17/05/2024
#বোনের_হক
#ফুপুর_হক
#মেয়ের_হক
হোক একটি গল্প তবে বাংলাদেশে শিক্ষিত,অর্ধশিক্ষিত,অশিক্ষিত, জেনারেল, আলিয়া ও ক্বওমী লাইন মিলে শতকরা ৯৯% মানুষই এই মেয়ে/বোন/ফুপুর হক আদায় করেন না ইসলাম অনুযায়ী।
আলহামদুলিল্লাহ শুধু শোকরিয়া আদায়ের জন্য বলছি দাদার সময়ের অসংগতি বাবার মাধ্যমে আমরা ফুপুদের ঠিকঠাক করে দিয়েছি এবং সুন্দর যোগাযোগ বিদ্যমান।
ভবিষ্যতে সামর্থ হলে আরো দিবো ইনশাআল্লাহ।
সমাধান দুনিয়াতে না করলে পরকালে ডান্ডাবেড়ি আর আগুনের অপেক্ষা করুন।
#গল্পটি
মায়ের সাথে বড় মামার বাসায় বসে আছি। মা মামীকে জিজ্ঞেস করলো,
- 'ভাইজান কি বাসায় নেই ভাবি?'
মামী চোখেমুখে বিরক্তি নিয়ে বললো,
- 'না বের হয়ে গেছে কিছুক্ষণ আগে।'
মা জিজ্ঞেস করলো,
- 'কোথায় গেছো?'
মামী একটু তিক্ততা নিয়ে উত্তর দিলো,
- 'সে আমি জানি নাকি, পুরুষ মানুষ ঘরের বাহিরে গেলে কি বউয়ের কাছে বলে যাবে।'
মামী মায়ের প্রশ্নে বিরক্ত হচ্ছে, সে বিরক্ত তাঁর চোখেমুখে এবং কথার উত্তর শুনেই মা বুঝলো তারপরও মামীকে আবার জিজ্ঞেস করলো,
- 'ফিরবে কখন জানেন কিছু?'
মামী বললো,
- 'আমি কি করে বলবো।'
*****
মামা বাসায় ফিরলো যোহরের আজানের পরে। বাসায় মাকে দেখে মামা যেনো একটু বিরক্ত হলো, সামান্য জিজ্ঞেস করলো না মা কেমন আছে। মায়ের আদর যত্ন যেনো কিছুদিনের ভিতরে কমে গেলো, অন্যসব সময় হলে মামী ফ্রিজ থেকে কিছু বের করে খেতো দিতো। কিন্তু সেই সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বসে থাকলাম এক গ্লাস পানি ছাড়া কিছুই দিলো না।
মা মামার কাছে বললো,
- 'ভাইজান জমির বিষয়ে একটু কথা বলতে চাইছিলাম।'
মামা বললো,
- 'দেখে জমি তো আর আমার হাতের মুঠোয় না বললাম আর হয়ে গেলো, এইসব বিষয়ে সময় লাগবে।'
মা বললো,
- 'আর কতো সময় লাগবে, দুই মাস ধরে একই কথা বলছেন।'
মামা একটু রাগ করে বললো,
- 'আমার কাছে আসবার দরকার কি তোর, বাহিরে যেয়ে যার কাছে পারিস বিক্রি কর।'
মামা রাগ করে মায়ের সামনে থেকে ঘরের ভিতরে চলে গেলেন। মা আর কোনো কথা বললো না, আমাকে নিয়ে বের হয়ে গেলো মামার বাসায় থেকে।
আমি বুঝলাম মা যখন নানার সম্পত্তির ভাগের কথা বললো তখন থেকেই আমার মামাদের আচরণ বদলে গেলো। এই যে এখন দুপুরের খাবার সময়, আমরা মা, মেয়ে মামার বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম মামা মামী একটাবারও বললো না দুপুরে ভাত খেয়ে যেতে।
মা বাসায় ফিরে ভাত বসিয়ে দিলো, বাবাকে গোসল করালো। আমার বাবা সাতমাস হয় বিছানায় প্যারালাইসড হয়ে আছেন, বাবা ছিলেন একজন কলেজের শিক্ষক, রিটায়ার্ডের সময় বাকি ছিলো তিনবছর তাঁর আগেই বাবা বিছানায় পড়ে যান৷ যে জমানো টাকা ছিলো সেসব বাবার চিকিৎসায় শেষ। আমার বড় আপার জামাই বুলবুল ভাই কিছু টাকা মাস শেষে দেন, সাথে বাবার জমানো কিছু টাকা এইসব দিয়েই আমাদের তিন সদস্যের পরিবার এখন চলে।
বাবার কলিগ আলতাফ আংকেল বললো তাঁর মেয়ের শ্বশুরের এই রোগ হয়েছিলো। উনারা যখন ভারত নিয়ে দেখালো সে নাকি এখন অনেকটা সুস্থ। মা ঠিক করলো বাবাকে একবার ভারত নিয়ে দেখাবে, তবে সতেরো লাখ টাকা দরকার। এতো টাকা এখন জোগাড় করা আমাদের পক্ষে কোনোভাবে সম্ভব না। মা তখন ভাবলো তাঁর বাবার বাড়ির ভাগের জমিটা বিক্রি করবে। কিন্তু যখনই মামাদের কাছে জমি বিক্রির কথা বললো মামারা তাঁদের আচরণ বদলে নিলো। জমি বিক্রির কথা বলেই মা তাঁদের কাছে এখন চোখের বিষ হয়ে গেছে। মা যদি মামাদের ফোন দেয় ফোন তুলে না, বাসায় গেলে এমন আচরণ করে যেনো অনেক বড় ক্ষতি মা করে ফেলেছে।
মা অনেক দৌড়াদৌড়ি করে জমির কিছু দলিল জোগাড় করে। আমার নানা বাড়ি সিটি শহরের ভিতরে হওয়াতে জমির দাম অনেক, মায়ের ভাগে যে জমি তাঁর দাম প্রয় দুই কোটি টাকা। মা মামাদের বললো তাঁরা অন্তত কিছু জমির টাকা যেনো মাকে দেয়। কিন্তু মামারা মায়ের সব কথাই উড়িয়ে দিতেছে, প্রতিদিন ছোটো মামা, বড় মামার বাসায় একবার যাচ্ছে আর তাঁদের তিক্ত আচরণ নিয়ে ফিরে আসে, কাজের কাজ কিছুই হয়না।
*****
মা ঠিক করলো জমি বাহিরের লোকদের কাছে বিক্রি করবে। যখন মামারা জানলো মা জমি বাহিরের মানুষের কাছে বিক্রি করবে, তখন মামারা সেই লোকের কাছে যেয়ে বললো আমার মায়ের কোনো জমিই নেই, সব জমি তাঁদের দুই ভাইয়ের নামে নানা লিখে দিয়ে গেছে। যদিও মামারা মিথ্যা কথা বললো তাঁর কাছে যেনো মা জমি বিক্রি করতে না পারে।
শেষে এসে মায়ের কাছ থেকে এক কর্ণেল সাহেব জমি কিনতে রাজি হলেন৷ কর্ণেল সাহেব চায়ে চুমুক দিতে দিতে বললেন,
- 'তা তোমার ভাইয়েরা জমি কিনতে রাজি হয়নি?'
মা মাথা নেড়ে বললো, 'না।'
কর্ণেল সাহেব মায়ের কাছ থেকে সব শুনে বললেন,
- 'বুঝলা মা, আজকাল মেয়ে মানুষের পর্দা নিয়ে যতোটা ওয়াজ করা হয় বোনেদের জমির ভাগের অংশ দেওয়া নিয়ে তেমন বলে না হুজুররা, কিভাবে বলবে বলো দেখা যাবে খোঁজ করলে দেখবে তাঁরাও বোনের ভাগের জমির অংশ দিতে কৃপণতা করেছে৷ অথচ দেখো আমাদের ইসলাম বলে, ‘বোনের সম্পত্তির অংশ তাকে যেনো বুঝিয়ে দেওয়া হয়’ , ইসলাম আমরা এখন মানি কেবল নিজেদের সুযোগ সুবিধা মতো।'
কর্ণেল সাহেব জমি নিয়ে কথায় বললেন এসব নিয়ে আমাদের রাসুলের একটা সুন্দর হাদিস আছে,
– “রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কারো উত্তরাধিকার সম্পত্তি গ্রাস করে, অন্য বর্ণনামতে, যে ব্যক্তি কারো উত্তরাধিকারী সম্পত্তি নিয়ে পলায়ন করে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের অংশ থেকে বঞ্চিত করবেন।”
কর্ণেল সাহেবের কথাটা কেন যেনো আমার খুব মনে ধরলো। আমার মামারা আর্থিক দিক থেকে সবাই ভালো অবস্থানে আছে, দুই মামা মিলে দুই বছর আগে সদর হাসপাতালের পাশে সাত কোটি টাকার জমি কিনলো। তবে মায়ের জমি কিনতে তাঁদের এতো অজুহাত, যদি ফ্রি খেতে পারে সে সুযোগ কে হাতছাড়া করে?
*****
তিনদিন পরে জমির দলিল হবে সে রাতেই বাবা অনেকটা বেশি অসুস্থ হয়ে যায়, বাবাকে হসপিটালে নিলে ভোররাতের দিকে বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মা সারাজীবন একটা আপসোস নিয়ে বাঁচবে টাকার অভাবেই কেবল বাবার চিকিৎসা হলো না। মামারা যদি শুরুতে জমিটা কিনতো এমন কিছু হয়তো হতো না, মা নিজেকে অন্তত স্বান্তনা দিতে পারতো!
বাবা মৃত্যুর দুদিন আগে চিংড়ি মাছ দিয়ে নারিকেল খেতে চাইলো, মায়ের কাছে তখন চিংড়ি মাছ কিনবার মতো টাকা ছিলো না। মা ভেবে রেখেছিলো জমির দলিল হলে চিংড়ি মাছ কিনবে। তবে বাবার সে নারিকেল দিয়ে চিংড়ি মাছ রান্না আর খাওয়া হয়নি। এরপর আমাদের বাসায় আর কখনো চিংড়ি মাছ কেনা হয়নি।
তীব্র ক্ষোভে মা তাঁর ভাগের জমি সেই কর্ণেল সাহেবের কাছেই বিক্রি করলো দুই কোটি তেরে লাখ টাকায়। মা জমি বিক্রি করবার পরে মামারা আমাদের সাথে সব যোগাযোগ বন্দ করে দেয়।
#বোনের_হক
#মুস্তাকিম_বিল্লাহ