25/08/2026
কিডনিতে পাথর: কেন হয়, কীভাবে বুঝবেন, কখন বিপদজনক 🪨
"পেটের ডান বা বাম পাশে হঠাৎ অসহ্য ব্যথা, প্রস্রাবে জ্বালা, বমি বমি ভাব —"
যারা কিডনিতে পাথরের ব্যথা একবার অনুভব করেছেন, তারা বলেন এটি জীবনের সবচেয়ে তীব্র ব্যথাগুলোর একটি।
কিন্তু অনেকেই জানেন না — কিডনিতে পাথর শুধু যন্ত্রণাদায়ক নয়, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এটি কিডনির স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
কিডনিতে পাথর বা নেফ্রোলিথিয়াসিস হলো কিডনি ও মূত্রনালীকে প্রভাবিত করে এমন সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা — এবং গত পাঁচ দশকে বয়স, লিঙ্গ বা জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে এর প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। [তথ্যসুত্র Nature] 1
আজ বিজ্ঞানের আলোকে জানবো — কেন হয়, কীভাবে বুঝবেন, এবং কখন এটি সত্যিকারের বিপদজনক হয়ে ওঠে 👇
কিডনিতে পাথর কীভাবে তৈরি হয়?
কিডনিতে পাথর তৈরিতে খাদ্যাভ্যাস ও পরিবেশগত কারণ জিনগত প্রবণতার সাথে মিলে ব্যক্তিগত ঝুঁকি নির্ধারণ করে। [তথ্যসুত্র- Nature] 2
সহজ ভাষায় — প্রস্রাবে যখন ক্যালসিয়াম, অক্সালেট, ইউরিক অ্যাসিড বা ফসফেটের মতো পদার্থ অতিরিক্ত মাত্রায় জমা হয় এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কম থাকে, তখন এগুলো স্ফটিক তৈরি করে — যা ধীরে ধীরে পাথরে পরিণত হয়।
পাথর কত ধরনের হয়?
ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর সবচেয়ে বেশি দেখা যায়, যা সাধারণত হাইপারক্যালসিউরিয়া, হাইপারঅক্সালিউরিয়া, হাইপোসিট্রেটিউরিয়া এবং প্রস্রাবের পরিমাণ কম থাকার কারণে তৈরি হয়। ইউরিক অ্যাসিড ও ক্যালসিয়াম ফসফেট পাথর তৈরিতে সাধারণত প্রস্রাবের pH এর পরিবর্তন ভূমিকা রাখে।
[তথ্যসুত্র- Nature] 3
পাথরের ধরন:
🔸 ক্যালসিয়াম অক্সালেট — সবচেয়ে সাধারণ (৭০-৮০%)
🔸 ইউরিক অ্যাসিড — ডায়াবেটিস ও গেঁটেবাত রোগীদের বেশি
🔸 স্ট্রুভাইট — বারবার মূত্রনালীর সংক্রমণ থেকে
🔸 সিস্টিন — বংশগত কারণে, বিরল
কারা বেশি ঝুঁকিতে আছেন? ⚠️
পাথর পুনরায় হওয়ার ঝুঁকির কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে আগে একাধিকবার পাথর হওয়া, কম বয়সে প্রথমবার পাথর হওয়া, পুরুষ লিঙ্গ, পরিবারে কিডনিতে পাথরের ইতিহাস এবং অতিরিক্ত ওজন।
[তথ্যসুত্র- Science Direct] 4
এছাড়াও:
🔸 দৈনিক পর্যাপ্ত পানি পান না করা
🔸 অতিরিক্ত লবণ, প্রাণিজ প্রোটিন ও অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার (পালং শাক, বাদাম, চকোলেট)
🔸 ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও মেটাবলিক সিনড্রোম
🔸 গরম আবহাওয়ায় বেশি ঘাম ও কম পানি পান
কীভাবে বুঝবেন? 🚨
কিডনিতে পাথরের লক্ষণ নির্ভর করে পাথরের আকার ও অবস্থানের উপর:
😣 তীব্র কোমরে বা পেটের পাশে ব্যথা — ঢেউয়ের মতো আসে, অসহ্য মাত্রার
🚽 প্রস্রাবে জ্বালা ও ব্যথা
🔴 প্রস্রাবে রক্ত — গোলাপি বা লালচে রঙ
🤢 বমি ভাব ও বমি
🌡️ জ্বর ও কাঁপুনি — সংক্রমণের সংকেত
🚿 ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ: ছোট পাথর (২ মিমি-এর কম) অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই বেরিয়ে যায়। বড় পাথর আটকে গেলেই বিপদ শুরু হয়।
⛔ কখন সত্যিকারের বিপদজনক?
এই বিষয়টি অনেকেই জানেন না — কিডনির পাথর শুধু ব্যথার বিষয় নয়, এটি কিডনির স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
১. অবস্ট্রাক্টিভ ইউরোপ্যাথি — সবচেয়ে জরুরি:
পাথর মূত্রনালী আটকে দিলে কিডনিতে প্রস্রাবের চাপ বেড়ে যায় — এটি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে AKI (একিউট কিডনি ইনজুরি), CKD বা সম্পূর্ণ কিডনি বিকলতায় পরিণত হতে পারে।
[ তথ্যসুত্র- Institute Of Urology] 5
২. ক্রনিক কিডনি রোগের ঝুঁকি:
নেফ্রোলিথিয়াসিস এখন আর শুধু স্থানীয় ইউরোলজিক্যাল সমস্যা নয় — এটি একটি সিস্টেমিক অবস্থা যা বিপাকীয় গণ্ডগোল, দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ এবং টিউবুলার ক্ষতির সাথে সম্পর্কিত, যা CKD-এর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
[তথ্যসুত্র-NIH] 6
গবেষণা বলছে, কিডনিতে পাথরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের CKD হওয়ার সম্ভাবনা ৫০-৬৭% বেশি।
nih 7
৩. বারবার পাথর হওয়ার ঝুঁকি:
পাথর পুনরায় হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি — ৫-১০ বছরের মধ্যে পুনরাবৃত্তির হার ৫০% এবং ২০ বছরের মধ্যে ৭৫%।
ScienceDirect
অর্থাৎ একবার পাথর হলে, সঠিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে বারবার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
৪. সংক্রমণ সহ পাথর — জরুরি অবস্থা:
জ্বর ও কাঁপুনি সহ পাথর মানে কিডনিতে পুঁজ জমে যাওয়ার (Pyonephrosis) সম্ভাবনা — এটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি।
প্রতিরোধ ও করণীয় ✅
💧 পর্যাপ্ত পানি পান — সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ:
একটি ইতালিয়ান র্যান্ডমাইজড স্টাডিতে দেখা গেছে, প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার প্রস্রাব নিশ্চিত করতে পানি গ্রহণ বাড়ালে ক্যালসিয়াম অক্সালেট বা ফসফেট পাথরের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। প্রস্রাবের রঙ হালকা হলুদ বা পরিষ্কার থাকা উচিত।
Medscape
🧂 লবণ কমান — সোডিয়াম বেশি খেলে প্রস্রাবে ক্যালসিয়াম বেশি বের হয়
🥩 লাল মাংস ও প্রাণিজ প্রোটিন সীমিত করুন — ইউরিক অ্যাসিড পাথরের ঝুঁকি কমায়
🥗 অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার পরিমিত রাখুন — পালং শাক, বাদাম, চকোলেট, চা
🍋 লেবুর রস — সাইট্রেট সমৃদ্ধ, যা পাথর গঠন প্রতিরোধে সহায়ক
চিকিৎসা কী? 💊
ছোট পাথর (৫ মিমি-এর কম): বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যথানাশক ও পানি দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে বেরিয়ে যায়।
বড় পাথর বা আটকে যাওয়া পাথর: ইউরোলজিস্টের তত্ত্বাবধানে ESWL (শকওয়েভ থেরাপি), ইউরেটেরোস্কোপি বা PCNL পদ্ধতিতে অপসারণ।
পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধ: পাথরের ধরন অনুযায়ী ওষুধ ও ডায়েট পরিবর্তন — এটি নেফ্রোলজিস্ট ও রেনাল ডায়েটিশিয়ানের তত্ত্বাবধানে করতে হবে।
আপনি বা পরিচিত কেউ কি কিডনিতে পাথরের সমস্যায় ভুগছেন বা আগে ভুগেছেন? কমেন্টে জানান। পোস্টটি লাইক ও শেয়ার করুন — কারণ কিডনির পাথর শুধু ব্যথার বিষয় নয়, এটি অবহেলা করলে কিডনির স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে — এই তথ্যটা সবার জানা দরকার 🙏
(উপরোক্ত সকল তথ্যের রেফারেন্স জানতে কমেন্টে দেওয়া লিংকে ক্লিক করুন)
Dr. Abdul Kaium Khan
BAMS (DU), MD (Acupuncture & Chinese Medicine), TUTCM, China
Highly Trained CKD Management through Naturopathy
Integrative Medicine & Acupuncture Specialist
কনসাল্টেন্ট- মেডিগো হেল্থকেয়ার লিঃ
রূপায়ন ট্রেড সেন্টার, বাংলামোটর, ঢাকা।
যোগাযোগ 01521-201886
#কিডনিপাথর #কিডনিরোগ #কিডনিস্বাস্থ্য #পাথরেরব্যথা