13/07/2024
⭕ পবিত্র মুহাররম মাসে ‘আশুরার’ দিন উপলক্ষে সর্বমোট ২ দিন রোজা রাখতে হবে। আরবী মাসের তারিখ অনুযায়ী হিসাব করলে মুহাররম মাসের ৯ এবং ১০ তারিখ অথবা ১০ এবং ১১ তারিখ [আর ইংরেজি মাসের তারিখ অনুযায়ী হিসাব করলে জুলাই মাসের ১৬ এবং ১৭ তারিখ অথবা ১৭ এবং ১৮ তারিখ] আশুরার রোজা রাখতে হবে। আশুরার দিনটি হচ্ছে ১০ ই মুহাররম অর্থাৎ ১৭ ই জুলাই [বুধবার]
🔸 আশুরার দিন রোজা রাখার ফজিলত- আশুরার দিন রোজা রাখার বরকতে মহান আল্লাহ তা'য়ালা পূর্বের ১ বছরের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন। [মুসলিম- ২৬৩৬]
🔲 আশুরার রোজা রাখার জন্য সোমবার দিবাগত রাতে সাহরী খেয়ে মঙ্গল এবং বুধবার অথবা বুধ এবং বৃহস্পতিবার এই ২ দিন রোজা রাখতে হবে ইন শা আল্লাহ।
🔹 রোজা রাখার ক্ষেত্রে সাহরী খেয়ে মনে মনে স্মরণ করতে হবে, আমি আশুরার দিন উপলক্ষে রোজা রাখলাম।
⭕ আশুরার রোজা কেউ চাইলে ৩ দিনও রাখতে পারবে, এতে কোনো সমস্যা নেই। তবে ৩ দিন রোজা রাখতে না পারলে অন্তত ২ দিন রোজা রাখার চেষ্টা করতে হবে।
🔰 আর মুহাররম মাসের আইয়্যামে বীজের রোজা রাখতে হবে ২০, ২১, ২২ শে জুলাই। রোজার ফজিলত- পূর্ণ ১ মাস নফল রোজা রাখার সমতূল্য সওয়াব। [আবু দাউদ- ২৪৪৯]
🔸 মহান আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে এই ফজিলত পূর্ণ রোজাগুলো রাখার তৌফিক দান করুন, আমিন 💝✅
🔲 মুহাররম মাসে আশুরার দিন রোজা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাদীস এবং করণীয় আমল ও বর্জণীয় কাজসমূহঃ-
⭕ কোন দিনকে “আশুরার” দিন বলা হয়.?
🔸 মুহাররমের ১০ম দিনকে “আশুরার” দিন বলা হয়। এই দিনে মহান আল্লাহ তা'য়ালা মুসা (আ.) এবং তার কওমকে ফিরা-উনের জু-লু-ম ও নি-র্যাতন থেকে মুক্তি দান করেছেন এবং ফিরা-উন ও তার বাহিনীকে লৌহিত সাগরে নিমজ্জিত করেছেন।
🔲 “আশুরার” দিন কেন সিয়াম পালন করা হয়.?
🔹 রাসূল (ﷺ) মদীনায় হিজরত করার পর দেখতে পেলেন এইদিনে ইয়া-হুদী সম্প্রদায়ও সিয়াম পালন করছে। তখন তাদেরকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা বলেন, এটি একটি মহান দিন, যেই দিন মহান আল্লাহ তা'য়ালা মূসা (আ.) কে ফিরা-উনের উপর বিজয় দান করেছিলেন। সুতরাং এই মহান দিনের সম্মানার্থে আমরা এই দিন সিয়াম পালন করে থাকি।
🔸 রাসূল (ﷺ) বললেন, মূসা (আ.) এর অনুসরনে আমরা তোমাদের চাইতে বেশি হকদার। অতঃপর, রাসূল ﷺ নিজে সেদিন সিয়াম পালন করলেন এবং সাহাবীদেরকেও সিয়াম পালন করার নির্দেশ দান করলেন। [আবু দাউদ- ২৪৪৪]
⭕ “আশুরার” দিনে সিয়াম পালন করার ফজিলত কি.?
🔸 রাসূল সল্লল্ল-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘আশুরার' দিনের সিয়াম সম্পর্কে আমি আল্লাহ তা'য়ালার নিকট আশাবাদী যে, তিনি এর দ্বারা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন। [মুসলিম- ২৬৩৬]
🔹 রাসূল (ﷺ) কে আরাফার দিনের সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এর দ্বারা পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ মাফ করা হয়। “আশুরার” দিনের সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এর দ্বারা বিগত এক বছরের গুনাহসমূহ মাফ করা হয়।
🔸 সোমবার দিনের সিয়াম পালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটি সেইদিন যেইদিন আমি জন্ম গ্রহণ করেছি এবং নুবুওয়াত লাভ করেছি আর আমার উপর (কুরআন) অবতীর্ণ করা হয়েছে। [মুসলিম- ২৬৪০]
🔹 রাসূল ﷺ বলেছেন, রমাদ্বান মাসের পর সর্বোত্তম সিয়াম হলো আশুরার দিনের সিয়াম এবং ফরয নামাযের পর সর্বোত্তম নামায হলো তাহাজ্জুদের নামায। [নাসাঈ ১৬১৩]
🔲 হাফসা (র.) বলেন, চারটি আমল রাসূল (ﷺ) কখনো পরিত্যাগ করতেন না। [নাসাঈ- ২৪১৬]
(১) “আশুরার” দিনের সিয়াম (রোযা),
(২) যিলহজ্ব মাসের নয় দিনের সিয়াম,
(৩) প্রত্যেক মাসে আইয়্যামে বীজের সিয়াম,
(৪) ফজরের দুই রাকাত সুন্নত সলাত (নামায)
🔸 আব্বাস (র.) বলেন, রাসূল ﷺ রমাদ্বানের সিয়ামের পর আশুরার দিন ছাড়া অন্য কোনো দিনকে এতটা অধিক মাহাত্ম্যপূর্ণ মনে করতেন না। [হাদিস সম্ভার- ১১০৭]
⭕ “আশুরা” উপলক্ষে কয়টি রোযা পালন করতে হবে.?
🔹 রাসূল ﷺ বলেছেন, তোমরা আশুরার রোযা রাখবে ইয়া-হুদীদের সাদৃশ্য পরিত্যাগ করে। অর্থাৎ আশুরার আগে অথবা পরে আরো একদিন রোযা রাখবে [আহমাদ- ২১৫৪]
🔲 “আশুরার” সিয়াম কোন কোন দিন রাখা উত্তম.?
🔸 রাসূল (ﷺ) যখন আশুরার দিন সিয়াম পালন করেলেন এবং সাহাবীদেরকেও সিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন, তখন সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলুল্ল-হ! ইয়া-হুদী এবং না-সারা সম্প্রদায়ও এই দিনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে সিয়াম পালন করে থাকে।
🔹 তখন এ কথা শুনে রাসূল (ﷺ) বললেন তাহলে আমরা আগামী বছর নবম তারিখেও সিয়াম পালন করবো ইন শা আল্লাহ। হাসীস বর্ণনাকারী বললেন, এখনও আগামী বছর আসেনি, এমতাবস্হায় রাসূল (ﷺ) এর ইন্তেকাল হয়ে যায়। [মুসলিম- ২৫৫৬]
🔲 প্রায় অধিকাংশ হাদীসেই রাসূল (ﷺ) মুহাররমের ০৯ এবং ১০ তারিখে রোজা রাখার ব্যাপারে নির্দেশ দান করেছেন। তাই এই দুইদিনই রোজা রাখা উত্তম। তবে কেউ যদি ৯ এবং ১০ তারিখে রোজা রাখতে না পারেন, তাহলে তিনি চাইলে ১০ এবং ১১ তারিখেও রোজা রাখতে পারবেন ইন শা আল্লাহ। আবার কেউ চাইলে এই ৩ দিনও রোজা রাখতে পারবেন ইন শা আল্লাহ, এতে কোনো সমস্যা নেই।
⭕ “আশুরার” দিনে বর্জনীয় কাজসমূহ কি কি.?
🔸 আশুরার দিনকে কারবালার দিন হিসেবে উদযাপন করা, হযরত হুসাইন (র.) এর মৃত্যুর স্মরণে শরীরে আঘাত করা, শরীর র-ক্তাক্ত করা, তাজিয়া মিছিল করা সহ যাবতীয় বিদ'আতি কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।
🔹 সাহাবীদের মধ্যে বিশেষ করে হযরত মু'য়াবিয়া (রা.) কে গালমন্দ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারন এসব কাজ রাসূল (ﷺ) কিংবা সাহাবায়ে কেরাম (র.) থেকে সু-প্রমানিত নয়। তাই এসব কাজ অবশ্যই অবশ্যই বর্জন করা উচিত।
কালেকটেড।