বিয়ের আগেই পুরো কুরআন এবং কুতুবুস সিত্তাহ (বুখারী,মুসলিম, নাসাঈ,আবু দাউদ, তিরমিজি, ইবনে মাজাহ) মুখস্থ করেছিল।

“সুবহানাল্লাহ! স্বামীর জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে সে শুরুতেই তাকে লজ্জায় ফেলেনি। বরং যখন অনুভব করল সে একজন সৎ মানুষ, তখন তার পাশে দাঁড়িয়ে নিজে যেমন মুখস্থ করেছে, তেমনি তাকেও মুখস্থ করতে সাহায্য করেছে।”
এবং যখন বলেছিল, “আমি জুজ আম্মা (৩০ তম পারা) মুখস্থ করেছি,” তখন মিথ্যা বলেনি — কারণ বাকি অংশ মুখস্থের কথা সে অস্বীকারও করেনি।

হে আল্লাহ! যদি আমরা সৎ না হই, তবে আমাদের এমন সৎ জীবনসঙ্গী দিন, যারা আমাদেরকে আপনার নিকটবর্তী করবে। আর আমাদেরকেও সৎ বানিয়ে দাও।

07/07/2026

❝বিয়ে করার আগে শুধু মানুষটাকে দেখবেন না। যে পরিবার তাকে বড় করেছে, সেই পরিবারকেও দেখুন।❞

ভালোবাসা অনেক সময় red flag ঢেকে দেয়। কিন্তু একটা পরিবারের culture অনেকটাই বলে দেয় বিয়ের পর সেখানে সম্মান, দায়িত্ব আর সম্পর্ক কীভাবে চলবে।

আমি কয়েকটা বিষয় সবসময় observe করতে বলি

১. এই পরিবারে ছেলেদের accountability শেখানো হয়, নাকি excuse দেওয়া হয়?

যদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের রাগ, অলসতা, মিথ্যা, প্রতারণা বা অসম্মানকে বারবার বলা হয়,
“ছেলেরা এমনই,”
তাহলে বিয়ের পর সে হঠাৎ বদলে যাবে এমন আশা করা বাস্তবসম্মত নয়।

ইসলাম পুরুষকে দায়িত্ব দিয়েছে, অজুহাত নয়।

২. এই পরিবারে পুত্রবধূকে কি পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখা হয়, নাকি শুধু কাজ করার মানুষ হিসেবে?

যদি তাকে শুধু রান্না, সেবা আর ত্যাগের জন্য মূল্য দেওয়া হয়, কিন্তু সম্মান না দেওয়া হয়
তাহলে সেটা পারিবারিক ভালোবাসা নয়, সেটা অন্যায়।

ইসলামে স্ত্রী কোনো গৃহকর্মী নন।
তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত।

৩. ছেলে কি নিজের সিদ্ধান্ত নিতে পারে?

মা-বাবাকে ভালোবাসা ফরজ।

কিন্তু স্ত্রীকে তার প্রাপ্য অধিকার না দিয়ে সব সিদ্ধান্ত অন্যের হাতে ছেড়ে দেওয়া ইসলামের শিক্ষা নয়।

একজন উত্তম স্বামী একই সঙ্গে বাবা-মায়ের হকও আদায় করেন, স্ত্রীর হকও আদায় করেন।

৪. পরিবারে অন্যায় হলে সবাই কি সত্যের পাশে দাঁড়ায়, নাকি শুধু নিজের ছেলের পাশে?

অনেক সময় অন্যায়কে টিকিয়ে রাখে পরিবারেরই কিছু সদস্য।

মনে রাখবেন,
এটা নারী বনাম পুরুষের বিষয় নয়।

এটা ন্যায় বনাম পক্ষপাতের বিষয়।

আল্লাহ আমাদের শিখিয়েছেন প্রিয় মানুষের বিরুদ্ধেও ন্যায়ের সাক্ষ্য দিতে।

৫. এই পরিবারে মানুষের নিরাপত্তা বড়, নাকি সমাজে “মান-সম্মান”?

যদি প্রতিটি সমস্যা লুকিয়ে রাখা হয় শুধু মানুষ কী বলবে এই ভয়ে,
তাহলে সেখানে healing খুব কঠিন।

ইসলাম মানুষের ইজ্জত রক্ষা করতে বলে,
কিন্তু কখনোই জুলুম সহ্য করে চুপ থাকতে বলে না।

তবে একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ…

সব কঠিন শাশুড়ি খারাপ নন।

সব মা-ছেলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক অসুস্থ নয়।

সব যৌথ পরিবার toxic নয়।

কিন্তু যদি একটি পরিবার বারবার অন্যায়কে স্বাভাবিক করে, জবাবদিহি এড়িয়ে যায়, আর একজন মানুষের কষ্টকে তুচ্ছ করে তাহলে সেটা অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে ভাবার বিষয়।

বিয়ে শুধু দুইজন মানুষের মিলন নয়।

এটা দুইটা value system এর মিলন।

এমন পরিবার খুঁজুন, যারা মানুষের ভয় নয় আল্লাহকে বেশি ভয় করে।

কারণ যারা আল্লাহকে ভয় করে,
তারা ভুল করলে ক্ষমা চায়,
দায়িত্ব নেয়,
নিজেকে সংশোধন করে,
এবং ন্যায়বিচারকে আত্মীয়তার উপর প্রাধান্য দেয়।

শেষে একটা কথাই বলব

সেরা পরিবার সেইটা নয় যাদের সবচেয়ে বেশি টাকা আছে।

সেরা পরিবার সেইটা নয় যাদের সমাজে সবচেয়ে বেশি সম্মান আছে।

সেরা পরিবার সেইটা, যেখানে তাওবা লজ্জার নয়, জবাবদিহি স্বাভাবিক, রহমত বাস্তব, আর আল্লাহর বিধান সংস্কৃতি বা অহংকারের চেয়ে বড়।

সেখানেই সুস্থ, নিরাপদ এবং বরকতময় দাম্পত্য গড়ে ওঠে।

13/06/2026

🔰কাবিননামার ১৮ নম্বর কলম: একটি ছোট্ট ঘর, কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অধিকারঃ

আমি প্রায়ই লক্ষ্য করি, আমাদের দেশে বিয়ের সময় কাবিননামার বিভিন্ন শর্ত না পড়েই অনেকেই স্বাক্ষর করে ফেলেন। বিশেষ করে কাবিননামার ১৮ নম্বর কলমটি নিয়ে অধিকাংশ মানুষই সচেতন নন। অথচ এই একটি কলম ভবিষ্যতে স্বামী-স্ত্রীর অধিকার ও পারিবারিক জীবনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কাবিননামার ১৮ নম্বর কলমে মূলত উল্লেখ করা হয়, স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক প্রদানের ক্ষমতা (Delegated Divorce/Talaq-e-Tafweez) অর্পণ করছেন কি না। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এই কলমে যদি নির্দিষ্টভাবে সেই ক্ষমতা প্রদান করা হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী স্ত্রীও নির্ধারিত শর্তে নিজ উদ্যোগে বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটানোর অধিকার পেতে পারেন। অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন, তালাক দেওয়ার ক্ষমতা শুধু স্বামীরই থাকে। কিন্তু মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, স্বামী চাইলে কাবিননামার মাধ্যমে সেই ক্ষমতা স্ত্রীর কাছেও অর্পণ করতে পারেন।

দুঃখজনক হলেও সত্য, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিয়ের সময় ১৮ নম্বর কলমটি ফাঁকা রাখা হয় অথবা না বুঝেই “না” লিখে দেওয়া হয়। অনেক কনে, এমনকি তাদের পরিবারও জানেন না যে এই কলমের আইনি গুরুত্ব কতখানি। আবার অনেক বরও না বুঝেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। ফলে ভবিষ্যতে কোনো জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এই বিষয়টি নিয়ে অনেকে আফসোস করেন।

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে—১৮ নম্বর কলমে “হ্যাঁ” থাকলেই যে স্ত্রী যেকোনো সময় যেকোনো কারণে তালাক দিতে পারবেন, বিষয়টি এতটা সরল নয়। কাবিননামায় উল্লেখিত শর্ত এবং প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করেই সেই অধিকার প্রয়োগ করতে হয়। তাই এই বিষয়টি সম্পর্কে সঠিক আইনি ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

আমার ব্যক্তিগত পরামর্শ হলো, বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে কাবিননামার প্রতিটি কলম মনোযোগ দিয়ে পড়ুন এবং বুঝে নিন। বিশেষ করে ১৮ নম্বর কলমটি সম্পর্কে সচেতন থাকুন। কারণ একটি স্বাক্ষর হয়তো কয়েক সেকেন্ডে করা যায়, কিন্তু সেই স্বাক্ষরের আইনি প্রভাব অনেক বছর পর্যন্ত বহাল থাকতে পারে।

🍃 পরকীয়ায় নারী কেন জড়িয়ে পড়ে? অনেক নারী সংসারে থেকেও মানসিকভাবে একা অনুভব করেন। স্বামী যদি স্ত্রীর অনুভূতি, কথা ও চ...
08/06/2026

🍃 পরকীয়ায় নারী কেন জড়িয়ে পড়ে?

অনেক নারী সংসারে থেকেও মানসিকভাবে একা অনুভব করেন। স্বামী যদি স্ত্রীর অনুভূতি, কথা ও চাহিদার প্রতি উদাসীন হন, তাহলে তার হৃদয়ে শূন্যতা তৈরি হতে পারে।
মানসিক অবহেলা ও একাকীত্ব

পরকীয়া (যি*না ও তার দিকে নিয়ে যায় এমন সম্পর্ক) ইসলাম ধর্মে একটি বড় কবিরা গুনাহ। তবে ইসলাম শুধু গুনাহকে নিষিদ্ধ করেনি, বরং সেই গুনাহের পেছনের কারণগুলোও চিহ্নিত করেছে এবং সমাধানের পথ দেখিয়েছে।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
"তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে তার স্ত্রীর প্রতি সর্বোত্তম আচরণ করে।"

ভালোবাসা ও সম্মানের অভাব
প্রত্যেক নারী ভালোবাসা, সম্মান ও মূল্যায়ন কামনা করে। যখন দাম্পত্য জীবনে এগুলোর অভাব দেখা দেয়, তখন শয়তান মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিতে চেষ্টা করে।

আল্লাহ বলেন:
"আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ।"
— (সূরা আল-ইসরা ১৭:৩২)

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার
বর্তমান যুগে ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মাধ্যমে পরপুরুষ ও পরনারীর সঙ্গে সহজ যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেক সময় একটি সাধারণ কথোপকথন ধীরে ধীরে হারাম সম্পর্কের দিকে নিয়ে যায়।

দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দাম্পত্য সমস্যা
অপমান, অবহেলা, ঝগড়া-বিবাদ বা নি*র্যাতনের কারণে একজন নারী মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারেন। তবে ইসলাম শেখায়—কষ্টের সমাধান হারাম সম্পর্কে নয়, বরং আল্লাহর সাহায্য, ধৈর্য ও শরিয়তসম্মত উপায়ে।

ঈমানের দুর্বলতা
যে কোনো পাপের মূল কারণগুলোর একটি হলো আল্লাহভীতি কমে যাওয়া। যখন মানুষ মনে রাখে না যে আল্লাহ সবকিছু দেখছেন, তখন সে সহজেই শয়তানের ধোঁকায় পড়ে যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ কথা

পরকীয়া কখনোই সমস্যার সমাধান নয়। স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই দায়িত্ব একে অপরকে ভালোবাসা, সম্মান ও সময় দেওয়া। তবে অবহেলা বা কষ্ট কোনো অবস্থাতেই হারাম সম্পর্ককে বৈধ করে না।

সমাধান কী?

✅ নিয়মিত সালাত ও আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করা
✅ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে খোলামেলা যোগাযোগ রাখা
✅ একে অপরকে সময় ও গুরুত্ব দেওয়া
✅ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকা
✅ দাম্পত্য সমস্যায় ইসলামি পরামর্শ গ্রহণ করা
✅ আল্লাহর ভয়ে হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা

🌷 শেষ কথা
পরকীয়া নারী বা পুরুষ—কারো জন্যই সম্মানজনক নয়। একজন মানুষ অবহেলা, কষ্ট বা একাকীত্বের কারণে দুর্বল হতে পারে, কিন্তু একজন মুমিনের পথ হলো আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া, হারামের দিকে নয়। তাই আমাদের উচিত একে অপরকে ভালোবাসা, সম্মান ও দ্বীনের পথে সহযোগিতা করা, যাতে পরিবারে শান্তি ও বরকত প্রতিষ্ঠিত হয়।

🌺 স্বামীকে পরকীয়ার ফিতনা থেকে রক্ষা করতে স্ত্রীর করণীয়ঃ-পরকীয়া শুধু একটি পাপ নয়; এটি পরিবার, দাম্পত্য ভালোবাসা এবং প...
08/06/2026

🌺 স্বামীকে পরকীয়ার ফিতনা থেকে রক্ষা করতে স্ত্রীর করণীয়ঃ-

পরকীয়া শুধু একটি পাপ নয়; এটি পরিবার, দাম্পত্য ভালোবাসা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেয়। ইসলাম নারী-পুরুষ উভয়কেই দৃষ্টি সংযত রাখা, চরিত্রের পবিত্রতা রক্ষা করা এবং বৈধ সম্পর্কের প্রতি বিশ্বস্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।

একজন নেককার স্ত্রী তার উত্তম চরিত্র, প্রজ্ঞা ও ভালোবাসার মাধ্যমে স্বামীকে ঘর ও পরিবারের প্রতি আরও আকৃষ্ট রাখতে পারেন।

১) ঘরে দ্বীনি পরিবেশ গড়ে তুলুন
কুরআন তিলাওয়াত, সালাত, যিকির ও ইসলামী আলোচনা ঘরে বরকত নিয়ে আসে। যে ঘরে আল্লাহর স্মরণ থাকে, সেখানে শয়তানের কুমন্ত্রণা দুর্বল হয়ে যায়।

২) স্বামীর বৈধ হক আদায়ে যত্নশীল হোন
ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক অধিকারের ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। একে অপরের চাহিদা ও অনুভূতির প্রতি যত্নশীল হওয়া সম্পর্ককে দৃঢ় করে।

৩) ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ করুন
অনেক সময় একটি সুন্দর কথা, আন্তরিক প্রশংসা বা হাসিমুখ সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে। ভালোবাসা প্রকাশে কার্পণ্য করবেন না।

৪) পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যের প্রতি খেয়াল রাখুন
স্বামীর সামনে পরিপাটি ও সুন্দরভাবে নিজেকে উপস্থাপন করা ইসলামী আদবের অন্তর্ভুক্ত। এটি দাম্পত্য জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৫) ঝগড়া-বিবাদ ও অপমান থেকে বিরত থাকুন
রাগের মাথায় বলা কটু কথা হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। মতভেদ হলেও নম্রতা ও সুন্দর আচরণের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করুন।

৬) ভালো সঙ্গের প্রতি উৎসাহিত করুন
সৎ ও দ্বীনদার বন্ধু মানুষকে কল্যাণের পথে রাখে। তাই স্বামীকে নেককার মানুষের সান্নিধ্যে থাকতে উৎসাহ দিন।

৭) সন্দেহ নয়, বিশ্বাসের পরিবেশ গড়ুন
অমূলক সন্দেহ অনেক সময় সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করে। পারস্পরিক আস্থা ও স্বচ্ছতা একটি সুখী সংসারের ভিত্তি।

৮) সংসারকে শান্তির নীড় বানান
দিন শেষে স্বামী যেন ঘরে ফিরে প্রশান্তি অনুভব করেন। ভালো ব্যবহার, আন্তরিকতা ও হাসিমুখ ঘরকে সুখময় করে তোলে।

৯) একসাথে ইবাদত করুন
স্বামী-স্ত্রী একসাথে সালাত আদায়, কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী জ্ঞানচর্চা করলে হৃদয়ের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।

১০) স্বামীর জন্য বেশি বেশি দোয়া করুন
মানুষের অন্তর আল্লাহর হাতেই। তাই স্বামীর ঈমান, তাকওয়া, চরিত্রের পবিত্রতা ও হিদায়াতের জন্য নিয়মিত দোয়া করুন।

🌺 মনে রাখবেন
পরকীয়া থেকে বেঁচে থাকার দায়িত্ব শুধু স্ত্রীর নয়; স্বামীরও কর্তব্য আল্লাহকে ভয় করা, নিজের দৃষ্টি হেফাজত করা এবং হারাম সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা।

যে দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি হয় তাকওয়া, ভালোবাসা, সম্মান ও বিশ্বস্ততার উপর, সেই সংসারেই নেমে আসে আল্লাহর রহমত ও বরকত।

🤲 আল্লাহ আমাদের পরিবারগুলোকে পরকীয়া, অশ্লীলতা ও সকল ফিতনা থেকে হেফাজত করুন। ( আমীন )

26/05/2026

স্ত্রীর হক নষ্ট করার ভয়াবহ পরিণতিঃ-

ইসলামের আলোকে কিছু হৃদয়স্পর্শী কথাঃ

অনেক মানুষ মনে করেন,
❝আমি তো সংসারের খরচ দিচ্ছি, তাই দায়িত্ব শেষ।❞
কিন্তু ইসলাম শুধু ভরণ-পোষণের কথা বলেনি; বরং দাম্পত্য সম্পর্ককে ভালোবাসা, সম্মান ও দয়ার উপর প্রতিষ্ঠিত করেছে।

একজন স্ত্রী শুধু ঘরের মানুষ নন; তিনি একজন অনুভূতিশীল মানুষ, একজন আমানত, একজন সঙ্গী — যার হক আদায় করা স্বামীর ঈমানি দায়িত্ব।

▪️১. স্ত্রী আপনার অধীন নয়, আপনার দায়িত্ব

আল্লাহ তাআলা স্ত্রীকে স্বামীর জন্য শান্তি ও সঙ্গী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।
তাকে অপমান করা, অবহেলা করা বা ছোট করা কখনোই পুরুষত্বের পরিচয় নয়; বরং এটি দায়িত্বহীনতার লক্ষণ।

যে স্বামী স্ত্রীর অনুভূতিকে মূল্য দেয় না, সে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের কদর করে না।

▪️২. কোমল আচরণ সুন্নাহ

রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ, অথচ তিনি পরিবারের সাথে সবচেয়ে কোমল আচরণ করতেন।

তিনি কখনো স্ত্রীদের অপমান করেননি, কঠোর ভাষায় আঘাত দেননি।
বরং হাসিমুখে কথা বলা, ভালোবাসা প্রকাশ করা ও ভুল ক্ষমা করা ছিল তাঁর চরিত্র।

▪️৩. স্ত্রীর কান্না অবহেলা করবেন না

অনেক স্ত্রী মুখে কিছু না বললেও অন্তরে ভেঙে পড়েন।
তাদের নীরব কান্না, দীর্ঘশ্বাস ও কষ্ট আল্লাহর কাছে গোপন থাকে না।

মজলুমের দোয়ার মাঝে কোনো পর্দা নেই।
আর জুলুম যদি নিজের ঘরের মানুষের উপর হয়, তবে তার ভয়াবহতা আরও বেশি।

▪️৪. সংসারে শান্তি আসে সম্মান থেকে

শুধু টাকা-পয়সা দিয়ে সুখী পরিবার গড়া যায় না।
যেখানে সম্মান নেই, সেখানে ভালোবাসাও টেকে না।

একজন স্ত্রী সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা অনুভব করেন স্বামীর ভাষা, আচরণ ও ব্যবহারে।
কঠিন কথা অনেক সময় এমন ক্ষত তৈরি করে, যা বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে হয়।

▪️৫. স্ত্রীর হক কিয়ামতে আদায় করতে হবে

অনেক মানুষ নফল ইবাদতে মনোযোগী হলেও পরিবারের হক নষ্ট করেন।
কিন্তু কিয়ামতের দিন মানুষের হক আগে আদায় হবে।

স্ত্রীর উপর করা অন্যায়, অপমান বা মানসিক কষ্ট— সবকিছুর হিসাব দিতে হবে আল্লাহর দরবারে।

▪️৬. ভালো স্বামী হওয়াও ইবাদত

একজন স্বামী যখন স্ত্রীর কষ্ট বোঝার চেষ্টা করেন, তার পাশে দাঁড়ান, তার ভুল ক্ষমা করেন — তখন সেটিও ইবাদত হয়ে যায়।

স্ত্রীর মুখে হাসি ফোটানো, তাকে সম্মান দেওয়া, তার মন ভালো রাখার চেষ্টা করা — এসব ছোট কাজও আল্লাহর কাছে অনেক মূল্যবান।

▪️৭. ভয় নয়, ভালোবাসাই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে

যে সংসারে স্ত্রী স্বামীর আচরণে আতঙ্কিত থাকে, সেখানে ধীরে ধীরে রহমত কমে যায়।

ইসলাম এমন সম্পর্ক চায়, যেখানে দু’জন দু’জনের পোশাকের মতো হবে — নিরাপত্তা দেবে, আড়াল করবে, শান্তি দেবে।

▪️৮. একজন নেককার স্বামীর পরিচয়

নেককার স্বামী সেই ব্যক্তি নন, যিনি শুধু বাইরের মানুষের কাছে ভালো।
বরং প্রকৃত উত্তম মানুষ তিনি, যিনি ঘরের মানুষের কাছেও উত্তম।
কারণ পরিবারের সাথে আচরণই একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করে।

🔹 মনে রাখবেন—
স্ত্রীকে কষ্ট দিয়ে কখনো প্রকৃত সুখ পাওয়া যায় না।
একজন নারীর ভাঙা মন অনেক সময় পুরো সংসারের বরকত কমিয়ে দেয়।

🔹 নিজেকে প্রশ্ন করুন—
আমার স্ত্রী কি আমার উপস্থিতিতে শান্তি অনুভব করে, নাকি ভয় ও কষ্ট?

কারণ একজন মানুষ বাইরে যতই ভালো হোক,
যদি ঘরের মানুষ তার আচরণে কষ্ট পায় — তবে সেই ভালোত্ব অসম্পূর্ণ।

💌 স্ত্রীকে ভালোবাসুন, সম্মান করুন, তার অনুভূতিকে মূল্য দিন।
এতে শুধু সংসারই সুন্দর হয় না, আল্লাহর কাছেও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।

( হাদিস )

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সন্মান প্রদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এই মর্যাদার কথা ইসলাম নিজে ঘোষণা করেছে। প্রিয় নবী (ﷺ) ...
23/04/2026

স্বামীর প্রতি স্ত্রীর সন্মান প্রদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কেননা এই মর্যাদার কথা ইসলাম নিজে ঘোষণা করেছে।

প্রিয় নবী (ﷺ) বলেছেন, ‘‘স্ত্রীর জন্য স্বামী তার জান্নাত অথবা জাহান্নাম।’’[১]

‘‘যদি আমি কাউকে কারো জন্য সিজদা করতে আদেশ করতাম, তাহলে নারীকে আদেশ করতাম, সে যেন তার স্বামীকে সিজদা করে।’’[২]

‘‘স্ত্রীর কাছে স্বামীর এমন অধিকার আছে যে, স্ত্রী যদি স্বামীর দেহের ঘা চেঁটেও থাকে তবুও সে তার যথার্থ হক আদায় করতে পারবে না।’’[৩]

‘‘মহিলা যদি নিজ স্বামীর হক (যথার্থরূপে) জানতো, তাহলে তার দুপুর অথবা রাতের খাবার খেয়ে শেষ না করা পর্যন্ত সে (তার পাশে) দাঁড়িয়ে থাকতো।’’[৪]

‘‘তাঁর শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ আছে! নারী তার প্রতিপালকের হক ততক্ষণ পর্যন্ত আদায় করতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার স্বামীর হক আদায় করেছে। সওয়ারীর পিঠে থাকলেও যদি স্বামী তার মিলন চায় তবে সে বাধা দিতে পারবে না।’’[৫]

‘‘দুই ব্যক্তির নামায তাদের মাথা অতিক্রম করে না (কবুল হয় না) ; সেই ক্রীতদাস যে তার প্রভুর নিকট থেকে পলায়ন করেছে, সে তার নিকট ফিরে না আসা পর্যন্ত এবং যে স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্যাচরণ করেছে, সে তার বাধ্য না হওয়া পর্যন্ত (নামায কবুল হয় না।)’’[৬]

স্বামী যখন তার স্ত্রীকে নিজ বিছানার দিকে আহ্ববান করে তখন যদি স্ত্রী না আসে, অতঃপর সে তার উপর রাগান্বিত অবস্থায় রাত্রি কাটায়, তবে সকাল পর্যন্ত ফিরিশ্তাবর্গ তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।’’ অন্য এক বর্ণনায় ‘‘যতক্ষণ পর্যন্ত না স্বামী তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ফিরিশ্তা তার উপর অভিশাপ করতে থাকেন।’’[৭]

‘‘রমণী তার পাঁচ ওয়াক্তের নামায পড়লে, রমযানের রোযা পালন করলে, ইজ্জতের হিফাযত করলে ও স্বামীর তাবেদারী করলে জান্নাতের যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছামত প্রবেশ করতে পারবে।[৮]

‘‘শ্রেষ্ঠ রমণী সেই, যার প্রতি তার স্বামী দৃকপাত করলে সে তাকে খোশ করে দেয়, কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং তার জীবন ও সম্পদে স্বামীর অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।’’[৯]

স্বামীর আনুগত্য স্ত্রীর জন্য আল্লাহ ও তদীয় রসূলের আনুগত্য। সুতরাং স্বামীকে অসন্তুষ্ট বা অমর্যাদা করা চলবে না, মনে রাখতে হবে স্বামীকে সন্তুষ্ট করলে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন।

রেফারেন্সঃ
১] (ইবনে আবী শাইবাহ ,নাসাঈ, তাবারানী, হাকেম , প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ২৮৫পৃঃ)
২] (তিরমিযী, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৫৫নং)
৩] (হাকেম , ইবনে হিববান, ইবনে আবী শাইবাহ , সহীহুল জামে ৩১৪৮ নং)
৪] (ত্বাবারানী, সহীহ আল-জা-মিউস সাগীর অযিয়াদাতুহ ৫২৫৯নং)
৫] (ইবনে মাজাহ, মুসনাদে আহমদ, ইবনে হিববান , আদাবুয যিফাফ ২৮৪পৃঃ)
৬] (ত্বাবারানী, হাকেম , আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ২৮৮নং)
৭] (বুখারী, মুসলিম, আবু দাঊদ, মুসনাদে আহমদ, প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ২৮৩পৃঃ)

৮] (ত্বাবারানী, ইবনে হিববান, সহীহ, মুসনাদে আহমদ, প্রভৃতি, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৫৪নং)

৯] (আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ১৮৩৮নং)

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া - দুইজনের মধ্যে থেকে একজন চুপ থাকলেই শয়তান হেরে যায়.......দাম্পত্য জীবন আল্লাহ তাআলার এক অপূর্ব ন...
20/04/2026

স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া - দুইজনের মধ্যে থেকে একজন চুপ থাকলেই শয়তান হেরে যায়.......

দাম্পত্য জীবন আল্লাহ তাআলার এক অপূর্ব নিয়ামত। দুটি ভিন্ন মানুষ, ভিন্ন পরিবেশে বড় হয়ে একই ছাদের নিচে বসবাস করে —
তাই মতভেদ বা মনোমালিন্য হওয়া একেবারে অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু এই ছোট্ট ছোট্ট মতভেদ যখন বড় ঝগড়ায় পরিণত হয়, তখন যে সবচেয়ে বেশি আনন্দ পায় — সে হলো শয়তান।

🟦 শয়তানের সবচেয়ে বড় আনন্দ

সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন

> *"ইবলিস তার সিংহাসন পানির উপর স্থাপন করে, তারপর সে তার বাহিনী পাঠায়। তাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত সে, যে সবচেয়ে বড় ফিতনা ঘটাতে পারে। একজন এসে বলে, আমি এই এই করেছি। ইবলিস বলে, তুমি কিছুই করোনি। তারপর আরেকজন আসে এবং বলে, আমি একজন স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে ছেড়েছি। তখন ইবলিস তাকে কাছে টেনে নেয় এবং বলে — হ্যাঁ, তুমিই সেরা!"*
> — (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৮১৩)

এই হাদিসটি আমাদের সামনে এক ভয়াবহ সত্য উন্মোচন করে। শয়তানের দরবারে সবচেয়ে বড় পুরস্কার পায় সে, যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফাটল ধরাতে পারে। তার মানে প্রতিটি দাম্পত্য কলহ শয়তানের একটি মিশন সফল হওয়ার মতো।

🟦 স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক কুরআনের দৃষ্টিতে

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে সূরা রূমের ২১ নম্বর আয়াতে বলেছেন —

> "আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে একটি হলো, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের সঙ্গিনী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি পাও এবং তিনি তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া স্থাপন করেছেন।"
> — (সূরা রূম, আয়াত ২১)

এই আয়াতে আল্লাহ তিনটি শব্দ ব্যবহার করেছেন — সাকিনাহ (প্রশান্তি), মাওয়াদ্দাহ (ভালোবাসা) এবং রাহমাহ (দয়া)। দাম্পত্য জীবনের ভিত্তি হলো এই তিনটি স্তম্ভ। যখন ঝগড়া হয়, তখন এই তিনটিরই ক্ষতি হয়। আর শয়তান ঠিক এখানেই আঘাত করে।

🟦 রাগের সময় চুপ থাকা — একটি নবীজির শিক্ষা

একবার এক সাহাবি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে বললেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমাকে কিছু উপদেশ দিন।" রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন —

> "রাগ করো না।"

সাহাবি বারবার জিজ্ঞেস করলেন। প্রতিবারই রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন —

> "লা তাগদাব — রাগ করো না।"
> — (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬১১৬)

এই হাদিসটির গভীরতা অসাধারণ। রাসূলুল্লাহ ﷺ হাজারো উপদেশ দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি বারবার একটিই কথা বললেন — রাগ নিয়ন্ত্রণ করো। কারণ রাগ হলো শয়তানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।

রাসূলুল্লাহ ﷺ আরো বলেছেন —

> "রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে এবং শয়তান আগুন দিয়ে তৈরি। আগুন পানি দিয়ে নেভানো হয়। তাই তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হয়, সে যেন অজু করে।"
> — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৭৮৪)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাগের উৎস শয়তান। স্বামী বা স্ত্রী যখন রাগের মাথায় কথা বলেন, তখন আসলে শয়তানই তাদের মুখ দিয়ে কথা বলায়।

🟦 একজন রাগলে অপরজনের চুপ থাকা — বাস্তব জীবনের সমাধান

এটি শুধু ধর্মীয় শিক্ষা নয়, এটি মানব মনোবিজ্ঞানেরও একটি প্রমাণিত সত্য। যখন দুজন একসাথে রাগ করে কথা বলে, তখন কথার মাত্রা বাড়তেই থাকে। একজন দশ কথা বললে অপরজন বিশ কথা বলে। এভাবে যা শুরু হয় ছোট একটি বিষয় নিয়ে, তা শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় বড় ক্ষত হিসেবে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —

> "যখন তোমাদের কেউ রাগান্বিত হয় এবং সে দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সে যেন বসে পড়ে। রাগ চলে গেলে ভালো, না গেলে শুয়ে পড়ুক।"
> — (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৭৮২)

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ শারীরিক অবস্থান পরিবর্তনের কথা বলেছেন, কারণ শরীরের ভঙ্গি মনের অবস্থাকে প্রভাবিত করে। দাঁড়িয়ে থাকলে রাগ বাড়ে, বসলে কমে, শুলে আরো কমে। এটি একটি বাস্তব সমাধান।

তাহলে দাম্পত্য কলহে এই শিক্ষার প্রয়োগ হবে এভাবে — স্ত্রী যদি রেগে যায়, স্বামী চুপ থাকবেন। স্বামী যদি রেগে যায়, স্ত্রী চুপ থাকবেন। দুজন একসাথে রাগলে শয়তানের মিশন সফল। একজন চুপ থাকলে শয়তান হেরে যায়।

🟦 কুরআনে ক্রোধ দমনের প্রশংসা

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মুত্তাকিদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে সূরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে বলেছেন —

> "যারা সুখে ও দুঃখে ব্যয় করে, রাগকে সংবরণ করে এবং মানুষকে ক্ষমা করে। আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।"
> — (সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩৪)

এই আয়াতে "আল-কাজিমিনাল গাইজ" — অর্থাৎ "যারা ক্রোধকে গলাধঃকরণ করে" তাদের প্রশংসা করা হয়েছে। ক্রোধ চেপে রাখা মানে দুর্বলতা নয়, বরং এটি সত্যিকারের শক্তির প্রমাণ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —

> "সেই ব্যক্তি প্রকৃত শক্তিশালী নয়, যে কুস্তি লড়াইয়ে মানুষকে হারায়। বরং প্রকৃত শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।"
> — (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬১১৪)

🟦 স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ — স্বামীর দায়িত্ব

আল্লাহ তাআলা কুরআনে বলেছেন —

> "তাদের সাথে সদ্ভাবে জীবনযাপন করো।"
> — (সূরা নিসা, আয়াত ১৯)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন —

> "নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কারণ তোমরা তাদের আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ।"
> — (সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১২১৮)

রাসূলুল্লাহ ﷺ আরো বলেছেন —

> তোমাদের মধ্যে সেই সর্বোত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সর্বোত্তম। আর আমি আমার পরিবারের কাছে তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম।"
> — (সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৮৯৫)

একজন স্বামী যদি ঘরে রাগী ও কঠোর হন, আর বাইরে নরম ও ভদ্র — তাহলে তিনি নবীজির শিক্ষার বিপরীতে চলছেন। পরিবারের কাছেই মানুষের আসল চরিত্র প্রকাশ পায়।

🟦 স্বামীর সাথে উত্তম আচরণ — স্ত্রীর দায়িত্ব

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —

> *"যদি কোনো স্ত্রী পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, রমজানে রোজা রাখে, তার লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং তার স্বামীর আনুগত্য করে — তাহলে তাকে বলা হবে, জান্নাতের যে দরজা দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করো।"*
> — (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১৬৬৪)

এখানে আনুগত্য মানে অন্ধ আনুগত্য নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মনোভাব। স্ত্রীর পক্ষ থেকে যদি সম্মান আসে এবং স্বামীর পক্ষ থেকে যদি দয়া আসে — তাহলে সংসারে শান্তি বজায় থাকে।

🟦 শয়তানকে পরাজিত করার পথ

শয়তান চায় স্বামী-স্ত্রী একে অপরের শত্রু হয়ে যাক। কিন্তু আল্লাহ বলেছেন —

> *"হে মুমিনগণ! শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।"*
> — (সূরা নূর, আয়াত ২১)

শয়তানকে পরাজিত করতে হলে —

প্রথমত, রাগের মুহূর্তে "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম" পড়তে হবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, যদি রাগ হয় এবং এই দোয়া পড়া হয়, তাহলে রাগ চলে যাবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩২৮২)

দ্বিতীয়ত, একজন রাগলে অপরজন নীরব থাকবেন। এটি দুর্বলতা নয়, এটি জ্ঞানীর কাজ।

তৃতীয়ত, ঝগড়ার মাঝে সন্তানদের সামনে কখনো কুৎসিত কথা বলা যাবে না, কারণ তা পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চতুর্থত, মতবিরোধ হলে আলোচনা করতে হবে, কিন্তু শান্ত হয়ে। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন — *"তোমাদের মধ্যে যদি কোনো বিষয়ে মতবিরোধ হয়, তাহলে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।"* (সূরা নিসা, আয়াত ৫৯)

🟦 বাস্তব জীবনের একটি দৃশ্য

ধরুন, স্বামী বাইরে থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরলেন। স্ত্রী সারাদিন সংসার সামলে অপেক্ষায় ছিলেন, তাঁরও মন খারাপ। ছোট একটি কথায় স্ত্রী রেগে গেলেন। এই মুহূর্তে স্বামী যদি পাল্টা রাগ করেন — শয়তান হাততালি দেয়। কিন্তু স্বামী যদি চুপ থেকে বলেন, "আচ্ছা, তুমি একটু শান্ত হও, আমরা পরে কথা বলব" — তাহলে শয়তান পরাজিত হয়।

একইভাবে, স্বামী যদি রাগান্বিত হন, আর স্ত্রী যদি পাল্টা কথা না বলে একটু সরে যান, নামাজ পড়েন বা দোয়া করেন — তাহলে ঝগড়া আর বাড়ে না।

এই ছোট্ট কাজটিই শয়তানের সবচেয়ে বড় শত্রু।

🟦 দাম্পত্য জীবন একটি পরীক্ষার জায়গা। আল্লাহ এই সম্পর্ককে "মিসাকান গালিজা" — একটি মজবুত চুক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন (সূরা নিসা, আয়াত ২১)। এই চুক্তি রক্ষা করা প্রতিটি মুমিনের ঈমানি দায়িত্ব।

যে দম্পতি রাগের মুহূর্তে ধৈর্য ধরেন, শয়তানকে সুযোগ দেন না, একে অপরকে ক্ষমা করেন — তারাই জান্নাতে পাশাপাশি থাকার যোগ্যতা অর্জন করেন। কারণ আল্লাহ বলেছেন —

> "মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা একে অপরের বন্ধু।"
> — (সূরা তাওবা, আয়াত ৭১)

তাই আসুন, শয়তানকে পরাজিত করি — ঘরে শান্তি প্রতিষ্ঠা করে, রাগকে দমন করে এবং ভালোবাসার সংসার গড়ে।
আল্লাহ আমাদের সকলের দাম্পত্য জীবনে শান্তি, বরকত ও ভালোবাসা দান করুন। ( আমিন )

বর্তমান যুগে তালাক বৃদ্ধির কারণঃ- মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ-“তোমাদের মধ্যে তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য জোড়া, যাতে তোম...
18/04/2026

বর্তমান যুগে তালাক বৃদ্ধির কারণঃ-

মহান আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ-
“তোমাদের মধ্যে তিনি সৃষ্টি করেছেন তোমাদের জন্য জোড়া, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তি লাভ করো এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন।” (সূরা আর-রুম: ২১)

কিন্তু জীবনের চরম বিপর্যয়, নির্যাতন বা অসহনীয় অশান্তির ক্ষেত্রে ইসলাম তালাককে বৈধ (জায়েয) রেখেছে, তবে এটিকে খুবই নিরুৎসাহিত করেছে।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেনঃ-
❝হালাল বিষয়সমূহের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপছন্দনীয় (ঘৃণিত) বিষয় হলো তালাক।❞
(সুনান আবু দাউদ, হাদিস সহীহ)।

ঢাকায় প্রতি ৪০ মিনিটে একটি তালাক ঘটছে। প্রধান কারণগুলো হলো পরকীয়া (২৩%+), দাম্পত্য অসামঞ্জস্যতা (২২%), নির্যাতন, অর্থনৈতিক সমস্যা ইত্যাদি।

ইসলামের দৃষ্টিতে এই বৃদ্ধির পেছনে মূলত ধর্মীয় অনুশাসনের ঘাটতি, শয়তানের প্ররোচনা, আধুনিক ফিতনা এবং সহনশীলতার অভাব রয়েছে। নিচে বর্তমান যুগের প্রধান কারণগুলো ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

১) বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক (পরকীয়া / জিনা) সবচেয়ে বড় কারণ (সারাদেশে ~২৩%, ঢাকায় ২৮%+)। সোশ্যাল মিডিয়া, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, স্মার্টফোনের অবাধ ব্যবহার এবং গোপন যোগাযোগ এটিকে সহজ করে তুলেছে।

ইসলামী দৃষ্টি: পরকীয়া একটি গুরুতর পাপ এবং পরিবার ধ্বংসের আগুন।
আল্লাহ বলেনঃ- তোমরা জিনার কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ।
(সূরা আল-ইসরা: ৩২)।

সূরা নূর ৩০-৩১-এ পুরুষ ও নারী উভয়কে দৃষ্টি সংযত রাখতে এবং সৌন্দর্য প্রকাশ না করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রাসূল (সা.) বলেছেন, নির্জনে নারী-পুরুষের একান্ত সাক্ষাৎ শয়তানের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত থাকে।

বর্তমান প্রেক্ষাপট:
আধুনিক প্রযুক্তি শয়তানের হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এটি বিশ্বাসঘাতকতা, সন্দেহ এবং পরিবারের ধ্বংস ডেকে আনে। ইসলামে এটি তালাকের বৈধ কারণ, কিন্তু প্রথমে তওবা ও সংশোধনের চেষ্টা করতে হয়।

২) দাম্পত্যজীবনে বনিবনার অভাব ও অসামঞ্জস্যতা
প্রায় ২২% ক্ষেত্রে ল্যাক অফ মিউচুয়াল আন্ডারস্ট্যান্ডিং উল্লেখ করা হয়। ভুল বোঝাবুঝি, প্রেম-ভালোবাসার অভাব, সহনশীলতার ঘাটতি এবং ছোটখাটো বিষয়ে অধৈর্য।

ইসলামী দৃষ্টি:
ইসলাম ধৈর্য, ক্ষমা ও সমঝোতার উপর জোর দেয়। সূরা আন-নিসা ৩৫-এ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হলে দুই পরিবার থেকে সালিশ নিয়োগ করে মীমাংসার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সূরা আন-নিসা ১২৮-১৩০-এ বলা হয়েছে, যদি উভয়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ বসবাস অসম্ভব হয়, তাহলে সমঝোতা করে নেওয়ায় কোনো দোষ নেই, কিন্তু ধৈর্য ধারণই উত্তম।

বর্তমানে:
ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ, পাশ্চাত্য প্রভাব এবং আমার অধিকার চিন্তা ধৈর্যকে কমিয়ে দিয়েছে। ইসলাম শেখায় বিবাহে প্রেম-দয়া সৃষ্টি করা আল্লাহর নেয়ামত; এটি রক্ষা করতে হবে।

৩) শারীরিক/মানসিক নির্যাতন, পারিবারিক কলহ ও মাদকাসক্তি
নারী নির্যাতন, যৌতুক, স্বামীর মাদকাসক্তি, সন্দেহপ্রবণতা এবং শ্বশুরবাড়ির হস্তক্ষেপ। নারীরা এখন এসব সহ্য করছেন না।

ইসলামী দৃষ্টি:

নির্যাতন জুলুম, যা ইসলাম কঠোরভাবে নিষেধ করে। “কোনো ক্ষতি করা বা ক্ষতি গ্রহণ করা যাবে না” — এটি ইসলামী নীতি। নির্যাতিত স্ত্রীর খুলা (স্বামীকে কিছু ফেরত দিয়ে তালাক নেওয়া) নেওয়ার অধিকার আছে। রাসূল (সা.) নির্যাতনকারী স্বামীদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন।

৪) অর্থনৈতিক সমস্যা, নারীর স্বাধীনতা ও যৌথ পরিবারের ভাঙ্গন স্বামীর ভরণপোষণে অক্ষমতা, বেকারত্ব, দারিদ্র্য এবং নারীর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা। যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবার বাড়ছে, যা চাপ বাড়াচ্ছে।

ইসলামী দৃষ্টি:
স্বামীর দায়িত্ব স্ত্রীর ভরণপোষণ (নাফাকা)। যদি সে এতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তালাক বৈধ। কিন্তু ইসলাম অল্পেতুষ্টি, হালাল উপার্জন এবং সাধারণ জীবনযাপন শেখায়। নারীর ক্ষমতায়ন ইসলাম সমর্থন করে, কিন্তু এটি যেন পরিবার ধ্বংসের কারণ না হয়।

৫) অন্যান্য কারণ (ইসলামী দৃষ্টিতে)
ধর্মীয় অজ্ঞতা ও ইসলামী শিক্ষার ঘাটতি: অনেকে বিবাহের আগে সামঞ্জস্যতা যাচাই করে না, ধৈর্য শেখে না।

শয়তানের প্ররোচনাঃ
তালাক শয়তান পছন্দ করে, কারণ এতে মুসলিম সমাজে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়।

পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রভাব: ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য, উচ্চবিলাসিতা ও সহনশীলতার অভাব।

ইসলামী প্রতিকার ও উপদেশ
প্রথমে সমঝোতা:
সালিশ, পরিবারের সাহায্য, আলেমের পরামর্শ।

ধৈর্য ও আল্লাহভীতি:
ছোট সমস্যায় তালাক না নেওয়া।

বিবাহের আগেঃ
ধর্মীয় জ্ঞান, সামঞ্জস্যতা যাচাই।

দাম্পত্য জীবনেঃ
নিয়মিত কুরআন-হাদিস অনুসরণ, প্রেম-দয়া বজায় রাখা, চোখ-কান-হাতের হিফাজত।

তালাক হলেঃ
উত্তমভাবে (ইহসান) ছেড়ে দেওয়া, ইদ্দত পালন, সন্তানের অধিকার রক্ষা।

বর্তমান তালাক বৃদ্ধি মূলত ইসলামী জীবনধারা থেকে দূরে সরে যাওয়া, প্রযুক্তির অপব্যবহার এবং ধৈর্যের অভাবের ফল। ইসলাম তালাককে শেষ অপশন বলে, প্রথমে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করতে বলে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সুখী দাম্পত্য জীবন দান করুন এবং পরিবারগুলোকে রক্ষা করুন। (আমিন)

পুত্রবধূ থেকে শাশুড়িঃ-একটি সুন্দর সংসারের পথে...আজকের বউ, আগামীর মা — একটি সংসারের গল্প.... জীবন একটি চলমান নদীর মতো। এ...
16/04/2026

পুত্রবধূ থেকে শাশুড়িঃ-

একটি সুন্দর সংসারের পথে...আজকের বউ, আগামীর মা — একটি সংসারের গল্প....

জীবন একটি চলমান নদীর মতো। এই নদীতে প্রতিটি মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন ঘাটে থামতে হয়, ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। আজ যে মেয়েটি লাল শাড়ি পরে নতুন ঘরে পা দিয়েছে, সে একদিন সেই ঘরেরই মা হবে। আজ যে বউ শাশুড়ির কথায় মনে মনে কষ্ট পাচ্ছে, সে একদিন নিজেই শাশুড়ি হবে। এই চিরন্তন সত্যকে যে নারী হৃদয়ে ধারণ করতে পারে, সে-ই পারে সংসারকে জান্নাতের টুকরো বানাতে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন:

> প্রতিটি আত্মাকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। আর আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালো দিয়ে পরীক্ষা করি এবং আমার কাছেই তোমাদের ফিরে আসতে হবে।"
> (সূরা আল-আম্বিয়া: ৩৫)

সংসারের প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি মনোমালিন্য, প্রতিটি পরীক্ষাই আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা। আর এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পথ হলো ধৈর্য, সুন্দর চরিত্র এবং আল্লাহর উপর ভরসা।

---

🟦 নতুন সংসারঃ- বাস্তবতা ও ইসলামের দিকনির্দেশনা

নতুন বউ ঘরে আসলে বাস্তবে কী হয়? স্বামীর পরিবার তাদের নিজস্ব অভ্যাস, রুচি ও নিয়ম নিয়ে বহু বছর ধরে একসাথে বসবাস করে আসছে। আর নতুন বধূ নিজেও ভিন্ন একটি পরিবেশ থেকে আসে — ভিন্ন খাবারের অভ্যাস, ভিন্ন কথা বলার ধরন, ভিন্ন ঘুমের সময়সূচি। এই দুটি ভিন্ন জগতের মিলনেই তৈরি হয় ঘর্ষণ।

হয়তো শাশুড়ি বললেন, "রান্নায় লবণ বেশি হয়েছে।"
হয়তো ননদ বললেন, "তুমি ঘর গোছাতে জানো না।"
হয়তো দেবর একটু বেয়াদবি করল।
হয়তো স্বামী সবসময় মায়ের পক্ষ নিলেন।

এই ছোট ছোট কথাগুলো বুকে তীরের মতো বিঁধে। কান্না আসে, রাগ আসে, মনে হয় এই ঘর আমার নয়। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মানবিক অনুভূতি। কিন্তু এই মুহূর্তে ইসলাম আমাদের কী শিক্ষা দেয়?

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

> "মুমিনদের মধ্যে সর্বোত্তম ঈমানদার হলো সে, যে তাদের মধ্যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।"
> (তিরমিযী: ১১৬২)*৯

অর্থাৎ, একজন মুমিন নারীর পরিচয় তার ঈমানের গভীরতায়, তার চরিত্রের সৌন্দর্যে — রান্নার দক্ষতায় বা শ্বশুরবাড়িতে কতটা মিশতে পারছে তাতে নয়।

---

🟦 শাশুড়ি-বউ সম্পর্কঃ- একটি সততার আয়না

এই সম্পর্কটি পৃথিবীর অন্যতম জটিল সম্পর্ক। কারণ দুজনই একই মানুষকে ভালোবাসেন — একজন মা হিসেবে, অন্যজন স্ত্রী হিসেবে। এই ভালোবাসার দ্বন্দ্ব থেকেই অনেক সংসারে অশান্তির আগুন জ্বলে ওঠে।

কিন্তু বাস্তবে যদি একটু ভাবি — শাশুড়িও একদিন বউ ছিলেন। তিনিও কষ্ট পেয়েছেন, চোখের জল ফেলেছেন, মানিয়ে নিয়েছেন। আর আজকের বউও একদিন শাশুড়ি হবেন। তখন তিনি কেমন আচরণ পেতে চাইবেন?

আল্লাহ তাআলা বলেন:

> ভালো কাজের প্রতিদান কি ভালো কাজ ছাড়া অন্য কিছু হতে পারে?"
> (সূরা আর-রাহমান: ৬০)

এই আয়াতটি শুধু পরকালের কথা বলছে না — এটি দুনিয়ার জীবনেও সমান সত্য। আজ যদি আপনি শাশুড়িকে সম্মান দেন, তার সেবা করেন — আপনার বউমাও একদিন আপনাকে সেই সম্মান দিয়ে ফিরিয়ে দেবে, ইনশাআল্লাহ।

---

🟦 ধৈর্যের শক্তিঃ- বাস্তব জীবনে সবরের প্রয়োগ

অনেক বোন জিজ্ঞেস করেন — "সহ্য করতে করতে কতটা সহ্য করব? একটা সীমা তো আছে!"

হ্যাঁ, সীমা অবশ্যই আছে। ইসলাম কখনো অন্যায় নিপীড়ন সহ্য করতে বলে না। কিন্তু সাধারণ সংসারের ছোটখাটো অসুবিধা, মতের অমিল, কথার খোঁচা — এগুলো সহ্য করার নামই সবর। আর এই সবরের পুরস্কার সম্পর্কে আল্লাহ বলেন:

> "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।"
> (সূরা আল-বাকারা: ১৫৩)

রাসূলুল্লাহ ﷺ আরও বলেছেন:

> "যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করার চেষ্টা করে, আল্লাহ তাকে ধৈর্যশীল বানিয়ে দেন। আর ধৈর্যের চেয়ে উত্তম ও বিস্তৃত কোনো নেয়ামত কাউকে দেওয়া হয়নি।"
> (বুখারী: ১৪৬৯)

➤বাস্তবে এর অর্থ কী? ধরুন, শাশুড়ি একটি কথা বললেন যা আপনার ভালো লাগেনি। সেই মুহূর্তে তিনটি কাজ করুন:

⚫প্রথমত চুপ থাকুন। জবাব দেওয়ার আগে মনে মনে বলুন — *"আল্লাহ আমাকে দেখছেন।"*

⚫দ্বিতীয়ত ওযু করুন বা দুই রাকাত নামাজ পড়ুন। রাগ কমে যাবে।

⚫তৃতীয়ত, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন — "দশ বছর পর এই কথাটা কি আমার মনে থাকবে?" বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তর হবে — না।

---

🟦 আসিয়া (আ.)-এর দৃষ্টান্ত: ঝড়ের মাঝেও স্থির থাকা

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে মুমিন নারীদের জন্য হযরত আসিয়া (আ.)-কে আদর্শ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি ছিলেন ফেরাউনের স্ত্রী — ইতিহাসের সবচেয়ে অত্যাচারী শাসকের ঘরনি। তাঁর স্বামী নিজেকে "আমিই তোমাদের সর্বোচ্চ রব" বলে দাবি করত। অথচ সেই ঘরে থেকেও আসিয়া (আ.) ঈমান হারাননি, সত্যের পথ ছাড়েননি।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

> আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন, যখন সে বলেছিল — হে আমার রব! আমার জন্য তোমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করো এবং আমাকে ফেরাউন ও তার কর্ম থেকে রক্ষা করো।"
> (সূরা আত-তাহরীম: ১১)

ভাবুন একবার। তাঁর সামনে কী ছিল? একদিকে দুনিয়ার সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী স্বামী, রাজপ্রাসাদের বিলাসিতা। অন্যদিকে নির্যাতন, কষ্ট, মৃত্যুর ভয়। তবুও তিনি আখেরাতকে বেছে নিয়েছিলেন। দুনিয়ার আরাম নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই ছিল তাঁর লক্ষ্য।

আমাদের সংসারের কষ্ট তো এর তুলনায় কিছুই না। তবুও আমরা যদি এই মহান নারীর মতো আল্লাহকে সামনে রেখে চলতে পারি — সংসার হয়ে উঠবে আমাদের ইবাদতের ময়দান।

---

🟦 স্বামীর প্রতি দায়িত্বঃ-
ভালোবাসা ও সীমানার ভারসাম্য

অনেক সময় দেখা যায়, স্বামী মায়ের কথায় উঠে দাঁড়ান, বউয়ের কথা শোনেন না। এতে বউ মনে করেন — "আমার কোনো মূল্য নেই এই সংসারে।"

এই কষ্টটা সত্যিকারের। কিন্তু মনে রাখবেন — স্বামীর মায়ের প্রতি ভালোবাসা তাঁর চরিত্রের একটি সুন্দর দিক। একজন সন্তান যদি মাকে ভালোবাসে, সে ভালো স্বামীও হতে পারে — যদি তাকে সঠিকভাবে বোঝানো যায়।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

> কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে ঘৃণা না করে। কারণ তার একটি স্বভাব অপছন্দ হলেও অন্য একটি স্বভাব সে পছন্দ করবে।"
> (মুসলিম: ১৪৬৯)

এই হাদিসটি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য। কারো মধ্যেই সব গুণ থাকে না। যা আছে তা নিয়েই সংসার করতে হয় — কৃতজ্ঞতার সাথে।

---

🟦 শয়তানের ফাঁদ থেকে সাবধান

সংসারের বিবাদে সবচেয়ে বেশি যে খুশি হয়, সে হলো শয়তান। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

> "ইবলিস তার সিংহাসন পানির উপরে স্থাপন করে, তারপর তার বাহিনী পাঠায়। তাদের মধ্যে সে সর্বোচ্চ মর্যাদা পায়, যে সবচেয়ে বড় ফিতনা তৈরি করতে পারে। সে এসে বলে — আমি স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়েছি। ইবলিস তাকে কাছে টেনে নেয় এবং বলে — তুমিই সেরা।
> (মুসলিম: ২৮১৩)

অর্থাৎ, যখন আপনি স্বামীর পরিবারের সাথে ঝগড়া করতে যাচ্ছেন — থামুন। কারণ এই ঝগড়ার পেছনে শয়তানের হাত আছে। সে চায় আপনার সংসার ভাঙুক, আপনার দুনিয়া ও আখেরাত দুটোই নষ্ট হোক।

---

◼️ উত্তম চরিত্রের দীর্ঘমেয়াদী ফল

যে বউ ধৈর্য ধরে শাশুড়ির সেবা করে, যে নারী শ্বশুরবাড়িতে ভালো ব্যবহার করে — সে আসলে নিজের জন্যই বিনিয়োগ করছে।

কারণ, বছর দশেক পর সেই বউয়েরও বউমা আসবে। সেই বউমা দেখবে — শাশুড়ি কীভাবে তার নিজের শাশুড়ির সাথে ব্যবহার করেছেন। সন্তানরা দেখে শেখে। পরিবেশ থেকে শেখে।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:

> "যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না।"
> (বুখারী: ৬০১৩)

আজ আপনি যে দয়া ও ভালোবাসার বীজ বুনবেন, কাল সেই গাছের ছায়াতেই আপনি বিশ্রাম নেবেন।

---

🟦 জীবন একটি চক্র, ইসলাম একটি আলো

হে প্রিয় বোন, জীবন একটি চক্র। আজ আপনি যে পরিস্থিতিতে আছেন, তা চিরকাল থাকবে না। কষ্টের পরে স্বস্তি আসবেই — এটা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

> "নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।"
> (সূরা আল-ইনশিরাহ: ৫-৬)

আল্লাহ এই আয়াত দুবার বলেছেন — কারণ তিনি জানেন আমরা কষ্টে পড়লে ভুলে যাই। তাই মনে করিয়ে দিয়েছেন — একটা কষ্টের বিপরীতে দুটো স্বস্তি আছে।

তাই প্রতিশোধের পথে নয়, ধৈর্যের পথে হাঁটুন।
রাগের আগে, দোয়ার কাছে যান।
কান্নার আগে, সিজদায় মাথা নামান।
সংসারকে দেখুন ইবাদতের জায়গা হিসেবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিটি সংসারকে ভালোবাসা, শান্তি ও বরকত দিয়ে ভরিয়ে দিন। আমাদের সকলকে উত্তম চরিত্রের অধিকারী বানিয়ে দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা দান করুন।

আমিন

Address

Baridhara, Gulshan/2, Dhaka/
Dhaka
1212

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Marriage and Divorce Counseling Centre posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share