29/08/2026
ক্রিয়েটিনিন (Creatinine) নরমাল মানেই কি কিডনি সম্পূর্ণ ভালো?
| চেম্বারে প্রায়ই একটি ভুল ধারণার মুখোমুখি হই— "ডাক্তার সাহেব, আমার ক্রিয়েটিনিন রিপোর্ট তো একদম নরমাল, তাহলে কিডনি সমস্যা হলো কীভাবে?
উত্তর হলো: ক্রিয়েটিনিন নরমাল থাকা মানেই কিডনি ১০০% সুস্থ—এই ধারণাটি সঠিক নয়।
কেন শুধু ক্রিয়েটিনিন রিপোর্টের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ?
* কিডনির কর্মক্ষমতা বা ফিল্টারিং ক্ষমতা প্রায় ৫০% কমে না যাওয়া পর্যন্তও রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নরমাল আসতে পারে অর্থাৎ, কিডনি অর্ধেক খারাপ হয়ে গেলেও আপনার ল্যাব রিপোর্টে ক্রিয়েটিনিন 'স্বাভাবিক' আসতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের ক্রিয়েটিনিন নরমাল থাকা অবস্থাতেও প্রস্রাবের সাথে প্রোটিন/অ্যালবুমিন বের হতে পারে । এটি কিডনি ক্ষতির প্রাথমিক লক্ষণ।
যেহেতু ক্রিয়েটিনিন তৈরি হয় মাসল বা মাংসপেশি থেকে তাই প্রবীণ, শারীরিক পরিশ্রম কম করেন এমন ব্যক্তি বা হালকা গড়নের মানুষের কিডনি রোগ থাকলেও রক্তে ক্রিয়েটিনিন স্বাভাবিক দেখাতে পারে।
গঠনগত কিছু সমস্যা : কিডনিতে পাথর, সিস্ট, ইনফেকশন বা সাইজ ছোট হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা থাকলেও প্রাথমিক অবস্থায় ক্রিয়েটিনিন স্বাভাবিক থাকতে পারে।
***তাহলে কিডনির সঠিক সুস্থতা জানবেন কীভাবে?
শুধু ক্রিয়েটিনিন না দেখে চিকিৎসকের পরামর্শে নিচের পরীক্ষাগুলো করা জরুরি:
১. eGFR (Estimated GFR): কিডনি ঠিক কত শতাংশ কাজ করছে তা জানার জন্য।
২. Urine ACR (Albumin-to-Creatinine Ratio): প্রস্রাবে অ্যালবুমিনের উপস্থিতি মাপার জন্য।
৩. USG of KUB Region: কিডনির আকৃতি ও গঠন দেখার জন্য।
ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা পরিবারে কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করান। মনে রাখবেন, সচেতনতাই কিডনি সুরক্ষার প্রথম পদক্ষেপ।