03/04/2026
১. হাম কি ছোঁয়াচে?
হ্যাঁ, এটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তি ১২-১৮ জন সুস্থ ব্যক্তিকে আক্রান্ত করতে পারে
হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা বাতাস এবং ড্রপলেটের মাধ্যমে খুব দ্রুত ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি থেকে এবং কথা বলার সময় এটি সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে।
এই ভাইরাস বাতাসে বা কোনো বস্তুর ওপর প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে।
ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথেই লক্ষণ দেখা দেয় না। সাধারণত শরীরে ভাইরাস প্রবেশের ১০-১৪ দিন পর প্রথম লক্ষণ প্রকাশ পায়।
২. প্রাথমিক লক্ষণ কী কী?
আমরা 3C দিয়ে মনে রাখি
1. Cough (তীব্র কাশি)
2. Coryza (সর্দি বা নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া)
3. Conjunctivitis (চোখ লাল হওয়া বা চোখ ওঠা
এছাড়াও:
- তীব্র জ্বর।
- মুখে বা গলায় অস্বস্তি।
- মুখের ভেতর ফোলা অংশের মতো (লবণের দানার মতো সাদা সাদা) 'কপ্লিক স্পট' দেখা দেওয়া।
- ৩-৪ দিন পর সাধারণত কানের পেছন ও মুখমণ্ডল থেকে র্যাশ শুরু হয়ে ধীরে ধীরে নিচের দিকে বুক, পিঠ ও হাত-পায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
৩. কারা বেশি ঝুঁকিতে আছে?
৫ বছরের কম বয়সী শিশু এবং গর্ভবতী নারীদের জন্য হাম বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করে।
গর্ভাবস্থায় হাম হলে গর্ভপাত, অকাল প্রসব (Pre-term birth) বা নবজাতকের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার মতো জটিল ঝুঁকি থাকে।
৪. জটিলতা কী কী হতে পারে?
হাম আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৩০ ভাগের গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন :
- নিউমোনিয়া (হামে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ)
- কানে ইনফেকশন
- ডায়রিয়া
- অন্ধত্ব
- মস্তিষ্কে প্রদাহের (Encephalitis) মতো মারাত্মক জটিলতা হতে পারে
হাম হওয়ার অনেক বছর পর (৭-১০ বছর) এটি মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় SSPE বলা হয়।
৫. প্রতিরোধের উপায় কী?
হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায় হলো MR (Measles-Rubella) টিকা নেওয়া। সরকারি রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে এটি বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
বেসরকারিভাবেও দেওয়া যায়। MMR (Measles-Mumps-Rubella) ভ্যাকসিন। চাইলে বড়োরাও এই ভ্যাকসিন নিতে পারে।
৬. টিকা কখন দিতে হয়?
সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দিতে হয়। একটি ডোজও মিস করা যাবে না।
এটি বাংলাদেশ সরকারের EPI শিডিউলের অন্তর্ভুক্ত।
তবে বর্তমানের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ৬ মাস বয়সীদেরও এই টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
এই প্রসঙ্গে কয়েকটি কৌতুহলের জবাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
কেন এই টিকাটি ৯ মাসে গিয়ে দেওয়া হয়? যেখানে আরও বেশ কিছু টিকা আগেই দিয়ে ফেলা হয়?
জন্মের সময় শিশু তার মায়ের শরীর থেকে প্লাসেন্টার মাধ্যমে হাম প্রতিরোধের প্রাকৃতিক অ্যান্টিবডি নিয়ে জন্মায়। এই অ্যান্টিবডিগুলো শিশুকে জীবনের প্রথম কয়েক মাস সুরক্ষা দেয়।
আগে দেওয়া হয় কি?
হ্যাঁ, যদি কোনো এলাকায় হামের ব্যাপক আউটব্রেক দেখা দেয়, তবে অনেক সময় চিকিৎসকরা ৬ মাস বয়সেই একটি অতিরিক্ত ডোজ দেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেটিকে 'জিরো ডোজ' ধরা হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাস পূর্ণ হলে আবার নিয়মিত ডোজ দিতে হয়।
কেন ২ ডোজ?
প্রথম ডোজে প্রায় ৮৫-৯০% সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। বাকি ১০-১৫% ক্ষেত্রে যেন কোনো ঝুঁকি না থাকে, সেজন্য ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।
মনে রাখতে হবে, এই টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর সঙ্গে অটিজম বা প্রতিবন্ধত্বের কোনো সম্পর্ক নেই। কন্সপিরেসি থিওরি বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব এই মুহূর্তে যারা ছড়াবে তাদেরকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখতে হবে ও বর্জন করতে হবে।
টিকা দেবার পরেও কি হাম হতে পারে?
হ্যাঁ, পারে। বলা হয়, হামের টিকা প্রায় ৯০-৯৫% কার্যকর। তবে যেসব শিশু অপুষ্টিতে ভোগে, দীর্ঘমেয়াদি অসুখে ভোগে তাদের ক্ষেত্রে টিকা নেয়া থাকলেও হাম হতে পারে। তবে আশার বিষয় এই যে, টিকা নেয়া থাকলে সাধারণত হামের জটিলতা বেশ কম হয়।
৭. ভিটামিন-এ এর ভূমিকা কী?
ভিটামিন এ মিজেলস প্রতিরোধ করতে পারে না।
তবে মিজেলস হলে পরে ভিটামিন এ দেবার ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ উভয়েই রিকমেন্ড করেছে।
মিজেলস চোখে বড়ো ধরনের ক্ষতি করতে পারে। এমনকি অন্ধত্ব পর্যন্ত। এই চোখের জটিলতা কমাতে ভিটামিন এ-এর ভূমিকা রয়েছে।
WHO recommended dosing :