05/10/2021
পিএলআইডি /PLID রোগ কি ?
PLID মানে Prolapse Lumbar Intervertebral Disc. অর্থাৎ আমাদের পিঠ বা কোমর অনেকগুলো ছোট ছোট হাড় নিয়ে গঠিত, যাকে আমরা কশেরুকা বা ভাট্রিবা বলি । এই ভাট্রিবাগুলোর মাঝখানে একধরনের কার্টিলেজ থাকে, যাকে আমরা ইন্টারভাট্রিবাল ডিস্ক বলি।
অনেক সময় বিভিন্ন কারনে বিশেষ করে আঘাতজনিত কারনে কিংবা হাড়ের ক্ষয় বৃদ্ধি জনিত কারনে এই ইন্টারভাট্রিবাল ডিস্ক বের হয়ে এসে নার্ভে চাপ দেয়। ফলে কোমরে অনেক ব্যথা হয়, অনেক সময় এই ব্যথা পায়ের থোড়ার নিচ পর্যন্ত চলে যায় । পা ঝিন ঝিন করে, অবশ অবশ লাগে ।
পিএলআইডি রোগের লক্ষন কি ?
পিএল আইডি বা ডিস্ক প্রলাপ্স রোগের প্রথম লক্ষন হল প্রচন্ড কোমর ব্যথা । কোমর থেকে পা পর্যন্ত ব্যথা । পা ঝিন ঝিন বা অবশ অবশ হতে পারে ।
অনেক সময় এই ব্যথা কোমরে না থেকে সরাসরি পায়ে চলে যায় । সিরিয়াস ক্ষেত্রে প্রস্রাব বা পায়খানা ধরে রাখতে সমস্যা হয় । পায়ের আঙ্গুল বা পাতা নড়ানো যাচ্ছে না , পায়ের আঙ্গুল বা পাতার দিকে অনুভূতি কমে গেছে । মাঝে মাঝে দেখা যায় অনেক রোগীর কোমর বাঁকা হয়ে যেকোন একদিকে সরে গেছে , মেডিকেল ভাষায় বলি কোমর একদিকে shift হয়ে গেছে । ডিস্ক প্রলাপ্স এর প্রথমদিকে হয়তো অনেক খারাপ অবস্থা দেখা যায় , বিছানায় শুয়ে থাকতে হয় । কোনভাবেই নড়াচড়া করা যায় না ।
পিএলআইডি রোগের ডায়াগনোসিস কিভাবে করা হয়
প্রথমত রোগীর সব কথা শুনতে হয় – ব্যথা কখন কোথায় , কিভাবে শুরু হল, ব্যথা কখন বাড়ে , কখন কমে কিংবা সামনে ঝুঁকে ভারী কিছু তোলার ইতিহাস আছে কিনা সব জানতে হয় । ফিজিক্যালি এসেস করতে হয় বিশেষ করে কোমর বাঁকা আছে কিনা , নার্ভে চাপ লেগে আছে কিনা , মাসল স্পাজম আছে কিনা , মটর , সেনসরি , রিফ্লেক্স সব দেখতে হয় ।
এছাড়া প্রয়োজনে এক্সরে , এমআরআই , বিভিন্ন ধরনের রক্ত পরীক্ষা ,আর্থ্রাইটিসের পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে হয় ।
পিএলআইডি জনিত কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করবেন
১। বেশিক্ষন সামনে ঝুকে কাজ করবেন না।
২। ভারী কোন কিছু একা একা নিচ থেকে তুলতে যাবেন না ।
৩। ধূমপান থেকে দূরে থাকবেন ।
৪ । নিয়মিত ব্যায়াম করবেন। ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।
৫। ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখবেন ।