24/08/2026
●নিজের পায়ে হেঁটে আবার বাড়ি ফিরবেন—এই আশাটুকু নিয়েই আমার কাছে এসেছিলেন ষাটোর্ধ্ব একজন ডায়াবেটিক রোগী।
●দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস, যা ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণে ছিল না। এর সঙ্গে পায়ে রক্ত চলাচলও ছিল কম। যখন তিনি আমাদের কাছে আসেন, তখন পায়ে ছিল মারাত্মক সংক্রমণ—আঙুলগুলোতে পচন ধরেছিল, প্রচুর পুঁজ এবং দুর্গন্ধ ছিল।
●প্রথমে রোগীকে সম্পূর্ণভাবে মূল্যায়ন করি এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি। এরপর একসঙ্গে শুরু করি—
🔹 পায়ে রক্ত চলাচল বাড়ানোর চিকিৎসা
🔹 ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
🔹 উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক
🔹 সংক্রমণের নিয়ন্ত্রণ
🔹 নিয়মিত ড্রেসিং ও ক্ষতের পরিচর্যা
●কিন্তু সব চেষ্টা সত্ত্বেও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত আক্রান্ত পায়ের সবগুলো আঙুলই অপসারণ করতে হয়।
●এরপর শুরু হয় আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধ—ক্ষতকে সুস্থ করে তোলা।নিয়মিত ড্রেসিং, সংক্রমণের চিকিৎসা, পুষ্টির দিকে নজর এবং যথাযথ পরিচর্যার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্ষতটি ভালো হতে থাকে। একপর্যায়ে রোগীর শারীরিক অবস্থাও অনেক উন্নত হয়—ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আসে, অ্যালবুমিন ও হিমোগ্লোবিন ভালো হয়, কিডনির অবস্থাও ভালো থাকে।
●তখন ক্ষতটি চামড়া দিয়ে ঢাকার জন্য স্কিন গ্রাফটিং করা হয়।আলহামদুলিল্লাহ, স্কিন গ্রাফটিংয়ের মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যেই ক্ষতটি ভালো হয়ে যায়।
?
আজ তিনি আমাদের চেম্বারে এসেছেন—নিজের পায়ে হেঁটে, মুখে হাসি নিয়ে। 😊
●কথা বলতে বলতে অনেক সময় আবেগে তাঁর চোখে পানি চলে আসছিল। সেই কান্না ছিল কষ্টের নয়—এটি ছিল দীর্ঘদিনের যুদ্ধ শেষে ফিরে পাওয়া আনন্দের কান্না।
●এই রোগীর গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—ডায়াবেটিক ফুট মানেই পা কেটে ফেলতে হবে—এটা সত্য নয়।
●তবে অনেক সময় অঙ্গ বাঁচানোর জন্য সময়মতো সঠিক চিকিৎসা, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত অংশ অপসারণ করাও জীবন ও পা রক্ষার চিকিৎসারই একটি অংশ হতে পারে।
#সবচেয়ে_গুরুত্বপূর্ণ হলো-
●রোগী ও চিকিৎসক দুজনেরই চেষ্টা থাকতে হবে, একে অপরের প্রতি আস্থা থাকতে হবে এবং চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে সহযোগিতা করতে হবে।
●তাহলেই কঠিন পরিস্থিতিতেও ভালো ফলাফল অর্জনের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
●আমার এই রোগীর জন্য আন্তরিক দোয়া ও শুভকামনা।আল্লাহ তাঁকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখুন।
●পা বাঁচানোর যুদ্ধ দীর্ঘ হতে পারে, কিন্তু আশা হারাবেন না।