21/09/2026
✅আপনারা কী ভাবেন—একজন মহিলা প্রেগন্যান্ট হলেন,তারপর একটু ওজন বেড়ে গেল,ত্বকে পরিবর্তন এলো,দেখতে আগের মতো সুন্দর লাগছে না—তাহলেই কি তাকে অলস, দুর্বল বা নাটক করা মানুষ হিসেবে বিচার করা যায়?
প্রেগন্যান্সি কি সত্যিই এতটা সহজ?
প্রথম তিন মাস অনেকেরই ব*মি,মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, খাবারে অরুচি—কী যে একটা অবস্থা হয়! এরপর শরীর ভারী হয়ে আসে,শ্বা*স*ক*ষ্ট,পেটের অ*স্ব*স্তি, ব্য*থা,ঘুমের স*ম*স্যা—এর সঙ্গে যোগ হয় নানা ধরনের মা*ন*সি*ক পরিবর্তনও। আর কারও যদি থাইরয়েড বা অন্য কোনো হরমোনজনিত স*ম*স্যা থাকে, তাহলে পুরো সময়টাই আরও ক*ঠি*ন হয়ে যেতে পারে।
✅এই কথাগুলো বলার কারণ আছে।
একজন রোগী তার শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে আমার কাছে এসেছিলেন। আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করার সময় তার শাশুড়ি বারবার বলছিলেন,
“ম্যাডাম, দেখেন তো—বউ সারাদিন শুয়ে থাকে, উঠতে চায় না, ব*মি করে,মাথা ঘোরে… এসব কী! আমরাও তো মা হয়েছি!”
আমি কথাগুলো শুনছিলাম। তারপর খুব শান্তভাবে তাকে বোঝালাম—আপনি মা হয়েছেন, আপনার সময় হয়তো অনেক কাজ করতে হয়েছে, অনেক ক*ষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। কিন্তু সবার শরীর, সবার প্রেগন্যান্সি এবং সবার পরিস্থিতি এক রকম নয়।
আপনার সময়ে আপনার শাশুড়ি হয়তো আপনাকে সবকিছু করতে দিয়েছেন বা দেননি—সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু এখন আপনি একজন শাশুড়ি। আপনি চাইলে সেই পুরোনো ক*ষ্টে*র চক্রটা এখানেই থামাতে পারেন।
নিজের ছেলের বউকে একটু বুঝুন, একটু সময় দিন, একটু বিশ্রাম নিতে দিন। ❤️
কারণ একজন গর্ভবতী নারী শুধু একটা বাচ্চাকে পৃথিবীতে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন না—তিনি একই সঙ্গে নিজের শরীর, মন এবং অসংখ্য পরিবর্তনের সঙ্গে লড়াই করছেন।
শেষ পর্যন্ত ওই শাশুড়ি তার বউয়ের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করবেন, সেটা আমি জানি না। সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।
তবে একজন ডাক্তার হিসেবে আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই—
প্রেগন্যান্সিকে কখনোই অন্যের সঙ্গে তুলনা করে বিচার করবেন না। একজন মায়ের ক*ষ্টকে ছোট করে দেখবেন না। একটু সহানুভূতি হয়তো তার পুরো গর্ভকালটাই সহজ করে দিতে পারে। ❤️