08/06/2026
🔍 ৬ মাস থেকে বাচ্চার খাবারে লবণ একদম নিষিদ্ধ—এই ধারণাটি কি সত্যিই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত?
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেশি-বিদেশি অনেক parenting blogger, influencer এবং বিভিন্ন পেইজে প্রায়ই দেখা যায় যে ১ বছর বয়স পর্যন্ত বাচ্চার খাবারে এক ফোঁটা লবণও দেওয়া যাবে না। অনেকেই আবার এসব তথ্য দেখে অন্যদেরও একই পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
কিন্তু কোনো বিষয় শুধু ভাইরাল হলেই তা সঠিক হয়ে যায় না। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যের ক্ষেত্রে আমাদের উচিত মূল গবেষণা, বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এবং গাইডলাইনের প্রকৃত বক্তব্য বোঝা।
📌 প্রথমেই বুঝতে হবে "No Added Salt" বলতে আসলে কী বোঝানো হয়েছে।
এর অর্থ এই নয় যে বাচ্চার খাবারে লবণ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো শিশুকে অল্প বয়স থেকেই অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস থেকে দূরে রাখা।
ধরুন, আপনি খিচুড়ি, তরকারি বা স্যুপ রান্না করলেন। রান্নার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অল্প লবণ ব্যবহার করা আর খাবার তৈরি হওয়ার পর অতিরিক্ত কাঁচা লবণ ছিটিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়। একইভাবে ঘরের খাবার আর প্রসেসড, প্যাকেটজাত, উচ্চ-সোডিয়ামযুক্ত খাবারও এক জিনিস নয়।
📚 Infant diet-এ salt নিয়ে প্রকাশিত কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে ৬–১২ মাস বয়সী শিশুর কিডনি সোডিয়াম নিষ্কাশনের সক্ষমতা রাখে। এছাড়া শৈশবে স্বাভাবিক মাত্রার লবণ গ্রহণের সাথে ভবিষ্যতের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ বা হৃদরোগের সরাসরি সম্পর্কের পক্ষে শক্ত প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
কিছু গবেষক এমনও মত দিয়েছেন যে complementary food সম্পূর্ণ লবণবিহীন হলে কিছু শিশুর সোডিয়াম গ্রহণ প্রয়োজনের তুলনায় কমও হতে পারে।
⚠️ তবে এর অর্থ এই নয় যে বাচ্চাকে বেশি লবণ দিতে হবে বা ইচ্ছামতো লবণ ব্যবহার করা নিরাপদ। অতিরিক্ত লবণ কোনো বয়সেই ভালো নয়।
একইভাবে চিনির ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রযোজ্য। শিশুর খাবারে অতিরিক্ত সাদা বা ব্রাউন সুগার যোগ করা উচিত নয়। কিন্তু এর মানে এই নয় যে শিশুকে স্বাদের জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করতে হবে।
👶 শিশুরাও স্বাদ অনুভব করে। অনেক সময় সম্পূর্ণ স্বাদহীন খাবারের কারণে খাবারের প্রতি আগ্রহ কমে যেতে পারে।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত অতিরিক্ততা এড়িয়ে সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা, কোনো খাদ্য উপাদানকে অযথা ভয় পাওয়া নয়।
✅ ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার দিন
✅ শাকসবজি, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ধীরে ধীরে পরিচয় করান
✅ অতিরিক্ত লবণ ও চিনি এড়িয়ে চলুন
✅ চিপস, প্যাকেট জুস, সফট ড্রিংকস ও প্রসেসড স্ন্যাকস থেকে দূরে রাখুন
✅ সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য যাচাই করে গ্রহণ করুন
💙 সারকথা:
"লবণ একেবারেই দেওয়া যাবে না"—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।
আবার "যত খুশি লবণ দেওয়া যাবে"—এটাও সঠিক নয়।
শিশুর খাবারে পরিমিতি, বৈচিত্র্য এবং পুষ্টিগুণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নিচের কমেন্টে তথ্য উপাত্ত যুক্ত করা হয়েছে।।