20/09/2026
CPR দিয়ে রোগী বেচে ফিরে শতকরা দুই একজন, সেটাও তাৎক্ষণিকভাবে দিতে হয়।
....
আজকে ডিউটিতে একটু পানি খাওয়ারও টাইম পাই নাই,
ডিউটির একদম শেষ টাইমে হঠাৎ নার্স এর ফোন- 'স্যার, একটা রোগীর অবস্থা খুব খারাপ, মনে হয় মারা গেছে। '
ওয়ার্ড-বয় নিচে চলে আসছে রুমের সামনে -
' স্যার, কেবল মাত্র একটা রোগী ভর্তি দিলেন, সেই রোগীটা মারা গেছে '
মাথাটা ঘুরে গেলো!!
মাত্র ভর্তি দিলাম মানে রোগীর দুই তিন মিনিটের মধ্যে কিছু হয়েছে...
সব রোগী ফেলে দৌড়ে উঠলাম তিন তলায়। পেছনে পড়ে গেছে ওয়ার্ড বয় আর এসিস্ট্যান্টরা।
উপরে উঠে বামে যাবো নাকি ডানে যাবো বুঝতেছিলাম না।
নিচের সিড়ি থেকেই উঠতে উঠতে ওয়ার্ডবয় বললো -
স্যার বামে যান, মহিলা ওয়ার্ডে।
ছুটে গিয়ে দেখি জিহবা বের হয়ে আছে...রোগী শ্বাস নিচ্ছে না... প্রেশার পাওয়া যাচ্ছে না..হাতে পালস ও পেলাম না ।
মহিলা রোগী...CPR কেমনে দিবো? রোগীর লোক কিছু বলবে কিনা? তাদের কাউন্সেলিং করে নিবো কিনা? মারা গেলে যদি লাঞ্চিত হতে হয়!?
এসব সাত পাচ না ভেবেই সিস্টারকে ঝটকা মেরে সরিয়ে দিয়ে নিজেই সিপি-আর দেওয়া শুরু করলাম।
অক্সিজেন দেখি দুই লিটারে দেওয়া, সর্বোচ্চ বাড়িয়ে দিলাম।
রোগীর বুকে চাপ দিতে গিয়েই নিজের হাতেই ব্যথা পেলাম , কিন্তু থামি নাই। হঠাৎ দেখি বাম পা নড়িয়ে উঠলো।
এবার আশার সঞ্চার হলো, দ্বিগুণ উৎসাহে সিপি-আর দিতে থাকলাম আর মেডিসিন এর অর্ডার দিতে লাগলাম।
বের হওয়া জিহবা টা একটু ভেতরে গেলো যেন, কিন্তু তখন ও যেই সিপি-আর বন্ধ করে দিচ্ছিলাম সেই তার হার্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো।
আধা ঘন্টা ধরে এরকম সিপি-আর এবং মেডিসিন দেওয়ার পর রোগী স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নেওয়া শুরু করলো। নাম জিজ্ঞাসা করায় বলতে পারলো।
.......
একটা ক্ষুধা পেট কিন্তু প্রশান্ত মন নিয়ে গা হেলিয়ে দুলিয়ে সিড়ি বেয়ে নিচে নেমে এলাম।
মানুষ হয়ে মানুষকে বাচাতে পারার যে আনন্দ - সেটা সারাদিনের দু:খ, কষ্ট, ক্লান্তি সব ছাপিয়ে যায় যেন।