16/05/2026
বাচ্চার কি কিছুদিন পরপরই গলা ব্যথা আর জ্বর হচ্ছে? জেনে নিন কারণ ও করণীয়!
অনেক বাবা-মা এসে একটা সাধারণ সমস্যার কথা বলেন—"ডাক্তার সাহেব, বাচ্চাটার কিছুদিন পরপরই গলা ব্যথা হয়, সাথে ধুম জ্বর আসে। অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালে কিছুদিন ভালো থাকে, তারপর আবার যেমন ছিল তেমনই!"
ছোট বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি অত্যন্ত সাধারণ, কিন্তু অবহেলা করার মতো নয়। বারবার কেন এমন হয় এবং এই অবস্থায় আপনার করণীয় কী, চলুন সহজ ভাষায় জেনে নেওয়া যাক।
🔍 বারবার গলা ব্যথা ও জ্বরের মূল কারণগুলো কী কী?
১. ক্রনিক বা রিকারেন্ট টনসিলাইটিস (Recurrent Tonsillitis):
গলার ভেতরে দুই পাশে যে টনসিল থাকে, সেখানে বারবার ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের সংক্রমণ হলে এমন হয়। সাধারণত বছরে ৪-৫ বার বা তার বেশি তীব্র টনসিল ইনফেকশন হলে একে রিকারেন্ট টনসিলাইটিস বলা হয়।
২. অ্যাডেনয়েড বড় হওয়া (Enlarged Adenoids):
নাকের পেছনে ও গলার উপরের অংশে 'অ্যাডেনয়েড' নামের এক ধরণের গ্রন্থি থাকে। এটি বড় হয়ে গেলে বা ইনফেকশন হলে বাচ্চার বারবার গলা ব্যথা, নাক বন্ধ থাকা, মুখ দিয়ে হাঁ করে ঘুমানো এবং ঘন ঘন জ্বর আসতে পারে।
৩. ঘন ঘন ভাইরাল ইনফেকশন (Viral Infections):
স্কুল বা ডে-কেয়ারে যাওয়া বাচ্চাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি না হওয়ায় একে অপরের থেকে বারবার রেসপিরেটরি ভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে।
৪. অ্যালার্জি এবং সাইনাসের সমস্যা:
যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে, তাদের পোস্ট-নাজাল ড্রিপ (নাক থেকে তরল গলার পেছনের দিকে নামা) হয়ে গলায় ইরিটেশন তৈরি করে, যা পরে সেকেন্ডারি ইনফেকশনে রূপ নিতে পারে।
💡 এই অবস্থায় বাবা-মায়ের করণীয় কী?
ক. কুসুম গরম পানি ও গড়গড়া: বাচ্চা কিছুটা বড় হলে তাকে হালকা কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে কুলকুচি বা গড়গড়া করান। এটি গলার ভেতরের অস্বস্তি ও সুড়সুড়ি ভাব দ্রুত কমায়।
খ. পর্যাপ্ত তরল খাবার: গলা ব্যথার কারণে বাচ্চারা খেতে চায় না। এই সময় জোর করে শক্ত খাবার না খাইয়ে স্যুপ, হালকা গরম দুধ, বা ফলের রস (ফ্রিজের ঠাণ্ডা নয়) দিন। শরীর হাইড্রেটেড রাখা খুব জরুরি।
গ. বিশ্রাম: জ্বরের সময় বাচ্চাকে পুরোপুরি বিশ্রামে রাখুন। স্কুলে বা বাইরে খেলাধুলা করতে পাঠাবেন না, এতে সংক্রমণ ছড়ানোর ও বাচ্চার ক্লান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
ঘ. ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক নয়: অনেকেই জ্বর-গলা ব্যথা হলেই ফার্মেসি থেকে নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক কিনে খাওয়ান। এটি বাচ্চার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ভাইরাসজনিত জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজই করে না, উল্টো রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে।
🛑 কখন অবশ্যই একজন নাক-কান-গলা (ENT) বিশেষজ্ঞ দেখাবেন?
যদি দেখেন বাচ্চার:
--বছরে ৫ থেকে ৭ বারের বেশি এমন তীব্র ইনফেকশন হচ্ছে।
--রাতে ঘুমানোর সময় নাক ডাকছে বা দম আটকে যাওয়ার মতো হচ্ছে (Sleep Apnea)।
--গলা ব্যথার কারণে ঢোক গিলতে বা খেতে তীব্র কষ্ট হচ্ছে।
জ্বরের তীব্রতা অনেক বেশি থাকে এবং সাধারণ ওষুধে কমছে না।
--বারবার টনসিল বা অ্যাডেনয়েডের ইনফেকশন বাচ্চার স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করে।
তাই ঘরে বসে চিকিৎসা না করে, একজন ইএনটি Specialists-এর পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিত হোন এর স্থায়ী সমাধান কী (প্রয়োজনে ছোট একটি আধুনিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টনসিল বা অ্যাডেনয়েড ফেলে দিলে বেশিরভাগ বাচ্চা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায়)।